Image default
পথে প্রান্তরে

বাংলাদেশে বাইক রাইড ট্রিপ এর সেরা রাস্তা

বাইক রাইড মানে অবাধ স্বাধীনতা এবং অ্যাডভেঞ্চার

যে কোনো ভ্রমণের উদ্দেশ্য কেবল গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো নয়। দেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে নতুন করে আবিষ্কারও ভ্রমণের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য। তবে সেটা যদি হয় বাইক নিয়ে ভ্রমণ তাহলে তা যেনো আরো আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। আমাদের দেশের হাইওয়েগুলো খুব আহামরি না হলেও, মোটরসাইকেল নিয়ে যারা ভ্রমণে বের হতে চান, তাদের জন্যও কিছু রয়েছে কিছু অসাধারণ সুন্দর সড়ক। 

ধানখেত ঘেঁষা রাস্তা থেকে শুরু করে উপকূলীয় কিংবা পাহাড়ি রাস্তা অনিন্দ্য সুন্দর কিছু সড়কের সন্ধান পাবেন খুঁজলেই। আর এই সব রাস্তা ধরে চলতেই চলতেই উপভোগ করতে পারেন অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সেই সঙ্গে অণ্বেষণ করতে পারবেন দেশের সংস্কৃতির।

বাইক ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম কিছু রাস্তা

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম (শেরপুর রোড)

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে শেরপুর রোডটি অনেক জনপ্রিয় এবং মনোমুগ্ধকর। পাহাড়, নদী আর বনভূমির মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা এই  রাস্তায় দিয়ে আপনি যাত্রা করলে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। সিলেটের মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি পথগুলো একদম সোজা স্লো-ডাউন করার জন্য আদর্শ। পথে কিছু ছোট ছোট গ্রামের এলাকার মাঝে বিশ্রাম নিতে পারেন, যেখান থেকে পুরো পরিবেশের স্বাদ নিতে পারবেন।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ

মোটরসাইকেলে ভ্রমণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাস্তা হলো কক্সবাজার থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট কক্সবাজার থেকে শুরু হয়ে এই ৮০ কিলোমিটার সড়কটি উত্তরদিকে বিস্তৃত হয়েছে। এই রাস্তায় যাত্রার সময় একপাশে দেখা যাবে দিগন্ত বিস্তৃত সুবিশাল বঙ্গোপসাগরের নীলাভ পানি। আর অন্য পাশে আছে সারি সারি পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সাগর আর পাহাড়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে রাস্তাটি হয়ে হয়ে উঠেছে সবার প্রিয়। মোটরসাইকেলে ভ্রমণের সঙ্গে বাংলাদেশের অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে চাইলে চলে যেতে পারেন এখানে।

মেরিন ড্রাইভ সড়ক

রংপুর থেকে তিস্তা নদী

রংপুর থেকে তিস্তা নদী পর্যন্ত যাত্রা মোটরসাইকেল চালকদের জন্য দুর্দান্ত একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে। নদীটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর এবং এর পাশের পরিবেশ একদম নিঃশব্দ এবং শান্ত। এই রাস্তায় অনেক জায়গায় আপনি প্যাডেল বা ছোট ফেরি পার হওয়ার সুবিধাও পাবেন। তিস্তা নদী ঘিরে নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং সেখানকার ছোট ছোট গ্রামের রাস্তা ভ্রমণের জন্য দারুণ।

কুয়াকাটা থেকে বরগুনা

কুয়াকাটা দক্ষিণাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত শহর। সেখান থেকে বরগুনা পর্যন্ত যাত্রা মোটরসাইকেল চালানোর জন্য অন্যতম একটি অভিজ্ঞতা। কুয়াকাটার শান্ত সমুদ্র এবং সেখানকার সৈকত খুবই জনপ্রিয়। বরগুনার রাস্তাগুলোও সুন্দর, যেখানে আপনি প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন। সাগরের কাছাকাছি থাকার ফলে পরিবেশ বেশ শান্ত এবং ঠাণ্ডা থাকে, যা মোটরসাইকেল চালানোর সময় খুবই উপভোগ্য।

পদ্মা সেতু সংলগ্ন রাস্তাগুলো

পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার একটি নতুন রাস্তা খুলে গেছে। পদ্মা সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় যে দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়, তা খুবই মনোমুগ্ধকর। সেতুর উপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা। পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ এবং অন্যান্য এলাকার রাস্তা খুবই মসৃণ, এবং ভ্রমণকারীদের জন্য দারুণ। এই রাস্তাগুলোর প্রতিটি অঞ্চলে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ, সৌন্দর্য এবং আনন্দ রয়েছে। 

পদ্মা সেতু

চলন বিল সড়ক

উত্তরের সবচেয়ে জনপ্রিয় সড়ক হলো চলন বিল। ঢাকা থেকে শুরু করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে ধরে এগিয়ে যেতে হবে ঢাকা- নাটোর হাইওয়ের দিকে। হাটিকুমরুল হাইওয়েটি সিরাজগঞ্জ রোড নামেও পরিচিত। উত্তরের সবচেয়ে সুন্দর এই সড়ক ধরে ২৫ কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই পৌঁছে যাবেন মহিষলুটি বাজারে।

এখান থেকে ডানে গেলেই অপূর্ব সুন্দর একটি রাস্তা চোখে পড়বে। এই সরু রাস্তার দুই পাশে দেখা মিলবে চলন বিলের স্বচ্ছ অবারিত জলরাশি। দিগন্তে গাছগাছালির সারি এই প্রাকৃতিক দৃশ্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। বর্ষার সময়ে এই সড়কের কিছু অংশ পানির নিচে থাকে, যা আপনার যাত্রাকে আরও চ্যালেঞ্জিং ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

চলনবিলের রাস্তা

মোটর সাইকেল ভ্রমণের জন্য পাহাড়ি রাস্তা

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল ভ্রমণের জন্য বেশ কিছু চমৎকার পাহাড়ি রাস্তা রয়েছে, যেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। পাহাড়ি পথের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত গন্তব্যগুলো হলো-

বান্দরবান

বান্দরবান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি অঞ্চল। এখানকার রাস্তাগুলো মোটরসাইকেল চালানোর জন্যও দারুণ। বিশেষ করে থানচি থেকে কেওক্রাডং বা নীলগিরি পর্যন্ত যাত্রা অনেক রোমাঞ্চকর হতে পারে আপনার জন্য। 

এখানে পাহাড়, সাঙ্গু নদী, চা-বাগান এবং মেঘালয় পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যেন স্বর্গের মতো অনুভূতি।  তবে, বান্দরবানে মোটরসাইকেল চালাতে গেলে কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। এখানকার রাস্তা পিচ্ছিল বা ঢালু হতে পারে। তবে প্রতিটি দৃশ্যই এক ধরনের নতুন রোমঞ্চকর অভিজ্ঞতা এনে দেয়।

রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটিও বাংলাদেশের একটি পাহাড়ি শহর, যা সুন্দর সব জঙ্গল এবং পাহাড়ে ঘেরা। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম রোড এবং রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি রোড মোটরসাইকেল ভ্রমণের জন্য চমৎকার। এখানে পাহাড়, লেক এবং নির্জন পথগুলো আপনাকে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাবে। বিশেষত কাপ্তাই লেক এর সৌন্দর্য এবং পাহাড়ি রাস্তাগুলো আপনার ভ্রমণকে আরও রোমাঞ্চকর করবে।

খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি ভ্রমণের জন্য বেশ কিছু চমৎকার পাহাড়ি রাস্তা রয়েছে, যেমন খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি রোড। এখানে পাহাড়ের ওপর দিয়ে যাওয়া রাস্তাগুলোর মাঝ দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর এক দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে আপনার। খাগড়াছড়ির শান্ত পরিবেশ এবং সবুজ পাহাড় আপনাকে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে সাহায্য করবে।

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি রাস্তা

মোটর সাইকেল নিয়ে সিলেট ভ্রমণের উপযুক্ত রাস্তা

সিলেট ভ্রমণে জন্য মোটরসাইকেল চালানোর রাস্তা খুবই সুন্দর এবং চমৎকার। ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করে রাইডাররা সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ করতে পারবেন। 

সিলেট শহর থেকে শ্রীমঙ্গল

সিলেট শহর থেকে শ্রীমঙ্গল, এই রাস্তাটি একদম মনোমুগ্ধকর। এই রাস্তা দিয়ে বাইক চালাতে চালাতে আপনি উপভোগ করতে পারবেন চা-বাগান, পাহাড়, এবং নদীর অপরূপ সোভা। এই পথে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর লাউয়াছড়া বন এবং নোমানী হাওর দেখতে পারবেন।

সিলেট থেকে মৌলভীবাজার

অপরদিকে, সিলেট থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার রাস্তাটিও বেশ সুন্দর। এখানে পাহাড়ি রাস্তা এবং চা-বাগানের মাঝে দিয়ে চলতে হবে। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া বন এবং তার আশপাশের দৃশ্যগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই রাস্তা একটা  অসাধারণ অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে পারে ভ্রমণ জীবনে।

সিলেট থেকে জাফলং

সিলেট থেকে জাফলং যাওয়ার রাস্তাটি একটু বেশি রোমাঞ্চকর। এখানে আপনি বিলাসপুর নদী, ডাউন স্ট্রীট এবং পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। জাফলংয়ের পাথর সংগ্রহ এবং মেঘালয়ের দর্শন আপনার ভ্রমণকে আরো আমারদায়ক করে তুলবে। 

এছাড়া, সিলেট থেকে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত এবং রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট যাওয়ার রাস্তাগুলোও মোটরসাইকেল চালানোর জন্য দারুণ।

কক্সবাজার ভ্রমণে মোটর সাইকেল রুট

মোটর সাইকেলে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য ঢাকা থেকে বের হয়ে প্রথমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (N1) ধরতে হবে, যা প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূর। এই সড়কটি বেশ ভালো, তবে কিছু জায়গায় ট্রাফিক এবং হালকা ভাঙাচুরা রাস্তা হতে পারে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পথ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে আপনি পাহাড়, বনাঞ্চল এবং নদী দেখতে পাবেন। বিশেষ করে কক্সবাজারের সমুদ্রের তীরবর্তী রাস্তা মোটরসাইকেল চালানোর জন্য অনেক উপভোগ্য হতে পারে আপনার জন্য। কক্সবাজার পৌঁছানোর পরে, কক্সবাজার শহর থেকে শুরু করলে, প্রথমে শহরের সেন্ট্রাল সৈকত (কক্সবাজার বিচ) ঘুরে দেখতে পারেন। এরপর, ইনানী বিচ যাওয়ার জন্য ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এই পথটি খুবই সুন্দর, যেখানে আপনি সাদা বালু ও সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

তারপর, শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হিমছড়ি যেতে পারেন। এটি পাহাড়ি রাস্তা এবং ঝর্ণার জন্য পরিচিত। এখানকার প্রকৃতি আপনাকে মুগ্ধ করবে। রাস্তাটি মোটরসাইকেলে চালানোর জন্য বেশ উপযুক্ত, তবে কিছু জায়গায় চড়াই-উতরাই থাকতে পারে।

এছাড়া, কক্সবাজারের আশপাশের ছোট শহরগুলো যেমন চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ঘুরে দেখতে পারেন। এখানে শান্ত পরিবেশ এবং সুন্দর রাস্তা আপনাকে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে সহায়তা করবে। মোটরসাইকেল নিয়ে এই রুটগুলোতে ভ্রমণ করা অনেক আনন্দদায়ক, তবে নিরাপত্তা এবং রাস্তার পরিস্থিতি ভালোভাবে দেখে যাত্রা শুরু করুন।

সুন্দরবন অঞ্চলে মোটর সাইকেল ভ্রমণ

সুন্দরবনে মোটরসাইকেল ভ্রমণ একটি চ্যালেঞ্জিং কিন্তু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। সুন্দরবন অঞ্চলের রাস্তা বেশিরভাগ জায়গায় কাঁচা এবং সরু। তবে শুকনো সময়ে এটি মোটরসাইকেল চালানোর জন্য কিছুটা সহজ হয়ে ওঠে। খুলনা, বাগেরহাট, চাঁদপাই, বা মোংলা থেকে আপনি সুন্দরবন অঞ্চলে মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে পারেন,।

বাগেরহাট – খুলনা রোড

ভ্রমণ পথে সুন্দর প্রকৃতি, নদী এবং গাছপালা আপনাকে মুগ্ধ করবে। খাল, জলাশয় এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মাঝে মোটরসাইকেল চালানোর অভিজ্ঞতা একেবারে অন্যরকম। তবে, বন্যপ্রাণীর কারণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, এবং নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। সুন্দরবন এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা সীমিত, তাই যাত্রার আগে পর্যাপ্ত পানি, খাবার এবং পেট্রোল নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তা এবং পরিবেশের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া, এবং নিরাপদে যাত্রা নিশ্চিত করতে সঠিক প্রস্তুতি থাকা উচিত।

বাংলাদেশে মোটর সাইকেল ভ্রমণের সেরা সময় ও প্রস্ততি

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল ভ্রমণের সেরা সময় সাধারণত শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই সময় আবহাওয়া ঠান্ডা এবং শুষ্ক থাকে, যা মোটরসাইকেল চালানোর জন্য আদর্শ। গরম এবং বর্ষাকালে ভ্রমণ করা সম্ভব হলেও, তাপমাত্রার কারণে শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি হতে পারে এবং বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টি এবং স্লিপারি রাস্তায় চলাচল করা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে।

মোটরসাইকেল ভ্রমণের আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, আপনার মোটরসাইকেলটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। টায়ার, ব্রেক, হেডলাইট, হর্ন, এবং ইঞ্জিনের অবস্থা পরীক্ষা করা উচিত, যাতে যাত্রার সময় কোনো সমস্যা না হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেট, গ্লাভস, জ্যাকেট এবং অন্যান্য সুরক্ষা গিয়ার পরা উচিত। এসব সুরক্ষা উপকরণ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, যাত্রার সময় পর্যাপ্ত পেট্রোল এবং পানি নিয়ে বের হওয়া ভালো, কারণ দূরবর্তী জায়গায় পেট্রোল পাম্প পাওয়ার সমস্যা হতে পারে। আপনি কোথায় যাচ্ছেন এবং সেই পথে কী ধরনের রাস্তায় চলতে হবে, সে সম্পর্কে আগে থেকে খোঁজ-খবর নিন। বিশেষত বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বা কাদা-পথে চলাচল কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই রুট এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানাটা প্রয়োজনীয়।

দীর্ঘ যাত্রায় মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিতে ভুলবেন না। এমনকি হালকা স্ন্যাকস বা খাবার সঙ্গে রাখা উচিত, যাতে শক্তি ধরে রাখা যায় এবং আপনি তাজা থাকতে পারেন। এছাড়া, একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সাথে নেওয়া উচিত, যাতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা বা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।

মোটর বাইক রাইড এর জন্য প্রয়োজনীয় গিয়ার্স

সর্বোপরি, বাংলাদেশে বাইক ভ্রমণ এক অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার হতে পারে। আপনি যদি প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে চান, নতুন জায়গায় পা রাখতে চান, এবং রোমাঞ্চপ্রিয় হয়ে থাকতে চান, তাহলে বাইক ভ্রমণ হতে পারে আপনার জন্য সেরা পছন্দ।

সোর্স

Related posts

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবন’ ভ্রমণ

সাবরিনা শায়লা ঊষা

মিরিঞ্জা ভ্যালি: মেঘের রাজ্যে স্বপ্নিল ভ্রমণ

শাল গাছের মেলাঃ মধুপুর উদ্যান ভ্রমণ

পুশরাম চন্দ্র

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More