পেরুর নাজকা লাইন আসলে মহাজাগতিক প্রাণী অর্থাৎ এলিয়েনদের জন্য গোপন বার্তা।
প্রাচীন সভ্যতা, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের চাদরে মোড়ানো এক বিচিত্র দেশ পেরু। দেশটিতে একই সাথে রয়েছে জনমানবহীন মরুভূমি, সবুজ তৃণভূমি, বরফে ঢাকা পর্বতমালা এবং গহীন বনাঞ্চল। বিখ্যাত আন্দিজ পর্বতমালার অবস্থানও পেরুতে। সব থেকে মজার বিষয় হলো, পেরু প্রাচীন ইনকা সভ্যতার জন্মস্থান। আন্দিজের কোলে বেড়ে ওঠা ইনকা সভ্যতার আতুরঘর পেরু নিয়েই থাকছে আজকের গল্প।
রাজধানী | লিমা |
সরকারি ভাষা | স্প্যানিশ |
জনসংখ্যা | ৩ কোটি ৪৩লক্ষ ৩৯ হাজার ২০ জন |
মোট আয়তন | ১২ লক্ষ ৮৫ হাজার ২১৬ বর্গ কিলোমিটার |
মুদ্রা | নুয়েভো সল |
সময় অঞ্চল | ইউটিসি -৫ |
পেরুর ভৌগোলিক অবস্থান
পেরু প্রশান্ত মহাসাগরের মুখোমুখি দক্ষিণ আমেরিকার মধ্য পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। দেশটির পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে বলিভিয়া, পূর্বে ব্রাজিল এবং উত্তরে রয়েছে ইকুয়েডর ও কলম্বিয়া।
পেরুর ভৌগলিক অবস্থানে বেশ মজাদার বৈপরিত্য লক্ষ্য করা যায়। আর এই কারণেই একই দেশের মধ্যে রয়েছে মরুভূমি, সবুজ তৃণভূমি, বরফে ঢাকা পর্বতমালা, উচ্চ মালভূমি এবং গভীর উপত্যকা। ঠিক যেন একটি দেশের মধ্যে একই সাথে সহ-অবস্থান করছে অনেক কয়টি দেশ এবং তাদের আবহাওয়া।
ম্যাপ
পেরুর আয়তন ও জনসংখ্যা
পেরুর সরকারি নাম রিপাবলিক অফ পেরু। দেশটির রাজধানী শহর লিমা। ১২,৮৫,২২০ বর্গকিলেমিটার আয়তন নিয়ে পেরু বিশ্বে ১৯তম এবং দক্ষিণ আমেরিকার ৩য় বৃহত্তম দেশ।
পেরুর বর্তমান জনসংখ্যা ৩ কোটি ৪২ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৪৮ জন। পেরুর জনসংখ্যার বেশির ভাগই ইনকা আদিবাসী। তবে, এখানে আমেরিকান আদিবাসীরাও বসবাস করে।
পেরু রাষ্ট্রীয় ভাষা স্প্যানিশ। তবে, এখানকার বসবাসরত ইনকা আদিবাসীরা কেচুয়া এবং আইমারা ভাষায়ও কথা বলে থাকে। এবং এই তিনটি ভাষাই হলো পেরুর অফিসিয়াল ভাষা।
পেরুর ইতিহাস
পেরু নামটি একটি কেচুয়া ভাষার শব্দ। এর অর্থ ‘প্রাচুর্যের ভূমি’। অতীতে পেরু দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। শুধু দক্ষিণ আমেরিকার দেশ নয়, প্রাচীন মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে ইনকা সাম্রাজ্যের সোনালী যুগ, পর্তুগিজদের আগমন এবং আধুনিক পেরুর ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ।
প্রাগৈতিহাসিক যুগ: প্রাচীন মানুষের প্রথম আবাসস্থল
পেরুর ইতিহাসের শিকড় প্রাগৈতিহাসিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৩,০০০ বছর আগে প্রথম মানব বসতি স্থাপিত হয় এখানে।
কারাল সভ্যতা
বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর মধ্যে একটি হলো কারাল সভ্যতা। খ্রিষ্টপূর্ব ২৬০০ অব্দে পেরুর উপকূলে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সভ্যতার মানুষ কৃষিকাজে অত্যন্ত দক্ষ ছিল এবং তারা বেশ কিছু উন্নত স্থাপত্যও তৈরি করেছিল।
ইনকা সাম্রাজ্য: সোনালী যুগের শুরু
ইনকা সাম্রাজ্য ছিল পেরুর ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত অধ্যায়। চতুর্দশ শতাব্দীতে গড়ে ওঠা এই সাম্রাজ্যের গোড়া পতন শুরু হয় পেরুর কুসকো অঞ্চলে এবং দ্রুতই ইকুয়েডর থেকে চিলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ইনকাদের অধীনে পেরু একটি বিশাল এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছিলো, যেখানে প্রায় ১ কোটি মানুষ বসবাস করত। মানব সভ্যতার বিষ্ময় মাচুপিচু নামক প্রাচীন শহরটি ইনকা সাম্রাজ্যেরই প্রতীক।
ঔপনিবেশিক যুগ: স্পেনীয় শাসনের আমল
১৫৩২ সালে স্পেনের বিজেতা ফ্রান্সিসকো পিজারোর নেতৃত্বে স্পেনীয়রা পেরুতে আসে এবং ইনকা সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
পিজারোর অভিযান
পিজারো মাত্র ১৬৮ জন সৈন্য নিয়ে ইনকাদের বিশাল সাম্রাজ্য দখল করেন। এই সময় ইনকাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও তাদের পতনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। ইনকা সম্রাট আটাহুয়ালপাকে বন্দী করে পিজারো বিশাল মুক্তিপণ দাবি করেন, তবে মুক্তিপণ পাওয়ার পরেও সম্রাটকে হত্যা করা হয়।
এসময় স্পেনীয় শাসকরা পেরুর স্বর্ণের খনি থেকে বিপুল সম্পদ আহরণ করেন এবং ইনকা মন্দির, প্যালেস এবং স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করে চার্চ এবং ঔপনিবেশিক স্থাপত্য নির্মাণ করেন।
স্বাধীনতা এবং বর্তমান পেরু
১৮২১ সালে, হোসে দে সান মার্টিন ও সিমন বলিভারের নেতৃত্বে পেরু স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুরু করে এবং স্বাধীনতা অর্জন করে।
স্বাধীনতা আন্দোলন
পেরুর স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল দীর্ঘ এবং কঠিন। শেষ পর্যন্ত স্পেনীয়দের হাত থেকে মুক্তি পেতে পেরুকে কষ্টকর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ১৮২৪ সালে, আইয়াকোচোর যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে পেরু স্বাধীনতা অর্জন করে।
পেরুর জাতীয় পতাকায় একটি লাল, সাদা, এবং লাল স্ট্রিপ আছে, যা স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং সাহসের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত।
পেরুর সংস্কৃতি
ইনকা সভ্যতা
পৃথিবী জুড়ে ইনকা সভ্যতা নিয়ে প্রচলিত গল্প ও রূপকথার উৎপত্তিগত ভৌগোলিক স্থান হিসেবে পেরু বিখ্যাত হয়ে আছে। দেশটি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেও ইনকা সভ্যতা ছাপ লক্ষ্য করা যায়। ইনকা আদিবাসীরা পেরুতে বসতি স্থাপনের পর লামা নামে এক পশুর পশম দিয়ে পোষাক তৈরি করা আয়ত্ত করে। আর এর অনুষঙ্গ হিসাবে তাদের পায়ে থাকতো চপ্পল। এই চপ্পলগুলোও তৈরি করা হতো লামার চামড়া থেকেই।
অবাক করার বিষয় হলো, ইনকা সভ্যতার মানুষেরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য প্রায় ১৪ হাজার মাইলের সড়ক পথ নির্মাণ করেছিল। যা বর্তমানে ‘ইনকা ট্রেইল’ নামে সুপরিচিত। এ পথ মূলত নির্মাণ করা হয়েছিল পায়ে চলার উপযোগী করে। মজার বিষয় হলো, তারা জায়গায় জায়গায় মালামাল পরিবহনের উপযোগী গাড়ি চালানোর জন্যও পৃথক পথ নির্মাণ করে। সমতল ভূমিতে বড় বড় পাথর এবং নুড়ি সহযোগে পথের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করত তারা। এই রাস্তা ইনকা সভ্যতার মানুষের জ্ঞান এবং স্থাপত্য শৈলীর প্রখরতার একটি বিশেষ উদাহরণ।
ইনকা সাম্রাজ্যের অপর এক বিস্ময়ের নাম ‘মাচুপিচু’ নগরী। আন্দিজ পর্বতমালার উপরিভাগে নির্মিত এ নগরী ইনকা সম্রাট পাঁচাকুটির দুর্গ বিশেষ একটি ব্যক্তিগত স্থাপনা। বর্তমানে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত একটি পর্যটন কেন্দ্র। এছাড়াও, মাচুপিচু ইনকা সভ্যতার উদ্ভাবনী ও ঐশ্বর্যের স্মৃতিচিহ্ন বহন করে।
ইনকা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন রাজা পাচাকুটি। তাকে ‘পৃথিবী কাঁপানো মানুষ’ বলা হয়। তার শাসনামলে ইনকাদের সাম্রাজ্য দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্যে পরিণত হয়; যার প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল কুসকো শহর। এই সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান ইকুয়েডর, পেরু, বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, চিলি ও কলম্বিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল।
ইনকারা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিল; তাদের শাসনামলে কেউ অভাবে মারা যেত না। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইনকা সম্রাট চুরি করলে অপরাধীর শাস্তির ধরণ নির্ধারণের আগে অপরাধের কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিতেন। যদি কেউ অভাবের কারণে চুরি করত, তবে, ওই এলাকার শাসন কর্তাকে শাস্তি দেওয়া হতো।
ইনকাদের নিয়ে পেরুর সংস্কৃতিতে প্রচলিত আছে নানা ধরনের গল্পকথা। পেরুর লোক কথায় প্রচলিত রয়েছে, ইনকা রাজ্যের পথের ধুলোতেও নাকি সোনার গুঁড়ো ছড়িয়ে থাকতো। এই কথাটি কিন্তু একদমই ফেলে দেওয়ার মতো নয়; এর সত্যতা থাকলেও থাকতে পারে। কারণ, আন্দিজ পর্বতমালায় রয়েছে ‘ইয়ানকোচা’ খনি। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের খনি। অবাক করার বিষয় হলো, আধুনিক সমাজের মানুষেরা এই খনিটি আবিষ্কারের পূর্বেই প্রাচীন আদিবাসীরা খনিটির কথা জানতো। এজন্য তারা পার্শ্ববর্তী একটি নদীর নামকরণ করেন ‘স্বর্ণ নদী’।
কুসংস্কারে বিশ্বাস
পেরুর অধিবাসীরা ভাগ্য ও কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে থাকে। অধিকাংশ পেরুর জনগোষ্ঠী বিশ্বাস করে, নতুন বছর তাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে। এই বিশ্বাসকে পুঁজি করেই নতুন বছরের শুরুতে তারা বিশেষ আয়োজনে মেতে ওঠে।
হলুদ রঙকে তারা সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করে। এজন্য নতুন বছরের শুরুর দিনে তারা হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করে। মজার ব্যাপার হলো, নতুন বছর শুরু হওয়ার সাথে সাথে তারা ১২ টি করে আঙুর খেয়ে নেয়। তাদের বিশ্বাস বারটি আঙ্গুর আগামী ১২ মাসের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে।
ইনকা সভ্যতায় শিশুবলি
ইনকা সভ্যতায় সূর্য দেবতা ‘ইনটি’ ছিল তাদের ধর্মের মূল কেন্দ্র। তবে, এর পাশাপাশি তারা অনেক স্থানীয় দেব-দেবীর পূজা করত, যাদের বলা হতো ‘হুয়াকাস’। ইনকারা রক্তপিপাসু না হলেও, বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শিশুদের বলি দিত। কিছু ইনকা সভ্যতার কিছু মমিতে দেখা যায়, বলির আগে শিশুদের বিশেষভাবে মোটাতাজা করা হতো। ‘লুলাইলাকো’ নামে এক আগ্নেয়গিরির চূড়ায় প্রাপ্ত পাঁচশ বছর পুরনো মমির চুল পরীক্ষা করে এই বিষয়টি সম্পর্কে জানা গেছে। এই মমিগুলোর মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী, ৬ বছর বয়সী মেয়ে শিশু এবং ৭ বছর বয়সী এক বালক।
কোকো পাতা
পেরুর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে ‘কোকো’ পাতা খাওয়ার একটি অদ্ভুত অভ্যাস তৈরি করেছে।
এই পাতা পেরিভিয়ানদের মধ্যে অনেক জনপ্রিয়। যদিও কোকো পাতা থেকে কোকেন তৈরি হওয়ার জন্য এর অনেক কুখ্যাতিও রয়েছে। তবে, স্থানীয় এবং যারা আন্দিজে ট্রেকিং করেন, তারা অতি উচ্চতা জনীত অসুখ এড়াতে ‘কোকো পাতা’ চিবিয়ে খান।
পেরুর সঙ্গীত-সাহিত্য, শিল্প ও খেলা
পেরুভিয়ান সংগীতে স্প্যানিশ এবং আফ্রিকান সঙ্গীতের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। আর এই জন্যই তাদের সঙ্গীতে চারাঙ্গো ও প্যান ফ্লুটের মতো বাদ্যযন্ত্র গুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
দেশটিতে মারিনেরা এবং হুয়াইনোর নামে লোকজ নৃত্য বেশ জনপ্রিয়।
সিনেমা বা মৌসুম চলচ্চিত্রের যাত্রা পেরুতে ২০ শতকের প্রথম দিক থেকে শুরু হয়। ‘মেইডিনুসা’ এবং ‘দ্য মিল্ক আফ সরো’ পেরুর বিখ্যাত দুইটি চলচ্চিত্র। আরো একটি মজার বিষয় হলো, লাতিন আমেরিকার প্রথম এনিমেটেড থ্রিডি ফিল্ম ‘Piratas en el Callao’ এর স্রষ্টাও ইনকা সভ্যতার এই দেশটি।
খেলাধুলার মধ্যে পেরুভিয়ানদের ফুটবল এর প্রতি আলাদা প্রেম রয়েছে। পেরুর জাতীয় ফুটবল দল পাঁচ বার ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে এবং দুইবার কোপা আমেরিকা ট্রফি জয় করে। অন্যান্য জনপ্রিয় খেলার মধ্যে ভলিবল, সার্ফিং ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
পেরুর খাদ্যাভাস
পেরুতে ভ্রমণে গেলে দেশটির সুস্বাদু কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার অবশ্যই চেখে দেখা উচিত। পেরুর স্থানীয় খাবার এবং রান্নার বৈশিষ্ট যে কাউকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।
সেভিচ
পেরুর সামুদ্রিক খাবারের মধ্যে বিশ্বজুড়ে পরিচিত সেভিচ। পেরুর জাতীয় খাবারের মর্যাদা পেলে, সেভিচই সম্ভবত সেই স্থান দখল করতো। সেভিচের প্রধান উপাদান হলো তাজা কাঁচা মাছ ও লেবুর রস, এর স্বাদ বাড়াতে যোগ করা হয় মরিচ, মসলা, এবং বিভিন্ন সস।
কাই
পেরুর এই খাবার উত্তর আমেরিকাতেও একটি ভিন্ন নামে জনপ্রিয়। এই খাবারটির মূল উপাদান মাংস। বারবিকিউ বা বেক করে নানা উপকরণের সঙ্গে মাংস পরিবেশন করা হয়।
কাউশা
পেরুর বিভিন্ন বাজারে এই খাবারটি প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়। যেখানে ব্যবহৃত হয় দেশীয় আলুর বিভিন্ন প্রজাতি ও অ্যাভোক্যাডো। কাউশাতে আলু ও নানা ধরনের সবজি, ডিম ইত্যাদি প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়।
লমো স্যালটাডো
এশিয়ান ফিউশন কুইজিনের ধারণা আসারও বহু আগে, চীনারা পেরুতে কাজের খোঁজে এসে এই খাদ্য প্রণালীটি তৈরি করে। এতে গরুর মাংস, টমেটো, পেঁয়াজ এবং সয়াসস দিয়ে স্টিয়ার-ফ্রাই করা হয়। এই খাবারটি সাধারণত সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
পেরুর বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ এবং দর্শনীয় স্থানসমূহ
ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায় পেরু একটি জনপ্রিয় নাম। প্রতি বছর লাখো পর্যটক এই দেশ ভ্রমণ করে। দেশটি প্রাকৃতিক দৃশ্য, প্রাচীন ঐতিহ্য ও সভ্যতার মহামিলনে এক অসাধারণ পর্যটন গন্তব্য হতে পারে।
মাচু পিচু
ইনকা জাতির তৈরি এক বিস্ময়কর নগরী মাচুপিচু। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ পর্যটক এটি দেখতে ছুটে যান পেরুর রাজধানী লিমা থেকে ৩৫৭ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে কুসকো শহরে। ধারণা করা হয়, পঞ্চদশ শতাব্দীতে আন্দিজ পর্বতমালায় এই শহরটি গড়ে ওঠে। বিশাল এই সাম্রাজ্য ২৫০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং সেখানে অন্ধ, মূক, বধিরসহ সবাই সম্মানের সঙ্গে তাদের উৎপাদিত শস্য সমানভাবে ভোগ করতেন। আধুনিক বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রই এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।
‘মাচুপিচু’ শব্দটির অর্থ ‘প্রাচীন পর্বত’, যা আমেরিকার প্রাচীন কেচুয়া জাতির ভাষা থেকে এসেছে। মাচুপিচুর অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭,৫০০ ফুট উচ্চতায়, এবং এটি প্রায়ই মেঘে ঢাকা থাকে। তাই অনেক সময়ে মাচুপিচুকে ‘মেঘের দেশের নগরী’ বলা হয়।
মাচুপিচু নগরীতে ১৪০টি স্থাপনা রয়েছে। এই স্থাপনাগুলোর মধ্যে বেশরভাগই মন্দির, পবিত্র স্থান, উদ্যান ও আবাসিক ভবন।
এখানে ১০০টিরও বেশি সিঁড়ি এবং প্রচুর ঝরনা রয়েছে, যা একে অপরের সঙ্গে পাথরের কাটা খালের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল এবং সেচ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হতো। এটি ১৪৫০ সালের দিকে নির্মিত হয়, কিন্তু স্প্যানিশরা যখন ইনকা সভ্যতায় আক্রমণ করে, তখন এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
অনেক বছর অজানা থাকার পর, ১৯১১ সালের ২৪ জুলাই ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরাম বিংহ্যাম বৈজ্ঞানিক অভিযানে মাচুপিচু আবিষ্কার করেন এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জার্নালে তার অভিজ্ঞতার কথা জানান।
এরপর থেকে এটি পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। ১৯৮১ সালে এটি পেরুর সংরক্ষিত ঐতিহাসিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ইউনেস্কো ১৯৮৩ সালে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। বর্তমানে এটি বিশ্বের নতুন সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি।
মাচুপিচুর চারপাশের সবুজ বন ও রহস্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটক এবং প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে এক আকর্ষণীয় স্থান। মাচুপিচু নগরী এখনও একেবারে অক্ষত অবস্থায় রয়ে গেছে। এটি একসময় অজ্ঞাত কারণে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়।
চান চান
আর্কিওলজিকাল সাইটের ভক্তদের কাছে পেরুর চান চান শহর ঘুরতে খুবই ভালো লাগার কথা। এ নগরটি তুলনামূলকভাবে অপরিচিত। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এখানে আবিষ্কার করার মতো যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সিমু সাম্রাজ্য ১৩০০ খ্রিস্টাব্দে এই শহর প্রতিষ্ঠা করে। চান চান দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন শহর ছিল, পরবর্তীতে একসময় ইনকারা দখল করে ফেলে। প্রাচীন এ শহরটিতে দেখা যাবে, আদিম আমলের দালান, রাস্তাঘাট, মন্দির, বাগানসহ আরও অনেক কিছুই।
ইনকা ট্রেইল
যেসব পর্যটক জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজছেন তাঁদের জন্য পেরুতে আছে ইনকা ট্রেইল। দক্ষিণ আমেরিকার এই বিখ্যাত ট্রেকিং রুটে ইনকাদের পথ ধরে দুর্গম পর্বতপথ পাড়ি দেওয়ার সুযোগ এই ট্রেইলের মূল আকর্ষণ। এটি প্রাচীন ইনকাদের জন্য হয়তো সহজ ছিল, তবে বর্তমানের জন্য এটি মোটেই সহজ নয়। তবু সাহসী ভ্রমণপ্রেমীরা এই পথ ধরে হাইকিংয়ে নামেন। পথটি কঠিন হলেও এর সৌন্দর্য অসীম।
মাউন্ট ভিনিচুনকা
মেরুন, ফিরোজা, হলুদ, ল্যাভেন্ডার রঙ ছড়িয়ে রয়েছে পুরো পাহাড় জুড়ে। পেরুভিয়ান আন্দেজের অসাঙ্গাতে পর্বতাঞ্চলে এমন অনেক পাহাড় রয়েছে, যেগুলোর রঙ একটি অপরটি থেকে ভিন্ন। কোনোটি গাঢ় মেরুন, কোনোটা উজ্জ্বল ফিরোজা। তবে এসব পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে অনন্য মাউন্ট ভিনিচুনকা। মাউন্ট ভিনিচুনকাকে রেইনবো মাউন্টেন বা রংধনু পর্বতও বলা হয়ে থাকে। ২০১৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে এই পাহাড়টি। মাত্র দুই বছর আগে এই পাহাড়টির অস্তিত্ব আবিষ্কার হয়। স্থানীয়রা একে মোনটানা দে কালারস নামে ডাকেন। আর পর্যটকদের কাছে এর নাম রংধনু পাহাড়।
৬ হাজার মিটার উচ্চতার এ পাহাড়টির স্তরে স্তরে বিভিন্ন রঙ। দীর্ঘকালের জলবায়ু ও খনিজের উপস্থিতির কারণে এমন রঙ ধারণ করেছে এই পাহাড়। মাটিতে আয়রন অক্সাইডের আধিক্যের কারণে মাটির রং লাল আর আয়রন সালফাইডের আধিক্যের কারণে মাটির রং হলুদ হয়ে গেছে।
কাসা ডে লা এমান্সিপাকন
যদি পেরুর প্রাচীন সভ্যতার বাইরেও নতুন কিছু দেখতে চান, হতাশ হওয়ার কারণ নেই; পেরুতে ভিন্ন রকম আকর্ষণও রয়েছে। কলোনিয়াল শহর ট্রুজিলোতে ঘুরে আসতে পারেন কাসা ডে লা এমান্সিপাকন। এটি লিমার পর দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিস। এই আধুনিক শহরে এসে পেরুর শিল্প-সংস্কৃতির এক ভিন্ন রূপ দেখতে পাবেন, যেখানে কিউবিক কাজাবাম্বা ফ্লোর বিশেষ এক শিল্পকর্ম হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়।
কলকা ক্যানিয়ন
আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মন্ডিত একটি স্থান হলো কলকা ক্যানিয়ন। এটি বিশ্বের অন্যতম গভীর খাদ। যা প্রায় তিন হাজার সাতশ ফুট গভীর। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয় কলকা ক্যানিয়নে দর্শনার্থীদের জন্য হাইকিং এর মতো আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও এই স্থানে হামিংবার্ড সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও পাখির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায়।
লেক টিটিকাকা
পর্যটকেরা যদি প্রিয়জনের সাথে জলযাপন করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থানে অবস্থিত লেক টিটিকাকা। বলিভিয়া ও পেরু সীমান্তবর্তী এই হ্রদটি সমুদ্র পৃষ্ঠের প্রায় ৩৮১২ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এটি লম্বায় ১২০ মাইল এবং ৫০ মাইল প্রশস্ত এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
অবাক করার বিষয় হলো, ১৯৭০ সালে গবেষকরা লেক টিকাকার নিচে আস্ত একটি শহর আবিষ্কার করেন। লেকটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ভাসমান দ্বীপপুঞ্জ। উরস বা উরু জাতি গোষ্ঠীর লোকদের তৈরি এই দ্বীপগুলো পেরুর অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। এখানকার প্রতিটি দ্বীপে এই পর্যটকরা নৌকা সহযোগে ঘুরে ঘুরে লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
লেক সিক্সটি নাইন
পেরুর হওয়ারা শহরে অবস্থিত নীল জলের এক বিস্ময়কর পর্যটন স্থান হলো লেক সিক্সটি নাইন। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। পর্যটকরা লেকের নীল পানির সাথে সাথে উপভোগ করতে পারবেন পার্শ্ববর্তী চমৎকার বরফে আবৃত পাহাড়। পেরুতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে লেক সিক্সটি নাইন একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল।
আমাজন বনাঞ্চল
আন্দিজের নয়নাভিরম সুন্দর্য এবং মরুভূমির পাশাপাশি পেরুর আরেকটি সুন্দরতম স্থান হল আমাজন বনাঞ্চল। পৃথিবীর সব থেকে বেশি জীববৈচিত্র নিদর্শন এই আমাজন বনাঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। পেরুর ষাট শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বনাঞ্চলটি। দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে এখানে পৌঁছানো একটি কঠিন এবং কষ্টসাধ্য কাজ হলেও পর্যটকদের এই আমাজন বনাঞ্চল ঘিরে আগ্রহের কোনো শেষ নেই। আমাজন ঘুরে দেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নৌকা ভ্রমণ। এই ভ্রমণে আমাজন এর অনেক দুর্লভ প্রাণী যা আগে কেউ কখনো দেখেনি সেগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
এলিয়েন অথবা মানুষের তৈরি নাজকা লাইন
নাজকা লাইন পেরুর প্রাচীন ইনকা সভ্যতার একটি রহস্যময় নিদর্শন। এটি আসলে জমিনের উপর তৈরি করা বিশাল রেখাচিত্রগুলো। রহস্যময় এই রেখাচিত্র নিয়ে রয়েছে অনেক রহস্য। এগুলো কি আসলেই প্রাচীন মানুষের হাতে আঁকা সম্ভব ছিল? কে বা কেন এই চিত্রগুলো তৈরি করেছিল তা আজও অজানা।
কেউ কেউ বলেন এগুলো ইনকাদের আধ্যাত্মিক ক্যালেন্ডার, আবার কারও মতে এগুলো দেবতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তৈরি। কেউ কেউ আবার মনে করেন, এটি এলিয়েনদের মহাকাশযান অবতরণের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২০০ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এমন রহস্যময় রেখাচিত্র কেবল পেরুতেই নয়, মিশর, মাল্টা, আমেরিকার মিসিসিপি এবং ক্যালিফোর্নিয়া, চিলি, বলিভিয়াতেও দেখা যায়। তবে নাজকার রেখাচিত্রগুলোর বিশালতা, জটিলতা ও সংখ্যার কারণে গবেষকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
নাজকা ও পালপা শহরের মধ্যবর্তী ৪০০ বর্গমাইল মরুভূমি জুড়ে রয়েছে তিন শতাধিক রেখাচিত্র। যেগুলোতে রয়েছে, সরলরেখা ও জ্যামিতিক নকশা। এগুলো মাটি থেকে বোঝা না গেলেও আকাশ থেকে স্পষ্ট দেখা যায়।
১৯২০ সালে যখন পেরুর মরুভূমির ওপর বিমান চলাচল শুরু হয়, তখন থেকেই এই রেখাচিত্রগুলো মানুষের নজরে আসতে শুরু করে। বিমানের যাত্রীরা মরুভূমিতে ল্যান্ডিং স্ট্রিপের মতো আকৃতি লক্ষ্য করেন। বর্তমানে বন্যা ও বিদ্যুতের লাইনের কারণে এই এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তবে এখনো নাজকা লাইন তার বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে।
হেঁটে কিংবা নৌকা ভ্রমণ করে নয়, পর্যটকদের জন্য এ নাজকা লাইনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে, ভ্রমণ করতে হবে আকাশ পথ জুড়ে। এই লাইনগুলো মূলত পাথরের গায়ে খোদাই করা বিভিন্ন বস্তু, প্রাণী এবং গাছপালার বিশাল বিশাল চিত্র, যা প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
গুজব প্রচলিত আছে,আমেরিকান অধিবাসীরা এ লাইনগুলো তৈরী করে এলিয়েনদের জন্য বার্তা হিসাবে। দেশটিতে এলিয়েনদের নিয়ে আরো অনেক গল্পকথা প্রচলিত আছে। যার সত্যতা খুব না পাওয়া গেলেও একটি যৌক্তিকতা রয়েছে। ১৯২৮ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক জুলিও টোলো পেরুর প্যারাকাসে আবিষ্কার করেছেন লম্বাটে মাথার খুলি। আশ্চর্যের বিষয় হলো সাধারণ মানুষের খুলির তুলনায় এই খুলিগুলোর আকার অস্বাভাবিকভাবে লম্বাটে। পরবর্তীতে, এখানে প্যারাকাস হিস্টরি মিউজিয়াম জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও পালাসিও ডে লা নাসিওন এবং ঐতিহাসিক রোমান ক্যাথলিক চার্চ বিশেষভাবে পর্যটকদের আকর্ষিত করে। ১৬ শতাব্দীতে নির্মিত ক্যাথলিক চার্চটি নব্যজাগরনের প্রতীক।এখানে পেরুর ইতিহাসে বিখ্যাত কয়েকজন ব্যক্তির সমাধি রয়েছে।
পেরুর অর্থনীতি ও প্রধান শিল্প সমূহঃ পৃথিবীর প্রথম আলু চাষ
পেরুর অর্থনীতি বিশ্বের ৪৮তম বৃহৎ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিকে সূচক একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে দেশটি অন্তর্ভুক্ত। দেশটির অর্থনীতি কৃষি, বনজ, খনিজ ও সামুদ্রিক সম্পদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
কৃষি পণ্যের মধ্যে পেরুতে ধান, তুলা, আখ, ভুট্টা, আলু, টমেটো কমলালেবু, সয়াবিন, মরিচ, এ্যসপারাগাস ইত্যাদি উৎপন্ন হয়। এছাড়াও দেশটিতে বিভিন্ন রং এর ভুট্টা উৎপাদিত হয়। পেরুর অধিবাসীরাই প্রথম বুনো আলু চাষ করেছিল বলে ধারণা করা হয়। সমুদ্র সংলগ্ন এ দেশটি বিভিন্ন ধরনের মৎস্য এবং প্রক্রিয়াজাত মৎস্য রপ্তানিতেও পরিচিত দেশটি।
মজার বিষয় হলো, ইউরোপিয়ানরা টমেটোকে পেরুভিয়ান বিষাক্ত ফল বলে ভয় করতো। ১৮৮০ এর দশকে ইতালির নেপলস শহরে পিৎজা আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে টমেটো ইউরোপিয়ানদের একটি বিশ্বস্ত এবং প্রিয় খাবারের পরিণত হয়।
‘আলপাকা’ নামক প্রাণীর মাংস ও পশম এবং পেরুর জাতীয় পশু ভিকুনার পশম থেকে উৎপাদিত উল ও দেশটির একটি অন্যতম রপ্তানি পণ্য। অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে এমন খনিজ সম্পদের মধ্যে বিসমাত, রুপা, তামা, সোনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে পেরুর আধুনিক সভ্যতা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্বর্ণের বিশেষ অবদান রয়েছে। বর্তমানে পেরু বিশ্বের অষ্টম স্বর্ণ রপ্তানিকারক দেশ।
পেরুর শিক্ষাখাত
পেরুর সাক্ষরতার হার প্রায় ৯২.৯%। মজার বিষয় হলো, পেরুতে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা পাবলিক স্কুলে বাধ্যতামূলক এবং সম্পূর্ণ ফ্রি। ১৫৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সান মার্কোস’ আমেরিকার সবচেয়ে পুরানো বিশ্ববিদ্যালয়।
যবনিকা
প্রাকৃতিক বৈচিত্রময়তা, চোখ ধাঁধানো পর্যটন কেন্দ্র এবং খনিজ সম্পদের ভান্ডার পেরু এক বিস্ময়কর ইতিহাসের সমৃদ্ধ ভূমি। দেশটি পর্যটকদের জন্য যেমন তীর্থস্থান তেমনি বিখ্যাত সব প্রত্নতত্ত্ববিদ লোকতত্ত্ববিদ এবং গবেষকদের জন্য দেশটির গুরুত্ব অসীম। পেরু পৃথিবীর সভ্যতার ইতিহাসের এক বিশেষ অধ্যায় উন্মোচন করেছে।
পেরু সম্পর্কে আরো কিছু মজার মজার তথ্য
১। বিশ্বের ৭০% এরও বেশি এ্যলপাকাস জনগোষ্ঠীর বসবাস করে পেরুতে।
২। প্রায় ১০ হাজার বছর আগে পেরুতে সর্বপ্রথম আলুর আবিষ্কার হয়।
৩। পৃথিবীর ৪ শতাংশ ফ্রেশ ওয়াটার পেরুতে রয়েছে।
৪। রহস্যে ঘেরা মাচুপিচু তৈরিতে কোন চাকার ব্যবহার করা হয়নি।
৫। পেরুতে প্রায় চার হাজার ধরনের আলু পাওয়া যায়।
৬। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পাখি বসবাসের রেকর্ড পেরুর দখলে রয়েছে।
৭। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ফুলের গাছ পুয়া রাইমোনডি পেরুতে জন্ম নেয়।
৮। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বালির টিলাগুলো পেরুতে অবস্থিত।
৯। অ্যামাজন নদীর উৎপত্তি এই দেশটি থেকেই।