Image default
ইসলামের কথা

বিশ্বজুড়ে রোজা যখন উৎসব

এমন সাংস্কৃতিক চর্চার কথা জানা আছে কি যেখানে রমজান মাস আসার আগে নিজেদের শুদ্ধ করার জন্য গোসল করা হয়? এমনি ঘটছে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে। বিশ্বের নানা প্রান্তে এমন অনেক রীতিনীতি রয়েছে।

আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস রমজান। রমজান কি শুধুই উপাসনার মাস নাকি এর সাথে জুড়ে আছে হাজারো সংস্কৃতি? রমজান বা রোজার মাস মুসলিম বিশ্বে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত পাঁচ ফরজের একটি হচ্ছে রোজা, যা এ মাসেই পালন করা হয়। ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী মুসলিমরা রোজা রাখলেও সংস্কৃতিভেদে বিভিন্ন দেশে কিছু আলাদা রীতি পালন করা হয়ে থাকে, যেগুলোর সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই।

সংযুক্ত আরব-আমিরাত

রমজান শুরু হবার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে চালু হয় ‘হক আল লায়লা’ নামের এক বিশেষ আয়োজন। রমজানের ঠিক আগের মাস অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখে। 

এই দিন শিশুরা রঙিন কাপড় পরে প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি যায়। এসময় তারা খারিতা ব্যাগে মিষ্টি সংগ্রহ করে এবং সুর করে বলে “আতোনা আল্লাহ ইউতিকোম, বাইত মক্কা ইউদিকুম,” যার অর্থ “আপনারা আমাদেরকে দিন, আল্লাহ আপনাদের পুরস্কৃত করবেন এবং মক্কা পরিদর্শনের তৌফিক দেবেন।” 

বছরর পর বছর ধরে ধর্মীয়ভাবে চর্চা করা ‘হক আল লায়লা’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান পালনের ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে সবার মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া।

কুয়েত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কুয়েতেও এটি পালন করা হয়। তবে তা হয় রমজানের মাঝামাঝি সময়ে তিন দিনের উদযাপন। এসময় শিশুরা তাদের আশেপাশের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়তে থাকে এবং মিষ্টি এবং চকলেটের জন্য গান গায়। এই ঐতিহ্যটিকে ‘গারগিয়ান’ বলা হয়।

কুয়েতে শিশুদের রমজান উৎসব গারগিয়ান

জেনে অবাক হবেন, কুয়েতে রমজান মাসে ইফতারের সময় কামানের গোলা ছোড়া একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথা। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এখনও পালন করা হয়। এই রীতি শুধু কুয়েতেই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশে দেখা যায়। 

বিশেষ করে যখন আধুনিক প্রযুক্তি ও ঘড়ির প্রচলন ছিল না, এই ঐতিহ্যগত প্রথাটি মূলত মানুষকে ইফতারের সময় জানিয়ে দেওয়ার জন্য চালু হয়েছিল। যদিও এখন টেলিভিশন, রেডিও ও মোবাইলের মাধ্যমে সময় জানা যায়, তবুও অনেক দেশ এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে।

ইন্দোনেশিয়ার অদ্ভুত প্রথা

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের মুসলমানরা রমজানের আগে নিজেদের শুদ্ধ করার জন্য ‘পাদুসান’ নামে একটি বিশেষ রীতি অনুসরণ করেন। পাদুসান এর অর্থ গোসল করা। 

রমজান শুরুর আগে ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানরা তাদের আশেপাশের প্রাকৃতিক পুকুরে গোসল করে এবং নিজেদের পরিষ্কার করে।

রমজান পূর্বে ইন্দোনেশিয়ায় গোসল উৎসব

এই সাংস্কৃতিক চর্চা রমজান মাসে বিশ্বাসীদের শুদ্ধ করে বলে মনে করেন মুসলিমরা। তবে, ইদানীং অনেকেই নিজ বাড়িতেই এই গোসল করে নেন।

এছাড়াও, ইন্দোনেশিয়ানরা ইফতারে তেল ও মশলা জাতীয় খাবারের পরিবর্তে বিভিন্ন রকম ফল এবং ফলের শরবতকে প্রাধান্য দেন। পাশাপাশি তাদের ইফতার আয়োজনে নানা রকম মিষ্টি জাতীয় খাবারও থাকে।

তুরস্ক

বাংলাদেশে যেভাবে সেহরির সময় সাইরেন অথবা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মানুষজনকে জাগিয়ে তোলা হয় এরকম বিশ্বের আরেকটি মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্ক যেখানে প্রায় ২০,০০০ জন লোক অটোম্যানদের মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাক (এক বিশেষ ধরনের কোট) সঙ্গে ফেজ টুপি পরে ‘দাভুল’ নামের বড় আকারের ঢোল পিটিয়ে মানুষজনকে জাগিয়ে তোলে। 

তুরষ্কে ঢোল পিটিয়ে সেহরিতে ডাকার প্রথা

দুই দিকেই বাজানো যায় এমন ঢোল নিয়ে শহরজুড়ে ঘুরে ঘুরে সেহরির জন্য মানুষদের জাগিয়ে তোলা হয়। এর বিনিময়ে তারা বখশিস পায়। এসময় সেহরিতে জেগে ওঠা মুসলিমরা একসঙ্গে খাওয়ার জন্য তাদের ডাকও দেয়।

অনেকটা একই চর্চা আছে আলবেনিয়ার রোমা মুসলিমদের মধ্যে। ভেড়া বা ছাগলের চামড়ায় আবৃত ‘লোদ্রা’ নামের ঐতিহ্যবাহী ড্রামের সঙ্গে বিশেষ গীতিনাট্য দিয়ে তারা রমজানে দিনের শুরু এবং শেষ করে।

তুরস্কে এই মাসে প্রতিদিন ৩ বার (সেহরি খাওয়ার সময়, ইফতারের সময় ও সেহরির শেষ সময়) তোপধ্বনি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই তোপধ্বনি দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে রমজানকে স্বাগত জানানো। এই তোপধ্বনি দেওয়ার সময়ই মসজিদের মিনারগুলোতে জ্বালানো হয় ‘কানদিল’ নামের বাতি। এই বাতিগুলো সূর্যোদয় পর্যন্ত জ্বলতে থাকে। তুরস্কে বাতি জ্বালানোর এই ঐতিহ্য শতবর্ষী পুরনো।

ইফতারের সময় খোরমা-খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা হয়। তুরস্কে ইফতারকে বলা হয় ইফতারিয়া। ইফতারে থাকে নানা আয়োজনের ভেতরে থাকে জলপাই ও পনির দিয়ে বানানো পেস্ট্রি বারেক, গরুর মাংস দিয়ে তৈরি পেসতারমা ও তুর্কি রুটি পিদে।

মিশর

মিশর ও জর্ডানে সেহরির আগে এলাকাভিত্তিক কিছু মানুষ প্রতিবেশীদের ঘুম থেকে ওঠানোর জন্য ডাকেন, যাদের বলা হয় মেসাহারাতি। মেসাহারাতির কাজ হচ্ছে আশেপাশের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে জাগিয়ে তোলার জন্য ডাক দেয়া। ঢোলের মৃদু শব্দের সঙ্গে তারা ডেকে দেয়ার কাজটি করেন।

রমজান মাসকে ঘিরে মিশরে থাকে জমকালো আয়োজন। রমজানে এখানকার বাড়ি-ঘর ও দোকানগুলোর প্রবেশমুখে রঙিন ফানুস ঝুলিয়ে রাখা হয়। নানা রং ও বৈচিত্র্যে বানানো ফানুসগুলো মূলত এক বিশেষ ধরনের লণ্ঠন। ধাতু ও রঙিন কাচ দিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়। রমজান মাসে চারদিকে ঝুলানো এ ফানুসগুলো পুরো মিসর আলোকিত হয়, উৎসবের আমেজ বিরাজ করে সারা দেশে।

ধারণা করা হয়, এই ঐতিহ্যের উৎপত্তি ফাতেমীয় সাম্রাজ্য থেকে শুরু হয়েছিল, যখন খেলাফত আল-মুই লি-দিন আল্লাহ কায়রোতে আসার সময় তাকে রঙিন লণ্ঠন দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এ ছাড়া দেশটির ঐতিহ্যবাহী গান, ফানুস ওড়ানো, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং ফুটবল টুর্নামেন্টসহ সামাজিক আচারও রমজানে অন্তর্ভুক্ত।

ইরাক

রমজানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে সারাদিনের সংযমের সঙ্গে ইফতারের পর হালকা মজা করায় কোনো ক্ষতি নেই বলেই মনে করেন ইরাকিরা।

আর তাই এসময় তারা খেলেন দেশটির অন্যতম প্রধান একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা ‘মেহাবেস’। একে আংটি খেলাও বলা হয়ে থাকে।

রমজান মাসে ইরাকের ঐতিহ্যবাহী খেলা ‘মেহাবেস’

৪০ থেকে ২৫০ জন পর্যন্ত খেলাটিতে অংশ নিতে পারে। এসময় অংশগ্রহণকারীরা দুটো দলে ভাগ হয়ে যায়। পালা করে একটি দল আংটি লুকিয়ে রাখে, এবং অন্যদলের সদস্যদের ধারণা করতে হয় যে আংটিটি কার কাছে আছে।

বাড়ির বাইরে কেবল পুরুষরা অংশ নিলেও, ঘরের ভেতর নারীরাও এই খেলায় অংশ নিয়ে থাকে। ইরাকিদের কাছে এই খেলা সবার একত্রিত হয়ে কিছুটা আনন্দে কাটানোর মাধ্যম।

মালদ্বীপ

দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম প্রধান ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র ভিন্নধর্মী উপায়ে রোজার মাস উদযাপন করে।  ইফতারের সময়ে মালদ্বীপের কবিরা ‘রাইভারু’ নামের রমজান সম্পর্কিত এক ধরনের কবিতা আবৃত্তি করে থাকেন। এই কবিতাগুলো হয় ৩ বা তার বেশি লাইনের। প্রাচীনকাল থেকেই মালদ্বীপে এই রাইভারু আবৃত্তির সংস্কৃতি আছে। 

তাদের ইফতারে থাকে কুলহি বোয়াকিবা (মাছ দিয়ে তৈরি এক ধরনের কেক), ফোনিবোয়াকিবা (ময়দা দিয়ে বানানো কেক), গুলহা (মাছের কোফতা) ইত্যাদি।

কাজাখস্তান

কাজাখস্তানে ৭০ শতাংশ মুসলমান। কাজাখদের ইফতার, সাহ্‌রি, তারাবিহ আর ঐতিহ্যের মিশেলে রমজান মাস হয়ে উঠে উৎসব–আনন্দের মাস। দোকানিরা রমজানকে স্বাগত জানান। নামাজি মুসল্লিরাও মসজিদ ও নামাজের স্থানগুলো ধোয়ামোছায় রোজার প্রাথমিক প্রস্তুতি সমাপ্ত করেন। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা রাস্তায় নেমে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে নানান আরবি গান গাইতে থাকে। সর্বত্র একটি ধর্মীয় আবেগ ইমেজ তৈরি হয়।

কাজাখদের ঐতিহ্যবাহী রীতি হলো, রমজানে সব আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত করা ও উপহার পাঠানো। যেসব আত্মীয়স্বজনের ভেতরে কোনো বিরোধ থাকে, রমজান আসার আগেই সে বিরোধ মিটিয়ে ফেলা হয়।

কাজাখদের প্রধান ইফতারি হলো কুমিস আর শুবাত। কুমিস তৈরি হয় ঘোড়ার দুধ দিয়ে, আর শুবাত উটের দুধে এর সঙ্গে ফলমূল আর শরবত। শীতপ্রধান দেশ হওয়ায় ইফতারে শরবতের পরিবর্তে চায়ের চাহিদাও থাকে।

মরক্কো

দেশটিতে রমজানকে বরণ করার প্রস্তুতি শুরু হয় ২-৩ সপ্তাহ আগে থেকে। মরক্কোর মানুষ রমজানের আগে তাদের বাড়ি-ঘর নতুন করে রং করায়, বাড়ির চারদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ও রান্নাঘরের যাবতীয় জিনিস একদম নতুনের মতো চকচকে করে তোলে। মরক্কোয় ইফতারকে বলা হয় এফতোর। এ সময় তাদের রাস্তাগুলো পরিণত হয় খাবারের বাজারে।

মরক্কোর ইফতার বাজার

মরক্কোতে যারা সেহরির সময় জাগিয়ে তোলে তাদের ডাকা হয় নাফারস নামে। এসময় তারা ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘গান্দোরা’, টুপি এবং একজোড়া চপ্পল পরে প্রার্থনার সুরে ধীর গতিতে হাঁটতে থাকে। সাধারণত শহরের লোকেরাই ‘নাফারস’ হিসেবে কয়েকজনকে নির্বাচন করেন। রমজানের শেষ রাতে মরক্কোর এই দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য এই ব্যক্তিদের সম্মানী দেয়া হয়।

মরক্কোর অধিবাসীরা একটু বেশি সময় নিয়ে ইফতার করে থাকে। ইফতারে থাকে ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন রিজ্জা, ক্রাচেল, মিস্সামেন, হারিরা, ব্রিওয়াত, স্টিল্লা, হারশা, স্যাল্লো, রিজ্জা।

আইভরি কোস্ট

আইভরি কোস্টে রমজান মাসকে ‘সুনে কালৌ’ বলা হয়, যার অর্থ উপবাসের মাস। আফ্রিকার অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে আইভরি কোস্টের ইফতার আয়োজন আলাদা। দেশটির কেউ নিজ বাড়িতে ইফতার করেন না। খাবার রান্না করে অন্য দরিদ্র পরিবারে নিয়ে যান, যাতে সবাই একসঙ্গে ইফতার করতে পারে। 

রমজানে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মাদিদ’ ও ‘থারিদ’। আর সবচেয়ে বিখ্যাত খাবারটি ‘মুমি’ নামে পরিচিত, এটি এক ধরনের রুটি। সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হলো হিবিস্কাস, জিনজার, কিংস ব্রেইন ও দাজিহ। 

কেনিয়া

কেনিয়ায় রমজান মাসে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরগুলোকে রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানো হয়। রোজার শুরুতে রাস্তায় ঢাকঢোল বাজিয়ে মুসলমানেরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ ছাড়া সাহরির আগে মুসলমানদের ঘুম থেকে জাগাতে ঢোল পিটিয়ে এবং ইসলামি গান গেয়ে রোজা রাখার আহ্বান জানানো হয়। 

কেনিয়ায় রমজানের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে অন্যতম মাছ বা মুরগির সঙ্গে নারকেল দিয়ে রান্না করা ভাত। আরেকটি খাবার বেশ জনপ্রিয়— এটি টমেটো ও পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করা বাঁধাকপি, যা ‘সোকোমা’ নামে পরিচিত। 

সাধারণত, এই খাবারগুলো কেনিয়ায় চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ফজরের আগে প্রত্যেকে পরের দিন রোজা রাখার প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল ও পানির বোতল নিয়ে মসজিদে জড়ো হন।

সোমালিয়া

রমজানের চাঁদ দেখার জন্য উচ্ছ্বাসমুখর পরিবেশে দল বেঁধে তারা খোলা স্থানে অবস্থান করেন। সে দেশের নিয়ম হলো প্রতিটি এলাকায় চাদ দেখতে হবে। অন্য এলাকার চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করলে হবে না। তারা প্রতিদিন মাগরিবের পর উচ্চ গলায় পরদিন রোজার নিয়ত করেন এবং এটা বেশ উল্লাসের সঙ্গে করেন।

সোমালিয়ানরা দরিদ্র হলেও রোজার মাসে আভিজাত্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন ইফতার, সাহ্‌রি ও তারাবিহতে। ইফতারের পর আর কোনো খাবার গ্রহণ করেন না। তাদের ইফতারের টেবিলে সাধারণত উটের গোশত ও দুধ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদ থাকে। আর সাথে খেজুর, সমুচা, শরবত তো আছেই। তাদের একটি বিখ্যাত খাবার ওটকা। যা মূলত উটের গোশতের শুঁটকি। এটিও ইফতারের টেবিলে সাজানো থাকে।

সোমালিয়ানদের ইফতার

আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেছি, তবে কিছু সাধারণ ঐতিহ্য সব দেশেই পাওয়া যায়। যেমন- রমজান হলো উদারতা ও সহমর্মিতার মাস। তাই এই মাসে মানুষ দান-সদকা করে, দরিদ্রদের জন্য খাবার রান্না করে। এই মাস পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনন্য সুযোগ। সবাই একত্রিত হয় ইফতারের জন্য, এরপর একসঙ্গে নামাজ আদায় করে, খেলাধুলা করে এবং গল্পগুজব করে সময় কাটায়। রমজান মাসে বিশেষভাবে আদায় করা হয় তারাবির নামাজ, যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও পরিবারকে আরও কাছে পাওয়ার এক অপূর্ব সময়।

 তথ্যসুত্রঃ

Related posts

ইসলামের আগমনের পূর্বে কেমন ছিলো আরব?

রহস্যময় আধ্যাত্মিক চরিত্র ও অমরত্বের প্রতীক খিজির (আঃ)

ফাবিহা বিনতে হক

লোকমান (আ.) এর গুপ্ত জ্ঞান ও রহস্যময় ক্ষমতার গল্প

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More