Image default
ইতিহাস ১০১

মার্কিন ডলার: ইতিহাস থেকে বিশ্ব মুদ্রা হওয়ার যাত্রা

একটি কাগজ যা বদলে দিল পুরো পৃথিবীর অর্থনীতির গতিপথ 

একটা সময় ছিল যখন সোনা কিংবা রূপার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতো কোন দেশ ঠিক কতটা ধনী এবং তাদের সাম্রাজ্যের প্রভাব ঠিক কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।

কিন্তু আজ? আজ সেই জায়গায় বসেছে একটি কাগজের নোট। ‘মার্কিন ডলার’ এই কাগজের মাধ্যমেই বর্তমানে নির্ধারিত হয় বিশ্ববাজারের দাম, দেশের রিজার্ভ, এমনকি কোনো কোনো দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই মুদ্রা পুরো বিশ্বের ভাষা হয়ে উঠল? ইতিহাসের পাতায় আছে তার দীর্ঘ ও কৌশলভরা এক যাত্রা, যা আজও পৃথিবীর অর্থনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় একটি অধ্যায়।

এই আর্টিকেলে আমারা সে গল্পই জানবো কীভাবে একটি ছোট্ট কাগজ বৈশ্বিক প্রভাবশালী নোট হয়ে উঠলো। 

ডলারের জন্মগাথা

১৮ শতকের শেষ দিক। আমেরিকা তখন সদ্য স্বাধীন একটি রাষ্ট্র। স্বাধীনতা মানেই শুধু পতাকা কিংবা সীমানা নয়; বরং নিজস্ব একটি অর্থনৈতিক পরিচয়ও। ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে জন্ম নেওয়া নতুন দেশটির সামনে তখন বড় একটি চ্যালেঞ্জ – তাদের নিজেদের মুদ্রা কী হবে?

যুক্তরাষ্ট্র ১৭৯২ সালে “মার্কিন কংগ্রেস” “Coinage Act” পাস করে, যা ছিল তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিচয় তৈরির প্রথম ধাপ।

আর এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই পরবর্তীতে জন্ম নেয় মার্কিন ডলার (U.S. Dollar)। জার্মান শব্দ Thaler থেকে ডলারের নামটি আসে। যার অর্থ ছিল রূপার মুদ্রা। কিন্তু সময়ের সাথে এই নামটি হয়ে ওঠে আধুনিক অর্থনীতির সবচেয়ে পরিচিত একটি শব্দে। 

এটি ছিল আমেরিকানদের আত্মপরিচয়ের প্রথম অর্থনৈতিক চিহ্ন, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয় বিশ্বশক্তির প্রতীকে। 

চলুন এই ডলারের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসি।

শিল্পবিপ্লব ও ডলারের শেকড়

১৯শ শতকে যুক্তরাষ্ট্র হাঁটতে শুরু করে এক বিশাল পরিবর্তনের পথে। ১৯শ শতকের শিল্পবিপ্লব (রেল, ইস্পাত, তেল কিংবা একের পর এক যন্ত্রের আবিস্কার ) সকলের জীবন যাত্রার মানে বেশ পরিবর্তন আনতে শুরু করেছিল। আমেরিকানদের জীবন বদলাতে শুরু করলেও গৃহযুদ্ধের (American Civil War, 1861–1865 ) ধ্বংসযজ্ঞ শেষে আমেরিকানরা বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পরেছিল যে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে তাদের প্রয়োজন একক ও স্থিতিশীল মুদ্রা।

যার ফলশ্রুতিতে ১৮৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বারের ছাপা হয় কাগুজে নোট “Greenbacks”। এটি কেবল আমেরিকানদের লেনদেনের একটি মাধ্যমই ছিল না, বরং এটি ছিল তাদের একতার প্রতীক। শিল্পবিপ্লবের জোয়ার এবং যুদ্ধের ছাপ মিলিয়ে ডলার জন্ম নিল একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি হিসেবে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বার ছাপা কাগুজে নোট “Greenbacks”

স্বর্ণমান ব্যবস্থা চালু

১৯শ শতকের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র Gold Standard” বা স্বর্ণমান ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে একটি সাহসী পদক্ষেপ নিল। অর্থাৎ, যে দেশে বেশি সোনা, সেই দেশের মুদ্রা তত বেশি শক্তিশালী। 

এই ছোট্ট কিন্তু শক্তিশালী সিদ্ধান্তটি, ডলারকে কাগজী লেনদেনের মাধ্যম থেকে বের করে আনে। এবং নতুন ভাবে ডলারকে আস্থার ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলে।

১৯১৪ সাল। পুরো ইউরোপ জ্বলছে যুদ্ধের আগুনে। প্রত্যক্ষভাবে আমেরিকা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের বাইরে থাকলেও দেশটির ব্যাংক ও শিল্পকারখানাগুলো রীতিমতো ব্যস্ত হয়ে ওঠেছিল যুদ্ধপণ্য রপ্তানিতে। ইউরোপের দেশগুলো যুদ্ধ চালানোর জন্য যে বিশাল সোনা খরচ করেছিল তার অনেকটাই আস্তে আস্তে আমেরিকার দিকে বয়ে আসতে শুরু করে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অর্থের রাজা ছিল যে ব্রিটিশ পাউন্ড, যুদ্ধের পরে সেই পাউন্ড তার জায়গা হারাতে শুরু করে। যুদ্ধের ফলে ইউরোপের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর সেসময়ই আমেরিকা হয়ে ওঠে সোনায় ভরা এক স্বর্গীয় রাজ্য।

পাউন্ডের জায়গা নিতে শুরু করে আমেরিকান ডলার। আর এভাবেই ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের আস্থা পাউন্ড থেকে ডলারের দিকে সরতে শুরু করে। ডলার তখন শুধু একটি দেশীয় মুদ্রা নয় বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শক্তিশালী নায়ক এবং বিশ্ব অর্থনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজের অবস্থান বেশ শক্ত করে নিয়েছে।

ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিষ্ঠা ও মুদ্রানীতির নতুন অধ্যায় (১৯১৩)

১৯০৭ সালের ব্যাংকিং সংকট আমেরিকাকে বুঝিয়েছিল যে, অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্থিতিশীলতা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। যার ফলে যুদ্ধের পর থেকে ধীরে ধীরে ব্যাংকগুলো সোনা রাখার পরিবর্তে ডলার রিজার্ভ রাখতে শুরু করে।

আর, এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১৩ সালে গঠিত হয় Federal Reserve System (Fed)। একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রানীতিতে যোগ করে নতুন এক সূচনা। এই ব্যাংকের মাধ্যমে শুধু ডলারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়নি, বরং আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোও বেশ দৃঢ় ও প্রাঞ্জলভাবে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। এটি শুধু একটি ব্যাংক নয়, বরং এমন এক প্রতিষ্ঠান যার সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিকেও পর্যন্ত নাড়িয়ে দিতে পারে। পরবর্তীতে এই ব্যাংকটি মার্কিন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক

যুদ্ধ ও সুযোগ: ব্রেটন উডস চুক্তি ও ডলারের উত্থান (১৯৪৪)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সারা বিশ্ব তাদের ভগ্ন অর্থনীতির জন্য চিন্তিত থাকলেও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছিল বেশ ঠাণ্ডা মেজাজে। কারণ, দেশটির রিজার্ভে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট মার্কিন ডলার মজুদ ছিল। সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থাকে পুনরায় স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ১৯৪৪ সালে অনুষ্ঠিত Bretton Woods সম্মেলন হয়। এটি বিশ্ব অর্থনৈতিক ইতিহাসে এনে দেয় নতুন এক মোড়। ৪৪টি দেশের মতামতের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মার্কিন ডলার হবে আন্তর্জাতিক রিজার্ভ মুদ্রা।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি দেশের মুদ্রা বাঁধা থাকবে ডলারের সঙ্গে। আর ডলার বাঁধা থাকবে স্বর্ণের সঙ্গে (৩৫ ডলার = ১ আউন্স স্বর্ণ)। যার ফলে ডলার কেবল একটি মুদ্রা নয়, বিশ্ব অর্থনীতির মানদণ্ড ও লেনদেনের প্রধান মাপকাঠি হয়ে ওঠে।

যুদ্ধপীড়িত দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য ডলারের ওপর নির্ভরশীল হতে শুরু করে, আর ডলার ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে দাঁড়ায়। এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ পাউন্ড হারায় তার শতবর্ষের মুকুট আর অন্য দিকে ডলার হয়ে যায় “বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা। IMF ও World Bank এর মতো প্রতিষ্ঠান গুলো প্রতিষ্ঠিত হয় ডলারকে ঘিরে। আর এভাবেই আমেরিকান ডলার হয়ে ওঠে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ডলার তখন শুধু মুদ্রাই নয়, বরং এটি ছিল বিশ্বাস, ক্ষমতা, ও প্রভাবের নতুন সংজ্ঞা।

স্বর্ণ মানের অবসান: নিক্সনের গোল্ড শক ও নতুন বিশ্ব অর্থনীতি (১৯৭১)

ষাটের দশকের শেষ দিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও অতিরিক্ত ব্যয় মার্কিন অর্থনীতিকে বেশ চাপে ফেলেছিল। ১৯৭০-এর দশকে বিদেশি দেশগুলো যখন আমেরিকার কাছ তাদের জমা দেওয়া সোনা ফেরত চাইতে শুরু করলে আমেরিকাকে বেশ বিপাকে পড়তে হয়‌। কারণ, দেশটির কাছে তখন পর্যাপ্ত সোনা নেই। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ঘোষণা করেন—“The United States will no longer exchange dollars for gold”। 

নিক্সনের  এই সিদ্ধান্তের ফলে Gold Standard-এর অবসান ঘটে এবং শুরু হয় Fiat Money System। এই সিস্টেমে ডলারের মূল্য নির্ভর করে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ও বাজারের চাহিদা–জোগানের উপর। নিক্সনের গোল্ড শক শুধু আমেরিকার জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত ছিল।

এক ঘোষণাতেই শতাব্দীর পুরোনো স্বর্ণমান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে ডলার আর সোনার সঙ্গে বাঁধা নয়, বরং সরকারের বিশ্বাসের ওপর টিকে থাকে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, মানুষ কাগজের ডলারের ওপরই বিশ্বাস রাখতে শুরু করে। কারণ বিশ্বব্যাপী প্রতিটি লেনদেন, ঋণ এবং রিজার্ভ ডলারের ওপর নির্ভরশীল। এভাবেই ডলার হারিয়ে ফেলে সোনার বাঁধন, কিন্তু পেয়ে যায় নতুন শক্তি—বিশ্বাসের শক্তি। যা এটিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রার অবিচল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

পেট্রোডলার: তেল দিয়ে ডলারকে অমর করার চুক্তি

সালটা তখন ১৯৭৩। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বাজারে শুরু হয় নতুন এক খেলা। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে হয় গোপন এক সমঝোতা চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরব এবং পরে OPEC দেশগুলো তেল বিক্রি করবে শুধুমাত্র মার্কিন ডলারে। এবং অপর দিকে  আমেরিকা তাদেরকে দেবে সামরিক সুরক্ষা ও কূটনৈতিক সমর্থন। এভাবেই জন্ম নেয় “Petrodollar System”। 

ফলাফল? বিশ্বব্যাপী দেশগুলোকে তেল কিনতে হলে আগে ডলার অর্জন করতে হয়। এই “Petrodollar System” বিশ্বের অর্থনীতিকে চিরতরে বদলে দেয়। এই প্রক্রিয়া আমেরিকাকে এমন একটি অর্থনৈতিক প্রভাব দেয় যা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এনে দেয়। “Petrodollar System” প্রমাণ করে যে শক্তির উৎস শুধু অস্ত্রই নয়, বরং মুদ্রাও হতে পারে।

এই সময় থেকেই শুরু হয় ডলারের আসল সাম্রাজ্য। কারণ, তেল ছাড়া কোনো দেশ বাঁচতে পারে না। অপরদিকে তেল কেনার জন্য প্রত্যেক দেশকে ডলার জমাতে হয়। আর এভাবেই ডলার হয়ে ওঠে বিশ্ব অর্থনীতির অক্সিজেন।

কেন এখনো ডলারই বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা?

২১ শতকে পৃথিবী বদলে গেছে—ক্রিপ্টোকারেন্সি, ই-কমার্স, গ্লোবাল পেমেন্ট, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অনেক মাধ্যম এসেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো কি জানেন, নতুন অনেক মাধ্যম আসলেও ডলারের অবস্থান এখনো বেশ শক্ত। এখনো বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ ডলারে হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক রিজার্ভের ৬০ শতাংশের বেশি ডলারে রাখা। আর প্রতিটি বড় আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড যায় SWIFT নেটওয়ার্কে; যার কেন্দ্র কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রেই।

এমনকি ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্বেও “USDT” বা “USDC” নামে ডলার-সমর্থিত কয়েনগুলোই সবচেয়ে শক্তিশালী। ডলার এখন শুধু ব্যাংকে নয়, ব্লকচেইনেও শাসন করছে। চীন বা রাশিয়া মাঝে মাঝে বিকল্প মুদ্রার কথা বললেও, এখনো পর্যন্ত কেউ ডলারের আধিপত্যকে বাস্তবে নাড়াতে পারেনি।

চীনের ইউয়ান, ইউরোপের ইউরো কিংবা বিটকয়েন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এখনো বিশ্ব অর্থনীতির নীলনকশায় সবচেয়ে স্থিতিশীল জায়গাটি দখল করে আছে ডলার।

মার্কিন ডলারের গল্প আসলে শুধু অর্থনীতির নয় বরং এটি শক্তি, কৌশল ও আস্থার ইতিহাস। এক সময় যা ছিল স্বাধীনতার প্রতীক আজ তা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুদ্রা। এটি প্রমাণ করে যে অর্থ কেবল বিনিময়ের মাধ্যম নয়। সঠিক সময়ে, সঠিক কৌশলে  সাধারণ একটি বিনিময়ের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে এক অদৃশ্য অস্ত্রে। আর এই অস্ত্রের নাম মার্কিন ডলার।

রেফারেন্স:

Related posts

কীভাবে আপনার হাতে এলো ‘শপিং ব্যাগ’

নির্বাচনের ইতিহাস- এথেন্স থেকে AI

জাসদ ছাত্রলীগ: বিপ্লবের স্বপ্ন ও বিতর্কের বাস্তবতা

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More