উল্কাপিণ্ডের মতো হুট করে আসা এবং উধাও হয়ে যাওয়া, অঘটনঘটনপটিয়সী ইতিহাসখ্যাত এই নারীর পুরো জীবন রহস্য উত্তেজনায় ভরপুর।
নেফারতিতি,অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘সবচেয়ে সুন্দর মানুষটি পৃথিবীতে এসেছে’। নামের মতোই অসম্ভব সুন্দরী ছিলেন তিনি। এছাড়াও নেফারতিতিকে প্রাচীনকালের সবচেয়ে রহস্যময়, খ্যাতিমান এবং শক্তিশালী নারী হিসাবেও মনে করা হয়। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩৭০ অব্দে তাঁর জন্ম। নেফারতিতির মুখবয়বের জগৎবিখ্যাত একটি মূর্তি এখনও রয়ে গেছে।
দেখে মনে হবে দূর থেকে দূরে দৃষ্টিনিক্ষেপ করছে সে। তবে তেমন কিছু জানা যায় না প্রায় ৩৫০০ বছরের প্রাচীন মিশরে বসবাসকারী এই নারী সম্মন্ধে। তার সব গুণাবলি ইতিহাসের মাঝে হারিয়ে গিয়েছে। তাঁর সমসাময়িকদের তাঁর সমন্ধে দেওয়া বয়ান বা তাঁর জীবনী নিয়ে কোনো প্যাপিরাসও পাওয়া যায় নি। শুধুমাত্র কয়েকটি প্রাচীন শিলালিপি ও ত্রাণ থেকে রহস্যময়ী নেফারতিতি সম্মন্ধে কিছু জানা যায়। কিন্তু যতোটুকু জানা যায় তার পুরোটাই অসাধারণ বলা যায় ।চলুন দেখি কি কি রহস্য লুকিয়ে আছে এই নারীর জীবনে।
কে ছিলেন নেফারতিতি
নেফারতিতির জীবন নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই। একদল গবেষক মনে করেন এরকম, তো আরেকদল মনে করেন আরেকরকম। দেখা যাক বৈচিত্র্যপূর্ণ এ নারীর জীবন সবমিলিয়ে কেমন ছিলো আসলে-
ধারণা করা হয়ে থাকে, নেফারতিতির বাবার নাম ছিলো আয় (Ay)। আয় ছিলেন তৎকালীন সময়ে মিশরের রাজ দরবারের শীর্ষ উপদেষ্টা। এই আয় পরিবার মূলত মধ্য মিশরের আচমিম (Achmim) শহর থেকে এসেছিলো। আচমিম শহরে আবার ছিলো রাজা ‘৩য় আমেনহোটেপ’ এর স্ত্রী তিয়ের পিতামাতার বাড়ি। তিয়ের পরিবারের সাথে নেফারতিতির পরিবারের চেনাজানা ছিলো। আর তাই, তিয়ে তার দ্বিতীয় পুত্র ৪র্থ আমেনহোটেপ যিনি মিশরিয় ইতিহাসে আখেনাতেন এর জন্য স্ত্রী হিসাবে নেফারতিতিকে বেছে নেন।
এখন আমেনহোটেপ ৪র্থ’র সিংহাসনে উঠার আগে নেফারতিতির সাথে বিয়ে হয়েছিল নাকি পরে, এটা জানা যায় না। নেফারতিতির তখন বয়স কত ছিলো এটাও জানা যায় না। তবে, রাজ পরিবারে অল্প বয়সে বিয়ে হতো। সে হিসাবে ৪র্থ আমেনহোটেপ তার রাজ্যাভিষেকের সময় ১৬-১৮ বছর বয়সী ছিলেন। সে হিসাবে গবেষকরা অনুমান করেন যে, নেফারতিতির বয়স তখন হয়তো ১২-১৬ এর মধ্যে ছিলো।
আরেকটা তথ্যে ধারণা করা যায় যে, নেফারতিতি ছিলেন মিতানি রাজ্যের একজন রাজকন্যা। নেফারতিতির স্বামী যখন ’ফারাও ৪র্থ আমেনহোটেপ’ হিসাবে থিবসের সিংহাসনে বসেন তখন তিনি তাঁর স্বামীর সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী ছিলেন।
যাইহোক,নেফারতিতি যে একটি রাজকীয় পরিবারের সদস্য ছিলো তা পরিস্কার। আবার একই সাথে তিনি একজন প্রভাবশালী রাণীও ছিলেন।
নেফারতিতির সন্তানেরাঃ পরিবারের মধ্যে বিয়ের রীতি
ব্যাক্তিগত জীবনে নেফারতিতি ৬ জন কন্যা সন্তানের মা ছিলেন। তাদের বিয়ের পরপরই প্রথম কন্যা মেরিটাটেনের জন্ম হয়। তার একটি সন্তান (২য় কন্যা, মেকেটাটেন) মারা যাবার ইতিহাসও পাওয়া যায়। নেফারতিতির ৩য় কন্যা আঁখেসেনপাতেন, পরবর্তীতে রাজা তুতানখামুনের স্ত্রী হয়েছিলো।
এখানে অদ্ভুত বিষয় হলো, আঁখেসেনপাতেন ও তুতানখামুন দুজনেই রাজা আখেনাতেনের সন্তান। কিন্তু তৎকালীন মিশরে ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ের চল ছিলো। আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, তখন বাবা-মেয়ের বিয়েটাও ছিলো খুবই সাধারণ ব্যাপার।
অ্যাজিপ্টিসচেস জাদুঘর (Agyptisches Museum)এ একটি চিত্রকর্ম পাওয়া যায়, যেখানে একটি রাজকীয় বেদিতে রাজা, রাণী এবং তাদের তিন সন্তান নিয়ে তারা বসে আছেন। একটি সন্তান রাজার কোলে এবং বাকি দুইটি রাণীর কোলে রয়েছে।
নেফারতিতির মৃত্যু রহস্য
নেফারতিতির জীবন ছিলো ঘটনাবহুল। পারিবারিক টানাপোড়েন থেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব বা যুদ্ধের ময়দান সবখানেই এই নারীর পদচারণা ছিলো। এখন কথা হলো যে, নেফারতিতির এতো তাৎপর্যপূর্ণ জীবন কিন্তু ইতিহাসের পাতায় কোথাও এ সম্মন্ধে কিছু পাওয়া যায় না। যেটুকু জানা যায় তাতে ধারণা করা হয় তিনি (নেফারতিতি) হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই উধাও হওয়া নিয়ে ঐতিহাসিকরা বিভিন্নজন বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন।
কতকের মতে, নেফারতিতি যখন উধাও হোন, ঐসময়টায় প্লেগ’ এর প্রাদুর্ভাব ছিলো। তো, নেফারতিতি প্লেগ রোগে মারা গিয়েছেন বলে তারা মনে করেন। আবার, কতকের মতে, যেহেতু নেফারতিতি একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের সূচনা করেন সেহেতু অনেক বিরোধিতারও সূচনা হয়। এজন্য নেফারতিতিকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
অনেক ইতিহাসবেত্তা মনে করেন, নেফারতিতি নিজেই এত শক্তিধর ছিলেন যে তিনি নিজেই ‘ফারাও’ এর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি পুরুষালি পোশাক পরে, ছদ্মবেশে মিশর শাসন করতেন।
এই সব রহস্য শুধু অনুমান বাড়ায় কিন্তু রহস্য রহস্যই থেকে যায়। এই রহস্যময়তা অবশ্য নেফারতিতির মূল আকর্ষণও বটে।
নেফারতিতির মমি
মমি বা বিশেষভাবে মৃতদেহ সংরক্ষণ মিশরীয়দের আবিষ্কার। প্রাচীন মিশরে রাজ রাজাদের মৃতদেহকে মমি করে রাখা হতো। সে হিসাবে নেফারতিতি ও আখেনাতেনেরও মমি তৈরি করার কথা। কিন্তু কারোরই মমি এখন অবধি সনাক্ত করা যায় নি।
কিন্তু অতি সম্প্রতি, ২০২২ সালে, মিশরের মিশরতত্ত্ববিদ, মিশরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী, জাহি হাউয়াস (Zahi Hawass) দাবি করেন যে, অতি দ্রুত নেফারতিতির মমি বিশ্বের সামনে প্রদর্শিত হবে। তিনি মূলত দুইটি মমি নিয়ে গবেষণা করছেন। এর মধ্যে একটা নেফারতিতির মেয়ে এবং আরেকটা নেফারতিতির হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু এটা আজও প্রমাণিত হয়নি।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, আখেনাতেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র তুতানখামুন পুরোনো মিশরের পুরোনো দেবতাদের পূজা ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং তার বাবার করা একেশ্বরবাদী ধর্মের সব স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছিলেন। অনুমান করা হয় যে, এসব স্তম্ভের সাথে সাথে সে হয়তো তার বাবা-মার সমাধিস্থলও ধ্বংস করেছিলো।
আবার গবেষকরা মনে করেন যে, নেফারতিতি যখন মারা যান তখন সামাজিক অস্থিরতা ছিলো প্রবল, যার ফলেই হয়তো তার সমাধিস্থল বা মমি পাওয়া যায় নি।
নেফারতিতির মৃত্যু নিয়ে এত রহস্য কেন
আখেনাতেনের ১২তম রাজত্বের পর রাজকন্যাদের একজন মারা যায় ও তিনজন নিখোঁজ হয়। এদের সাথে নেফারতিতিও অদৃশ্য হয়ে যায়। ধারণা করা হয়, ১২-১৭তম রাজবংশের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ আখেনাতেনের রাজত্বকালে নেফারতিতি মারা যান। কিন্তু তার মৃত্যুর কোন রেকর্ড নাই বা এমন কোন প্রমাণও নেই।
শুরুর দিকে মিশরবিদরা মনে করতেন, নেফারতিতি তখন আখেতাতেন থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে আর্মনা বা থিবসে অবসর জীবন যাপনের জন্য গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
আরেক দলের মতে, নেফারতিতি তুতেনখামেনের কাছে রাজত্ব হস্তান্তর করার আগে তিনি নিজেকে স্মেনখাকার (তুতেনখামেনের ভাই হিসাবে) নাম দিয়ে, পুরুষালি পোশাক পরিধান করে শাসন করতেন। এই বয়ানের গ্রহণযোগ্যতা ভালোই ছিলো শুরুর দিকে, কিন্তু, ২০ শতকে রাজাদের উপত্যকায় তুতেনখামেনের ভাই হিসাবে সমাধিত এক পুরুষেরই লাশ পাওয়া যায়। তাই স্মেনখাকারই যে নেফারতিতি ছিলো তা অসম্ভব বয়ান হয়ে দাঁড়ায়।
মিশরীয় রাজাদের উপত্যকায় একটি নারীর সমাধি পাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা যায় এ লাশটি একজন কমবয়স্কা তরুণীর। অর্থাৎ, এটি নেফারতিতি হবার সুযোগ নেই।
নেফারতিতির দেহাবশেষ এখন অবধি পাওয়া যায় নি। যেখানে এত বড় একজন নারী ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর ব্যাপারটা অনেক বড় ইতিহাস হবার কথা ছিলো, সেখানে হয়ে গেছে এক বড় রহস্য।
নেফারতিতি ও আখেনাতেন
রাজা আমেনহোটেপ ৪র্থ এর কৃতিত্ব ছিলো অসাধারণ। তিনি তার রাজত্বের পঞ্চম বছরে কতক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেন। গবেষকরা এর পেছনে নেফারতিতির শক্তিশালী অবদান দেখতে পান। উদ্যোগগুলো হলো:-
- মিশরের প্রধান দেবতা আমন (Amon) কে সরিয়ে আটেন (Aten) কে প্রধান দেবতা হিসাবে বসানো। আটেন ছিলেন সূর্যদেবতা। এর মধ্যে দিয়ে মূলত মিশরে বহুশ্বরবাদী বিশ্বাস থেকে বের হয়ে একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের সূচনা করা।
- রাজধানী উত্তর আর্মনায় (আখেতাতেন শহরে) স্থানান্তরিত করেন।
- চতুর্থ আমেনহোটেপ নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘আখেনাতেন’ (Akhenaten), যার অর্থ ‘আতেনের জন্য আনন্দদায়ক’। রাজার সাথে সাথে নেফারতিতির নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় ‘নেফারনেফেরুয়াতেন’ (Neferneferuaten) অর্থ ‘আতেনের সুন্দরীদের সুন্দরী, একজন অত্যন্ত সুন্দরী নারী এসেছেন’।
নেফারতিতি ও আখেনাতেন আনুমানিক ১৩৫৩-১৩৩৬ খ্রিস্টপূর্ব বছর অবধি একত্রে রাজত্ব পরিচালনা করতেন। এরপর রাজা আখেনাতেন মারা যাবার পর নেফারতিতি সরাসরি রাজ্য ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। আখেনাতেনের সময়কালেই মিশরের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস হয়। নেফারতিতি এই ইতিহাসকে পরবর্তীতে আরও বর্ধিত করেন বলে মনে করা হয়।
নেফারতিতির প্রভাব
নেফারতিতির প্রভাব প্রতিপত্তি জানতে তাকে নিয়ে বানানো দুটো চিত্রকর্মের কথা বিশেষভাবে আসে।
চিত্রে প্রাথমিকভাবে তাকালে পারিবারিক সৌহার্দ্যবোধকে লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এই ছবিটির তাৎপর্য অনেক। রাজার সাথে রাণীর এমন ছবি এর আগে মিশরের ইতিহাসে দেখা যায় নি। ছবিতে নেফারতিতিকে আখেনাতেনের চেয়ে একটু কম উচ্চতায় দেখানো হয়েছে। এই উচ্চতা যোগ্যতার পার্থক্য বোঝায় না, বরং, এটা দিয়ে নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক পার্থক্যকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়াও, এই দম্পতির পোশাক এবং মুখভঙ্গি একই ধরনের। তারা উভয়েই এক আকৃতির হেডগিয়ার(পাগড়ী) পরে আছেন।
ছবিতে রাজা-রাণীর নাকের কাছে দুটি একই আঁখ চিহ্ন(একটি হায়ারোগ্লাফিক চিহ্ন যা দ্বারা ‘জীবন’ বোঝানো হয়) দেয়া আছে, যা বোঝায় যে আটেনের চোখেও এরা দুজন একরকম। রাজা ও রাণীর এই চিত্র সমূলে এটা বোঝায় যে, নেফারতিতি আখেনাতেনের পরিপূরক এবং সমপর্যায়ের ছিলো।
আরেক জায়গায় বলা হয়েছে যে, রাজা আখেনাতেনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো পৃথিবীতে দেবতা আতেনের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করা। এখানে বোঝা যায় যে, নেফারতিতিও তাহলে তার সমতুল্যই ছিলো। কেননা এটা নেফারতিতিরও একমাত্র লক্ষ্য ছিলো।
ধারণা করা যায় যে, আখেনাতেনের রাজত্বে নেফারতিতি যাজকের ভূমিকায় ছিলেন। এমনকি তিনি মিশরের মহিলা শত্রুদের তাড়ানোর জন্য তাদেরকে প্রহারে অংশও নিতেন তিনি।
এছাড়াও, আতেন মিশরের প্রধান দেবতা হয়ে উঠার পর পুরোনো মন্দিরগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আর আখেনাতেনে নতুন মন্দির করা হয় যার দায়িত্বে ছিলেন স্বয়ং নেফারতিতি। তার যৌনতা, নারীদেহের আকৃতি, তার উর্বরতা (ছয় রাজকন্যার জন্মদাত্রী)কে এমনভাবে প্রদর্শন করা হয় যা ইঙ্গিত দেয় যে তাকে ‘জীবন্ত উর্বরতা দেবী’ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
নেফারতিতির দৃঢ়তা,দক্ষতা, বুদ্ধি, সাহসিকতা, আত্মবিশ্বাস পর্যবেক্ষণ করে কতক গবেষক আবার মনে করতেন যে, নেফারতিতি হয়তো তার স্বামীর চেয়েও বড় পদে ছিলেন। যদিও এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না, কিন্তু, নেফারতিতির গরিমা এমনই ছিলো যে তা মানুষকে ভাবতে বাধ্য করায়।
অর্থাৎ নেফারতিতি ছিলেন এমন এক নারী যার মর্যাদা পুরুষের থেকে কোন অংশেই কম ছিলো না, বরং, তৎকালীন সময়ের চিত্রানুসারে একজন নারী হিসাবে তিনি যতদুর অবধি করেছেন তা ছিলো অবিশ্বাস্য। মিশরের ইতিহাসে এমন নারী শাসক দুর্লভ।
রেফারেন্সঃ
- https://www.britannica.com/biography/Nefertiti
- https://www.history.com/topics/ancient-egypt/nefertiti
- https://arce.org/resource/nefertiti-egyptian-wife-mother-queen-and-icon/
- https://www.smb.museum/en/museums-institutions/aegyptisches-museum-und-papyrussammlung/collection-research/bust-of-nefertiti/the-queen/
- https://www.dw.com/en/why-nefertiti-still-fascinates-us-today/a-66100787
- https://medium.com/teatime-history/nefertitis-disappearance-brought-to-the-spotlight-5cf877a5b348
- https://www.historyskills.com/classroom/ancient-history/nefertiti/