যে সমাজে নারীর পরিচয়ে হয় বংশ পরিচয়, এমনকি ধন-সম্পদের মালিকানাও নারীদের হাতে
বর্তমান সময়কে বলা হয় আধুনিক সময়; সভ্য সময়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে পৃথিবীর হাজারো নিয়ম-নীতি। তবে সমাজের শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটা জিনিস এখনো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। সেটা হলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা।
আমাদের সবারই মোটামুটি একটা ধারণা পাকাপোক্ত যে, নারীরা যুগ যুগ ধরে পুরুষতন্ত্রের অধীনেই ছিলো, আর থাকবেও। তবে একটা মজার ব্যাপার কী কল্পনা করতে পারেন? সেটা হলো পুরুষতন্ত্রের বাইরে গিয়েও নারীরা এখনো অনেক সমাজে প্রধান্যশীল।
কল্পনা করুন তো, কোনো একটা সমাজের কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করছে সমাজে বসবাসকারী পুরুষ আর সমাজ পরিচালনার কাজ করছে নারীরা।
ব্যাপার একটু মজার তাই না? চলুন আজকে জেনে নেই এমন একটি সমাজের কথা, যেখান নারীরাই প্রধান। আর এই সমাজ হলো বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী খাসিয়া সম্প্রদায় এর সমাজ।
খাসিয়া সম্প্রদায় এর উৎপত্তি ও ইতিহাস: এক প্রাচীন জাতির সূচনা
ইতিহাস ঘেটে খাসিয়া জনগণের উৎপত্তি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, খাসিয়া জনগণের আদি উৎপত্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। তারা মূলত মঙ্গোলীয় জাতির অংশ। একসময় খাসিয়া জনগণ ছিল যাযাবর, তবে বর্তমানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।
খাসিয়ারা প্রায় ৫০০ বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তাদের আদি বাসস্থান ছিল আসাম, চেরাপুঞ্জি এবং শিলং অঞ্চলে। খাসিয়া জনগণের ইতিহাসে অনেক পুরানো কিংবদন্তি এবং কাহিনী রয়েছে, যা তাদের প্রাচীন সভ্যতা এবং জীবনের আদি নিদর্শন। প্রাচীন ইতিহাস অনুযায়ী, খাসিয়া জনগণের যাত্রা শুরু হয়েছিল বনের ভেতর থেকে, এবং তারা পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে নিজেদের বসত গড়ে তুলেছিল।
খাসিয়া জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
খাসিয়া জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহুকাল ধরে তাদের জীবনধারা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। তাদের উৎসব, গান, নৃত্য, পোশাক, এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যে গভীর ইতিহাস এবং ঐতিহ্য প্রতিফলিত হয়। তাদের সংস্কৃতিতে যে বিষয়টি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, তা হলো প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং মাতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো।
খাসিয়াদের উৎসব
পুঙ্গল
পুঙ্গল হচ্ছে খাসিয়া জনগণের একটি প্রধান কৃষি উৎসব। এই উৎসবটি খাসিয়া সমাজের জীবিকা অর্জন এবং কৃষি উৎপাদনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে অনুষ্ঠিত হয়।
বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে খাসিয়া সম্প্রদায় এই উৎসবে মেতে ওঠে, যেখানে তারা নিজেদের উৎপাদিত ফসল, বিশেষ করে চা, ধান, এবং ফলমূল প্রদর্শন করে এবং ধন্যবাদ জানায় প্রকৃতিকে।
খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব সেং কুটস্নেম
সেং কুটস্নেম হলো খাসিয়া জনগণের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা প্রতি বছর ২৩ নভেম্বর পালিত হয়। এটি খাসিয়া বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বর্ষবিদায় এবং নতুন বর্ষ বরণের অনুষ্ঠান।
উৎসবটি খাসিয়া জনগণের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রাকে তুলে ধরে। এতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে, আদি পাহাড়ি নৃত্য ও গান পরিবেশন করে, এবং জুমচাষের জীবনযাত্রা তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা যেমন বাঁশ বেয়ে ফোন ওঠানো, তির-ধনুক ছোড়া এবং পান গোছানোর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
খাসিয়া জনগণের ঐতিহ্যবাহী পণ্য যেমন তির, ধনুক, বাঁশ-বেতের জিনিসপত্র বিক্রির জন্য মেলা বসে। উৎসবে খাসিয়া জনগণসহ স্থানীয় বাঙালি এবং অন্যান্য শ্রেণির মানুষ অংশ নেয়।
খাসিয়াদের পোশাক
খাসিয়া জনগণের পোশাকের মধ্যে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—তাদের সাদা-কালো রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। মহিলারা সাধারণত এই পোশাক পরিধান করে, যা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। এই পোশাক শুধু তাদের জীবনের সৌন্দর্য নয়, বরং, তাদের জীবনধারার অঙ্গীকারকেও প্রকাশ করে।
খাসিয়াদের ধর্ম-প্রকৃতি শক্তির পূজারী খাসিয়া সমাজ
খাসিয়া জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকৃতির শক্তির পূজার সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তাদের প্রধান দেবতা নং (Nong) যিনি প্রকৃতির শক্তি এবং জীবনের সব প্রক্রিয়ার একমাত্র নির্ধারক হিসেবে পূজিত হন খাসিয়া সমাজে। খাসিয়া সম্প্রদায় বিশ্বাস করে, প্রকৃতি তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা তাদের জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি।
খাসিয়া জনগণের ধর্মীয় জীবনে প্রাকৃতিক পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা তাদের আচার-অনুষ্ঠানে প্রধানত পাহাড়, নদী, বৃক্ষ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানগুলির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। এই পূজাগুলোর মাধ্যমে তারা প্রকৃতির শক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এবং আশীর্বাদ কামনা করে।
তবে তারা গ্রাম দেবতা, প্রেতেও বিশ্বাসী। তাদের কোনো লিখিত ধর্মগ্রন্থ নেই, কিছু মৌখিক কিংবদন্তি ও বিশ্বাসের মাধ্যমে ধর্মীয় জীবন চলে। তবে ১৫০ বছর আগে খ্রিস্টান মিশনারিরা তাদের মধ্যে ধর্মপ্রচার শুরু করার পর থেকে প্রায় ৮০%-৯০% খাসিয়া খ্রিস্টান ধর্মান্তরিত হয়েছে।
খাসিয়া ভাষা: এক মৌখিক ঐতিহ্য
খাসি ভাষা একটি অস্ট্রো-এশীয় ভাষা যা মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রচলিত। এটির সাথে অস্ট্রো-এশীয় ভাষা পরিবারের মুণ্ডা দলের ভাষাগুলির সাদৃশ্য আছে; এই মুণ্ডা ভাষাগুলি পূর্ব-মধ্য ভারতে প্রচলিত।
খাসিয়া জনগণের প্রধান ভাষা খাসিয়া বা খাসি। এটি একটি মঙ্গোলীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং মূলত পাহাড়ি অঞ্চলের জনগণের মধ্যে প্রচলিত। খাসিয়া ভাষার সাথে সম্পর্কিত রয়েছে একটি সমৃদ্ধ মৌখিক সাহিত্য, যেখানে রয়েছে তাদের ইতিহাস, কিংবদন্তি, কাহিনী এবং গান। খাসিয়া ভাষায় কবিতা, গল্প, এবং লোকগাথাগুলি যুগের পর যুগ ধরে তাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া, খাসিয়া ভাষায় কিছু আধুনিক সাহিত্যও রয়েছে, যদিও এটি মূলত মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে। তাদের সাহিত্য এবং কাহিনীগুলি সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা তাদের সমাজের মূল আদর্শকে তুলে ধরে।
খাসিয়াদের মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা
খাসিয়া সমাজে মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি সুস্পষ্ট উপস্থিতি রয়েছে, যা তাদের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই সমাজে পুরুষের তুলনায় মহিলারা কর্তৃত্ববান ও ক্ষমতাবান বেশি।
প্রথমত, খাসিয়া সমাজে বংশ পরম্পরা মায়ের পরিচয়ে গড়ে ওঠে। একটি খাসি শিশু তার মায়ের গোত্রে জন্মগ্রহণ করে এবং তার পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত পায়। পুরুষের পরিবারে তার কোন বংশপরিচয় থাকে না। মায়ের পরিবারে থাকে তার সকল পরিচয় ও অধিকার। এই ব্যবস্থাটি মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য এবং এটি সমাজের সামাজিক কাঠামোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খাসিয়া সমাজে মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবারে ব্যবস্থাপনার কাজ মূলত মহিলারাই পরিচালনা করে থাকেন।
এছাড়াও, খাসিয়া সমাজে নারীদের জমি ও সম্পত্তির অধিকার রয়েছে। খাসিয়া পরিবারের সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার পুরুষের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। পুরুষদের এই অধিকার নেই এবং তারা সাধারণত মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন না। এর ফলে, মেয়েরা সমাজে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, যা তাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।
খাসিয়া সমাজে বিয়ের পর মেয়ে তার স্বামীর বাড়িতে না গিয়ে, বরং, তার শ্বশুরবাড়িতে থাকে। এখানে, বিয়ের পর পুরুষকে মেয়ে পরিবারের মধ্যে শ্বশুরবাড়ির সদস্য হিসেবে অবস্থান করতে হয়। এই ঐতিহ্যটি মায়ের কর্তৃত্বকে আরও দৃঢ় করে, কারণ, পুরুষের সংসারে মেয়েরা যোগদান করলে, তাদের পরিবার বা শ্বশুরবাড়ির প্রভাব কম থাকে।
এছাড়া, খাসিয়া সমাজে নারীরা সামাজিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কাজকর্মে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। তারা বিভিন্ন সমাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে। নারীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের সামাজিক শক্তি ও মর্যাদাকে শক্তিশালী করে।
খাসিয়া সমাজের সামাজিক কাঠামো
খাসিয়া সমাজের সামাজিক কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর ভিত্তি গড়ে উঠেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপর। এই কাঠামোর মধ্যে রয়েছে সম্মান, আধ্যাত্মিকতা, এবং পারিবারিক ঐক্য, যা খাসিয়া জনগণের জীবনযাত্রার মূল চরিত্র।
খাসিয়া সমাজে শৈলং এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শৈলং হলেন সমাজের একটি প্রধান নেতা। তিনিই সমাজের বৃহত্তর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে সমাজের আইন, নীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা হয়। শৈলং সাধারণত একজন অভিজ্ঞ নেতা, যার নেতৃত্বের জন্য সমাজের সদস্যরা তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মান্য করেন। তাঁর সিদ্ধান্তই সাধারণত শেষ কথা হিসেবে গণ্য হয়।
খাসিয়া সমাজের মধ্যে বয়স্কদের পরামর্শ অত্যন্ত মূল্যবান। সমাজে বয়স্কদের বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়, কারণ তারা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের অধিকারী। পরিবার ও সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়। বয়স্কদের অভিজ্ঞতা সমাজে ন্যায়বিচার এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো আদর্শ হয়ে ওঠে।
অধ্যাত্মিকতা খাসিয়া সমাজের জীবনে গভীরভাবে মিশে রয়েছে। তাদের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, ধর্মীয় আচার, এবং রীতিনীতিগুলি তাদের জীবনযাত্রার একটি অপরিহার্য অংশ। এই সমাজের সদস্যরা ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিকতাকে অনুসরণ করে চলে, যা তাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে।
অতীতেও খাসিয়া সমাজের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও গর্ব ছিল এবং এখনো রয়েছে। তাদের ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় আচার এবং উৎসবগুলো তাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা তারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালন করে।
এই সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে খাসিয়া সমাজের সদস্যরা অত্যন্ত সচেতন এবং নতুন প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতে উৎসাহিত করে। এটি তাদের জাতিগত পরিচয় এবং সমাজের ঐক্য ধরে রাখে।
অর্থনৈতিক জীবন: কৃষি ও বাণিজ্যের মিশ্রণ
খাসিয়া সমাজের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস কৃষি কাজ। খাসিয়ারা পাহাড়ি জমিতে চাষাবাদ করে, ধান,ভুট্টা, পেঁপে, কলা, শাকসবজি এবং ফলমূল উৎপাদন করে।
এছাড়া, খাসিয়া সম্প্রদায় চা চাষের জন্যও বিখ্যাত। মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে চা বাগানও গড়ে উঠেছে, যা তাদের অর্থনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা উৎপাদনের মাধ্যমে তারা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে, যার ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
খাসিয়া সমাজে কৃষির সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যও গুরুত্বপূর্ণ। তারা কৃষি পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার পাশাপাশি, অন্যান্য পণ্যও বাণিজ্যিকভাবে প্রচার করে। খাসিয়া জনগণ স্থানীয় বাজারগুলোতে নিজেদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল ও চা বিক্রি করে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী যেমন শস্য, মশলা, কাপড়, এবং হাতের কাজের পণ্য কেনার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য করে থাকে। এই বাণিজ্য খাসিয়া সমাজের অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে এবং তাদের জীবিকার বিস্তার ঘটায়।
এছাড়া, কিছু খাসিয়া সম্প্রদায় কারিগরী কাজেও নিযুক্ত থাকে। তারা কাঠের কাজ, মৃৎশিল্প, তাঁত বোনা এবং অন্যান্য হাতে তৈরি পণ্য উৎপাদন করে, যা তাদের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিছু মানুষ মজুরি ভিত্তিক কাজ যেমন নির্মাণকর্ম, দিন মজুর এবং অন্যান্য সেবা কার্যক্রমে যুক্ত হয়, যা তাদের আয়ের একটি আরেকটি স্তম্ভ।
খাসিয়া সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক কাঠামো প্রাচীন এবং অনন্য। তাদের মাতৃকেন্দ্রিক সমাজ ব্যবস্থায় রয়েছে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যা আধুনিক সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। যদিও আধুনিকতার প্রভাব খাসিয়া সমাজেও পড়ছে তবুও খাসিয়া জনগণের সাংস্কৃতিক পরিচয় এখনও দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। তাদের জীবনযাত্রা, ভাষা, এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঐতিহ্যের সাথে মিশে এক শক্তিশালী সংস্কৃতির পরিচয় বহন করছে, যা ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশা করা যায়।
তথ্যসূত্র
- https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/3kn4iqdx1v
- https://bangla.thedailystar.net/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6/%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%A3-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%9C-286531
- https://ccnbangla.com/%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A7%83%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A7%80-%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%8D/
- https://www.kalerkantho.com/print-edition/education/2023/02/13/1249339
- http://reposit.library.du.ac.bd:8080/xmlui/handle/123456789/3088