প্রাত্যহিক জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আমাদের সকলেরই চাওয়া। কিন্তু সবার জীবনে তো এসব পাওয়া হয়না। এর কি কারণ হতে পারে? এর একটা কারণ হতে পারে যে আপনার ঘরেই আছে অশুভ শক্তির ছোঁয়া।
দিনশেষে মানুষের একটু স্বস্তি খুঁজতে হয়, একটু শান্ত হয়ে বসতে হয়, স্নিগ্ধ সবুজের বাতাস গায়ে মাখতে হয়। কিন্তু শহুরে জীবনে এমন হওয়া কি সম্ভব? হ্যা, সম্ভব। ড্রইং রুম থেকে বাথরুম অবধি আপনি সযত্নে সবুজের সতেজ ছোঁয়া পেতে পারবেন। এমনকি এই গাছগুলো আপনার ঘরের অশুভ শক্তিকে দূর করে আনবে শুভ শক্তি।
চলুন জেনে আসা যাক, ঘরে কি কি গাছ রাখলে পজিটিভ এনার্জি বৃদ্ধি পাবে।
পজিটিভ এনার্জি ও ইনডোর প্ল্যান্ট
উপরের ছবিটি দেখেই কেমন একটা শান্তি শান্তি ভাব আসছে না! হৃদয় শীতলকারক কি রয়েছে এই ছবিতে?! সকলের উত্তর হবে যে, গাছগুলো।
ঠিক তাই! ইনডোর প্ল্যান্টগুলো এভাবে দিনশেষে আপনার হৃদয়ের খোরাক জোগাবে; যেন এখানটায় দশ মিনিট থিতু হলে হঠাৎ ক্লান্ত এ হৃদয়ে বেজে উঠবে প্রিয় কোন গান!
এভাবে এটি মানসিক চাপ কমিয়ে হৃদয়কে শীতল করবে, ইতিবাচক চিন্তার সুযোগ দিবে। আপনি যদি মানসিক সমস্যা বা শারীরিকভাবে রোগগ্রস্ত হন তখন দেখবেন এই গাছগুলো আর তার সাথে কাটানো নীরব সময় আপনাকে কতোটা সুস্থ্য করে তুলেছে। আবার বাতাসের দূষণ কমিয়ে আপনার ফুসফুসকে দিবে নির্মল বায়ু।
আরেকটা জিনিস হলো, এই গাছগুলোর পরিচর্যা করে আপনি নিজের সঙ্গে একান্ত সময় অতিবাহিত করতে পারবেন। আবার এ সুযোগে সামাজিক সম্পর্কও গড়ে উঠবে সকলের সাথে।
অতএব,ইনডোর প্ল্যান্টসমূহ আমাদের মাঝে পজিটিভ এনার্জি তৈরি করে। আমাদের অন্তরাত্মা কে জীবিত করে।
ফেং শুই ও ইনডোর প্ল্যান্ট
ফেং শুই কি?
ফেং শুই হলো একটি চাইনিজ অনুশীলন। এখানে ‘ফেং’ অর্থ হলো ‘বাতাস’ আর ‘শুই’ শব্দটির অর্থ ‘পানি’। এ দুটোকে একত্রে একটি ‘শক্তিপ্রবাহ’ বোঝায়, যাকে মুক্তভাবে প্রবাহিত হতে দেয়া উচিত।
ফেং শুই ও ইনডোর প্ল্যান্ট
ইনডোর প্ল্যান্টগুলো বাসার বায়ু শুদ্ধ করে। ঘরময় বাতাসের প্রবাহ বজায় রেখে চারিদিকে প্রাণবন্ত পরিবেশ বজায় রাখে। আমাদের মধ্যে পজিটিভ এনার্জিও তৈরি করে। ইনডোর প্ল্যান্টের এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে ফেং শুই এর শক্তি প্রবাহ ধারণার সাথে মিলে যায়।
আবার ফেং শুই অনুসারে, মানুষের বসবাসের স্থানগুলো (যেমন: বেলকনি, বারান্দা) মানুষের জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর এই স্থানগুলোকে আরও উন্নত করে তোলে ইনডোর প্ল্যান্ট।
ইতিবাচক শক্তি উদ্ভিদ
বাস্তুশাস্ত্র মতে, অশুভ শক্তি আপনাকে কাঙ্ক্ষিত সুখী জীবন পেতে বাঁধার সৃষ্টি করে। তাই ঘর থেকে নেতিবাচক শক্তি সরিয়ে ইতিবাচক শক্তির জন্য ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা উচিত। বাস্তুশাস্ত্রমতে কতক ইতিবাচক শক্তির ইনডোর প্ল্যান্ট হলো-
তুলসীগাছ
বসতবাড়িতে তুলসীগাছ রাখার ঐতিহ্য বাঙালির পুরাতন ঐতিহ্য। এতে যেমন ছোট খাটো অসুখের টোটকা পাওয়া যায়, আবার তেমনি বাস্তুশাস্ত্রমতে এটি একটি ইতিবাচক শক্তির গাছ। এতে গৃহস্থের কল্যাণ হয়।
ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা
বাংলা নাম ঘৃতকুমারির সঙ্গে পরিচয় না থাকলেও অ্যালোভেরা নামের সাথে সবার পরিচিতি রয়েছে। এর গুনাগুনের কথা তো বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু এই অ্যালোভেরা যে বাড়ির জন্য ইতিবাচক শক্তি তা কি জানতেন! হ্যা, অ্যালোভেরা গাছ গৃহস্থালির সতেজতা, লাবণ্যর প্রতীক।
বাঁশ
নাম শুনেই চমকে উঠলেন? যে বাঁশ আবার ইনডোর প্ল্যান্ট কিভাবে কি সম্ভব! সম্ভব, কারণ বাঁশের অনেক প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে বাসাবাড়িতে রাখার জন্য ‘লাকি ব্যাম্বু’ খুব জনপ্রিয়। এটি আপনার বাসায় সমৃদ্ধি আনবে।
পিস লিলি
পিস লিলির শ্বেতশুভ্র ফুলের দিকে তাকালেই হৃদয় শীতল হয়ে যায়! বাস্তুশাস্ত্রমতে, এই গাছ শান্তির প্রতীক। এই গাছ পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে ও মানুষে মানুষে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করে।
বাটারফ্লাই পাম
এই গাছটি চেনেন না এমন মানুষ পাওয়া ভার। স্কুল-কলেজ,হাসপাতাল থেকে বাসার বেলকনি সব স্থানেই এই গাছটি দেখা যায়। এটা যে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তা নয়, ঘরকে ইতিবাচক শক্তিও দেয়।
সাদা রঙের অর্কিড
যেকোন অনুষ্ঠানে রঙবেরঙের অর্কিড ব্যবহার করতে দেখা যায়। কিন্তু এদের মধ্যে সাদা রঙের অর্কিড বিশেষ গুণ বহন করে। বাস্তুশাস্ত্র মতে, এটি সাফল্যের প্রতীক। তাই বাসাবাড়িতে এই সাদা রঙের অর্কিড লাগিয়ে বাড়ির ইতিবাচক শক্তিকে বাড়াতে পারেন।
উক্ত গাছগুলো ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানি প্ল্যান্ট, রোজমেরি গাছ,চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদিও ইতিবাচক শক্তিদায়ক গাছ।
“গাছপালা হলো পৃথিবীতে স্বর্গ বানানোর একটি অবিরাম প্রচেষ্টা।” -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তাই, গাছের কাছে, মাটির কাছে যত নিজেকে রাখা যায় ততোই মঙ্গল।