Image default
প্রযুক্তি

বাইন্যান্স: ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতের বিপ্লব

ব্যবহারের আইনগত অনুমতি না থাকলেও তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৫। এদিকে পুরো বিশ্বে ১৫১টি দেশে ডিজিটাল মুদ্রা হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে। 

ক্রিপ্টো কারেন্সির বিশ্বে বাইন্যান্স একটি বিপ্লবের নাম। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং প্রভাবশালী ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলির মধ্যে একটি। বাইন্যান্স শুধুমাত্র ট্রেডিংয়ের জন্য নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ক্রিপ্টো ট্রেডিং, স্টেকিং, লেন্ডিং এবং এমনকি NFT লেনদেনও করতে পারেন। এর ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেস, উচ্চ নিরাপত্তা এবং দ্রুত লেনদেনের সুবিধা এটিকে ক্রিপ্টো জগতে অপরিহার্য করে তুলেছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কী?

ক্রিপ্টো কারেন্সি হলো এক ধরনের সাংকেতিক ডিজিটাল মুদ্রা। শুধুমাত্র ইন্টারনেট জগতেই এই মুদ্রা ব্যবহার করা হয়।

সারা বিশ্বে প্রচলিত বিভিন্ন বিট কয়েন

মজার বিষয় হলো, বাস্তবে এ ধরনের মুদ্রার কোন অস্তিত্ব নেই। এটি কোনো দেশের সরকার প্রদত্ত মুদ্রাও নয়। এমনকি এই মুদ্রাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কোনো দেশের সরকারের হাতে নেই। ক্রিপ্টো কারেন্সি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের দ্বারা ছোট ছোট কোডের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। 

বাইন্যান্স কী?

বাইনান্স হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। এই প্ল্যাটফর্মে একই সাথে বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা যায়, বিক্রি করা যায় এবং ট্রেডিং অর্থাৎ ক্রিপ্টো কারেন্সির মালিকানা বদল করা যায়। 

বাইন্যান্স অ্যাপের ইন্টারফেস

বাইনান্স ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা চাংপেং ঝাও। ২০১৭ সালে তিনি সর্বপ্রথম এই সিস্টেমটি প্রতিষ্ঠা করেন। সহজ ব্যবহারযোগ্যতা, দ্রুত লেনদেন এবং নিরাপত্তার জন্য পৃথিবীজুড়ে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 

বাংলাদেশে বাইন্যান্স যে কারণে জনপ্রিয়

বাংলাদেশে বেশিরভাগ বড় বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ সেবাগুলো সহজ প্রাপ্য নয়। তবে, সেখানে বাইন্যান্স সকল বাংলাদেশী ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত। যদিও দেশে ডলার লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবুও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পেমেন্ট গ্রহণ করছেন। এই সুবিধা কাজে লাগাতে তারা সহজেই বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট খুলে তাদের আয়ের বিকল্প উপায় তৈরি করতে পারছেন।

বাইন্যান্সর মোবাইল কিংবা ডেস্কটপ ভার্সনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে, যে কেউ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করতে পারেন। এটি শুধু আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগই বাড়ায় না, বরং, আর্থিক স্বাধীনতার পথও প্রশস্ত করে।

বাইন্যান্স একাউন্ট তৈরি, ভেরিফিকেশন এবং KYC প্রসেস

বাইন্যান্সে অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই সহজ এবং যে কেউ চাইলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এই কাজটি করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

বাইন্যান্স ওয়েবসাইট

ধাপ ১: Binance ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ

প্রথমে কম্পিউটার বা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্রাউজার ওপেন করতে হবে। তারপর Binance-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে www.binance.com প্রবেশ করতে হবে। 

তবে কেউ চাইলে বাইন্যান্সের অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে একাউন্ট তৈরি করতে পারে। Android বা iOS উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই অ্যাপটি পাওয়া যায়।

ধাপ ২: বাইন্যান্স সাইন আপ বা নিবন্ধন 

  • Binance হোমপেজে “Sign Up” বা “Register” বাটনে ক্লিক করতে হবে। এই প্লাটফর্মে ইমেইল, মোবাইল নম্বর, গুগল অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপল আইডি ব্যবহার করে সাইন আপ করার সুযোগ রয়েছে।
  • একাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
  • যদি কোনো রেফারেল আইডি থাকে, তবে সেটি দেওয়া যেতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়াটি ঐচ্ছিক।
  • বাইন্যান্সের Terms of Service এবং Privacy Policy পড়ে সম্মতি দিতে হবে এবং ‘Create Account’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।  
বাইন্যান্স সাইন আপ পেজ

ধাপ ৩: ইমেইল বা ফোন নম্বর ভেরিফিকেশন

যদি ইমেইল ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়, তাহলে ইমেইলের ইনবক্সে বাইন্যান্স থেকে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে। এই কোডটি প্রবেশ করিয়ে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। 

ফোন নম্বর ব্যবহার করলে, মোবাইলে একটি OTP (One-Time Password) পাঠানো হবে। সেই কোডটি প্রবেশ করিয়ে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বাইন্যান্স অ্যাকাউন্টের ইমেইল ভেরিফিকেশন পেজ

ধাপ ৪: নিরাপত্তা সেটআপ (2FA সক্রিয় করুন)

সদ্য তৈরি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য Two-Factor Authentication (2FA) সক্রিয় করা উচিৎ। Two-Factor Authentication বাইন্যান্স অ্যাকাউন্টে একটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা পর্দা যোগ করবে। এই কাজটি Google Authenticator অ্যাপ বা SMS Authentication ব্যবহার করেও করা যেতে পারে

Google Authenticator ব্যবহার করার জন্য প্রথমে, Google Authenticator অ্যাপটি প্লে স্টোর কিংবা অ্যাপল স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে হবে। এরপর Binance এর দেওয়া QR কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে প্রাপ্ত কোডটি Binance এ প্রবেশ করাতে হবে।

বাইনান্স এর Two-Factor Authentication পেজ

ধাপ ৫: পরিচয় যাচাইকরণ বা KYC 

বাইন্যান্স একাউন্টের লিমিটেশন সরানোর জন্য এবং নিরাপত্তা বাড়াতে KYC (Know Your Customer) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আবশ্যক। 

সাধারণত, সন্দেহজনক কার্যকলাপ, নিরাপত্তা উদ্বেগ, অথবা নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা সহ বিভিন্ন কারণে বাইন্যান্স একাউন্টের টাকা তোলা সীমিত করতে পারে। এটিকে “সীমাবদ্ধ প্রত্যাহার মোড” বা “প্রত্যাহার সীমাবদ্ধতা” বা লিমিটেশন বলা হয়। সেক্ষেত্রে, 

প্রথমে, Verify বাটনে ক্লিক করতে হবে এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ ইত্যাদি প্রদান করতে হবে।

অ্যাকাউন্ট তৈরি কারীর পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, বা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর এক কপি ছবি আপলোড করতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে, ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করার জন্য একটি সেলফি বা লাইভ ছবি তুলতে বলা হতে পারে।

বাইন্যান্স অ্যাপ এর পরিচয় যাচাই করণ পেজ

ধাপ ৬: ফান্ড ডিপোজিট 

নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়ে গেলে ব্যবহারকারী তার অ্যাকাউন্টে ফান্ড ডিপোজিট করতে পারেন। সে চাইলে সরাসরি ক্রিপ্টোকারেন্সি যেমন- Bitcoin, Ethereum ইত্যাদি  ডিপোজিট করতে পারেন। যদি দেশে ফিয়াট কারেন্সি সাপোর্ট করে তাহলে সে ফিয়াট কারেন্সি (যেমন USD অথবা EUR) ব্যবহার করে ক্রিপ্টো কিনতে পারেন।  

ফান্ড ডিপোজিট করার জন্য, “Deposit” অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর সেখান থেকে পছন্দের পেমেন্ট মেথড নির্বাচন করতে হবে। 

বাইন্যান্স ফান্ড ডিপোজিট পেজ

ধাপ ৭: ট্রেডিং শুরু করুন

অ্যাকাউন্টে ফান্ড যোগ হওয়ার পর, ব্যবহারকারী এখন বাইন্যান্সে ট্রেডিং শুরু করতে পারেন। কেউ চাইলে স্পট ট্রেডিং, ফিউচার্স ট্রেডিং, বা P2P ট্রেডিং এর মতো বিভিন্ন অপশন ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনতে বা বিক্রি করতে পারেন।

বাইন্যান্সের ইন্টারফেস বেশ ইউজার ফ্রেন্ডলি। সেখানে বিভিন্ন ট্রেডিং টুল রয়েছে। যেগুলো ব্যবহার করে যে কেউ সহজেই মার্কেট মনিটরিং এবং ট্রেডিং করতে পারবে।

বাইন্যান্স ট্রেডিংয়ের প্রকারভেদ

বাইন্যান্সে বিভিন্ন ধরনের ট্রেডিং করা যায়। ট্রেডিংয়ের ধরন ব্যবহারকারীর ট্রেডিং অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি সহ্য ক্ষমতা এবং লক্ষ্যের উপর নির্ভর করে। মূলত বাইন্যান্স দুই ধরনের ট্রেডিং করা যায়-

১. স্পট ট্রেডিং (Spot Trading):

সরাসরি কেনাবেচা 

স্পট ট্রেডিং হলো বাইন্যান্সে বিদ্যমান ট্রেডিং গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ ট্রেডিং। এখানে ব্যবহারকারী যে কোনো সময় ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনতে বা বিক্রি করতে পারেন। 

এক্ষেত্রে একজন ব্যবহারকারীর লাভ যে মূল্যে ক্রিপ্ট কেনা বা বিক্রি করা হয়েছে, তা সেই মুহূর্তের বাজার মূল্যের উপর নির্ভর করবে।

বাইন্যান্স স্পট ট্রেডিং

২. মার্জিন ট্রেডিং (Margin Trading)

ঋণ নিয়ে ট্রেডিং 

মার্জিন ট্রেডিংয়ে এক্সচেঞ্জ থেকে ঋণ নিয়ে ট্রেডিং করা হয়। এর ফলে মূলধনের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা যায়। 

যদি বাজার ব্যবহারকারীর পক্ষে থাকে তাহলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। কিন্তু যদি বাজার বিপক্ষে চলে যায় তাহলে ব্যবহারকারী তার মূলধন হারাতে পারেন।

বাইন্যান্স মার্জিন ট্রেডিং

অন্যান্য ধরনের বাইন্যান্স ট্রেডিং

ফিউচার্স ট্রেডিং 

এটি একটি ডেরিভেটিভ ট্রেডিং, যেখানে ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট মূল্যে ভবিষ্যতের জন্য  ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার চুক্তি করে থাকেন।

অপশন ট্রেডিং 

এটিও একটি ডেরিভেটিভ ট্রেডিং, যেখানে ব্যবহারকারী ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট মূল্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনার বা বিক্রির অধিকার কিনতে পারেন।

লিভারেজ ট্রেডিং 

মার্জিন ট্রেডিংয়ের মতোই, লিভারেজ ট্রেডিংয়েও ব্যবহারকারী ঋণ নিয়ে ট্রেডিং করতে পারেন।

বাইন্যান্স ওয়ালেট কী?

দৈনন্দিন জীবনে আমরা টাকা যেমন ওয়ালেট রক্ষিত রাখি, বাইন্যান্স ওয়ালেট ও তেমনি এক ধরনের ওয়ালেট। পার্থক্যের জায়গা হলো এটি ডিজিটাল ওয়ালেট যেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণ করে রাখা হয়। 

এই ওয়ালেটটি বাইন্যান্স অ্যাপের মধ্যে একটি সেলফ-কাস্টডি ক্রিপ্টো ওয়ালেট। এটি ব্লকচেইন-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনগুলোর (dApps) জন্য একটি ডিজিটাল গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে। যার সাহায্যে ব্যবহারকারীরা তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সি পরিচালনা, একাধিক চেইনে টোকেন সোয়াপ করা, ইয়েল্ড আয় করা এবং বিভিন্ন ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্মের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারেন।

ব্লক চেইন কী?

সহজ কথায়, ব্লকচেইন হলো একটি ডিজিটাল খাতা বা খতিয়ান, যেখানে তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকে। “ব্লকচেইন” নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে: “ব্লক” এবং “চেইন”। প্রতিটি লেনদেন বা তথ্য একটি ব্লকে রাখা হয়, এবং ব্লকগুলো একটার পর একটা চেইনে যুক্ত হয়ে থাকে। এই চেইনটি হলো ব্যবহারকারীদের নেটোয়ার্কিং সিস্টেম। 

ব্লক চেইন সিস্টেম

বাইন্যান্স ওয়ালেট তৈরির ধাপ

ওয়েব থ্রি ওয়ালেট

বাইন্যান্সে রয়েছে ওয়েব থ্রি ওয়ালেট। বাইন্যান্স এর ওয়েব থ্রি ওয়ালেট খুলতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। 

সেক্ষেত্রে একজন ব্যবহারকারীকে সর্বপ্রথম বাইন্যাবন্স অ্যাপটি ইন্সটল করতে হবে। 

তারপর বাইনান্স অ্যাপটি ওপেন করে থ্রি  ডট মেনুতে ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে প্রো মুড অন করে নিতে হবে। 

পরবর্তীতে ওয়ালেট অপশনটিতে ক্লিক করে ওয়েব থ্রি সিলেক্ট করতে হবে। তখন বাইন্যান্সে আমাদের একটি নতুন ইন্টারফেসে নিয়ে যাবে। 

সেখানে ক্রিয়েট ওয়ালেট অপশন দিতে ক্লিক করে প্রবেশ করতে হবে। 

কখনো কখনো এই অপশনটিতে ক্লিক করার পর মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড চাওয়া হতে পারে। 

পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর ওয়ালেট ক্রিয়েটেড লেখা আসবে এবং তার পাশে পার্সেন্টেজ লেখা থাকবে। হান্ড্রেড পার্সেন্ট হয়ে যাওয়ার পর ‘verify your passkey’ অপশন আসবে। 

পাস কি প্রবেশ করানোর পর ব্যবহারকারী ইমেইলে বাইন্যান্স থেকে একটি কোড পাঠানো হবে। সেই কোডটি বাইন্যান্সের নির্ধারিত জায়গায় প্রবেশ করালে বাইন্যান্স ওয়ালেট তৈরি হয়ে যাবে।

চেইন ওয়ালেট 

বাইন্যান্স চেইন ওয়ালেট হল বাইন্যান্স ক্রিপ্টোকারেন্সির অফিসিয়াল ওয়ালেট। এই ওয়ালের টি বাইন্যান্স চেইন, ইথেরিয়াম এবং বাইন্যান্স স্মার্ট চেইনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং প্রজেক্টগুলো অ্যাক্সেস করতে ব্যবহৃত হয়। 

চেইন ওয়ালেট ব্যবহার করে একজন ব্যবহারকারী তার ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারেন এবং ব্লকচেইনের বিভিন্ন প্রজেক্টের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।

এই ওয়ালেটটি ব্যবহার করে আপনি নিরাপদে ফান্ড পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও চেইন ওয়ালেটের সাহায্যে একজন ব্যবহারকারী BNB সোয়াপ করতে পারেন, ইয়েল্ড ফার্মিং করতে পারেন বা NFT মিন্ট করতে পারেন।

বাংলাদেশে বাইন্যান্স কি বৈধ?

বর্তমানে Binance সকলের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দিন যত যাচ্ছে এটির জনপ্রিয়তার হার ততটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অনেকগুলো দেশেই বাইনান্স এর মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। ক্রিপ্টো কারেন্সি মুদ্রা বর্তমান বিশ্বে অনেকগুলো দেশ যেমন- ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, মেক্সিকো, স্পেন, জাপান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা সহ আরও অনেক দেশে ক্রিপ্টো কারেন্সি মুদ্রার বৈধ স্বীকৃতি রয়েছে। 

বাংলাদেশে বাইন্যান্স দিয়ে তরুন-তরুণীরা ট্রেডিং করছে

তবে বাংলাদেশ, মিশর, আলজেরিয়া, মরক্কো সহ আরো কিছু দেশে ক্রিপ্টো কারেন্সি মুদ্রার বৈধ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কারণ, ক্রিপ্টো কারেন্সি মুদ্রা গুলো ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের উপর ভিত্তি করে পেয়ার টু পেয়ার সিস্টেমে গ্রাহকদের লেনদেন সম্পূর্ণ করে। যার ফলে তৃতীয় কোন পক্ষ অর্থাৎ ব্যাংকের প্রয়োজন হয় না। আর এই মুদ্রার উপরে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ক্রিপ্টো কারেন্সি মুদ্রা নিষিদ্ধ করার আরেকটি মূল কারণ হলো এই মুদ্রার অস্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা এবং জটিল প্রক্রিয়া। 

বাংলাদেশে বাইন্যান্স বা ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত লেনদেনের বৈধতা নিয়ে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, ২০১৭ সালে একটি প্রেস রিলিজ জারি করে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করে। এতে বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশে বৈধ নয় এবং এটি ব্যবহার করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে, ক্রিপ্টোকারেন্সি মজুদ করা বা হোল্ডিং করার বিষয়টি সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। 

বাইন্যান্স ট্রেডিং টিপস

বাইন্যান্সে ট্রেডিং করতে হলে একজন ব্যবহারকারীকে কিছু বিষয় ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং সঠিক স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করতে হবে। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলো-

১. ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বেসিকস 

ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং মানে হলো কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যৎ মূল্য কেমন হবে তা বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে ক্রয় বা বিক্রয় করা। ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম সবসময় উঠানামা করে, এবং এই ওঠানামাকে কাজে লাগিয়ে লাভ হাসিলের উদ্দেশ্যেই ট্রেডিং করা হয়। তাই মূল্য ওঠা নামা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

২. ট্রেডিং টাইপ নির্বাচন

বাইন্যান্সে বিভিন্ন ধরনের ট্রেডিং অপশন রয়েছে। নিজের সুবিধা অনুযায়ী ট্রেডিং টাইপ যেমন- স্পট ট্রেডিং, ফিউচার ট্রেডিং বেছে নিতে হবে। তবে, নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য স্পট ট্রেডিং অপেক্ষাকৃত সহজ এবং কম ঝুকিপূর্ণ।

৩. কয়েন এবং পেয়ার নির্বাচন

ব্যবহারকারী কোন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করবেন সেটা তাকে নির্বাচন করতে হবে। 

এমনকি, কোন কয়েন দিয়ে ক্রিপ্টো কিনবেন তাও নির্ধারণ করতে হবে। যেমন, কেউ যদি যদি Dogecoin কিনতে চান এবং তার কাছে কাছে যদি USDT থাকে। তাহলে সে DOGE/USDT পেয়ারে ট্রেডিং করবেন।

৪. স্টেবলকয়েন দিয়ে শুরু 

নতুন ট্রেডারদের জন্য স্টেবলকয়েন (যেমন USDT, BUSD) দিয়ে ট্রেডিং শুরু করা ভালো। স্টেবল কয়েনের মূল্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। ঝুঁকি এড়াতে নতুন ট্রেডাররা এ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

৫. মার্কেট রিসার্চ 

ট্রেডিং শুরু করার আগে একজন নতুন ট্রেডারকে কে মার্কেট ট্রেন্ড, কয়েনের পারফরম্যান্স এবং যাবতীয় নিউজ নিউজ ভালোভাবে বিশ্লেষণকরতে হবে। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস অবশ্যই জরুরী।

৬. রিস্ক ম্যানেজমেন্ট

ট্রেডিংয়ে সবসময় রিস্ক ম্যানেজমেন্ট জরুরি। বাইন্যান্স ব্যবহারকারীকে তার পোর্টফোলিওর একটি ছোট অংশ দিয়ে ট্রেডিং শুরু করতে হবে। একই সাথে তাকে লাভ-লসের অনুপাতের বিষয়টি ও ঠিক করে ফেলতে হবে। 

৭. ট্রেডিং টুলসের ব্যবহার 

বাইন্যান্সে বিভিন্ন ট্রেডিং টুলস রয়েছে, যেমন স্টপ-লস, লিমিট অর্ডার, মার্কেট অর্ডার ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহার করে একজন নতুন ট্রেডার তার ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি আরও শক্তপোক্ত করতে পারেন।

বাইন্যান্স ট্রেডিংয়ে সাফল্য পেতে উপরের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে তার ট্রেডিং দক্ষতা কে বাড়াতে পারেন।তবে ট্রেডিং এ সব সময় ঝুঁকির ব্যাপারটি মাথায় রেখে আগানো উচিত।

বাইন্যান্স থেকে টাকা উত্তোলন

বাইন্যান্স থেকে টাকা উত্তোলন করার জন্য কিছু সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হবে। নিচে দেওয়া হলো বাইন্যান্স থেকে উত্তোলন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া:

ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য

  • ব্যবহারকারী যে ক্রিপ্টোকারেন্সিটি উত্তোলন করতে চান তা নির্বাচন করতে হবে।
  • গ্রাহকের ওয়ালেট ঠিকানা প্রবেশ করাতে হবে।
  • নেটওয়ার্ক নির্বাচন করতে হবে (যেমন BTC, ETH, BNB)। সঠিক নেটওয়ার্ক নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উত্তোলনের গতি এবং ফি প্রভাবিত করতে পারে।
  • এ পর্যায়ে উত্তোলনের পরিমাণ লিখতে হবে।
  • এরপর নিরাপত্তা যাচাই (2FA, ইমেইল যাচাই ইত্যাদি) সম্পন্ন করতে হবে।

ফিয়াটের জন্য

  • প্রথমে উত্তোলনের পদ্ধতি নির্বাচন করতে (ব্যাংক ট্রান্সফার, PayPal ইত্যাদি), এটি  ব্যবহারকারীর অঞ্চলের উপর নির্ভর করে।
  • এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত অথবা পেমেন্ট পদ্ধতি প্রদান করতে হবে।
  • উত্তোলনের পরিমাণ লিখতে হবে।

২০২৫ সালে বাইন্যান্সের ট্রেন্ড এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং নতুন উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতে অনেক নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ২০২৫ সালে বাইন্যান্স স্মার্ট চেইন বা BNB-এর ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

ব্যবহার ক্ষেত্র এবং ইকোসিস্টেমের বৃদ্ধি

বাইন্যান্সের ভবিষ্যৎ মূলত তার ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন এবং গ্রহণযোগ্যতার সাথে জড়িত। বাইন্যান্স তার সেবা আরও বিস্তৃত করার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। যেমন ডিসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স (DeFi) প্ল্যাটফর্ম, এনএফটি, এবং স্টেকিং অপশন, এ সেবাগুলো বাইন্যান্সকে দিন দিন আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলছে। 

বাইন্যান্স স্মার্ট চেইনের মাধ্যমে দিন দিন বিভিন্ন ডেভেলপার, স্টার্টআপ এবং নতুন ব্যবসা আকর্ষিত হচ্ছে। এটি বাইন্যান্স ইকোসিস্টেমের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রভাব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।ভবিষ্যতে বাইন্যান্স স্মার্ট চেইনের মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও ধারণা অনেকের। 

টোকেনোমিক্স এবং ডিফ্লেশনারি মেকানিজম

বাইন্যান্স স্মার্ট চেইন বা BNB-এর টোকেনোমিক্স এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এর মূল্য সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে। এর একটি প্রধান উপাদান হলো কয়েন বার্ন প্রক্রিয়া। যেখানে বাইন্যান্স নিয়মিতভাবে কিছু BNB কয়েন বাজার থেকে সরিয়ে ফেলে। এতে বাজারে BNB-এর সরবরাহ কমে যায়। সরবরাহ কমে গেলে চাহিদা বেড়ে যায়। এর ফলে বাজারে  মূল্যও বেড়ে যেতে পারে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে তারা কয়েন বার্ন চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না মোট ১০০ মিলিয়ন BNB (মূল সরবরাহের অর্ধেক) পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি BNB-এর মূল্য বাড়াতে সাহায্য করবে, কারণ সরবরাহ কমে যাওয়ার সাথে সাথে বাকি কয়েনগুলোর দাম বাড়বে।

নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ এবং কমপ্লায়েন্স

বিশ্বজুড়ে বাইন্যান্সের কার্যক্রম যেমন বাড়ছে সাথে সাথে, এটি নানা দেশে আরও কঠোর নিয়মকানুন এবং নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাইন্যান্সের উপর চাপ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যা BNB-এর ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করতে পারে। 

তবে, বাইন্যান্স ইতোমধ্যে কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করেছে এবং নিয়মকানুনের সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য নিয়ন্ত্রকদের সাথে সহযোগিতা করতে কাজ করে চলেছে।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন

বাইন্যান্স তার প্রযুক্তিগত উন্নতির মাধ্যমে BNB-এর ব্যবহার আরও বাড়ানোর জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। বাইন্যান্স চেইন এবং বাইন্যান্স স্মার্ট চেইন (BSC)-এর উন্নয়ন BNB-কে ডিইফাই (DeFi) খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

ভিটালিক বুটেরিন বাইন্যান্স ট্রেডিং করে সফল ব্যক্তি

ভবিষ্যতে, নতুন ব্লকচেইন প্রযুক্তি লেয়ার ২ সমাধান আরও শক্তিশালী  করবে। পাশাপাশি ক্রস-চেইন ইন্টারঅপারাবিলিটি, অর্থাৎ, বিভিন্ন ব্লকচেইনের মধ্যে যোগাযোগে BNB-এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে।

রেফারেন্স

Related posts

২০২৫ সালে যেসব এআই স্মার্টফোন আসছে

শেখ আহাদ আহসান

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More