Image default
ঘটমান বর্তমান

লন্ডনের ট্রাফিক ব্যাবস্থা থেকে বাংলাদেশ কি শিখতে পারবে?

ভাবুন, সকাল ৮টায় অফিসের জন্য বের হয়েছেন। রাস্তায় বেরিয়েই যানজটে আটকা; সময় গড়ায়; ঘড়ির কাঁটা ১০টা ছুঁই ছুঁই। মাথায় রাগ, বিরক্তি আর হতাশা। অফিস পৌঁছানোর আগেই মাথা গরম! এটাই কি আমাদের শহুরে জীবনের বাস্তবতা হয়ে থাকবে? 

যানজট, শহরের জীবনের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। বিশ্বজুড়ে এটি এখন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। বর্তমানে বাংলাদেশের শহরগুলোতে যানজট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন এই সমস্যায় ভোগে। সংকীর্ণ রাস্তা, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের দুর্বলতা, আর মানুষজনের সচেতনতার অভাব; এই সবকিছুই যানজটের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তবে, এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। অনেক শহর এটা প্রমাণ করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের “ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL)” মডেল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। লন্ডনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে TfL অসাধারণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা যানজটকে ঘিরে আধুনিক পরিকল্পনা করেছে; প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর ফলে কমে এসেছে যানজট।

তাহলে প্রশ্ন উঠে, আমাদের শহরও কি বদলে যেতে পারে? হয়তো একদিন ঢাকাও হবে যানজট মুক্ত। আর সেই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে, আমরা কি শিখতে পারি লন্ডনের এই মডেল থেকে?

যানজট কি আর কেন হয়?

যানজট কি

যানজট (Traffic Congestion) বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায়, যখন রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন গাড়িগুলি ধীর গতিতে চলে বা একেবারে থেমে যায়। এটি সাধারণত শহরাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। কারণ, শহরে রাস্তার তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। 

কেন যানজট হয়?

অতিরিক্ত যানবাহন ও অপ্রতুল সড়ক পরিকাঠামো

বিশ্বব্যাপী অনেক শহরে যানবাহনের সংখ্যা সড়কের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। বিশ্বব্যাপী সড়কগুলো প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২০০০-২৫০০ যানবাহন বহনের জন্য তৈরি। তবে, যানবাহনের এই চাপ প্রায় ৪০০০-৫০০০ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের একটি সমীক্ষা বলছে, ৫০টির বেশি প্রধান শহরে যানবাহনের গড় গতি ১৫-২০ কিমি/ঘণ্টায় নেমে এসেছে। 

গণপরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা

গণপরিবহনের মানহীন অবস্থা মানুষকে ব্যক্তিগত যানবাহনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উন্নয়নশীল শহরগুলোতে মোট ট্রাফিকের ৭০%-৮০% ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরবাইকের জন্য হয়। সিঙ্গাপুর বা জাপানের মতো শহরে উন্নত গণপরিবহন ব্যাবহারের জন্য যানজট অনেক কম। এই শহরগুলোতে গণপরিবহন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮০%।

অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা

শহরগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণের সাথে সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় সংকীর্ণ ও অপর্যাপ্ত সড়ক ব্যবস্থার কারণে যানজট বেড়ে চলেছে। উন্নয়নশীল শহরগুলোতে মোট সড়ক এলাকার পরিমাণ, শহরের মোট জমির ১০%-১৫%। যেখানে আদর্শ হিসেবে এটি হওয়া উচিত ২৫%-৩০%।

ট্রাফিক আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব

বেপরোয়া গাড়ি চালানো, সিগন্যাল ভঙ্গ করা এবং যত্রতত্র পার্কিং যানজটের অন্যতম কারণ। শহরাঞ্চলের যানজটের ৩০%-৩৫% সমস্যা সিগন্যাল ভঙ্গ এবং রাস্তায় অযথা পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্টি হয়। 

ডিজিটালাইজেশনের অভাব ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা

কিছু শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। বিশ্বব্যাপী উন্নত শহরগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রায় ২০%-৩০% পর্যন্ত যানজট কমাতে সক্ষম হয়েছে। অথচ, উন্নয়নশীল দেশের শহরগুলোর প্রায় ৮০% ট্রাফিক সিগন্যাল পুরোনো বা অকার্যকর।

বাংলাদেশের যানজট পরিস্থিতি: 

বাংলাদেশের যানজট পরিস্থিতি

বাংলাদেশের যানজট সমস্যা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার। যানজটের কারণে ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩.২ মিলিয়ন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ২০২৪ সালে যানজটের কারণে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন​।

বাংলাদেশে যানজটের কারণসমূহ

অপরিকল্পিত নগরায়ণ

অপরিকল্পিত নগর উন্নয়ন এবং সঠিক সড়ক ব্যবস্থাপনার অভাবে ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো যানবাহনের চাপ সামলাতে পারছে না। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত দেড় মাসেই ৬ থেকে ৭ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ঢাকার রাস্তায় নেমেছে। এর কারণে যানজট আরও বেড়েছে​।

গণপরিবহনের অভাব

ঢাকায় ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যাবস্থা না থাকায় সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যবহার বাড়ছে। যা চলাচলকে আরও ধীরগতি করে তুলছে​। ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় জ্বালানি অপচয়ও বেড়ে যাচ্ছে। 

অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অব্যবস্থাপনা এবং অপর্যাপ্ত পার্কিং এর কারণে ছোট এবং বড় ইন্টারসেকশনে নিয়মিত জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। বুয়েটের সুপারিশ অনুযায়ী, সিগন্যাল সময়সীমা ও মোড়ে পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে​।

বিভিন্ন দেশের যানজট নিরসনের পদক্ষেপ

সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

সিঙ্গাপুরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিশ্বজুড়ে পরিচিত।  আধুনিক প্রযুক্তি, নিয়মকানুন এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা যানজট কমাতে সফল হয়েছে।

ইলেকট্রনিক রোড প্রাইসিং (ERP)

ইলেকট্রনিক রোড প্রাইসিং (ERP) হলো একটি স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থা। এটি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক ব্যবহারের পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার হয়। সিঙ্গাপুরের ইলেকট্রনিক রোড প্রাইসিং (ERP) ব্যবস্থা ১৯৯৮ সালে চালু হয়। এটি প্রতিদিন প্রায় ৭,২০,০০০ যানবাহন পরিচালনা করে। ইলেকট্রনিক রোড প্রাইসিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে যানজট প্রায় ২০% কমানো সম্ভব হয়েছে। ERP এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) প্রযুক্তি ব্যবহার করে যানবাহন থেকে টোল সংগ্রহ করা হয়। মজার বিষয় হল, যানজট বেশি হলে টোলের হার বেড়ে যায়, আর যানজট কম হলে তা কমে। 

জনপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন

২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের মেট্রো রেল (MRT) ব্যবস্থায় প্রতিদিন ৩.৫ মিলিয়নের বেশি যাত্রী যাতায়াত করে। উন্নত বাস নেটওয়ার্ক এবং মেট্রোর কারণে ৬৭% নাগরিক তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে। যা যানজট কমাতে সাহায্য করছে।

শেয়ার্ড মবিলিটি (Shared Mobility)

শেয়ার্ড মবিলিটি (Shared Mobility) হলো একাধিক ব্যক্তির মধ্যে যানবাহন বা যাতায়াতের সেবা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করার পদ্ধতি। সিঙ্গাপুরে শেয়ার্ড মবিলিটি দ্রুত বেড়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে “Grab” এবং “Gojek” এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবহার ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমেছে আর যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। 

জাপান

জাপানের ট্রাফিক ব্যবস্থা

জাপানের ট্রাফিক ব্যবস্থা বিশ্বে সবথেকে পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা। দেশটির সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল। উন্নত প্রযুক্তি ও আইন মেনে চলার মানসিকতা জাপানে যানজট অনেক কমিয়ে দিয়েছে।

পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অভাবনীয় উন্নয়ন

জাপানের শিনকানসেন (বুলেট ট্রেন) প্রতি ঘণ্টায় ৩২০ কিমি গতিতে চলতে সক্ষম। এই ট্রেন দিনে প্রায় ৪০০,০০০ যাত্রী পরিবহন করে। টোকিওর মতো বড় শহরে রেল ব্যবস্থায় প্রতিদিন ৯ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করে। এর ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির উপর নির্ভরশীলতা অনেক কমে গিয়েছে।

‘স্মার্ট সিটি’ ধারণা

২০২২ সালে টোকিওতে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্পের আওতায় ১০০টিরও বেশি স্মার্ট ট্রাফিক সিগনাল স্থাপন করা হয়। এই ব্যাবস্থা রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহার করে যানবাহনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে ট্রাফিকের গতি প্রায় ১২% বৃদ্ধি পায় এবং যানজটের সময়সীমা ১৫% কমে যায়।

ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে অটোমেশনের ব্যবহার

জাপানে AI এবং IoT প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্ঘটনার হার ২৫% কমে এসেছে।

নেদারল্যান্ডস

পরিবেশবান্ধব এবং সাইকেল-ভিত্তিক দেশ নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডস পরিবেশবান্ধব এবং সাইকেল-ভিত্তিক শহর পরিকল্পনার জন্য বিখ্যাত।

সাইকেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব

নেদারল্যান্ডসে প্রায় ২৩ মিলিয়ন সাইকেল রয়েছে, যেখানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭.৫ মিলিয়ন। আমস্টারডামে প্রতিদিন ৫০% যাত্রী সাইকেল ব্যবহার করেন। এর ফলে সড়কগুলোতে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। 

গ্রীন ট্রান্সপোর্ট পলিসি

নেদারল্যান্ডস ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ ১,০০,০০০ বৈদ্যুতিক গাড়ি রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা ট্রাফিকের পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

কম গাড়ি নির্ভর নগর ব্যবস্থাপনা

নেদারল্যান্ডসের শহরগুলোর কেন্দ্রীয় এলাকায় গাড়ি প্রবেশ নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে নগর এলাকাগুলোতে সাইক্লিং এবং হেঁটে চলাচল ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL): যানজট নিরসনে এক সফল মডেল

ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন মডেল

যানজট সমস্যার সমাধানে বিশ্বের বিভিন্ন শহর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে লন্ডনের ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL) মডেল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। লন্ডনের জন্য যানজট ছিল দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা। ১৯৯০-এর দশকে শহরের যানবাহনের গড় গতি ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এই অচলাবস্থার কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। কার্বন নিঃসরণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল।   এছাড়াও শহরের পরিবহন ব্যবস্থা ছিল বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভক্ত।

এইসব থেকে মুক্তি পেতে ২০০০ সালে গড়ে ওঠে Transport for London (TfL)। এই সংস্থাকে লন্ডনের যাবতীয় পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। TfL এখন লন্ডনের বাস, ট্রেন, ট্রাম, ট্যাক্সি এবং এমনকি সাইকেল শেয়ারিং সিস্টেম পরিচালনা করে। এই একীভূত ব্যবস্থা মানুষের যাতায়াতকে অনেক সহজ এবং সুবিধাজনক করেছে। 

TfL-এর প্রধান সেবা

লন্ডনের সাবওয়ে (London Underground)

লন্ডনের সাবওয়ে

লন্ডনের সাবওয়ে বা “টিউব” শহরের সবচেয়ে পুরনো এবং জনপ্রিয় ট্রেন সার্ভিস। এটি ১৮৬৩ সালে শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এই টিউব ১১টি লাইন এবং ২৭৫টি স্টেশনের মাধ্যমে লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করে। প্রতিদিন ৫ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী এই  সাবওয়ে ব্যবহার করে। শহরের ব্যস্ততম সময়গুলোতে এটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। Oyster Card বা Contactless payment পদ্ধতির মাধ্যমে সহজে ভাড়া পরিশোধ করা যায়।   

বাস সেবা

লন্ডনের বাস সেবা

লন্ডনের বাস সেবা Transport for London (TfL)-এর অধীনে পরিচালিত হয়। এটি ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ গণপরিবহন নেটওয়ার্ক। প্রতিদিন প্রায় ৮,৭৭৬টি বাস শহরের ৬৭০টিরও বেশি রুটে চলাচল করে। লন্ডনের রাস্তায় চলা বাসগুলো সাধারণত চারটি রঙে সজ্জিত থাকে। রঙগুলো হল লাল, সাদা, সিলভার এবং সবুজ। 

লাল রঙের ঐতিহ্যবাহী ডাবল ডেকার বাস শহরের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। সবুজ বাসের সাধারণত নির্দিষ্ট গ্রিন রুট বা বিশেষ পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। সাদা রঙের বাসগুলো সাধারণত বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। যেমন, স্কুল বাস, পর্যটকদের জন্য শাটল সার্ভিস, বা কর্পোরেট ইভেন্টের জন্য চার্টার বাস। আর সিলভার বাসগুলো সাধারণত প্রিমিয়াম সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হয় বা কোনো বিশেষ ইভেন্ট বা উৎসবের সময় চালু করা হয়। 

ট্যাক্সি সেবা

লন্ডনের ট্যাক্সি সেবা

TfL এর অধীনে ব্ল্যাক ক্যাব ট্যাক্সি সেবাও পরিচালিত হয়। এই ট্যাক্সি লন্ডনের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ট্যাক্সিগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এদের আয়তন এবং যাত্রী ধারণ ক্ষমতা। প্রতিটি ব্ল্যাক ক্যাব সাধারণত একসঙ্গে ৫-৬ জন যাত্রী বহন করতে পারে। 

এই ট্যাক্সি সেবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ। “দ্য নলেজ” নামে একটি কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে চালকদের যেতে হয়। এই পরীক্ষার জন্য চালকদের লন্ডনের প্রায় ২৫,০০০ রাস্তা এবং অসংখ্য ল্যান্ডমার্কের জ্ঞান অর্জন করতে হয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া চালকরাই এই ট্যাক্সি চালাতে পারে। এই কারণে তারা যানজট এড়িয়ে যাত্রীদের দ্রুত এবং নির্ভুল গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে। এর ফলাফল হলো, অত্যন্ত পেশাদার এবং দক্ষ ট্যাক্সি সেবা।

সাইকেল শেয়ারিং

লন্ডনের সাইকেল শেয়ারিং

লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব সেবা যোগ করতে Santander Cycles সেবা চালু করা হয়েছে। যা বর্তমানে শহরের বাসিন্দাদের এবং পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় এবং কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি একটি সাইকেল শেয়ারিং সিস্টেম। এই সেবা শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। 

যেখানে একসময় দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকতে হতো, সেখানে এখন সাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত যাতায়াত করা সম্ভব হয়েছে। এতে করে শহরের প্রধান সড়কগুলোর উপর চাপ কমেছে । নির্দিষ্ট স্থান থেকে সাইকেল নেওয়া যায় এবং একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তা ফেরত দেওয়া হয়। এটি যাতায়াতের খরচ কমানোর পাশাপাশি শহরের মধ্যে চলাচলকেও সহজ করে তুলেছে।

নতুন প্রযুক্তি এবং স্মার্ট সেবা

লন্ডনের নতুন প্রযুক্তি এবং স্মার্ট সেবা

নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং স্মার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে TfL আরও উন্নত সেবা প্রদান করছে। Oyster Card এবং Contactless payment পদ্ধতির মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের ভাড়া দ্রুত ও সহজভাবে পরিশোধ করতে পারেন। এছাড়াও, TfL বর্তমানে শহরের বিভিন্ন জায়গায় স্মার্ট বাস স্টপ, Real-time information systems ব্যবহার করছে। যা যাত্রীদের আসন্ন বাস বা ট্রেনের সময়সূচী জানিয়ে দেয়। এই সমস্ত প্রযুক্তি শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং যাত্রীবান্ধব করেছে।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সবুজ এবং পরিবেশবান্ধব করতে TfL কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ইলেকট্রিক বাস, সোলার-পাওয়ার্ড স্টেশন এবং সাইকেল শেয়ারিং সিস্টেম এর মতো নতুন উদ্যোগ পরিবেশের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগগুলো শহরের বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করছে। ২০১৯ সালে চালু হওয়া Ultra Low Emission Zone (ULEZ) পদ্ধতি অনুযায়ী, দূষণকারী যানবাহনকে লন্ডনের নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয়।

একইসঙ্গে, TfL হাঁটা ও সাইক্লিংয়ের জন্য নতুন ট্র্যাক তৈরির মাধ্যমে নগরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো পরিবেশবান্ধব করেছে। TfL শহরের নিরাপত্তা ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলেছে।

পর্যটকদের জন্য TfL সেবা

লন্ডনে পর্যটকদের জন্য TfL-এর সেবা খুবই উপকারী। পর্যটকরা Travelcard ব্যবহার করতে পারেন। Visitor Oyster Card সিস্টেমের মাধ্যমে তারা শহরের প্রায় সব জায়গায় ভ্রমণ করতে পারেন। এই কার্ডটি পর্যটকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থা আরও উন্নত করার জন্য TfL ভবিষ্যতে নতুন কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এতে Autonomous Vehicles, Electric Bus Fleet Expansion, Sustainable Public Transport Solutions, এবং Smart City Initiatives অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব সেবা বাড়ানোর মাধ্যমে শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও টেকসই করা হবে।

বাংলাদেশের যানজট পরিস্থিতি: চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ

ঢাকা শহরের যানজট


ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এই শহর যানজট সমস্যায় জর্জরিত। প্রতি বছর যানজটের কারণে আর্থিক ক্ষতি এবং সময়ের অপচয় আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য হুমকি। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে যানজটের কারণে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়। নিচে এই সমস্যার চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানের সম্ভাব্য সুযোগগুলো বিশ্লেষণ করা হলো।

চ্যালেঞ্জ

ঢাকা শহরের যানজটের প্রকৃতি

ঢাকার যানজট কিছু নির্দিস্ট সময়ে অনেক বেড়ে যায়। সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে যায়। প্রতিদিন ঢাকার সড়কে প্রায় ৩৭ লক্ষ যানবাহন চলাচল করে। ঢাকায় সড়ক ব্যবস্থা মোট যানবাহনের তুলনায় মাত্র ৭%

অবকাঠামোগত সমস্যা

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। সড়কের মোট দৈর্ঘ্য নগরীর চাহিদার তুলনায় খুবই কম। আর্টেরিয়াল রোড, বাইপাস বা সংযোগ সড়কগুলোও পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া সড়ক দখল, অযথা খোঁড়াখুঁড়ি এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

অপ্রতুল গণপরিবহন

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনও অত্যন্ত দুর্বল। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকার মোট পরিবহনের ৪২% ব্যক্তিগত যানবাহন। মানসম্পন্ন এবং সময়নিষ্ঠ পরিবহন না থাকায় মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি বা রিকশার উপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ঘাটতি

ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঢাকায় অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ার মতো। প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রায় ৬,০০০ জন। যার একটি বড় অংশ ট্রাফিক আইন না মানার কারণে ঘটে। ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এই সমস্যাকে তীব্র করে তোলে।

অতি জনসংখ্যার চাপ

ঢাকা পৃথিবীর ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি।  এখানে প্রায় ২ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ সড়ক ব্যবহার করে। জনসংখ্যার এই অতিরিক্ত চাপ নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছে।

সুযোগ

ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা

বর্তমানে মেট্রোরেল প্রকল্প এবং বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (BRT) ব্যবস্থা ঢাকার যানজট সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, মেট্রোরেল চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৩,৬০,০০০ মানুষ এটি ব্যবহার করে।

স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার যানজট নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, CCTV ক্যামেরা, রিয়েল-টাইম ট্রাফিক অ্যাপস, এবং স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব। স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যানবাহনের গতি ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।

যানবাহনের বিকল্প উপায়

সাইকেল লেন এবং ওয়াকিং ফ্রেন্ডলি রাস্তা তৈরি করলে তা মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ির উপর নির্ভরশীলতা কমাতে উৎসাহিত হবে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার ৭০% মানুষ ৫ কিলোমিটারের কম দূরত্বে যাতায়াত করে। যা সাইকেল ব্যাবহারের জন্য উপযুক্ত।

বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় দিক

ঢাকা শহরের রাস্তা

বাংলাদেশের শহরে যানজট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। TFL (Transport for London)-এর মতো একটি উন্নত মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মডেল তৈরি করতে হবে। এখানে রিকশার মতো জনপ্রিয় স্থানীয় যানবাহন এবং বিদ্যমান MRT পাসের অন্তর্ভুক্তি, পরিবহন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্রতিষ্ঠার মতো পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা

শহরের পরিবহন ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিভিন্ন পরিবহনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। লন্ডনের মতো একটি কেন্দ্রীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা গেলে এটি সহজেই সমাধান করা সম্ভব। এই কর্তৃপক্ষ শহরের সব ধরণের পরিবহন, যেমন বাস, ট্রেন, মেট্রো, রিকশা এবং সাইকেল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে। তারা রুট পরিকল্পনা করবে, যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ করবে এবং প্রতিটি সেক্টরের কার্যক্রম মনিটরিং করবে। 

এভাবে একটি সংযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। যেখানে MRT এবং বাস টার্মিনালের সঙ্গে রিকশা স্টপেজ যুক্ত থাকতে পারে। এতে করে যাত্রীরা সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ছোট বাস টার্মিনাল ও রিকশা স্টপেজ তৈরি করে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত করা যাবে।

রিকশার জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা

রিকশা বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এটি যানজট সৃষ্টি করার অন্যতম কারণ। তাই রিকশার কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। প্রতিটি রিকশা এবং চালকের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষণ করে তাদের চলাচল রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট লেন তৈরি করে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। 

সমন্বিত পাস চালু

এছাড়া, বর্তমানে বিদ্যমান MRT পাসকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি সমন্বিত পাস তৈরি করা হলে এটি বাস, ট্রেন, মেট্রো এবং এমনকি রিকশার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে; ঠিক লন্ডনের Oyster Card-এর মতো। এই কার্ডটি যাত্রীদের বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করবে। এর ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমে যাবে। 

কনজেশন চার্জ 

একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে কনজেশন চার্জ চালু করা। লন্ডনে যেভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় যানবাহন প্রবেশে অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়, সেভাবে ঢাকায় এই পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এটি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টের দিকে মানুষকে আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে।

অধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

অধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আরও উন্নতি সম্ভব। ট্রাফিক সিগনাল, রাস্তার যানবাহনের গতি এবং যানজটের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে AI এবং Big Data-এর ব্যবহার বড় ভূমিকা রাখতে পারে। রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহার করে বিকল্প রুটে নির্ধারণ বা সিগনালের সময়সূচী অপটিমাইজ করা গেলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।

সর্বশেষে, একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপ তৈরি করা গেলে যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ হয়ে যাবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা বাস, ট্রেন, মেট্রো এবং রিকশার রিয়েল-টাইম অবস্থান জানতে পারবেন। এছাড়া, এটি বিকল্প রুট দেখাবে, ট্রাফিক আপডেট দেবে এবং টিকেট বুকিংয়ের সুবিধা দেবে।

TFL-এর মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে একটি কার্যকর, সমন্বিত এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

উপসংহার

যানজটের সমস্যার সমাধান একেবারেই অসম্ভব নয়। লন্ডন, সিঙ্গাপুর এবং জাপানের উদাহরণ আমাদের দেখায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে যানজটমুক্ত শহর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই শহরগুলোর সফলতা আমাদের শেখায় যে, সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে আমরা আমাদের শহরগুলোকেও যানজটমুক্ত এবং বাসযোগ্য করে তুলতে পারি। এতে শহরের উন্নয়ন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।

রেফারেন্স লিঙ্কঃ

Related posts

হুতি – অধিকারের লড়াই নাকি সন্ত্রাসবাদ?

আবু সালেহ পিয়ার

USAID ও ট্রাম্প-মাস্কের যত পাঁয়তারা

ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত দল কী জনপ্রিয় হয়ে উঠবে?

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More