কথায় বলে – “কোনো দেশকে ভালো বুঝতে হলে অবশ্যই তার রাজধানীতে যেতে হবে”। কথাটি ওয়াশিংটন ডিসির সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। কারণ, ওয়াশিংটন ডিসি তার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে এতটাই সমৃদ্ধ যে এটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
আমেরিকার রাজধানীর প্রাচীন নাম ছিলো ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া’। বর্তমানে এটি ওয়াশিংটন ডিসি নামে পরিচিত। ডিসি মূলত এর পূর্ব নাম ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া’র সংক্ষিপ্ত রূপ। মেরিল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়া স্টেট’র কিছু অংশ নিয়ে ১৭৯০ সালে আমেরিকার প্রথম রাজধানী ‘ফিলাডেলফিয়া’ কে ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানান্তর করা হয়।
দেশ | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
অঞ্চল/রাজ্য | ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া |
আয়তন | ১৭৭ বর্গকিমি (৬৮.৩ বর্গমাইল) |
জনসংখ্যা | ৫,৯৯,৬৫৭ জন |
সরকারি ভাষা | ইংরেজি |
প্রধান মুদ্রা | ইউ এস ডলার |
সময় অঞ্চল | ইউটিসি -৫
ইউটিসি -৪ |
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর |
ওয়াশিংটন ডিসির জনসংখ্যা এবং আয়তন
ওয়াশিংটন ডিসি, একটি শান্ত এবং কোলাহলমুক্ত শহর, যার আয়তন মাত্র ৬৮ বর্গমাইল বা ১৭৭ বর্গকিলোমিটার। এই শহরটি একটি বিশাল জনবহুল অঞ্চল এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী ও শিক্ষিত মেট্রোপলিটন এলাকা।
২০২৩ সালে, ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৩ লক্ষ্য ৪ হাজার ৯৭৫ জন । এটি যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম সর্বাধিক জনবহুল মেট্রোপলিটন এলাকা।
ওয়াশিংটন ডিসিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। এর প্রধান জাতিগোষ্ঠী গুলো হল- আফ্রিকান আমেরিকান বা কালো (৪৩.৫%), সাদা (৩৬.৩%), হিস্পানিক (৪.০৫%), এশীয় (অহিস্পানিক) (৩.৯৫%), এবং দুই বা ততোধিক জাতিগোষ্ঠী (অহিস্পানিক) (৩.৯৪%)।
এছাড়া, সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে আশেপাশের শহরতলির বাসিন্দারা ডিসিতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করে। এর ফলে ফলে শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৭১.৮% বৃদ্ধি পায়, যা শহরের জীবনের গতিকে আরও গতিশীল করে তোলে।
ম্যাপ
ওয়াশিংটন ডিসির ইতিহাস
ওয়াশিংটন ডিসি ১৭৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই এটি একটি ঐতিহাসিক শহর ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম চালানোর মতো একটি উপযুক্ত কেন্দ্রীয় স্থানও ছিল বটে।
একটি প্রতিষ্ঠিত জেলা
পোটোম্যাক নদীর তীরে অবস্থিত, ওয়াশিংটন ডিসি একটি রাজ্যই নয়, বরং এটি সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ অঞ্চল। ওয়াশিংটন ডিসি ভার্জিনিয়ার আরলিংটন ও আলেক্সান্দ্রিয়া এবং মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি ও প্রিন্স জর্জেস কাউন্টির সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার সময় মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া রাজ্য এই জেলার জন্য জমি দান করেছিল।
প্রারম্ভ
প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন, ওয়াশিংটন ডিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। অঞ্চলটি মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার প্রদত্ত ছোট ছোট জমি নিয়ে গঠিত হয়। এ শহরের পরিকল্পনা করেছিলেন ফরাসি স্থপতি ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পিয়ের চার্লস লেনফাঁ। লেনফাঁ শহরটিকে প্যারিসের আদলে গড়তে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ওয়াশিংটন ডিসিও যাতে প্যারিসের মতোই বড় এবং জাঁকজমকে পরিপূর্ণ স্থান হয়ে ওঠে।
বড় যুদ্ধ
ডিসি প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসি শহরটি বৃটেনের সেনাবাহিনী দ্বারা অধিগৃহীত হয়। শহরে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এ যুদ্ধে শত্রুবাহিনীর হাতে শহরটি প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। ১৮১২ সালের এ যুদ্ধে ব্রিটেনের সেনাবাহিনী শহরের একটি বড় অংশে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় সদ্য নির্মিত হোয়াইট হাউস, মার্কিন ক্যাপিটল বিল্ডিং এবং লাইব্রেরি অব কংগ্রেস পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মুক্তি সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র
ওয়াশিংটন ডিসি দ্রুতই মুক্তির ঘোষণাপত্র (ইম্যান্সিপেশন প্রোক্লেমেশন) গ্রহণ করেছিল, যার মাধ্যমে সেখানে দাসপ্রথার অবসান ঘটে। এর ফলে, গৃহযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের জন্য এই শহরটি একটি অনানুষ্ঠানিক কেন্দ্র বা আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। অনেক মুক্তদাস স্বাধীন জীবনযাপনের আশায় এখানে বসবাস শুরু করেন। একই সঙ্গে, দাসপ্রথা-বিরোধী নেতা ফ্রেডেরিক ডগলাসও ওয়াশিংটনে বসবাস শুরু করেন, যা আফ্রিকান আমেরিকানদের শহরটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসে আরও অনুপ্রাণিত করে। এভাবে, ওয়াশিংটন ডিসির আফ্রিকান আমেরিকান জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, এবং শহরটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
সিটি বিউটিফুল আন্দোলন
১৮১২ সালের যুদ্ধ এবং গৃহযুদ্ধের পর, ওয়াশিংটন ডিসি জর্জটাউন এবং লেনফাঁর মূল নকশার সীমানার বাইরের বেশ কিছু এলাকা শোষণ করার মাধ্যমে সম্প্রসারিত করে। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে, ডিসি সিটি বিউটিফুল আন্দোলনের অংশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের শহরের পুনর্গঠন প্রকল্প শুরু করে। ক্যাপিটল এবং হোয়াইট হাউসের চারপাশে এবং ডাউনটাউনের আশেপাশে নতুন নতুন এলাকা বিকশিত হয়। স্ট্রিটকার লাইনগুলোর সম্প্রসারণ শহরটিকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন
১৯৬৮ সালে এসে ডিসি শহরটিতে আবারও সহিংসতা দেখা দেয়। এর কারণ ছিল ৪ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে নাগরিক অধিকার নেতা ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এর হত্যাকাণ্ড। এ সময় শহরজুড়ে তীব্র আন্দোলন দানা বাধে এবং আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। আগুনে বহু ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। তিন দিন ধরে এ সহিংসতা চলতে থাকে। পরবর্তীতে ফেডারেল বাহিনীর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এ বিশাল নাগরিক আন্দোলন শিথিল হয়।
হোম রুল অ্যাক্ট
১৯৭৩ সালে কংগ্রেস হোম রুল অ্যাক্ট প্রণয়ন করে। এই এক্ট এর মাধ্যমে সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের অনুমতি দেওয়া হয়। এ অ্যাক্ট মূলত জেলা পরিচালনা করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ভোটাররা সিটি কাউন্সিলের জন্য একজন মেয়র এবং একজন সিটি কাউন্সিলর নির্বাচন করেন। ১৯৭৩ হোম রুল অ্যাক্ট দারা সর্বপ্রথম ওয়াল্টার ওয়াশিংটন মেয়র নির্বাচিত হন। একই সাথে তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত খাবার
ওয়াশিংটনস হাফ স্মোক
১৯৫০ এর দশকে ‘বেনস চিলি বোল’ নামক একটি রেস্তোরা থেকে ওয়াশিংটনের লোকাল সিগনেচার ফুড হাফ স্মোক সসেজ খাবারটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হাফ স্মোক মূলত অর্ধেক শূকর এবং অর্ধেক বিফ এর সংমিশ্রনে তৈরি একটি খাবার। চিলি সস, সরিষার তেল এবং পেঁয়াজ সহযোগে অত্যন্ত লোভনীয় রূপে এই খাবারটি পরিবেশন করা হয়।
পেটি প্রপার বার্গার
উচ্চমানের গরুর মাংস থেকে তৈরি রসালো পেটি প্রপার বার্গারের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও, এতে ব্যবহার করা হয় লাল পেঁয়াজ, সুইট চিলি সস, আরুগুলা, রসুন ইত্যাদি। স্পাইস সুইট এবং স্মোকের এক অনন্য মিশ্রণ প্রপার বার্গারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
চেসাপিক ঝিনুক
চেসাপিক ঝিনুক ওয়াশিংটন ডিসির এক অন্যতম খাবার আকর্ষণ। এগুলো আসলে এক ধরনের সামুদ্রিক ঝিনুক। সামুদ্রিক খাবারের মেজাজকে ঠান্ডা করতে এটি হতে পারে অন্যতম একটি অনুষঙ্গ।
চেসাপিক নীল কাঁকড়া
সুস্বাদু মাংস এবং সুমিষ্ট গন্ধের চেসাপিক নীল কাকড়া ওয়াশিংটনের বেশ জনপ্রিয় খাবার। মেরিল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী উপকূলীয় খাবারের থেকে মূলত এই খাবারটির উদ্ভব হয়েছে। সিদ্ধ করা কাঁকড়ার সাথে বিভিন্ন ঝাল মসলার মিশ্রণে এই খাবারটি প্রস্তুত করা হয়।
কিটফো
কিটফো মূলত একটি ঐতিহ্যবাহী ইথিওপিয়ান ঐতিহ্যবাহী খাবার। তবে কিটফো ওয়াশিংটনের খাদ্যপ্রেমীদের হৃদয়ে একটি গভীর স্থান দখল করে আছে। প্রচলিতভাবে কিটফো তৈরি হয় কাঁচা, পিষে নেওয়া গরুর মাংস দিয়ে। এর সাথে মসলা হিসেবে মিতমিতা (মশলাদার মরিচ গুঁড়ো) এবং নিতের কিব্বে (ঘি এবং মশলাযুক্ত মাখন) দিয়ে মেশানো হয়। এই ঐতিহ্যবাহী রেসিপিটি সাধারণত ইনজেরা (সৌর মিষ্টি রুটি) এবং আয়িবে (মৃদু পনির) দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
ডোনাটস
আমেরিকান মিষ্টান্ন হিসাবে ডোনাটস একটি সমৃদ্ধ খাবার। রিং আকারে, অথবা কেক-স্টাইলের ডোনাটস সাধারণত গ্লেজ, ফ্রস্টিং, অথবা স্প্রিঙ্কলস দিয়ে সজ্জিত থাকে।
এগুলোর পাশাপাশি ফ্রাইড চিকেন স্যান্ডউইচ, পিকিং ডাক, হট ডগ ওয়াশিংটন ডিসির নিত্যদিনের খাবারের তালিকাভুক্ত।
ওয়াশিংটন ডিসির নিদর্শনসমূহ
বিশালাকার রাস্তা আর বড় বড় দালান-কোঠা দিয়ে সুসজ্জিত। তবে এদের কোনটিই খুব একটা উঁচু নয়। প্রতিটি দালানের সাথে মার্কিনিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। ইউএসএ’র অন্যসব বড় বড় শহরে সব দালানগুলো বেড়েছে উপরের দিকে। কিন্তু, এই ওয়াশিংটন ডিসিতে সেটা বেড়েছে পাশের দিকে বা প্রস্থের দিকে। অত্যন্ত রুচিশীল আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাগুলোই বলে দেয় এই শহর বিশেষ একটা কিছু।
পেন্টাগন
ফ্লোর’র আয়তনে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অফিস পেন্টাগন। প্রায় আশিটি ফুটবল মাঠের সমান এবং পঁচিশ হাজারের বেশি মানুষ এখানে কাজ করে। আসলে পেন্টাগন নিজেই যেনো একটা ছোটো শহর।
ক্যাপিটাল হিল
ইউএস পার্লামেন্ট ভবনের নাম ক্যাপিটাল হিল। ক্যাপিটাল হিলের চারদিকেই প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। ক্যাপিটাল হিলে পর্যটকদের ঘুরে দেখার সুযোগ আছে।
লাইব্রেরি অব কংগ্রেস
ইউএস ক্যাপিটালের পাশেই রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি-‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’। এখানে রাখা আছে প্রায় আড়াই কোটি পুস্তক।
হোয়াইট হাউস
১৬০০ পেনসিলভ্যানিয়া অ্যাভিনিউ, ওয়াশিংটন ডিসি, এই ঠিকানা যে ত্রিতল বাড়িটির, তার নাম হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক বাসভবন। এই বাসভবনটি ১৭৯২ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে সব রাষ্ট্রপতিরই বাসভবন হয়ে ওঠে এটি, একমাত্র জর্জ ওয়াশিংটন ছাড়া, যিনি ছিলেন এর রূপকার।
১৮১২ সালে শুরু হয় ইংল্যান্ড-আমেরিকা যুদ্ধ। এই যুদ্ধ চলাকালে ১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ সেনাবাহিনী হোয়াইট হাউস দখল করে নেয়। সে সময় তারা পুরো ভবন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। নকশাকার জেমস হোবানের পরামর্শ নিয়ে আমেরিকানরা আবার সেই আগুনে পোড়া ভবনের সংস্কার কাজ শুরু করে।
ন্যাশনাল আর্কাইভ
ওয়াশিংটন ডিসির ঐহিত্যবাহী ভবন ন্যাশনাল আর্কাইভ। বিশাল ভবনের ভেতরে বাইরে শত শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। আছে লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, সুপ্রিম কোর্ট ভবন,পুরনো সিনেট চেম্বার ভবন, জাতীয় চিড়িয়াখানা, ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি, ন্যাশনাল অ্যায়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম, আর্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিল্ডিং, এস ডিলন রিপলে সেন্টার, স্মিতিসোনিয়ান ইন্সটিটিউশন বিল্ডিং, ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি, ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রি, ন্যাশনাল পোস্টাল মিউজিয়াম, জুডিশিয়ারি স্কোয়ার,ন্যাশনাল গ্যালারি অব আর্টস, আছে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টস, ন্যাশনাল অপেরা হাউস, ফোর্ড থিয়েটারসহ আরও কতো ঐহিত্যবাহী ভবন।
ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রি
ওয়াশিংটন ডিসিতে এক ডজনেরও বেশি জাদুঘর আছে। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রি, বড় জাদুঘরগুলোর মধ্যে একটি। এ যাদুঘরের সংগ্রহের মধ্যে আছে ৩ মিলিয়নেরও বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটির মোট আয়তন প্রায় ৭৫০,০০০ বর্গফুট।
মাদাম তুসো মিউজিয়াম
মাদাম তুসোর মিউজিয়ামে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মোমের তৈরি প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি। মার্কিন রাজধানী বলেই হয়তো মাদাম তুসোর এই শাখাটিতে মার্কিন রাষ্ট্রপতিদের আধিক্য। প্রত্যেকটি পুতুল বানানোর ক্ষেত্রে অবাক করার মত নৈপুণ্যের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় আসল মানুষ মনে করে ধাক্কা লাগবে বলে ভুল হলেও হতে পারে।
মহাকাশ জাদুঘর
ওয়াশিংটনে মহাকাশ জাদুঘর পরিদর্শন হতে পারে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক মার্কিন স্টিল্থ জঙ্গি বিমান পর্যন্ত অনেক কিছুর রেপ্লিকা রক্ষিত আছে এই জাদুঘরে।
ওয়াশিংটন মনুমেন্ট
এই স্মৃতিস্তম্ভটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিতে ১৮৮৪ সালে নির্মিত হয়। এর উচ্চতা ৫৫৫ ফুট। জর্জ ওয়াশিংটন’র মৃত্যুর পর ১০০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। দু’দফায় এটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। নির্মাণ শেষে এটি ছিলো তখনকার সময়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন। বর্তমানে এটি ওয়াশিংটন ডিসির সর্বোচ্চ ভবন এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ পাথর নির্মিত কাঠামো বলা হয় এই ভবনটিকে।
লিঙ্কন মেমোরিয়াল
আব্রাহাম লিঙ্কন, ইউএসএর সন্মানিত প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একজন। লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে মনোরম লেক আর খানিকটা দূরে সুউচ্চ ওয়াশিংটন মনুমেন্ট।
উপসংহার
ওয়াশিংটন ডিসি কেবল একটি শহর নয় বরং একে বলা যায় আমেরিকার আত্মা। এই শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের গল্প তুলে ধরে। শহরটির প্রতিটি স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর, এবং ঐতিহ্যবাহী ভবন যেন দেশের সংগ্রাম, ইতিহাস, সাফল্য এবং অগ্রগতির একেকটি অধ্যায়ের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
আরও কিছু মজার তথ্য
- আমেরিকার অন্যান্য স্টেটের তুলনায় ওয়াশিংটন ডিসির জনগণ সবথেকে বেশি ওয়াইন সেবন করে থাকে।
- বিশ্বের একমাত্র ইন্টারন্যাশনাল স্পাই মিউজিয়াম ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
- ওয়াশিংটন ডিসি রাস্তাগুলো সম্পর্কে একটি আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এর প্রতিটি রাস্তার গন্তব্য ই ক্যাপিটাল বিল্ডিং অভিমুখে।
- ওয়াশিংটন ডিসিতে ১৭০ টির ও বেশি দেশের এম্বাসি রয়েছে।
- ওয়াশিংটন ডিসি আমেরিকার একমাত্র শহর যেটি কোনো স্টেট এর অধিভুক্ত নয়।
- ১৬০ মিলিয়নেরও অধিক বইয়ের সংগ্রহকার লাইব্রেরী অফ কংগ্রেস ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
- ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়েছে আমেরিকার সব থেকে পুরাতন মাছের বাজার।