“বিশ্বকে বদলে দিতে লাগে কতটা সময়? ডিপসিকের উত্তর: ৭২ ঘণ্টা।”
একটি অজানা চীনা স্টার্টআপ কীভাবে ওপেনএআইয়ের দুর্গে ফাটল ধরালো? কী এই “ডিপসিক-আর ১” মডেল, যা মার্কিন প্রযুক্তি জগতে সৃষ্টি করছে “রেড অ্যালার্ট”?
আয়রন ম্যান(Iron man 2008) মুভির সেই লেজেন্ডারি লাইন মনে আছে? Tony Stark was able to build this in a cave! With a box of scraps! ডিপসিকের গল্পটাও যেন ঠিক সেরকম। শুধু গুহার বদলে আছে বেইজিংয়ের একটি ল্যাব, আর লোহা-লক্কড়ের বদলে কয়েক জন ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন।
এই দলটি যখন ওপেনসোর্স জায়ান্ট “ডিপসিক-আর ১” বিশ্বমঞ্চে উন্মুক্ত করল, তখন কেউই কল্পনা করেনি, মাত্র কয়েকদিনেই এটি চ্যাটজিপিটিকে পেছনে ফেলে, অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে উঠবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ডাউনলোড সংখ্যা ছাড়াবে ৫ মিলিয়ন!
ডেটা বলছে, ডিপসিক-আর ১ এর গাণিতিক যুক্তি ক্ষমতা জিপিটি-৪ এর থেকে ১৫ % বেশি এবং শক্তি-দক্ষতায় ৪০% সাশ্রয়ী। এমনকি এটি চ্যাট জিপিটির চেয়েও আড়াই গুণ বেশি দ্রুত গতিতে যেকোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
গল্পে টুইস্ট দরকার? আছে। এসব ছাড়াও ডিপসিকের কোডের ৭০% পাবলিকলি অ্যাক্সেসযোগ্য। অর্থাৎ এটি ওপেন সোর্স; যে কেউ চাইলেই এই এআই কে নিজের মতো প্রোগ্রাম করে চালাতে পারবেন।
কিন্তু, এত কিছুর পরেও এর কিভাবে এই এ আই এর সক্ষমতা কিভাবে এত বেশি হলো তা এখনও রহস্যই থেকে গেছে। সিলিকন ভ্যালির এক্সিকিউটিভরা একে বলছেন চীনের “স্টিং অপারেশন”। চীনের মিডিয়া বলছে “পারফেক্ট কাউন্টার-অ্যাট্যাক”। কিন্তু সংখ্যাগুলোই কি আসল?
কিন্তু প্রশ্নটা সবচেয়ে বড়—এই মডেল কি সত্যিই মানব জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, নাকি এটা নতুন এক ঠান্ডা যুদ্ধের সূচনা করবে? এই নতুন এআই লঞ্চ হওয়ায় আর কী এমন ঘটলো, যা নিয়ে মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত কথা বলছেন?
ডিপসিক এর শুরুটা যেভাবে হলো?
২০২৫ সালের শুরুতে চীনের এআই জায়ান্ট ডিপসিক (DeepSeek) মার্কিন বাজারে তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ ও সফটওয়্যার সেবা উন্মুক্ত করে। আর তখন থেকেই নাসড্যাকের টেক স্টকগুলোর গ্রাফ নিচের দিকে নামতে শুরু করে। গুগল, মেটা, এমনকি এনভিডিয়ার মতো দৈত্যদের শেয়ার মূল্য কমে যায় মাত্র এক সপ্তাহে। কীভাবে একটি কোম্পানির মার্কেটে ঢোকার ঘটনা এত বড় সংকট ডেকে আনল?
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রযুক্তিগত ঠান্ডা যুদ্ধের এক অপ্রত্যাশিত ফলাফল হলো ডিপসিকের মতো প্রতিষ্ঠানের উত্থান। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধা সৃষ্টি করেছিল ঠিকই। কিন্তু সেই বাধাকে উপেক্ষা করে ডিপসিক প্রমাণ করেছে সীমিত সম্পদের মধ্যেও শীর্ষ প্রযুক্তি তৈরি সম্ভব।
মারিনা ঝাং, ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির সহযোগী অধ্যাপক বলেন, “ডিপসিক সম্পদ ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ওপেন সোর্স মডেলের মাধ্যমে উদ্ভাবনের নতুন দিশা দেখাচ্ছে। এই কৌশল শুধু সম্পদ সংকট মোকাবিলা করতেই সাহায্য করেনি, বরং এটি ডিপসিককে প্রতিযোগিতার শীর্ষে নিয়ে গেছে।”
ডিপসিকের উত্থান
ডিপসিকের জন্ম হয়েছিল এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ থেকে। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল “ফায়ার-ফ্লায়ার” নামে। এটি চীনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কোয়ান্ট হেজ ফান্ড হাই-ফ্লায়ার-এর ডিপ লার্নিং গবেষণা শাখা হিসেবে পরিচিত ছিল। হেজ ফান্ড হচ্ছে এক ধরনের বিকল্প বিনিয়োগ পদ্ধতি। এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে গ্রাহকদের বিনিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ মুনাফা এনে দেওয়া। মুনাফা বৃদ্ধি করাই হেজ ফান্ডগুলোর প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হাই-ফ্লায়ার চীনের শেয়ারবাজারে দ্রুতই সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছায়। এটি ছিল প্রথম চীনা হেজ ফান্ড, যা ১০০ বিলিয়ন ইউয়ানের (প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছিল। তবে, ২০২১ সালের পর তহবিলের পরিমাণ কিছুটা কমে গিয়ে ৮ বিলিয়ন ডলার হয়। এরপরও এটি চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ান্ট হেজ ফান্ডগুলোর একটি হিসেবে জায়গা ধরে রেখেছে।
একটি সাহসী সিদ্ধান্ত
২০২৩ সালে, হাই-ফ্লায়ার-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং এক অসাধারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী লিয়াং সিদ্ধান্ত নেন যে, হাই-ফ্লায়ারের জিপিইউ স্টক এবং সুপার কম্পিউটিং’কে আর্থিক বাজারের বাইরে আরও বৃহত্তর লক্ষ্য পূরণে কাজে লাগাবে। এইভাবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ডিপসিক। একটি নতুন ধরনের কোম্পানি, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (Artificial General Intelligence বা AGI) তৈরি করা।
এই সিদ্ধান্ত ছিল একধরনের বিপ্লবী পদক্ষেপ। ডিপসিকের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে লিয়াং বলেন,
“এটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক কারণে করা হয়নি। কারণ, মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার আর্থিক বিনিয়োগে রিটার্ন অত্যন্ত কম। এটি মূলত বৈজ্ঞানিক কৌতূহল থেকেই এসেছে।”
এই সিদ্ধান্ত ডিপসিককে একটি নতুন ধারার গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে। লিয়াং-এর মতে, তার লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করা। এজন্য ডিপসিক তার কর্মপরিকল্পনা গড়ে তোলে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর, যা দ্রুত বাণিজ্যিক সাফল্যের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “আমি ডিপসিক প্রতিষ্ঠা করেছি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল থেকে, লাভ করার জন্য নয়। মৌলিক গবেষণায় বিনিয়োগের হার অত্যন্ত কম। ওপেনএআই-এর শুরুর বিনিয়োগকারীরাও লাভের কথা চিন্তা করেননি, তারা শুধু চেয়েছিলেন নতুন কিছু করতে।”
তরুণ প্রতিভার জাদু
চীনের প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতিতে তরুণ গবেষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডিপসিকের গবেষণা দলে বর্তমানে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া একদল মেধাবী গবেষক কাজ করছেন। এই উদ্যমী দলটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিজেদের নিবেদন করেছে। তারা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং, চীনের বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের জন্যও কাজ করে যাচ্ছে।
তাদের এই প্রচেষ্টার পেছনে রয়েছে জাতীয় সংকল্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও এই তরুণ প্রজন্ম চীনের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ঝাং এই প্রজন্ম সম্পর্কে বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এই প্রজন্ম চীনের উদ্ভাবনী শক্তিকে এগিয়ে নিতে চায়। তাদের প্রচেষ্টা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের জন্যও।”
সংকট থেকে উদ্ভাবনের পথে
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল চিপ সংকট। এই নিষেধাজ্ঞা চীনের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে। তবে, এই সংকটকেই সুযোগে রূপান্তরিত করেছে চীনের উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান ডিপসিক। তারা সংকট মোকাবিলায় অসাধারণ প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদর্শন করেছে।
মাল্টি-হেড ল্যাটেন্ট অ্যাটেনশন ও মিক্সচার-অব-এক্সপার্টস পদ্ধতির ব্যবহার
ডিপসিক তাদের মডেল তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যেমন মাল্টি-হেড ল্যাটেন্ট অ্যাটেনশন এবং মিক্সচার-অব-এক্সপার্টস (MoE) পদ্ধতি। এই পদ্ধতিগুলো অল্প সম্পদ ব্যবহার করে বৃহৎ আকারের মডেল তৈরির জন্য আদর্শ। ডিপসিকের এই প্রযুক্তি কৌশল তাদের মডেলকে শক্তিশালী এবং দক্ষ করেছে। এই দক্ষতা অনেক প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান এখনও অর্জন করতে পারেনি।
ডিপসিক-আর ১ মডেলের দক্ষতা
ডিপসিক তাদের আর ১ মডেল তৈরিতে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। এই মডেল মাত্র এক-দশমাংশ শক্তি ব্যবহার করে মেটার লামা ৩.১ মডেলের মতো কার্যক্ষমতা অর্জন করেছে। এর ফলে ডিপসিক শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি প্রদর্শনেও সফল হয়েছে।
এই মডেল একটি বৈপ্লবিক উদাহরণ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরির ক্ষেত্রে। ডিপসিকের গবেষকদের দাবি, তাদের সর্বশেষ মডেল ডিপসিক-ভি ৩ চ্যাটজিপিটির মতো শীর্ষ মার্কিন মডেলগুলোর সমমানের দক্ষতা রাখে।
আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই এআই প্রযুক্তি তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলার। এটি এ আই প্রযুক্তিতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ, এই ভিন্ন ধরণের মডেল মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিলিয়ন বিলয়ন ডলারের বিনিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে বসেছে।
চীনের ডিপসিক: মার্কিন শেয়ার মার্কেটে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধ্বস
২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি; মার্কিন শেয়ার বাজার তার ইতিহাসের ‘একদিনের সবচেয়ে বড় ধ্বস’ প্রত্যক্ষ করেছে। চীনা স্টার্টআপ ডিপসিকের এই সাশ্রয়ী এআই প্রযুক্তির প্রভাব, শেয়ারবাজারে আঘাত হানে। এর মূল শিকার হয় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা এনভিডিয়া(Nvidia)। মাত্র একদিনে কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ১৭% হ্রাস পায়, এবং বাজার মূলধন ৬০০ বিলিয়ন ডলার কমে ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এই পতন এনভিডিয়াকে অ্যাপল ও মাইক্রোসফটের পরে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে আনে।
মার্কিন এআই আধিপত্যে ফাটল
ডিপসিকের সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, কম খরচে ও কম উন্নত চিপ ব্যবহার করেও শক্তিশালী এআই তৈরি সম্ভব। এটি এনভিডিয়ার মতো কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেলকে সরাসরি হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রেসেন একে “এআই খাতের সবচেয়ে বিস্ময়কর অগ্রগতি” বলে অভিহিত করেন।
এনভিডিয়ার ধ্বস ও বাজার অস্থিরতা
ডিপসিকের প্রভাব কেবল সফটওয়্যার স্তরেই সীমিত নেই। ২৭ জানুয়ারি এশিয়ার বাজারেও এর প্রভাব দেখা যায়। ডিপশিক সরাসরি এনভিডিয়ার শেয়ারে ধ্বস নামায়। এর ফলে, কোম্পানিটি একদিনে রেকর্ড পরিমাণ মূলধন হারায়। বিশ্লেষকদের মতে, ডিপসিকের মডেল এআই শিল্পে “কম চিপে বেশি ফল” এর ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ধারণা ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর বাজারের চাহিদা বদলে দিতে পারে।
ডিপসিকের এআই চিপের দাম মার্কিন বাজারের চেয়ে ৪০% সস্তা! উদাহরণ: এনভিডিয়ার H100 চিপের দাম পড়ে প্রতি ইউনিট ৩০,০০০ ডলার, আর, ডিপসিকের QX1 চিপের দাম পড়ে প্রতি ইউনিট ১৮,০০০ ডলার। এই ঘটনার পর, ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টররা একদিনে টেক সেক্টর থেকে $২০০ বিলিয়ন ডলার তুলে নেন।
ফলাফল? NASDAQ-এ সার্কিট ব্রেকার একদিনে ৩ বার অ্যাক্টিভেটেড হয়! ন্যাসডাক হলো, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইলেক্ট্রনিক-স্ক্রিন ভিত্তিক শেয়ার বাজার। আর সার্কিট ব্রেকার হলো একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম, যা স্টক মার্কেট ক্র্যাশ হওয়া এড়াতে ট্রেডিং বন্ধ করে দেয়, যেন ক্ষতি কমানো যায়। একদিনে তিন বার সার্কিট ব্রেকার এক্টিভ হওয়ার ইঙ্গিত যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আর বোঝার অপেক্ষা রাখে না।
আর এই ডিপসিকের সাম্প্রতিক সাফল্য বিশ্বের শীর্ষ এআই চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন এক বাস্তবতার সামনে ফেলেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের ‘ওয়েক আপ কল’
মার্কিন প্রযুক্তি খাতের এই ধাক্কাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “আমেরিকার জন্য জাগরনী বার্তা” বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, ডিপসিকের উত্থান মার্কিন নীতি-নির্ধারক ও শিল্পনেতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
তিনি আরও বলেন, সস্তার চীনা এআই মডেল ডিপসিক বাজারে যে ঝড় তুলেছে, তা দেখে মার্কিন সংস্থাগুলির ঘুম ভাঙা উচিত। মায়ামিতে তিনি বলেছেন,
“চীনা সংস্থার তরফে যে ডিপসিক এআই চালু করা হয়েছে, সেটা আমাদের শিল্প মহলের ঘুম ভাঙিয়ে দেবে। (তারা বুঝবেন যে) প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য আমাদের চূড়ান্ত মনোনিবেশ করতে হবে।”
ডিপসিকের সাফল্য গ্লোবাল টেক ল্যান্ডস্কেপে চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের নতুন মোড়। ডিপসিকের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, “চীনের এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা এবং তাদের সীমিত সম্পদে অর্জন করা সাফল্য পশ্চিমাদের জন্য সতর্কবার্তা। নিষেধাজ্ঞা হয়তো তাদের আরও উদ্ভাবনী হতে বাধ্য করছে।”
প্রশ্ন উঠেছে, কম খরচে উদ্ভাবনের মাধ্যমে চীন কি এআই শিল্পে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে? নাকি মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগ ও গবেষণা বাড়িয়ে জবাব দেবে? এই ধ্বস কি টেক সেক্টরে নতুন নিয়ম চাপাবে, নাকি ডিপসিকই হয়ে উঠবে “চীনের অ্যাপল”? উত্তর হয়তো আগামী কয়েক বছরের বাজার ও প্রযুক্তির গতিপথেই লুকিয়ে আছে।
সোর্স
- https://www.prothomalo.com/world/usa/k2b09xrvl1
- https://banglanews24.com/international/news/bd/1461355.details
- https://www.prothomalo.com/technology/artificial-intelligence/xo6qvgdco5
- https://bangla.hindustantimes.com/pictures/chinese-ai-deepseek-latest-updates-wake-up-call-for-america-says-donald-trump-as-nvidia-losses-589-billion-dollar-31738030571094.html
- https://bangla.bdnews24.com/tech/7dc8e7d1abf1
- https://www.somoynews.tv/news/2025-01-28/6HYCSsAw
- https://www.cnbc.com/2025/01/28/japan-and-hong-kong-markets-set-for-mixed-open-after-ai-sell-off-drags-wall-street.html
- https://www.wired.com/story/deepseek-china-model-ai/
- https://www.bbc.com/news/articles/c4gpq01rvd4o