মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী থেকে সরকারের চোখে ‘হঠকারী’ হয়ে উঠা জাসদ ছাত্রলীগের উত্থান ছিল ধূমকেতুর মতো। তারাই প্রথম এনেছিল ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের’ স্লোগান, কাঁপিয়ে দিয়েছিল সদ্য স্বাধীন দেশের ক্ষমতা কেন্দ্র। জাসদ ছাত্রলীগ শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়, এটি ছিল এক প্রজন্মের দ্রোহ, বিপ্লব আর স্বপ্নভঙ্গের এক জটিল আখ্যান।
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস কেবল সাফল্য আর গৌরবের গল্পে সাজানো নয়; এর পাতায় পাতায় রয়েছে বিতর্ক, বিভক্তি আর পরাজয়ের অনেক জানা অজানা পথ। এমনই এক আগুনঝরা অসমাপ্ত অধ্যায়ের নাম জাসদ ছাত্রলীগ ।
স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠতে থাকে। সেসময় ছাত্রলীগের একটি বিশাল অংশ যখন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায়, ঠিক তখনই আরেকটি অংশ ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের’ স্লোগান তুলে সরকারের বিরুদ্ধেই গঠন করেছিল এক অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধ।
বাংলাদেশে নামক রাষ্ট্রটি জন্মের পরপরই এই ছাত্র সংগঠনটির জন্ম হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ধূমকেতুর মতো, যার উত্থান ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল, প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী, কিন্তু এর যাত্রাপথ ছিল সংঘাতে পরিপূর্ণ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ছাত্রলীগের প্রথম সারির নেতাদের হাত ধরে গঠিত এই সংগঠনটি কেন এবং কীভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দাঁড়ালো? ‘নিউক্লিয়াস’ নামক গোপন সংগঠনের সাথে এর সম্পর্ক কী ছিল? জাসদ ছাত্রলীগ কীভাবে অল্প সময়েই দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনে পরিণত হয়েছিল?
আজকের লেখায় আমরা জাসদ ছাত্রলীগের সেই উত্থান, পতন এবং অতীতের বিতর্কিত সব কর্মকাণ্ড এবন তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে জানবো।
শিকড়ের সন্ধানে: ‘নিউক্লিয়াস’ এবং আদর্শিক বিভাজন
জাসদ ছাত্রলীগের ইতিহাস বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেরও আগে, ষাটের দশকে। সেই সময়, শেখ মুজিবুর রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় ছাত্রলীগের ভেতরেই একটি অত্যন্ত গোপন সেল বা সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল, যার নাম দেওয়া হয় ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’। পরবর্তীতে শেখ মুজিবের গড়ে তোলা এই সংগঠনটি সকলের কাছে ‘নিউক্লিয়াস’ নামে পরিচিতি পায়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, শুধুমাত্র স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পুরোপুরি স্বাধীন করা।
সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদের মতো তরুণ তুখোড় ছাত্রনেতারা ছিলেন এই নিউক্লিয়াসের নেতৃত্বে। তারা গোপনে ছাত্রদের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন সংগ্রহ এবং সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। এই নিউক্লিয়াসের কর্মীরাই বিভিন্ন গণ আন্দোলন এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ অংশগ্রহণ করেন। ফলশ্রুতিতে, এই নিউক্লিয়াসের সদস্যরা ছাত্রলীগের সবচেয়ে লড়াকু অংশ হিসেবে পরিচিতি পান।
তবে স্বাধীনতার পর এই জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমতে শুরু করে নতুন বিতর্কের মাধ্যমে। যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল স্বয়ং নিউক্লিয়াসের নেতারাই। তাদের যুক্তি ছিল, মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্র একটি জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম নয়, এটি ছিল একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রথম ধাপ। তারা চেয়েছিলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে একটি শোষণমুক্ত, সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের মূল ধারা চেয়েছিল একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। মূলত, এই মতাদর্শের বিভাজন থেকেই শুরু হয় ভাঙনের প্রক্রিয়া।
ছাত্রলীগের ভাঙন এবং জাসদ ছাত্রলীগের জন্ম
সময়টা ১৯৭২ সাল। দেশজুড়ে চলছে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তখন সরকার ক্ষমতায়। তৎকালীন সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাহজাহান সিরাজ। কিন্তু ছাত্রলীগের ভেতরে নিউক্লিয়াস বা ‘স্বাধীনতাপন্থী’ অংশের নেতারা, বিশেষ করে সিরাজুল আলম খান, আ স ম আব্দুর রব এবং শাহজাহান সিরাজ, সরকারের বিভিন্ন নীতির সাথে দ্বিমত পোষণ করতে শুরু করেন।
তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে প্রথম দাবি ছিল:
দেশে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তারা চেয়েছিলেন, দেশের সংবিধানে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’কে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পাশাপাশি তারা দেশজুড়ে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। জাসদের রাজনৈতিক নেতারা মনে করতেন, সংসদীয় গণতন্ত্র শোষক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করে। এর পরিবর্তে, তারা শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের ‘শোষিতের গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।
এই মতাদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে তারা একটি জাতীয় বিপ্লবী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন, যা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কিন্তু মূল ধারার রাজনৈতিক নেতারা কখনোই তাদের সাথে ঐক্যমতে আসতে পারেনি। যা ফলে, নিজেদের মধ্যে ক্রমশ দূরত্ব বাড়তে থাকে।
এই আদর্শিক দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭২ সালের ২১, ২২ ও ২৩শে জুলাই, ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে। সেই সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান নিজে উপস্থিত থাকলেও, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, আ স ম আব্দুর রব এবং শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি বিশাল অংশ সংগঠন থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন, স্বতন্ত্র ছাত্রলীগ গঠন করে, যা ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সমর্থিত ছাত্রলীগ’ বা সংক্ষেপে ‘জাসদ ছাত্রলীগ’ নামে পরিচিতি পায়।
এই ভাঙনটি ছিল বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি। এটি শুধু একটি সংগঠনের বিভক্তি ছিল না, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দুটি ভিন্ন ধারার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ।
জাসদ ছাত্রলীগের সূচনালগ্ন থেকেই দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম বেশ ভালভাবে এগুতে থাকে। তাছাড়া অল্প সময়ের মধ্যেই তারা মানুষের ভালবাসা অর্জন করতে শুরু করে।
কারণ জাসদ ছাত্রলীগের বেশিরভাগ নেতাই ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ষাটের দশকের পরীক্ষিত ছাত্রনেতা। তাদের ত্যাগ এবং সংগ্রামের কথা এই বাংলার সকলেই জানতো।
এছাড়া, সদ্য স্বাধীন দেশে অল্প সময়ের মধ্যেই নানা ধরনের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা দানা বাধতে শুরু করে। জাসদ ছাত্রলীগ সরকারের এই ব্যর্থতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসে খুব দ্রুতই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তারা হয়ে ওঠে সরকারের প্রধান সমালোচক এবং প্রতিবাদের প্রধান কণ্ঠস্বর।
অন্যদিকে, ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ এবং ‘শোষিতের গণতন্ত্রের’ মতো বিপ্লবী স্লোগানগুলো সেই সময়ের অনেক তরুণকে আকৃষ্ট করে, যারা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখত।
নবগঠিত এই দলটি অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে যায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে জাসদ ছাত্রলীগ তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনকে চ্যালেঞ্জ করার মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যায়।
১৯৭৩ সালের ডাকসু নির্বাচনে জাসদ ছাত্রলীগের প্যানেল বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং তাদের ভিপি প্রার্থী আ স ম আব্দুর রব বিজয়ী না হলেও, একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
আন্দোলন ও সিদ্ধান্ত: সংঘাতের পথে যাত্রা
জাসদ ছাত্রলীগ শুধু আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তারা তাদের দাবি আদায়ের জন্য সরাসরি রাজপথের সংঘাতে অবতীর্ণ হয়।
যেমন তারা সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে এবং একটি গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। যার নাম ছিল শিক্ষা আন্দোলন। আবার, ১৯৭৪ সালের ১৭ই মার্চ, জাসদ এবং জাসদ ছাত্রলীগ সরকারের দুর্নীতি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করার মতো এক দুঃসাহসিক কর্মসূচি দেয়। এই কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন জাসদ ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন, যা সরকারকে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে রাজনৈতিক পট একেবারে বদলে যায়। জাসদের সশস্ত্র শাখা ‘গণবাহিনী’ এবং জাসদ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর একটি সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল খালেদ মোশাররফের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি বিপ্লবী জনতার সরকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এই অভ্যুত্থানের ফলে মেজর জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন এবং জাসদের পরিকল্পনা চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
তবে যতই জনপ্রিয়তা থাকুক না কেন, তাদের অতিরিক্ত বিপ্লবীপন্থা এবং সশস্ত্র সংগ্রামের ধারণা অনেক ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয় যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করে, যা তাদের জনপ্রিয়তাকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
আজকের জাসদ ছাত্রলীগের অবস্থা
কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর, জাসদ ছাত্রলীগ আবার জ্বলে উঠবে। কিন্তু নিয়তির খেলা অন্যরকম।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলেও জাসদের অবস্থা ভালো ছিল না। সেসময় হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কঠোর হাতে দমন করা হয়। পরবর্তীকালে, দলের ভেতরে আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং একাধিক ভাঙনের ফলে জাসদ এবং জাসদ ছাত্রলীগ উভয়েই দুর্বল হতে শুরু করে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাদের ভূমিকা থাকলেও, তারা আর অতীতের মতো অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে ফিরে আসতে পারেনি।
বর্তমানে, জাসদ ছাত্রলীগ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এখনও শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। তবে, আজকের জাসদ ছাত্রলীগ তার গৌরবোজ্জ্বল অতীতের একটি ছায়া মাত্র।
জাসদ ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনীতির এক জটিল এবং শিক্ষণীয় অধ্যায়। এটি একদল স্বপ্নদর্শী তরুণের গল্প, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। তাদের উত্থান ছিল দর্শনীয়, তাদের সাহস ছিল প্রশংসনীয়, কিন্তু তাদের গৃহীত কিছু পদক্ষেপ ছিল আজও সমানভাবে বিতর্কিত এবং পরিণতির বিচারে ব্যর্থ। জাসদ ছাত্রলীগের আগুনঝরা ইতিহাস আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া কত কঠিন একটি কাজ!
তথ্যসূত্র –
- https://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/amamja/30250261
- https://www.banglatribune.com/politics/other-politics/880144/%E2%80%98%E0%A7%AD%E0%A7%AD-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8
- https://www.banglanews24.com/education/news/bd/833225.details
- https://www.jugantor.com/26th-anniversary/912512
- https://www.newsadvance24.com/412