ইউরোপের বুকে এক হানাবাড়ি দ্বীপ, যা প্লেগ দ্বীপ নামেই বেশি পরিচিত। পোভেলিয়ার প্রতিটি কোণায় জড়িয়ে আছে যন্ত্রণা আর মৃত্যুর গল্প। এটি কি শুধুই লোককাহিনি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো অন্ধকার সত্যি?
পৃথিবীর বুকে এমন কিছু জায়গা আছে, যার সৌন্দর্য নয়, বরং ভয়ংকর ইতিহাস এবং গা ছমছমে লোককাহিনিই তার প্রধান পরিচয়। ইতালির ভেনিস শহরের চাকচিক্য আর সৌন্দর্যের আড়ালে, ভেনিস লেগুনের শান্ত জলের বুকে ভেসে আছে এমনই এক দ্বীপ, যার নাম শুনলেই স্থানীয় জেলেদের বুক কেঁপে ওঠে। এর নাম পোভেলিয়া (Poveglia)।
দূর থেকে দেখলে এটিকে আর দশটি সাধারণ দ্বীপের মতোই সবুজ এবং শান্ত মনে হয়। কিন্তু এই আপাত শান্ত রূপের আড়ালেই লুকিয়ে আছে শতাব্দী ধরে সঞ্চিত যন্ত্রণা, মৃত্যু আর আর্তনাদের এক অন্ধকার ইতিহাস। এটি কোনো সাধারণ দ্বীপ নয়; এটি এক নিষিদ্ধ এলাকা, এক অভিশপ্ত ভূখণ্ড, যা ‘প্লেগ দ্বীপ’, ‘মানসিক রোগীদের দ্বীপ’ বা ‘হানাবাড়ি দ্বীপ’ নামে পরিচিত।
সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ করে দিয়েছে। কিন্তু কেন? একটি দ্বীপকে ঘিরে এত ভয়, এত রহস্য কেন? পোভেলিয়ার ইতিহাস এতটাই অন্ধকার এবং করুণ যে, একে পৃথিবীর অন্যতম ভুতুড়ে স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মাটি নাকি লক্ষ লক্ষ প্লেগ রোগীর ছাই দিয়ে তৈরি, এর বাতাসে নাকি আজও ভেসে বেড়ায় মানসিক রোগীদের করুণ আর্তনাদ। স্থানীয় জেলেরা আজও দ্বীপের কাছাকাছি মাছ ধরতে ভয় পায়। তাদের জালে মাঝে মাঝে মানুষের হাড়গোড় উঠে আসে বলে শোনা যায়।
পোভেলিয়ার প্রথম অধ্যায়
পোভেলিয়ার ইতিহাস সবসময়ই এত অন্ধকার ছিল না। এর প্রথম অধ্যায় ছিল বেশ শান্ত এবং সাধারণ। রোমান যুগে এটি একটি ছোট বসতি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পঞ্চম শতাব্দীতে, যখন বর্বর দস্যুরা মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ চালায়, তখন বহু মানুষ পালিয়ে এসে এই দ্বীপে আশ্রয় নেয়। কয়েক শতাব্দী ধরে এটি একটি ছোট, শান্তিপূর্ণ মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের আবাসস্থল ছিল। এখানকার বাসিন্দারা লবণ এবং মাছের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করত এবং ভেনিসের শাসকদের প্রতি অনুগত ছিল।
চতুর্দশ শতকে, ভেনিস এবং জেনোয়ার মধ্যে যুদ্ধের সময় পোভেলিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যায়। ভেনিসকে রক্ষা করার জন্য দ্বীপটিকে একটি দুর্গে পরিণত করা হয়। এখানে একটি অষ্টভুজাকৃতির দুর্গ (Octagonal Fort) নির্মাণ করা হয়, যার ধ্বংসাবশেষ আজও দেখতে পাওয়া যায়। এই দুর্গটি ছিল ভেনিস লেগুনের প্রবেশপথে নজরদারি করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। যুদ্ধের পর, দ্বীপের বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয় এবং দ্বীপটি আবার ধীরে ধীরে জনশূন্য হয়ে পড়ে।
কিন্তু এর সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়ের সূচনা হতে তখনো কয়েক শতাব্দী বাকি ছিল।
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্লেগ দ্বীপ এবং জীবন্ত নরক
ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় হলো চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বারবার ফিরে আসা ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা বিউবনিক প্লেগের মহামারী। এই মহামারীতে কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ভেনিস, যা ছিল একটি ব্যস্ত বন্দর এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, তা প্লেগের দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শহরের সরু গলি এবং ঘনবসতি রোগটিকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছিল।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য, ভেনিস কর্তৃপক্ষ এক নির্মম কিন্তু কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা পোভেলিয়া দ্বীপটিকে একটি ‘ল্যাজারেত্তো’ (Lazaretto) বা সংক্রামক রোগীদের জন্য কোয়ারেন্টাইন স্টেশনে পরিণত করে। প্লেগের সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলেই, নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে সবাইকে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে জাহাজে করে পোভেলিয়া দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। একবার ভাবুন সেই সময়ের ভয়াবহতার কথা: প্লেগ ডাক্তাররা তাদের ভয়ঙ্কর পাখির ঠোঁটের মতো মুখোশ পরে বাড়ি বাড়ি যেত এবং সামান্য জ্বরের লক্ষণ দেখলেই পুরো পরিবারকে ধরে নিয়ে যেত। সেই যাত্রা ছিল একমুখী; পোভেলিয়া থেকে ফিরে আসার কোনো আশা কেউ করত না।
এই দ্বীপে তাদের জন্য অপেক্ষা করত এক জীবন্ত নরক। এখানে চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা ছিল না। রোগীদেরকে বিশাল বিশাল গর্তে ফেলে রাখা হতো। যারা মারা যেত, তাদের লাশ এই গর্তেই ফেলে দেওয়া হতো। যখন লাশের সংখ্যা এতটাই বেড়ে যেত যে, জায়গা দেওয়া সম্ভব হতো না, তখন হাজার হাজার লাশ, এমনকি অনেক জীবন্ত কিন্তু মুমূর্ষু রোগীকেও একসাথে বিশাল চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হতো। এই নির্মমতার উদ্দেশ্য ছিল রোগ যেন আর ছড়াতে না পারে।
অনুমান করা হয়, কয়েক শতাব্দী ধরে চলা এই নির্মম কোয়ারেন্টাইনে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষকে এই দ্বীপে হত্যা করা হয়েছে বা তারা এখানেই মারা গেছে। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, পোভেলিয়ার মাটির প্রায় ৫০ শতাংশই নাকি এই হতভাগ্য মানুষদের দেহভস্ম এবং ছাই দিয়ে তৈরি। এই গণমৃত্যুর কারণে দ্বীপের মাটি এতটাই উর্বর হয়ে গিয়েছিল যে, পরবর্তীকালে এখানকার জমিতে আঙুরের চাষ করা হতো। কিন্তু সেই আঙুর বাগানের মাটি খুঁড়লেই নাকি মানুষের হাড়গোড় বেরিয়ে আসত। এই গণমৃত্যুই দ্বীপটিকে এক বিশাল গণকবরে পরিণত করে এবং এর অভিশপ্ত ইতিহাসের ভিত্তি স্থাপন করে।
তৃতীয় অধ্যায়: মানসিক হাসপাতাল ও নির্মমতা
প্লেগের কালো অধ্যায় শেষ হওয়ার পর, পোভেলিয়া দ্বীপটি প্রায় এক শতাব্দী ধরে পরিত্যক্ত ছিল। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এর বুকে লেখা হয় এক নতুন এবং আরও ভয়ঙ্কর মনস্তাত্ত্বিক অত্যাচারের ইতিহাস। ১৯২২ সালে, দ্বীপের পুরনো ভবনগুলোকে সংস্কার করে একটি বিশাল মানসিক হাসপাতাল (Mental Asylum) তৈরি করা হয়।
এই হাসপাতালটি ছিল মানসিকভাবে অসুস্থ রোগীদের জন্য, কিন্তু খুব দ্রুতই এটি এক বিভীষিকাময় কারাগারে পরিণত হয়। তৎকালীন সমাজে মানসিক রোগ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা ছিল না এবং রোগীদের সাথে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করা হতো। কিন্তু পোভেলিয়ার হাসপাতালের গল্প ছিল আরও ভয়ংকর।
লোককাহিনি অনুযায়ী, এই হাসপাতালের প্রধান ডাক্তার ছিলেন একজন অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং বিকৃত মস্তিষ্কের ব্যক্তি। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, মানসিক রোগের কারণ হলো মস্তিষ্কের কোনো ত্রুটি এবং এটি সার্জারির মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে, তিনি রোগীদের উপর ভয়ংকর সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন। তিনি ‘লোবোটমি’ (Lobotomy)-র মতো নৃশংস প্রক্রিয়া চালাতেন, যেখানে কোনো অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই, হাতুড়ি এবং ছেনি বা ড্রিলের মতো সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রোগীদের মস্তিষ্কে ছিদ্র করা হতো। এই ভয়ঙ্কর পরীক্ষাগুলো তিনি হাসপাতালের বেল টাওয়ারে চালাতেন, যাতে রোগীদের মর্মান্তিক চিৎকার অন্য কেউ শুনতে না পায়।
এই নির্মম অত্যাচারে বহু রোগী প্রাণ হারায়। যারা বেঁচে থাকত, তারা জীবন্ত লাশে পরিণত হতো। হাসপাতালের অন্য রোগী এবং নার্সরা প্রায়ই অভিযোগ করত যে, তারা রাতে প্লেগ রোগীদের আত্মাদের দেখতে পায় এবং তাদের করুণ চিৎকার শুনতে পায়। কিন্তু সেই ডাক্তারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।
ডাক্তারের করুণ পরিণতি:
কিংবদন্তি অনুযায়ী, সেই ডাক্তার নিজেও ধীরে ধীরে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করতেন যে, প্লেগ রোগীদের আত্মারা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছে। অবশেষে, একদিন তিনি হাসপাতালের সেই বেল টাওয়ার থেকেই ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, তিনি যখন নিচে পড়েছিলেন, তখনও তার মৃত্যু হয়নি। কিন্তু দ্বীপের কুয়াশার মধ্য থেকে কিছু ছায়ামূর্তি উঠে এসে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ডাক্তারের আত্মাও নাকি আজও সেই বেল টাওয়ারে ঘুরে বেড়ায়। যদিও বহু বছর আগেই টাওয়ার থেকে ঘণ্টাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় জেলেরা দাবি করে, তারা আজও মাঝে মাঝে রাতের নিস্তব্ধতায় সেই ঘণ্টার শব্দ শুনতে পায়।
১৯৬৮ সালে, এই হাসপাতালটি অবশেষে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পোভেলিয়া দ্বীপটি চিরতরে পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
আধুনিক পোভেলিয়া: এক নিষিদ্ধ এবং ভুতুড়ে দ্বীপ
আজ পোভেলিয়া দ্বীপটি সম্পূর্ণ জনমানবশূন্য। এর ভবনগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, চারপাশ বুনো লতাপাতায় ছেয়ে গেছে। ইতালীয় সরকার পর্যটকসহ সবার জন্য এই দ্বীপে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। শুধুমাত্র বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে গবেষক বা সাংবাদিকরা এখানে যাওয়ার সুযোগ পান।
যারা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দ্বীপে প্রবেশ করেছেন বা প্যারানরমাল তদন্তকারীরা এখানে এসেছেন, তাদের অনেকেই অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। যেমন:
- হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়া।
- কণ্ঠস্বর বা কান্নার শব্দ শোনা।
- ছায়ামূর্তির আনাগোনা দেখা।
- হঠাৎ করে তীব্র ভয় বা বিষণ্ণতা অনুভব করা।
আমেরিকার বিখ্যাত টিভি শো ‘ঘোস্ট অ্যাডভেঞ্চার্স’-এর মতো প্যারানরমাল টিম এখানে এক রাতের জন্য থেকেছিল এবং তাদের উপস্থাপক জ্যাক বেগান্স দাবি করেন যে, এটি তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ছিল এবং একটি অশুভ আত্মা কিছুক্ষণের জন্য তার শরীর দখল করে নিয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও বাস্তবতার খোঁজ
যদিও পোভেলিয়াকে ঘিরে প্রচুর ভৌতিক গল্প রয়েছে, বিজ্ঞানীরা এর পেছনে যৌক্তিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছেন। এখানে কোনো পরিকল্পিত প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা খুব বেশি হয়নি। তবে, দ্বীপে পাওয়া গণকবরগুলো প্লেগের ভয়াবহতার ঐতিহাসিক সত্যতা প্রমাণ করে। হাসপাতালের ইতিহাসও সত্য, যদিও ডাক্তারের নির্মমতার গল্পগুলো মূলত লোককাহিনি এবং এর কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই দ্বীপের থমথমে এবং বিষণ্ণ পরিবেশই মানুষের মনে ভয় এবং হ্যালুসিনেশন তৈরি করতে পারে। একটি পরিত্যক্ত মানসিক হাসপাতাল এবং গণকবরের ইতিহাস জানার পর, যে কোনো মানুষের মনেই অস্বস্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এমনকি, কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী, পুরনো দালান থেকে সৃষ্ট ইনফ্রাসাউন্ড বা নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দও মানুষের মনে ভয় বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
২০১৪ সালে, ইতালির সরকার দ্বীপটিকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোনো উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া যায়নি, যা দ্বীপটির অশুভ খ্যাতিকেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তাহলে, পোভেলিয়া দ্বীপে কি সত্যিই ভূত আছে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনোদিনও নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে না। এটি বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের এক ধূসর এলাকায় অবস্থান করছে।
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। পোভেলিয়া শুধু একটি দ্বীপ নয়, এটি মানুষের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের জীবন্ত সাক্ষী। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্লেগের মতো মহামারীর ভয়াবহতা, মানসিক রোগীদের প্রতি একসময়ের সমাজের অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের তৈরি করা নরকের কথা। এর সাথে মিশেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা লোককাহিনি, যা এই দ্বীপের রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
আজও পোভেলিয়া ভেনিস লেগুনের বুকে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। একাকী, পরিত্যক্ত এবং অভিশপ্ত।
তথ্যসূত্র –
- https://www.oddbangla.com/2022/05/poveglia-island-scattered-human-skeletons.html?m=1
- https://www.protidinersangbad.com/international/373253
- https://archive.roar.media/bangla/main/geography/povlegia-island-a-cursed-island-covering-the-tears-of-centuries
- https://www.jugantor.com/tp-news/630453
- https://www.somoynews.tv/news/2022-11-03/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%AA-%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE