Image default
রহস্য রোমাঞ্চ

পৃথিবীর প্রথম ভিডিও গেমের গল্প

“আজকে ভিডিও গেমের জগৎ এক নতুন জগৎ। কিন্তু এই নতুন জগৎ কি আমাদের আসল জগৎ থেকে দূরে করে দিচ্ছে?”

আজকে যেখানে বাস্তবসম্মত গ্রাফিক্স, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স গেম ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে, সেখানে এই অবিশ্বাস্য অগ্রগতির পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ইতিহাস—একটি প্রশ্ন, যা শত বছর ধরে কৌতূহলী মনকে ভাবিয়েছে: “পৃথিবীর প্রথম ভিডিও গেমের নাম কি?”

ভিডিও গেমের ইতিহাস শুধুমাত্র প্রযুক্তির অগ্রগতির কাহিনি নয়; এটি মানুষের সৃজনশীলতার, কল্পনার এবং বিনোদনের প্রতি ভালোবাসার গল্প। এই যাত্রার শুরু ১৯৪৮ সাল থেকে,তৃতীয় মহাবিশ্বযুদ্ধের ঠিক তিন বছর পরে।

ভিডিও গেমের ধারনার জন্ম: কোথা থেকে এল এই ধারণা? 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাডার প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের ‘ক্যাথোড রে টিউব’ (CRT) ব্যবহার করে স্ক্রিনে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতেন। এই প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করতে করতেই দুই আমেরিকান উদ্ভাবক টমাস টি. গোল্ডস্মিথ জুনিয়র এবং এস্টল রে ম্যান ভাবলেন—এই প্রযুক্তি যদি শুধুমাত্র যুদ্ধের জন্য ব্যবহার না করে, বরং মানুষকে বিনোদন দিতে পারে?

১৯৪৭ সালে, তারা এমন একটি ডিভাইসের নকশা তৈরি করেন, যা ক্যাথোড রে টিউবের সাহায্যে স্ক্রিনে একটি ছোট বিন্দু (ডট) তৈরি করত এবং খেলোয়াড়দের সেই বিন্দু দিয়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে হতো। ঠিক যেন এক ধরনের সিমুলেটেড মিসাইল শ্যুটিং গেম! যখন খেলোয়াড় সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করত, তখন স্ক্রিনে পরিবর্তন আসত না বটে! তবে, এটি একটি ইলেকট্রনিক খেলা হিসেবে কাজ করত। এটি আধুনিক ভিডিও গেমের মতো ইন্টারঅ্যাক্টিভ ছিল না, তবে, গেমিং কনসোলের ধারণার জন্ম দিয়েছিল।

১৯৪৮ এর সময়ের কম্পিউটার

“Cathode Ray Tube Amusement Device” আসলে একটি ইলেকট্রনিক গেম, যা প্রোগ্রামিং ছাড়াই তৈরি হয়েছিল। এজন্যই এটি ইতিহাসের প্রথম ভিডিও গেম হিসেবে স্বীকৃত হয়নি, কারণ এতে ডিজিটাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়নি।

টুরো-চ্যাম্প (১৯৫২) – প্রথম কম্পিউটার বেইসড গেম!

যখন ক্যাথোড রে টিউব অ্যামিউজমেন্ট ডিভাইস স্ক্রিন-ভিত্তিক প্রথম ইন্টারেক্টিভ সিস্টেম তৈরি করছিল, তখনই আরেকজন বিজ্ঞানী AI এর জনক আলান টুরিং (Alan Turing) এক বিস্ময়কর গেমিং কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করছিলেন।

১৯৫২ সালে আলান টুরিং এবং তার সহকারী ডেভিড চ্যাম্পিয়ন একটি চেস (Chess) প্রোগ্রাম তৈরি করেন, যার নাম দেন “Turochamp”। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার-ভিত্তিক গেমিং অ্যালগরিদম যা একজন মানুষকে কম্পিউটারের সাথে দাবা খেলার সুযোগ দিত।

তবে, একটি বড় সমস্যা ছিল—সে সময় এমন কোনো কম্পিউটার ছিল না, যা এই সফটওয়্যার চালাতে সক্ষম। তাই টুরিং নিজে হাতে পুরো গেমটি পেপার এবং পেন্সিল দিয়ে সিমুলেট করেছিলেন, যেখানে কম্পিউটার কেমনভাবে খেলত তা কল্পনা করে তিনি পদক্ষেপ নিতেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে বিজ্ঞানীরা এই পুরনো অ্যালগরিদম ব্যবহার করে টুরো চ্যাম্পকে একটি আধুনিক কম্পিউটারে চালান, এবং দেখা যায় যে এটি সত্যিই কাজ করে।

এটি ছিল প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ধারণাসম্পন্ন গেম।আধুনিক চেস ইঞ্জিন এবং AI-ভিত্তিক গেমের প্রাথমিক ধারণাটি এখান থেকেই আসে।আজকের Deep Blue, Stockfish, এবং AlphaZero-এর মতো চেস ইঞ্জিনগুলোর ভিত্তি গড়ে উঠেছে একে কেন্দ্র করে।

পৃথিবীর প্রথম ভিডিও গেম কী এবং কখন তৈরি হয়?

অনেকেই মনে করেন “Tennis for Two”-ই প্রথম ভিডিও গেম, তবে গেমিং ইতিহাস আরও পুরনো। প্রকৃতপক্ষে, গেমিংয়ের ধারণা আরও আগে থেকেই প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে আলোচিত ছিল। ১৯৪৮ সালে, টমাস টি. গোল্ডস্মিথ ও এস্টল রে ম্যান প্রথম “Cathode Ray Tube Amusement Device” নামে একটি গেমিং-সংশ্লিষ্ট পেটেন্ট নথিভুক্ত করেন। যদিও এটি কখনও বাণিজ্যিকভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে এটিই ভিডিও গেম তৈরির প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা।

১৯৫৮: “Tennis for Two”—প্রথম সফল ভিডিও গেম

উইলিয়াম হিগিনবথাম নামের এক আমেরিকান পদার্থবিদ ১৯৫৮ সালে নিউ ইয়র্কের Brookhaven National Laboratory-তে “Tennis for Two” তৈরি করেন। তিনি এটি তৈরি করেছিলেন শুধুমাত্র দর্শকদের জন্য একটি সাইন্স ফেয়ার এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে করেছিলেন। তিনি কখনো ভাবেননি যে এটি গেমিং ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি স্থাপন করবে!

Tennis for Two ভিডিও গেম

হিগিনবোথাম মূলত Brookhaven National Laboratory-তে কাজ করতেন, যেখানে পরিদর্শকরা আসতেন বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী দেখতে। কিন্তু তিনি বুঝতে পারলেন, দর্শনার্থীরা প্রযুক্তির প্রতি খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাই তিনি একটি “ইন্টারেক্টিভ বিনোদন ব্যবস্থা” বানানোর পরিকল্পনা করেন, যাতে দর্শনার্থীরা বিজ্ঞানের মজা অনুভব করতে পারেন। এর ফলেই তৈরি হয় “Tennis for Two”—একটি সরল টেনিস সিমুলেশন, যা দুটি খেলোয়াড় একসাথে খেলতে পারতেন।

 “Tennis for Two” খেলার জন্য অ্যানালগ কম্পিউটার এবং অসিলোস্কোপ মনিটর ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে গ্রাভিটি এবং বলের গতিপথ গণনা করা হতো, যা একটি বাস্তবসম্মত অনুভূতি দিত।

১৯৬২: “স্পেসওয়ার!”—প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার গেম

যদিও “Tennis for Two” আধুনিক ভিডিও গেমের একটি পূর্বসূরি, কিন্তু প্রথম ডিজিটাল ভিডিও গেম ছিল “Spacewar!” ১৯৬২ সালে, MIT-এর স্টিভ রাসেল এবং তার দল PDP-1 কম্পিউটারে এই গেমটি তৈরি করেন। এটিই প্রথম গেম যা ডিজিটাল কম্পিউটারে খেলা যেত। এতে ছিল দুইজন খেলোয়াড়ের জন্য মাল্টিপ্লেয়ার মোড। “Spacewar!” পরবর্তীকালে আর্কেড গেম এবং কনসোল গেম তৈরির অনুপ্রেরণা দেয়।

আর্কেড গেমের উত্থান

অনেকেরই ভিডিও গেমের ইতিহাসের শুরুর কথা ভাবলে আর্কেড গেমের কথা মাথায় আসে। ১৯৭০-এর দশকে ভিডিও গেমের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যখন বাণিজ্যিকভাবে গেম বিক্রি করা শুরু হয়। নোলান বুশনেল এবং টেড ডাবনি ১৯৭১ সালে  “Computer Space” তৈরি করেন, যা প্রথম বাণিজ্যিক আর্কেড গেম। ১৯৭২ সালে “Pong” বাজারে আসে, যা আর্কেড গেমের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এবং ১৯৭৭ এ Atari 2600 লঞ্চ হয়, যা গেমিং কনসোলের বাজারে বিপ্লব ঘটায়।

প্রথম আর্কেড গেম “pong”

মজার ব্যাপার হলো, Pong গেমের নির্মাতারা প্রথমে মনে করেছিলেন যে এটি জনপ্রিয় হবে না। Atari যখন “Pong” গেমটি তৈরি করল, তখন তারা এটিকে একটি ছোটখাটো পরীক্ষা হিসেবেই দেখছিল। কিন্তু প্রথম আর্কেড মেশিনটি যখন একটি বারে বসানো হলো, তখন মালিক অভিযোগ করলেন যে এটি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে, এটি এত জনপ্রিয় হয়েছিল যে কয়েন রাখার বাক্সটি অতিরিক্ত কয়েনে ভরে গিয়েছিল।

গেমিং ইন্ডাস্ট্রির বিস্তার

গেমের স্বর্ণযুগ বলা হয় ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের সমইয়কে। এই সময়ের মধ্যেই গেমিং অনেক জনপ্রীতি লাভ করে এবং বিখ্যাত কিছু ক্লাসিক গেমের জন্ম হয়। যেমন ১৯৮০ সালে Namco ‘Puck-Man” লঞ্চ করে এবং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠে। Pac-Man গেমটির আসল নাম ছিল “Puck-Man,” কিন্তু পরবর্তীতে মার্কেটিং টিম পরিবর্তন করে ফেলে। ১৯৮৫ সালে নিন্টেন্ডো প্রকাশ করে “Super Mario Bros.”, যা গেমিং ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাস পাল্টে দেয়।

Super Mario Bros. ছিলো আসলে একটি “টাইম-কন্ট্রোলড” গেম। Mario যখন ছুটে চলে, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডের মিউজিক এবং টাইমিং এমনভাবে সেট করা হয় যাতে খেলোয়াড় স্বাভাবিকভাবে গেমের গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে খেলতে পারে এর পরে ধীরে ধীরে ৯০ এর দশকে “Super Mario”, “Street Fighter”, “Final Fantasy” এবং “DOOM”-এর মতো গেমগুলোর উত্থান ঘটে।

সুপার মারিও ব্রোস গেম

The Legend of Zelda: Ocarina of Time ছিল প্রথম গেম যেখানে “Z-Targeting” প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই প্রযুক্তি এখনকার থ্রিডি(3D) গেমের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে ক্যামেরা লক করে কোনো শত্রুকে টার্গেট করা সম্ভব হয়। গেমিং ইতিহাসের সবচেয়ে বিক্রিত গেম হল Minecraft। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ওপেন-ওয়ার্ল্ড গেমটি ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি করেছে এবং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় গেম হয়ে উঠেছে।

আধুনিক গেমিং এবং প্রযুক্তির বিপ্লব

গেমিং ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাস এইভাবেই ভিডিও গেমের অগ্রগতির মাধ্যমে এগিয়ে যায়। বর্তমানে গেমিং শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এটি একটি বিলিয়ন-ডলারের ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে রয়েছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR), এআই, এবং ব্লকচেইন গেমিং। এখানে মানুষ ক্যারিয়ার গড়ছে, ইনভেস্ট করছে, এমনকি গেমিং থেকে আয় করছে! তবে বর্তমান সময়ে গেমিং ইন্ডাস্ট্রি আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে? চলছে স্বর্ণযুগ, নাকি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে? 

এখন এটি এক বিশাল ইকোসিস্টেমের অংশ, যেখানে গেম খেলা ছাড়াও রয়েছে স্ট্রিমিং, ই-স্পোর্টস, কনটেন্ট ক্রিয়েশন। Twitch, YouTube Gaming-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো লক্ষ লক্ষ মানুষকে গেম স্ট্রিমিং-এর সঙ্গে যুক্ত করেছে, যেখানে গেম খেলে মানুষ ক্যারিয়ার তৈরি করছে। একইভাবে, ই-স্পোর্টস এখন এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী টুর্নামেন্টগুলোর পুরস্কারের পরিমাণ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে।

এছাড়া মোবাইল গেমিংও বর্তমানে গেমিং ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় অংশগুলোর একটি। PUBG Mobile, Free Fire, Genshin Impact-এর মতো গেমগুলোর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, গেমিং এখন আর শুধু কনসোল বা PC-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি এখন সবার জন্য আরও অ্যাক্সেসযোগ্য হয়ে উঠেছে

গেমিং ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) এখন গেমিংয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। Meta (পূর্বের Facebook) মেটাভার্স নিয়ে কাজ করছে, যেখানে মানুষ বাস্তব জীবনের মতো ভার্চুয়াল গেমিং ওয়ার্ল্ডে অংশ নিতে পারবে। এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন গেমিংয়ের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করে তুলছে। নতুন নতুন AI-চালিত NPC (Non-Playable Characters) এবং গেমের জটিল স্টোরিলাইন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।

এছাড়াও ব্লকচেইন এবং NFT গেমিং নতুন এক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। Axie Infinity-এর মতো প্লে-টু-আর্ন (Play-to-Earn) গেমগুলো এমন এক সিস্টেম তৈরি করেছে, যেখানে গেম খেলেই মানুষ অর্থ উপার্জন করতে পারে। যদিও এই প্রযুক্তি এখনো বিতর্কিত, তবে অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতের গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রথম ভিডিও গেম তৈরির পেছনের উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বিনোদনের মিশ্রণ। প্রথমদিকে এটি শুরু হয়ে মূলত গবেষণার অংশ হিসেবে, কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারে—গেমিং শুধুমাত্র গবেষণা নয়, বরং এটি একটি সম্ভাবনা। আজকে ভিডিও গেম ইন্ড্রাস্ট্রি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ভিডিও গেমের এক নতুন জগৎ গড়ে তুলেছে। যা অনেকের মতে আমাদেরকে আসল জগত থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, আবার অনেকের মতে আমাদেরকে নতুন নতুন অভাবনীয় বাস্তবতা উপভোগ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র

Related posts

সাম্রাজ্যবাদী রবার্ট ক্লাইভ ও তাঁর মৃত্যু রহস্য

আবু সালেহ পিয়ার

চিলির শয়তানের মন্দির – শয়তান যেখানে মুক্তির পথ

আবু সালেহ পিয়ার

কেন ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের? ইতিহাসে মজার কাহিনী

শেখ আহাদ আহসান

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More