দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেতা হলেন থালাপতি বিজয়। তার আসল নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। তিনি শুধু একজন অভিনেতাই নন, বরং একজন গায়ক, নৃত্যশিল্পী এবং সমাজসেবী হিসেবেও পরিচিত। তামিল চলচ্চিত্রে তার অসামান্য অবদান, ভক্তদের প্রতি তার ভালোবাসা এবং তার পরিশ্রমী ব্যক্তিত্ব তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
“থালাপতি” শব্দের অর্থ নেতা বা কমান্ডার আর ভক্তরা তাকে এই উপাধিতে ভূষিত করেছেন তার নেতৃত্বগুণ ও প্রভাবের জন্য। বহু বছর ধরে তার সিনেমা, বক্তব্য এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার ছাপ দেখা গেছে, তা আজ বাস্তব জীবনের রাজনীতিতে প্রবেশের পথ তৈরি করেছে।
জন্ম ও পরিবার
থালাপতি বিজয়ের জন্ম ২২ জুন ১৯৭৪ সালে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাই শহরে। তিনি জন্মগ্রহণ করেন একটি অত্যন্ত সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র-ঘনিষ্ঠ পরিবারে, যেখানে শিল্প, সঙ্গীত এবং সিনেমা ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন তামিল চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রতিষ্ঠিত পরিচালক। তিনি বহু সফল সিনেমা নির্মাণ করেছেন এবং দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বাবার চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকার কারণে ছোটবেলা থেকেই বিজয় সিনেমার পরিবেশে বড় হন। বাবার সেটে যাতায়াত, শুটিং দেখা এবং অভিনেতা-পরিচালকদের সঙ্গে মেলামেশা তার জীবনে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে।
তার মা শোভা চন্দ্রশেখর ছিলেন একজন গায়িকা, লেখিকা এবং প্রযোজক। তিনি সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অনেক চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবেও কাজ করেছেন। মায়ের কাছ থেকেই বিজয় সংগীতের প্রতি ভালোবাসা এবং শৃঙ্খলা শেখেন। বিজয়ের পরিবার ছিল সংস্কৃতি ও শিল্পের প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী। এই পরিবেশেই তার ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। ছোটবেলা থেকেই তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন, তবে শিল্পকলার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল প্রবল।
তার একটি বড় বোন ছিল, যার নাম বিদ্যা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে খুব অল্প বয়সেই তিনি মারা যান। এই ঘটনা বিজয়ের জীবনে গভীর মানসিক প্রভাব ফেলে। পরিবারের এই শোক তাকে আরও সংযত ও আবেগপ্রবণ করে তোলে। অনেকেই মনে করেন, তার অনেক আবেগপূর্ণ অভিনয়ের পেছনে এই ব্যক্তিগত কষ্টের ছাপ রয়েছে।
পরিবারের ভালোবাসা ও সমর্থনই ছিল তার জীবনের শক্তি। বিশেষ করে বাবা-মায়ের উৎসাহ তাকে অভিনয় জগতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। যদিও তিনি শুরুতে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন, কিন্তু চলচ্চিত্র পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে তার স্বপ্ন ধীরে ধীরে সিনেমাকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।

শিক্ষাজীবন
থালাপতি বিজয়ের শিক্ষাজীবন শুরু হয় চেন্নাই শহরের একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শৈশব থেকেই তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেশ আগ্রহী ছিলেন। স্কুল জীবনে তিনি খুবই শান্ত, ভদ্র এবং মিশুক স্বভাবের ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি চেন্নাইয়ের বিখ্যাত লোয়োলা কলেজ চেন্নাই-এ ভর্তি হন এবং ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এই বিষয়টি মূলত চলচ্চিত্র, মিডিয়া এবং ভিজ্যুয়াল আর্টসের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি তার বাবার পরিচালিত চলচ্চিত্রে শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা আরও গভীর করে।
ক্যারিয়ারের শুরু
থালাপতি বিজয় শিশু অভিনেতা হিসেবে প্রথম উপস্থিতি ঘটে ১৯৮৪ সালে পিএস বীরাপ্পা প্রযোজিত তামিল চলচ্চিত্র ভেত্রি-এ। এই ছবিতে তিনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করলেও তার স্বাভাবিক অভিনয় দক্ষতা দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়। এরপর একই বছর তিনি আরও একটি চলচ্চিত্র কুডুম্বম-এ শিশু অভিনেতা হিসেবে কাজ করেন।
পরবর্তী বছরে তিনি নান সিগাপ্পু মানিথান ছবিতে অভিনয় করেন, যেখানে তার উপস্থিতি ছোট হলেও তা তার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৮৬ সালে তিনি আবারও শিশু অভিনেতা হিসেবে বসন্তা রাগম এবং সাট্টাম ওরু ভিলাইয়াট্টু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই সময়ে তার অভিনয় দক্ষতা আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত হতে থাকে।
তার শৈশবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার বাবার পরিচালিত চলচ্চিত্রে কাজ করা। তিনি তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখরের নির্দেশনায় বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান, যা তার জন্য ছিল একটি বড় শিক্ষার ক্ষেত্র। বাবার তত্ত্বাবধানে কাজ করার কারণে তিনি পেশাদার চলচ্চিত্র জগতের পরিবেশ আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন।

১৯৯২ সালে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিজয় প্রথমবারের মতো প্রধান নায়ক হিসেবে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। তার প্রথম সিনেমা ছিল নালাইয়া থীরপু। এই ছবিটি তার বাবার পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল। তবে সিনেমাটি বক্স অফিসে সফলতা পায়নি।
এই ব্যর্থতার পর তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর বুঝতে পারেন যে, বিজয়কে আরও অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে পরবর্তী ছবিতে বিজয়কে একজন প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়কান্ত -এর সঙ্গে বিজয়কে যুক্ত করা হয় নতুন একটি প্রকল্পে। এই সিনেমাটির নাম ছিল সেন্থুরাপান্ডি।
১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি বক্স অফিসে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করে। এটি বিজয়ের ক্যারিয়ারে একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। ‘সেন্থুরাপান্ডি’-এর সাফল্য বিজয়ের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়।
১৯৯৫ সালে বিজয়ের ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। এই বছর তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর তাকে প্রধান চরিত্রে নিয়ে নতুন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যার নাম ছিল দেবা।মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করে। প্রেক্ষাগৃহে প্রায় ১০০ দিন চলতে সক্ষম হয়, যা সেই সময়ে একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতো।
এই সাফল্য বিজয়ের ক্যারিয়ারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। দর্শকরা তাকে আবার নতুনভাবে গ্রহণ করতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তিনি একজন সম্ভাবনাময় তরুণ নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান।
জনপ্রিয়তার উত্থান
১৯৯৬ সালের শুরুতে বিজয়ের ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য আসে রোমান্টিক কমেডি সিনেমা কোয়েম্বাটুর মাপ্পিল্লাই -এর মাধ্যমে। এই ছবিটি বক্স অফিসে হিট হয় এবং তাকে তরুণ দর্শকদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
এরপর পরিচালক ভিক্রামণের পুভে উনাক্কাগা সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। এই ছবিটি তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয় এবং তিনি প্রথম বড় ব্রেক পান। একই বছর তিনি আরও কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করেন, যেমন— বসন্ত বাসাল , মানবুমিগু মানাবন এবং সেলভা ।

১৯৯৭ সালে তিনি একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় করেন, যেমন কালামেল্লাম কাথিরুপ্পেন , লাভ টুডে এবং ওয়ান্স মোর । “ওয়ান্স মোর ”-এ তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা শিবাজি গণেশন -এর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। এরপর নেরুক্কু নের সিনেমায় তিনি অভিনেতা সুরিয়ার সঙ্গে অভিনয় করেন, যা তার ইন্ডাস্ট্রিতে অবস্থান আরও শক্ত করে।
পরবর্তীতে কাধালুক্কু মারিয়াধাই সিনেমাটি তাকে প্রথম বড় পুরস্কার এনে দেয় এবং তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তামিলনাড়ু রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে তিনি একাধিক রোমান্টিক ও হিট সিনেমায় অভিনয় করেন। ২০০০ সালে তিনি খুশির মাধ্যমে আরও বড় সাফল্য পান এবং এরপর ধারাবাহিকভাবে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিতে থাকেন।
এই সময়কালটিই বিজয়ের ক্যারিয়ারের “গোল্ডেন ফেজ” হিসেবে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা
২০০৩ সাল ছিল বিজয়ের ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই বছর তিনি দুটি সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন ভাসীগারা এবং পুথিয়া গীথাই । এরপর একই বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত থিরুমালাই তার ইমেজ সম্পূর্ণ বদলে দেয় এবং তাকে একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২০০৪ সালে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তি পায় উদয়া । এরপর আসে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য ঘিল্লি যা বক্স অফিসে বিশাল হিট হয় এবং ইতিহাস গড়ে। এরপর তিনি মধুরে অভিনয় করেন। এরপর তিনি একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দেন।
২০০৭ সালে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় হিট ছিল পোক্কিরি , যা সেই সময় তার অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হয়ে ওঠে। একই বছরে তিনি দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন অঝাগিয়া তামিল মাগান -এ।
এরপর ২০০৮ সালে আসে কুরুভি , এবং ২০০৯ সালে ভিল্লু ও ভেট্টাইক্কারান । ২০১০ সালে তিনি তার ৫০তম সিনেমা সুরা-এ অভিনয় করেন। ২০১১ সালে আসে কাভালান, যা ইতিবাচক সাড়া পায়, এবং এরপর ভেলায়ুধাম, যা সেই বছরের অন্যতম বড় হিট ছিল।
এই সময় থেকেই বিজয় একজন শীর্ষ বাণিজ্যিক তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
নতুন যুগের বিজয়
২০১২ সালে বিজয় অভিনয় করেন বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমা নানবান , যা হিন্দি ব্লকবাস্টার থ্রি ইডিয়টস -এর রিমেক। এরপর তিনি এ. আর. মুরুগাদোস পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলার থুপ্পাক্কি -এ অভিনয় করেন। এই ছবিটি বিশাল সাফল্য পায় এবং ১০০ কোটির বেশি আয় করে বিজয়ের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় হিট হয়ে ওঠে।
২০১৩ সালে আসে থালাইভা , যা মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়। ২০১৪ সালে তিনি অভিনয় করেন জিলা , যা বক্স অফিসে হিট হয়। একই বছরে তার আরেকটি বড় সাফল্য ছিল কাথি , যেখানে তিনি দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন এবং এটি ১৩০ কোটির বেশি আয় করে।
২০১৫ সালে তিনি পুলি ছবিতে কাজ করেন, যা মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও বাণিজ্যিকভাবে সফল ছিল। ২০১৬ সালে আসে অ্যাটলি পরিচালিত থেরি , যা ১৭০ কোটির বেশি আয় করে বড় হিট হয়। ২০১৭ সালে তিনি অভিনয় করেন বৈরাভা এবং এরপর বিশাল ব্লকবাস্টার মার্সাল , যা ২৫০ কোটির বেশি আয় করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয়তা পায়।

২০১৮ সালে রাজনৈতিক থিমযুক্ত সিনেমা সরকার মাত্র দুই দিনের মধ্যে ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে এবং বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায়। ২০১৯ সালে আসে ফুটবল ভিত্তিক অ্যাকশন সিনেমা বিগিল, যা ৩০০ কোটির বেশি আয় করে বড় সাফল্য অর্জন করে।
২০২১ সালে লোকেশ কানাগারাজ পরিচালিত মাস্টার মুক্তি পায় এবং বিশ্বব্যাপী ৩০০ কোটির বেশি আয় করে। ২০২২ সালে তিনি অভিনয় করেন বিস্ট, যা বিদেশে ভালো ব্যবসা করে এবং নেটফ্লিক্সে জনপ্রিয় হয়।
এই সময়কালটি বিজয়ের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে তিনি ধারাবাহিকভাবে বড় বড় ব্লকবাস্টার উপহার দেন।
অদম্য সাফল্যের ধারাবাহিকতা
২০২৩ সালে বিজয়ের ক্যারিয়ারে আরও দুটি বড় চলচ্চিত্র মুক্তি পায় এবং দুটিই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রথমে মুক্তি পায় ভামশী পাইদিপল্লি পরিচালিত অ্যাকশন ড্রামা ভারিসু। এই ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য অর্জন করে এবং প্রায় ৩০০ কোটির বেশি আয় করে। পারিবারিক আবেগ ও বাণিজ্যিক বিনোদনের মিশ্রণে তৈরি এই সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলে।
এরপর মুক্তি পায় লোকেশ কানাগারাজ পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলার লিও। যদিও ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল, তবে এটি বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে এবং ৬০০ কোটির বেশি আয় করে। এই ছবিটি সেই বছরের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্রে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে তিনি অভিনয় করেন দ্য গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম -এ, যা মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও ৪৫০ কোটির বেশি আয় করে সফল হয়।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজয় ঘোষণা দেন যে তিনি জানা নায়গন নামের আরেকটি চলচ্চিত্রে কাজ করবেন, যা তার শেষ চলচ্চিত্র হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এই সিনেমাটি ২০২৬ সালে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও কিছু কারণে বিলম্বিত হয় এবং পরে অনলাইনে পাইরেসি ফাঁসের ঘটনাও ঘটে।
এই সময়ে শোনা যায় যে প্রযোজনা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিনি নতুন একটি প্রকল্পে কাজ করতে পারেন, যার অস্থায়ী নাম “Vijay 70”। এইভাবে বিজয়ের ক্যারিয়ার নতুন এক অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তার চলচ্চিত্রগুলো শুধু বক্স অফিসেই নয়, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে।
অভিনয়শৈলী ও জনপ্রিয়তা
থালাপতি বিজয়ের অভিনয়শৈলীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার সরলতা, স্বাভাবিকতা এবং আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা। তিনি এমনভাবে সংলাপ বলেন যে দর্শক সহজেই চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে আবেগপূর্ণ দৃশ্যে তার চোখের অভিব্যক্তি ও সংলাপ ডেলিভারি দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।
তার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার অসাধারণ নাচের দক্ষতা। দ্রুত গতির গান হোক বা স্টাইলিশ পারফরম্যান্স বিজয় তার নাচের মাধ্যমে পর্দায় আলাদা মাত্রা যোগ করেন। এই কারণেই তরুণ দর্শকদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আরও বেশি।
বিজয়ের সিনেমার একটি বিশেষ আকর্ষণ হলো তার “ম্যাস এন্ট্রি”। সিনেমায় তার প্রবেশ দৃশ্যগুলো সাধারণত খুব স্টাইলিশ, শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং দর্শক উত্তেজনায় ভরপুর থাকে। এই এন্ট্রি সিনগুলো থিয়েটারে দর্শকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তোলে।
তার অ্যাকশন দৃশ্যগুলোও অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্টাইলিশ ফাইটিং, ডায়লগ ডেলিভারি এবং স্ক্রিন প্রেজেন্স মিলিয়ে তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ “ম্যাস হিরো” হিসেবে পরিচিত।
দর্শকদের কাছে তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং একটি অনুভূতি। তার ভক্তরা তাকে ভালোবেসে “থালাপতি” (নেতা/কমান্ডার) নামে ডাকে। এই নাম এখন তার পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।
দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র জগতে তার ফ্যান ফলোয়িং অত্যন্ত শক্তিশালী। তার সিনেমা মুক্তির দিনগুলো প্রায়ই উৎসবের মতো উদযাপন করা হয়। পোস্টার লাগানো, দুধ ঢালা, কেক কাটার মতো নানা ভক্তিমূলক আয়োজন দেখা যায়।
তার জনপ্রিয়তা শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। কেরালা, কর্ণাটক, শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে ইউরোপ, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যেও তার অসংখ্য ভক্ত রয়েছে।
সংগীত প্রতিভা
বিজয়কে তামিল সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল গায়ক অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি বিভিন্ন খ্যাতনামা সুরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন, যেমন ইলাইয়ারাজা এবং এ. আর. রহমান।
তার সংগীতজীবনের শুরু ১৯৯৪ সালে, যখন তিনি রসিগান সিনেমার “Bombay City Sukha Rotti” গানটির মাধ্যমে প্রথম প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সিনেমায় গান গেয়ে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন।
২০০৫ সালে সচিন ছবিতে “Vaadi Vaadi” গানটি গাওয়ার পর তিনি কিছু সময়ের জন্য গান থেকে বিরতি নেন, কারণ তিনি তখন সম্পূর্ণভাবে অভিনয়ে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন।
দীর্ঘ বিরতির পর তিনি ২০১২ সালে ফিরে আসেন থুপ্পাক্কি ছবির “Google Google” গানটির মাধ্যমে। এই গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং তাকে সেরা গায়কের পুরস্কারও এনে দেয়।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে “Yendi Yendi” গানের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পান। ২০১৬ সালে তার গাওয়া “Selfie Pulla” গানটি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং আবারও তাকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।

বিতর্ক
বিজয় দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হলেও তার ক্যারিয়ারে বেশ কিছু সময়ে তিনি বিভিন্ন বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন। তার কিছু সিনেমা বিশেষ করে মার্সাল এবং সরকার রাজনৈতিক বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা তৈরি করে। এসব সিনেমায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ভোটিং সিস্টেম এবং সরকারি নীতির সমালোচনা থাকায় কিছু রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে একই সাথে এই সিনেমাগুলো সাধারণ মানুষের কাছেও ব্যাপক সমর্থন পায়।
“সরকার” মুক্তির পর এটি সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত হয়। ছবির কিছু দৃশ্য ও সংলাপ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আপত্তি তোলে এবং সেন্সর বোর্ডের কাছেও অভিযোগ যায়। পরে কিছু দৃশ্য পরিবর্তন করা হয়, তবে তবুও এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
অনেক সমাজকর্মী ও দর্শকের একাংশ মনে করেন যে তার কিছু ছবিতে মাদক, সিগারেট এবং অ্যালকোহল ব্যবহারের দৃশ্যকে অতিরিক্তভাবে দেখানো বা স্টাইলিশভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা যুক্তি দেন, এসব দৃশ্য তরুণ দর্শকদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভুল বার্তা দিতে পারে। বিশেষ করে তার জনপ্রিয়তা ও বিশাল ফ্যান ফলোয়িং থাকার কারণে এই ধরনের চিত্রায়ন আরও সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়াও তার অভিনীত বিস্ট চলচ্চিত্রটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। ছবিতে কিছু ইসলামিক চরিত্রের উপস্থাপনাকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ সমালোচনা করে। তাদের মতে, কিছু দৃশ্য ও উপস্থাপন ভুল বার্তা দিতে পারে বা সংবেদনশীল বিষয়কে যথাযথভাবে তুলে ধরেনি।
ব্যক্তিগত জীবন
থালাপতি বিজয় তার পেশাগত জীবনের মতোই ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ সরল ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকে পরিবার ও কাজকে প্রাধান্য দিতে পছন্দ করেন।

১৯৯৯ সালে তিনি সঙ্গীতা স্বর্ণলিঙ্গমকে বিয়ে করেন। সঙ্গীতা মূলত শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত এবং বিজয়ের একজন বড় ভক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয় এবং পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। সন্তানদের নাম সঞ্জয় ও দিভ্যা সাশা। বিজয় তার সন্তানদের খুবই স্নেহ করেন এবং যতটা সম্ভব তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে মিডিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব
বিজয়কে ঘিরে সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু গুঞ্জন ও গুজব সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তার স্ত্রী সঙ্গীতা স্বর্ণলিঙ্গমের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়ে নানা ধরনের খবর শোনা যাচ্ছে।
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে তারা নাকি বিচ্ছেদের পথে এগোচ্ছেন এবং এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে গুজব ছড়ায়। আরও কিছু অনলাইন রিপোর্টে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও “পরকীয়া” সংক্রান্ত অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও তার সহ-অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মিডিয়ায় গুজব রয়েছে। সম্প্রতি তাদের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর এই চর্চা আবারও বেড়ে যায়

সমাজসেবা
থালাপতি বিজয় শুধু চলচ্চিত্র জগতের একজন সুপারস্টারই নন, তিনি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। তার ভক্তদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠন “বিজয় মক্কাল ইযাক্কাম” এর মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছেন।
এই সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সাহায্য করা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং আর্থিক সাহায্য প্রদান করেছেন।
বিশেষ করে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বই, খাতা, স্কুল ফি সহায়তা এবং পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার মতো কাজগুলো এই সংগঠনের মাধ্যমে করা হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংকটকালীন সময়ে ত্রাণ বিতরণেও এই সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
রক্তদান কর্মসূচিও তার সমাজসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার ভক্তরা নিয়মিত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে, যা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয়েছে।
অভিনেতা থেকে জনপ্রতিনিধি
তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয় পর্দার বীরত্ব ছাপিয়ে এবার রাজনীতির ময়দানেও অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। মাত্র দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন এক চমক সৃষ্টি করেছেন
এবারের নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজয়ের দল ১০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা কিছুটা পিছিয়ে আছে, তবে একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয়ের অবস্থান এখন অত্যন্ত সুসংহত।

যদি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তবে দীর্ঘ ৪৯ বছর পর তামিলনাড়ুতে কোনো চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি এই শীর্ষ আসনে বসবেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি অভিনেতা এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) একই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জয়ললিতার মতো বড় তারকারা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তারা মূলত এমজিআরের গড়া দলের উত্তরাধিকার হিসেবে ক্ষমতায় এসেছিলেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
থালাপতি বিজয় তার দীর্ঘ ও সফল অভিনয় জীবনে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তার অভিনয় দক্ষতা, জনপ্রিয়তা এবং বক্স অফিস সাফল্যের কারণে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন।
তিনি একাধিকবারফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথ-এ মনোনীত হয়েছেন এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করেছেন। এই পুরস্কারগুলো তার রোমান্টিক, অ্যাকশন ও আবেগপূর্ণ অভিনয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এছাড়াও তিনি তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে তামিলনাড়ু স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস-এ সম্মানিত হয়েছেন, যা তার অভিনয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ধরা হয়।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ কালাইমামানি অ্যাওয়ার্ড -এও ভূষিত হয়েছেন। এই পুরস্কার তার শিল্পীসত্তার প্রতি সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করে।
বিজয় শুধু সমালোচকদের কাছেই নয়, সাধারণ দর্শকদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি বহু জনপ্রিয়তা ভিত্তিক পুরস্কার ও ভক্তদের ভোটে নির্বাচিত সম্মাননা অর্জন করেছেন।
শেষ কথা
থালাপতি বিজয় আজ তামিল চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা এবং ভক্তদের প্রতি ভালোবাসা তাকে এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সঠিক লক্ষ্য ও অধ্যবসায় থাকলে সফলতা নিশ্চিত। ভবিষ্যতেও তার কাছ থেকে আরও ভালো কাজের প্রত্যাশা রয়েছে, এবং তার ভক্তরা সবসময় তার পাশে থাকবে।
থালাপতি বিজয়ের কিছু অনুপ্রেরণামূলক কথা
- “কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাই সফলতার আসল চাবিকাঠি।”
- “জনপ্রিয়তা আসে যায়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসাই আসল সম্পদ।”
- “আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার কাজ দিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিতে।”
- “সাফল্য কখনো হঠাৎ আসে না, এটি ধৈর্যের ফল।”
- “ভক্তরাই আমার শক্তি, তাদের ভালোবাসাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।”
- “নম্রতা বজায় রাখা একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় গুণ।”
- “আমি সিনেমাকে শুধু বিনোদন নয়, দায়িত্ব হিসেবেও দেখি।”
- “নিজের কাজের প্রতি সততা থাকলে সফলতা একদিন আসবেই।”
Reference:

