“এমনও কি হতে পারে না যে, কমলার চেয়েও ছোট কোনো বোমা হয়তো একটি সম্পূর্ণ ভবন ধ্বংস করার মত সুপ্ত ক্ষমতার অধিকারী হবে- না, বরং হাজারো টন কর্ডাইটের শক্তি ধারণ করে এক আঘাতে একটি জনপদ উড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে?”
প্রতিদিনের মতো আপনি সকালের কফিটা হাতে নিয়ে ইনস্টাগ্রামে ঢুকলেন। এরপর রিলস অপশনে যেতেই দেখলেন গাজার গণহত্যা, লেবানন আক্রমণের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ভয়ংকর অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সব ভিডিও। আজকে হয়তো শান্তিতে বসে কফি খাচ্ছেন, কিন্তু কালকে যদি আপনিও এই পরিস্থিতির শিকার হন?
‘ইন দিস কর্নার অফ দা ওয়ার্ল্ড’ নামে একটি জাপানিজ এনিমেশন মুভির কথা মনে পড়ে গেলো। সেই মুভির একটা ক্লিপে দেখানো হয়েছে, কীভাবে হাত ধরে থাকা একটি বাচ্চা নিমিষেই এক অশুভ শক্তির আঘাতে গায়েব হয়ে গেল; হাতে রয়ে গেল শুধু ধরা সেই ছোট্ট হাতটা! এই বীভৎস দৃশ্য কোন ফিকশন ঘটনা না, এটা ছিলো হিরোশিমায় নিউক্লিয়ার বোমা ফেলার একটা ছোট্ট ঘটনার অ্যানিমেশন চিত্র।
পারমানবিক বোমার আবিষ্কার
তবে এই ভয়াবহ পারমানবিক বোমার আবিষ্কার কিন্তু ছিল এক অভাবনীয় উদ্ভাবন। ১৯৩৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী অটো হান এবং ফ্রিৎজ স্ট্রাসম্যান যখন ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াসকে বিভক্ত করে বিশাল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন, তখন নিউক্লিয়ার শক্তির সম্ভাব্যতা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞানীরা তখন দ্রুত বুঝতে পারেন যে পারমানবিক ফিউশন থেকে অসাধারণ পরিমাণ শক্তি পাওয়া সম্ভব, যা সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হলে বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করা যাবে।
১৯৩০ এর দশকে, নাৎসি জার্মানি ক্ষমতায় আসলে পদার্থবিদ লিও যিলার্ড যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান এবং সেখানে তার পরমাণু বিষয়ক গবেষণা চালিয়ে যেতে থাকেন। এই সময় তিনি নিউক্লিয়ার চেইন রিয়াকশন তত্ত্ব আবিষ্কার করেন এবং এটি ব্যবহার করে বিস্ফোরণের সৃষ্টি সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি ধারণা দেন। মজার বিষয় হলো, এই তত্ত্ব আবিষ্কারের সময়ও তিনি মৌলের বিভিন্ন আইসোটোপের ব্যবহার সম্পর্কে অনিশ্চিত ছিলেন। তা সত্বেও এই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে, ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম বিষ্ফোরণে জন্য উপযোগী হতে পারে। বস্তুত, তিনি তার সময় থেকে দশকখানেক এগিয়ে ছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৪ সালে আইরিন কুরি-জোলিও এবং ফ্রেড্রিক জোলিও আবিষ্কার করেন যে, এই চেইন রিয়্যাকশন প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীল আলফা কণা দিয়ে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা উদ্দীপিত করা যেতে পারে। ইতালিতে এনরিকো ফার্মি নিউট্রন দিয়ে ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসে আঘাত করার সময় অনুরূপ ফলাফলের কথা জানায়।
কিন্তু পারমানবিক বোমা আবিষ্কারের সূচনা বলা চলে, বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যখন রাদারফোর্ড প্রথম এটম সম্পর্কে ধারণা দেন। তখন থেকেই এটম বোমার কল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। যেমন, রাদারফোর্ডের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে এইচ জি ওয়েলস ১৯১৪ সালে তাঁর উপন্যাস ‘দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি’-তে ‘এটম বোমা’ ধারণাটি ব্যবহার করেন। এই উপন্যাসটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কিছু আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯২৪ সালের একটি প্রবন্ধে, উইনস্টন চার্চিল এটমের সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহার সম্পর্কে অনুমান করে বলেছিলেন, “এমনও কি হতে পারে না যে, কমলার চেয়েও ছোট কোনো বোমা হয়তো একটি সম্পূর্ণ ভবন ধ্বংস করার মত সুপ্ত ক্ষমতার অধিকারী হবে- না, বরং হাজারো টন কর্ডাইটের শক্তি ধারণ করে এক আঘাতে একটি জনপদ উড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে?”
ম্যানহাটান প্রকল্পঃ আমেরিকার পারমানবিক বোমা এবং ওপেনহেইমার
১৯৩৯ সালে জার্মানি যখন পারমানবিক বোমা নিয়ে গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখন আলবার্ট আইনস্টাইন এবং লিও যিলার্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টকে চিঠি লিখে এ বিষয়ে সচেতন করেন। সেই চিঠি পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট টের পেলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানি পারমানবিক বোমার মত অস্ত্র নিয়ে এক ভয়ঙ্কর পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। তখন যুক্তরাষ্ট্র সরকার যুক্তরাজ্যের সহায়তায় প্রথম পারমানবিক বোমা প্রকল্প ‘ম্যানহাটান প্রকল্প’ শুরু করে। কানাডাও এই প্রকল্পে যুক্ত ছিল। এই প্রকল্পের নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমার। এছাড়াও, ছিলেন আরো উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানী যেমন এনরিকো ফার্মি ও নীলস বোর। যদিও বলা হয়, পারমানবিক বোমার আবিষ্কার ছিল অনেক বিজ্ঞানীর যৌথ প্রচেষ্টার ফল । কিন্তু রবার্ট ওপেনহাইমারকেই পারমানবিক বোমার জনক বলা হয়।
ম্যানহাটান প্রকল্প প্রথম সফল পারমানবিক বোমা পরীক্ষা চালায় ১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো মরুভূমিতে। এটি ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ এবং এই পরীক্ষা ‘ট্রিনিটি টেস্ট’ নামে পরিচিত।
হিরোশিমা ও নাগাসাকি
ম্যানহাটান প্রকল্পের সফলতার পর ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জাপানের দুটি শহর হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে মানব ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান ‘এনোলা গে’ ৬ আগস্ট হিরোশিমায় ‘লিটল বয়’ নামক বোমা ফেলে। এটি ছিল ইউরেনিয়াম ভিত্তিক বোমা যার শক্তি ছিল পনেরো কিলোটন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান। যার ফলে তৎক্ষণাৎ সাত থেকে আট লক্ষ মানুষ মারা যায়। পরবর্তীতে এর তেজষ্ক্রিয়তার ফলে মারা যায় আরো কয়েক হাজার মানুষ। এর মাত্র তিন দিন পর, ৯ আগস্ট নাগাসাকির ওপর ফ্যাট ম্যান নামক একটি প্লুটোনিয়াম ভিত্তিক পারমানবিক বোমা ফেলে। এই বোমার শক্তি ছিল ২১ কিলো টন টিএনটির সমান। এর ফলে নাগাসাকিতে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার মানুষ তৎক্ষণাৎ নিহত হয়। পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে আরো অনেক প্রাণহানি ঘটে।
বোমার নামগুলো যতটা সাধারণ, ততটাই ধ্বংসাত্মক ও হৃদয়বিদারক ছিল বোমা ফেলার পরবর্তী দৃশ্যগুলো। এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল অভাবনীয়। এর ভয়াবহতা কিছুটা হলেও বুঝা যাবে, এই বোমার প্রত্যক্ষদর্শী ফুজিও তোরিকোশির স্মৃতিচারণে।
তিনি বলেন, ‘৬ আগস্ট সকাল থেকে আবহাওয়া খুবই ভালো ছিল। আমি পেছনের ঘরে মায়ের সাথে সকালের নাস্তা খাচ্ছিলাম যখন আমি একটা ক্ষীণ গর্জন শুনতে পেলাম। সেই সময়ে, আমরা বিভিন্ন বিমানের ইঞ্জিনের শব্দের পার্থক্য বলতে সক্ষম হওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত হয়েছিলাম এবং আমি তখনই বুঝেছিলাম যে এটি ছিল একটি B-29 বোমারু বিমান।’
তিনি তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখার চেষ্টা করেন কোথা থেকে এ আওয়াজ আসছে।
এরপর তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঠিক যখন শহরের বিল্ডিংগুলির দিকে খালি দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলাম তখন আমি আমার সামনে দূর আকাশে একটি কালো রঙের ভারী বস্তুর মত দেখতে পেলাম। পরের মুহুর্তে, এটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয় এবং আলোর একটি অবিশ্বাস্য গোলায় রূপান্তরিত হয়। ফ্ল্যাশের মাঝখান থেকে, গলিত কমলা রঙের লাভার মতো কিছু বের হচ্ছিল, এবং তার চারপাশে ছিল একটি গেরুয়া রঙের আলো যা পুরো আকাশকে পূর্ণ করেছে। হঠাৎ সবকিছু উজ্জ্বল হয়ে গেল। হঠাৎ, আমার মুখ অবিশ্বাস্যভাবে গরম বিস্ফোরণে ঢেকে গেল। আমি কিছু না ভেবেই চোখ বন্ধ করলাম, যেখানে ছিলাম সেখানে বসে পড়লাম। এবং যখন আমি আবার উঠে দাঁড়াতে শুরু করলাম, বাতাসের একটি শক্তিশালী ঝাপটা আমাকে ধাক্কা দিলো, আর আমার শরীরটা মনে হল বাতাসে উড়ছে। তারপর আমি কোনো কিছুতে ধাক্কা খেলাম। এরপর আর কিছু মনে নেই।’
জাপান সে সময় রাষ্ট্রিয় ভাবে ‘বুশিডো’ আদর্শনীতি অনুসরণ করত। এই আদর্শ ছিলো একটি কঠোর শ্রেণিবিন্যাস ভিত্তিক নীতি যেখানে কর্তৃত্বের প্রতি আনুগত্যের উপর জোর দেওয়া হতো। জাপানের সামরিক নেতৃত্ব আত্মসমর্পণকে দুর্বলতার প্রতীক বলে মনে করত। এই কঠোর আদর্শের অনুসারী জাপান যুদ্ধের শুরুতে অনেক সাফল্যও অর্জন করেছিল, যার ফলে তারা মনে করেছিল যদি তারা আরও সময় পায় তবে পরিস্থিতি তাদের পক্ষে আসতে পারে। আর এই কঠোর অবস্থানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র জাপানের উপর নিউক্লিয়ার বোমা ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এই হামলার ফলে জাপান বুঝতে পারে যে তাদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও শক্তিশালি হয়েছে পারমানবিক বোমা
আমরা ওপেনহেইমার মুভিতে যদিও আইনস্টাইনকে ওপেনহেইমারের এক ধরনের বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হিসেবে দেখেছি। কিন্তু আসলে বিষয়টি মোটেও এমন ছিল না। আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন একজন কট্টর শান্তিবাদী। তিনি যুদ্ধ ও সংসদে বিরোধী ছিলেন এবং তার জীবনে বেশিরভাগ সময় শান্তিপক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি জার্মানির বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার ও এর কঠোর ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অনুশোচনা করে বলেছিলেন, ‘আমি যদি জানতাম জার্মানরা পারমানবিক বোমা তৈরিতে সফল হবে না, তাহলে আমি কিছুই করতাম না।’
পারমানবিক মারণাস্ত্রের যুগের শুরুতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নতুন অস্ত্রের উপর একচেটিয়া অধিকার বজায় রাখার আশা করেছিল, কিন্তু পারমানবিক বোমা তৈরির গোপনীয় জ্ঞান এবং প্রযুক্তি শীঘ্রই ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা।
পারমানবিক অস্ত্র তৈরির সাথে সাথে হাইড্রোজেন বোমা্র আবিষ্কার হয়, যা পারমানবিক বোমার চেয়েও অনেক শক্তিশালী। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং চীন ও তাদের অনুসরণ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি শুরু করে। পারমাণবিক অস্ত্রের এই ভয়ংকর প্রতিযোগিতা থামাতে অন্যান্য দেশগুলো তখন চুপ থাকেনি। পারমানবিক অস্ত্রের এই সম্প্রসারণ থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সমমনা দেশগুলি ১৯৬৮ সালে পারমানবিক অপ্রসারণ চুক্তি (NPT) স্বাক্ষর এবং ১৯৯৬ সালে ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি (CTBT) নিয়ে আলোচনা করেছিল।
কিন্তু পরাশক্তিগুলোর এই নীতি যে, ‘ শুধু আমরাই নিউক্লিয়ার মারণাস্ত্রের অধিকারী হব অন্য কিন্তু অন্য কেউ হতে পারবে না’ বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে আজ বেশ কয়েকটি দেশ নিউক্লিয়ার মাণাস্ত্রের অধিকারী। আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের মার্চ ২০২৪ এর তথ্যমতে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাতে প্রায় ১২১০০ নিউক্লিয়ার মারণাস্ত্র মজুদ রয়েছে। বলা বাহুল্য, এগুলোর একেকটি হিরোশিমা নাগাসাকিতে ব্যবহৃত বোমার চেয়ে হাজারগুণ শক্তিশালী।
বর্তমানে নিউক্লিয়ার যুদ্ধের আশঙ্কা
বিভিন্ন পরাশক্তিগুলোর এই স্ববিরোধী নীতির কারণে বিশ্বের অনেক দেশের হাতে নিউক্লিয়ার অস্ত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তাদের নিজেদের স্বার্থে যেকোনো সময় এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করার শঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববাসীর এক বড় অংশ এতদিন এই সুখনিদ্রায় ছিলো যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাতে বিদ্যমান নিউক্লিয়ার মারণাস্ত্র কেবল ডিটারেন্ট বা প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হবে, বাস্তব যুদ্ধে কখনো ব্যবহৃত হবে না।
কিন্তু সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি এই ধারণা অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। বরং, দূরদর্শী বিশ্লেষকগণ অনেকদিন ধরেই বিশ্ববাসীকে এক নিউক্লিয়ার ধ্বংসের বিষয়ে সাবধান করে আসছেন। অবশেষে, অনেকেই একই উপসংহারে উপনীত হচ্ছেন।
সম্প্রতি রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক পিটার হিচেন্স লেখেন, ‘এই বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে যে ইউরোপের একটি বড় অংশ একটি তেজস্ক্রিয় গোরস্থানে পরিণত হতে পারে।’
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য অথনীতিবিদ অধ্যাপক জেফরি সাখ্স ও লেখেন, “পৃথিবী আজ এক পারমানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে, আর এর জন্য বিশ্বজুড়ে বর্ধিষ্ণু সংঘাতসমূহের কারণ সম্পর্কে পশ্চিমা রাজনীতিবিদদের সত্য স্বীকারে ব্যর্থতাও কম দায়ী নয়।”
উপসংহার
পারমানবিক বোমা আঘাতের পরবর্তী সময়ে এত পরিমাণ ক্ষতি হয়, যে চিকিৎসা দিয়ে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয় না। পারমানবিক হামলায় ভুক্তভোগীদের সত্যিকার ভাবে সাহায্য করা কোন কার্যকর উপায় নেই। বলা হয় যে, বর্তমান বিশ্বে যে পরিমাণ নিউক্লিয়ার অস্ত্র মজুদ তা পুরো পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। তাহলে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধে নিউক্লিয়ার অস্ত্রের ব্যবহার হলে পৃথিবী কি আদৌ বাসযোগ্য থাকতে পারবে? নিউক্লিয়ার যুদ্ধের মোকাবেলা কি আদৌ করা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরগুলো নিয়ে ভাবনার সময় এখনই। বিশ্বকে যদি পারমানবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা থেকে বাচাতে চাই, তাহলে এখনই সময় এই অস্ত্রের ব্যবহারের বিপক্ষে আওয়াজ তোলার।
রেফারেন্স
- The West’s False Narrative about Russia and China — Jeffrey D. Sachs
- PEACE CULTURE No.77_03 Memoir of the A-Bombing: “I saw the moment that the Atomic Bomb exploded before my very eyes-The days that followed…Life is a mysterious treasure” by Fujio Torikoshi, Atomic Bomb Witness for this Foundation
- https://en.wikipedia.org/wiki/History_of_nuclear_weapons
- Hiroshima and Nagasaki bombings – ICAN.
- https://www.jstor.org/stable/45352469
- Nuclear Weapons: Who Has What at a Glance | Arms Control Association
- https://mashable.com/article/oppenheimer-movie-einstein-history-explained?test_uuid=01iI2GpryXngy77uIpA3Y4B&test_variant=b .