Image default
পথে প্রান্তরে

পৌরাণিক নগরী মহাস্থানগড় ভ্রমণ

মহাস্থান গড়ে আছে এক অলৌকিক কূপ। যুদ্ধে পরশুরামের যে সৈন্যরা নিহত হতো, তাদের সে কূপের মধ্যে ফেলা হতো। এ কূপের অলৌকিক জলের শক্তিতে তারা আবার বেঁচে ফিরে আসতেন এবং পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। 

বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে মহাস্থানগড়। ধারনা করা হয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন। এর পূর্বের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এটি এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল। ২০১৬ সালে একে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষনা করা হয়। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। এটি দেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। 

মহাস্থানগড় এর অবস্থান 

যীশু খ্রিষ্টের জন্মেরও আগে বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভেতরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠে প্রাচীন নগর পুণ্ড্রবর্ধন। বর্তমানে যা মহাস্থানগড় নামে পরিচিত। খ্রীস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে খ্রীস্টপূর্ব ১৫ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে এ নগর একটি সমৃদ্ধ শহর হিসেবে বিস্তার লাভ করে। এ রাজ্যের আওতায় ভারতীয় উপমহাদেশের বিস্তর এলাকা ছিলো। 

মহাস্থানগড়ের বার্ডস আই ভিউ

মহাস্থানগড়ের গল্প

বেশ কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এখানে অসংখ্য হিন্দু রাজা ও অন্যান্য ধর্মের লোকজন রাজত্ব করেন। এর ভেতর রয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সামন্ত রাজবংশের শাসকেরা। এরপর, ধর্মীয় সংষ্কার করতে আসেন ইসলাম ধর্ম প্রচারকরা।  

সেকালে শিক্ষা দীক্ষাতেও বেশ উন্নত ছিলো পুণ্ড্রবর্ধন। সুদূর চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানকার ভাসুবিহারে আসতেন হাজারো জ্ঞান পিপাসু মানুষ। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দ মধ্যবর্তী সময়ে পুণ্ড্রনগরে এসেছিলেন। ভ্রমনের ধারা বিবরণীতে, তিনি এখানকার প্রকৃতি ও জীবনাচার সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।

পরশুরামের অলৌকিক কুয়া এবং শাহ সুলতানের লড়াই 

দশম শতকের মধ্যবর্তী সময়ে এখানে রাজত্ব করতেন হিন্দু রাজা পরশুরাম। রাজা পরশুরাম ছিলেন অত্যাচারী শাসক। তার রাজ্যে গো হত্যা বা গরু জবাই নিষিদ্ধ ছিলো বলেও কথিত আছে। ১৪০০ শতাব্দীতে এখানে ইসলাম প্রচার করতে আসেন হযরত শাহ সুলতান। লোকমুখে প্রচলিত যে, তিনি পুণ্ড্রনগরে প্রবেশের সময় করতোয়া নদী পার হয়েছিলেন একটি বিশাল আকৃতির মাছের পিঠে চড়ে। পুণ্ড্রনগর তথা মহাস্থান গড়ে এসে তিনি ইসলাম প্রচার করা শুরু করেন।

প্রথমে রাজা পরশুরামের সেনাপ্রধান, মন্ত্রী এবং কিছু সাধারণ মানুষ ইসলামের বার্তা গ্রহণ করেন। পর্যায়ক্রমে পুণ্ড্রনগরের বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ  হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করা শুরু করলে রাজা পরশুরামের সাথে হযরত শাহ সুলতানের বিরোধ বাধে; যা একসময় যুদ্ধে রুপ নেয়। 

যুদ্ধের এক পর্যায়ে শাহ সুলতান লক্ষ্য করেন, ব্যাপক হত্যাযঙ্গের পরও পরশুরামের সৈন্য সংখ্যা কিছুতেই কমছেনা। এমনটা হওয়ার কারণ হলো, পরশুরামের অলৌকিক কূপ। লোককথা অনুযায়ী, যুদ্ধে পরশুরামের যে সৈন্যরা নিহত হতো, তাদের সে কূপের মধ্যে ফেলা হতো। এ কূপের অলৌকিক জলের শক্তিতে তারা আবার বেঁচে ফিরে আসতেন এবং পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। 

পরশুরামের কুয়া

এ বিষয়টি শাহ সুলতানের কানে গেলে তিনি একটি চিলকে দিয়ে কূপের ভেতর একটুকরো গরুর মাংস ফেলেন। এরপর থেকে পশুরামের নিহত সৈন্যদের কূপে এনে ফেললেও তারা আগের মতো জীবিত হয়ে ফিরতে পারে না। কথিত আছে যে, কূপের কার্যকরিতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরই পরশুরাম যুদ্ধে পরাজিত হয়।

আরো কথিত আছে যে, শাহ সুলতানের হাতে অত্যাচারী রাজা পরশুরাম পরাজিত হলে তার কন্যা শীলা দেবি রাজপ্রাসাদের পেছনের ফটক দিয়ে বের হয়ে করতোয়া নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্নহুতি দেন। পরবর্তীতে এ স্থানকে শীলা দেবির ঘাট নামে অভিহিত করা হয়।

বহুকাল এই প্রাচীন নগরী লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলো। ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন ১৮০৮ সালে সর্বপ্রথম মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে আলেকজান্ডার কানিংহাম ধারণা করেন, এই স্থানটি ছিল পুন্ড্রবর্ধন। এখানে প্রথম খননকার্য শুরু করা হয় ১৯২৮-১৯২৯ সালে, যার ফলে, মহাস্থানগড় আবার জনসম্মুখে চলে আসে।

মহাস্থান গড়ে খনন কাজ

বেহুলা-লক্ষিন্দরের বাসরঘরের গল্প

যারা মহাস্থাঙ্গড় ভ্রমণে যান, তারা মহাস্থান গড়ের কাছেই অবস্থিত বেহুলা-লক্ষিন্দরের বাসর-ঘর অবশ্যই ভ্রমণ করেন। এই স্থানটিও বেশ প্রাচীন এবং একে ঘিরে রয়েছে বিশাল এক পৌরাণিক কাহিনী।

মনসামঙ্গল কাব্যের লোকগাথা অনুযায়ী, লখিন্দরের বাবা চাঁদ সওদাগর ছিলেন হিন্দু দেবতা শিবের একনিষ্ঠ পূজারি। তাই, তিনি অন্য কোনো দেবতার আরাধনা করতেন না। অন্যদিকে শিবের মেয়ে মনসা ছিলেন সর্পদেবী। তার বাবা শিব তাকে বলেন, যদি কোনো শিব-ভক্ত মনসার পূজা করেন, তাহলেই মর্ত্যে তার পূজার প্রচলন সম্ভব।

মনসা তখন চাঁদ সওদাগরকে নির্বাচন করে তাকেই মনসা পূজার আয়োজনের অনুরোধ করে। কিন্তু, চাঁদ সওদাগর মনসার প্রস্তাবে রাজি হননি। তখন মনসা রাগান্বিত হয়ে চাঁদ সওদাগরকে অভিশাপ দেন যে, চাঁদ সওদাগরের প্রত্যেকটি ছেলে সাপের কামড়ে মারা যাবে। মনসার অভিশাপে এভাবে একে একে লখিন্দর ছাড়া চাঁদ সওদাগরের সব পুত্রই সর্পদংশনে মারা যান। 

চাঁদ সওদাগর ও মনসা

আর তাই, চাঁদ সওদাগর লখিন্দরকে খুব নজরে নজরে রাখতেন। এমনকি, তার বিয়ের সময় তার বাবা এমন বাসর একটি ঘর তৈরি করেন, যা সাপের পক্ষে ছিদ্র করা সম্ভব নয়। কিন্তু, সব সাবধানতা অতিক্রম করেও একটি সাপ সেই বাসরঘরে ঢুকে পড়ে এবং লখিন্দরকে দংশন করে।

মহাস্থানগড়ের দর্শনীয় স্থান

মহাস্থানগড়ে বহু দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। স্থানগুলোর নামকরণ ও এর পেছনের কাহিনীসমূহ বেশ চমকপ্রদ ও বিস্ময়কর। নিচে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর নামসহ কাহিনি ও পরিচয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

খোদার পাথর ভিটা

খোদার পাথর ভিটা হচ্ছে একটি দীর্ঘাকার চৌকোণাকৃতির মসৃণ পাথর। সাধারণত এ ধরণের পাথর প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। এর উপরে গ্রানাইটের স্তর আছে। ধারণা করা হয়, রাজা পরশুরাম এই পাথর সংগ্রহ করে মসৃণ করেছিলেন এবং বলি দেওয়ার কাজে এটিকে ব্যবহার করা হতো। ১৯৭০ সালে আবিষ্কৃত হওয়া এই ভিটাতে পাল শাসনামলের প্রথম দিকের বেশ কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়।

খোদার পাথর ভিটা

পরশুরামের প্রাসাদ

মহাস্থানগড় এর শেষ হিন্দু রাজা পরশুরাম এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। এই প্রাসাদটি মহাস্থানগড়ের সীমানা প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত। অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে নির্মিত বিশাল প্রাসাদটির ভিতরে ৪টি মহল বা অংশ রয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু কক্ষ, সীমানা প্রাচীর, ২টি প্রবেশদ্বার ও ২টি প্রহরী কক্ষ এখানে দেখতে পাওয়া যায়। 

পরশুরামের প্রাসাদ

মাজার শরীফ

এটি হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসাওয়ার (রহ) এর মাজার শরীফ। তিনি এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। কথিত আছে, বোরহান নামক এক ব্যাক্তিকে রাজা পরশুরামের কাছ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তার দোয়ার ভিত্তিতে আল্লাহর ইচ্ছায় শাহ সুলতান মাছের আকৃতির এক নৌকায় আরোহণ করে মহাস্থানে আসেন। এজন্য তাকে মাহীসাওয়ার বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে রাজা পরশুরামকে পরাজিত করে শাহ সুলতান এই অঞ্চলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেন।

হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসাওয়ার (রহ) এর মাজার শরীফ

মানকালীর ঢিবি

মানকালির ঢিবি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ হলেও মূলত এটি একটি মন্দির। ১৯৬৫-৬৬ সালে খননের সময় এখানে সুলতানী আমলের মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, প্রায় ১৫ মিটারের মতন খননের পরে মসজিদের মাঝে একটি মন্দিরও পাওয়া যায়।

মানকালীর ঢিবি

শীলাদেবীর ঘাট

মহাস্থানগড়ের ২০০ মিটার পূর্বে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত শীলাদেবীর ঘাট। রাজা পশুরামের কন্যা করোতোয়া নদীর যে স্থানে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন, সে স্থানটিকে মূলত শীলাদেবীর ঘাট বলা হয়। এই ঘাটে ১২ বছর পরপর পৌষ নারায়ণী স্নান উৎসবও পালন করে থাকেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। স্নানের সময় বছরে একদিনের জন্য মেলা এখানে বসে।

শীলাদেবীর ঘাট

জিওতকুন্ড

এটি মূলত একটি কূপ। ৩.৮৬ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট এই কূপটি রাজা পরশুরাম ১৮শ থেকে ১৯শ শতকের মাঝে পানির কষ্ট লাঘবের জন্য খনন করেছিলেন। অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে এটি ইতিহাসে বিখ্যাত। 

বেহুলার বাসর ঘর

মহাস্থানগড়ে সম্রাট অশোক নির্মিত ৪৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি বৌদ্ধ স্তম্ভ রয়েছে। স্তম্ভটির পূর্বে ২৪ কোণা বিশিষ্ট একটি গোসল খানা রয়েছে। যা বেহুলার বাসর ঘর নামে পরিচিত। প্রাচীন গ্রন্থ মনসামঙ্গল কাব্যে বেহুলা লক্ষিন্দরের কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। চাঁদ সওদাগর তার ছেলে লখিন্দরকে দেবী মনসার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এখানকার একটি গোপন কুঠুরিতে বন্ধ করে রাখেন। বিয়ের রাতে বেহুলা এবং লখিন্দর গোপন কুঠুরিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও সেখানে দেবী মনসার পাঠানো সাপ প্রবেশ করে এবং লখিন্দরকে দংশন করে।

বেহুলার বাসর ঘর

প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর

মহাস্থানগড় থেকে সামান্য উত্তরে গেলে দেখা পাওয়া যাবে ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের। মহাস্থানগড় খনন করে যেসব মূল্যবান জিনিসপত্র পাওয়া গেছে, তা এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন দেব-দেবতার মূর্তি, বিভিন্ন যুগের মুদ্রা, স্মারকলিপি, মাটির তৈজসপত্র, পোড়ামাটির ফলক, সিলমোহর,  শিলালিপি, আত্মরক্ষার সরঞ্জাম, মূল্যবান অলঙ্কার সামগ্রী, সোনা, রূপা, লোহা, কাঁসা, তামাসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতব সামগ্রী।

প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর

মহাস্থানগড় যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান মহাস্থানগড়। এখানকার সৌন্দর্য ও  ঐতিহাসিক  সাংস্কৃতি  উপভোগ করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে। স্থানটি ভ্রমণ করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ভাবে যানবাহনের মাধ্যমে খুব সহজেই আসা যায়।

বিভিন্ন জেলা হতে মহাস্থানগড়

মহাস্থানগড় যেতে হলে প্রথমেই আসতে হবে বগুড়া জেলায়। বাসযোগে মহাস্থান গড় ভ্রমন করতে চাইলে, বগুড়া রুটের যেকোনো বাসে বা ট্রেনে করে সহজেই চলে আসা যাবে।

ঢাকা থেকে বগুড়া বাস

ঢাকা থেকে বগুড়া রুটের নন এসি বাস ভাড়া হলো ৫৫০-৭৫০ টাকা। এবং ঢাকা টু বগুড়া রুটের এসি বাসের ভাড়া ১,১০০-১,৩০০ টাকা।

ঢাকা থেকে বগুড়া রুটে নিয়মিত যেসকল বাস যাতায়ত করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আনিতা এন্টারপ্রাইজ, এস আই ট্রাভেলস, আহাদ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস, রাব্বানী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, একতা ট্রান্সপোর্ট, এস আর ট্রাভেলস ইত্যাদি।

ঢাকা থেকে বগুড়া ট্রেন

আবার রাজধানীসহ যেকোনো স্থান থেকে ট্রেনযোগে বগুড়া পৌছানোও খুব বেশি কঠিন নয়। 

লালমনী এক্সপ্রেস(৭১৭) এবং রংপুর এক্সপ্রেস(৭৫২) নামে দুটি ট্রেন ঢাকা থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এক্ষেত্রে, লালমনি এক্সপ্রেস শুক্রবার এবং রংপুর এক্সপ্রেস রবিবার চলাচল করে। 

তাছাড়া, নিজস্ব পরিবহন থাকলে তো কোনো কথাই নেই।

বগুড়া শহর থেকে মহাস্থান গড়

বগুড়া শহর থেকে মহাস্থান গড়ের দুরত্ব খুব বেশি নয়। সিএনজি বা অটো রিক্সা দিয়ে সহজেই চলে যাওয়া যায় মহাস্থানগড়। সিএনজিতে জন প্রতি ভাড়া পড়বে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। চাইলে অনেকে অটো রিজার্ভ করে নিতে পারে, তবে ভাড়াটা এক্ষেত্রে একটু বেশি পড়বে।

ভ্রমণের আনুমানিক খরচ

মহাস্থানগড় যাতায়াত খরচ খুবই সহনশীল। ঢাকা থেকে বগুড়া যেতে বাসভাড়া আনুমানিক ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা হতে পারে, এবং ট্রেন ভাড়া ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। 

মহাস্থানগড়ে প্রবেশমূল্য সাধারণত ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে, তবে, বিদেশি পর্যটকদের জন্য এই মূল্যটা বেশি হতে পারে। হোটেল ও খাবারের খরচও অত্যন্ত সহনশীল।

মহাস্থানগড়ে থাকার ব্যবস্থা 

ভ্রমন প্রেমী মানুষদের জন্য মহাস্থান গড়ে রয়েছে এখানে থাকার জন্য সুব্যবস্থা। মহাস্থানগড় ভ্রমনে আসা পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে বগুড়ার বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও মোটেল। চার তারকা হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ মানের হোটেল আছে এখানে। 

মহাস্থানগড়ে হোটেল ভাড়া

মহাস্থানগড়ে ভ্রমণকারী পর্যটকদের এখানে হোটেল ভাড়ার জন্য খুব বেশি ধকল নিতে হয় না। কারণ বগুড়ার হোটেল এবং মোটেলগুলোর রুম বিভিন্ন রেঞ্জ অনুযায়ী ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নিজস্ব সাধ্য অনুযায়ী রুম ভাড়া নিতে পারেন পর্যটকরা। 

ঐতিহ্যবাহী খাবার

যে কোন নতুন জায়গায় ভ্রমণে এলেই পর্যটকদের প্রধান একটি আকর্ষণ থাকে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব রীতি ও সংস্কৃতি অনুযায়ী প্রস্তুত করা এসব খাবার সেই এলাকার স্বতন্ত্র ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলে। তেমনই মহাস্থানগড়ের জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে এখানকার কটকটি।

মহাস্থানগড়ের কটকটি

বগুড়ার এই প্রাচীন পুরাকীর্তির একটি ঐতিহ্যবাহি খাবার হচ্ছে কটকটি। শুধু বগুড়াবাসী নয় বরং সারা দেশের মানুষের কাছেই অনেক পছন্দের একটি খাবারে পরিণত হয়েছে এই বিশেষ কটকটি। বিশেষ করে যারা মহাস্থানগড়ে ঘুড়তে যান, তারা কোনো সময় এই কটকটি নিয়ে আসতে ভুল করেন না। 

কটকটি মূলত চারকোনা বিস্কুট আকৃতির শুকনো মিষ্টান্নজাতীয় খাবার। প্রথম দিকে কটকটি বানানো হতো গমের আটা দিয়ে। পরে স্বাদ ও মান বাড়াতে বানানোর পদ্ধতি ও উপকরণে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে কটকটি ভাজাতে তেল ব্যবহার হলেও এখন ঘি বা ডালডা ব্যবহার করা হয়। এর প্রধান উপকরণ সিদ্ধ সুগন্ধি চাল। 

মহাস্থানগড়ের কটকটি

মহাস্থানগড় ভ্রমণের জন্য টিপস

  •  মহাস্থানগড় ভ্রমণে গেলে আরামদায়ক পোশাক পরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বেশ কিছু স্থান পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখতে হয়। 
  • হাঁটার সময় পানি এবং হালকা কিছু খাবার সঙ্গে রাখলে খুব ভালো হয়. এতে করে হাঁটার সময় ক্লান্তি কম অনুভব হবে।
  • সম্ভব হলে একজন গাইড সঙ্গে রাখতে পারলে খুবই ভালো হয়। এর ফলে মহাস্থানগড়ের প্রতিটি স্থানের ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতির বিস্তারিত তথ্য জানতে পারা যায়। যা ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
  • আরেকটি জরুরী বিষয় হচ্ছে, স্থানীয় কোনো জিনিসের ক্ষতি সাধন একদমই অনুচিত। কারণ, জিনিসগুলো বহু বছর ধরে যত্নের সাথে সংরক্ষিত হয়ে আসছে। এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ,সুতরাং এগুলো সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। 

উপসংহার

মহাস্থানগড় ভ্রমণ প্রত্যেকটি ভ্রমণপিপাসুকে নিয়ে যাবে ইতিহাসের এক সমৃদ্ধ জগতে। এর প্রতিটি ইট, স্থাপনা এবং প্রতিটি নিদর্শন যেন একটি ভিন্ন যুগের গল্প বলে। কেউ যদি ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্ব আগ্রহী হয়ে থাকে তবে মহাস্থানগড় তার জন্য অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য গন্তব্য হতে পারে। এখানে অতিবাহিত করা প্রতিটি মুহূর্ত যেন ইতিহাসের সাথে আবারো নতুন করে পরিচিত করে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা একা, এই প্রাচীন শহরের রহস্য উন্মোচন সত্যিই এক ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

Related posts

বাংলাদেশে বাইক রাইড ট্রিপ এর সেরা রাস্তা

পুশরাম চন্দ্র

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবন’ ভ্রমণ

সাবরিনা শায়লা ঊষা

বাংলার অ্যামাজন – রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ভ্রমণ

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More