Image default
রহস্য রোমাঞ্চ

দিল্লির রহস্যময় দরগাহ: হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার অজানা কাহিনি

বাংলাদেশের সিলেটের দরগাহে গেলে যে দৃশ্যটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে তা হলো, শত শত জালালি কবুতরের উপস্থিতি। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই কবুতরগুলোর উৎপত্তি দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার (রহ.) দরবার থেকেই।

দিল্লি; এই শহরের নাম আসলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লালকেল্লা, কুতুব মিনার কিংবা জামে মসজিদের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা। কিন্তু এই দিল্লিরই আরেকটি বড় পরিচয় লুকিয়ে আছে, এখানকার সুফি দরগাহগুলোর মাঝে। বিশেষ করে, হজরত খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.)-এর মাজার। পুরান দিল্লির ব্যস্ত অলিগলি পেরিয়ে যখন কেউ এই দরগাহের এলাকায় প্রবেশ করে, তখন চারপাশের কোলাহল যেন হঠাৎ করেই বদলে যায়। এতো ভিড়ের মধ্যেও ধীরে ধীরে ভেসে আসে এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক আবহ।

নিজামউদ্দিন আউলিয়ার জন্ম 

ভারতীয় উপমহাদেশে যে ক’জন সাধক এসে সুফি মতবাদকে জনপ্রিয় করেছেন, নিজামউদ্দিন আউলিয়া তাদের মধ্যে একজন। ইতিহাসবিদদের মতে, তৎকালীন দিল্লিবাসীর ওপর নিজামউদ্দিন আউলিয়া তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিক শক্তির জাদুতে, প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন, পার্থিব জীবনের মোহ নয়, বরং মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও সহমর্মিতাই হলো প্রকৃত জীবনের মূল সত্তা। 

সুলতান-উল-মাশায়েখ, মেহবুব-এ-ইলাহি, শেখ খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.)-এর শৈশবের গল্প ছিল তাঁর পরবর্তী জীবনের মতোই অনুপ্রেরণামূলক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১২৩৮ খ্রিস্টাব্দে, উত্তর ভারতের বদাউন অঞ্চলে। বংশগত দিক থেকেও তিনি ছিলেন মহিমান্বিত বংশের সন্তান। বলা হয়ে থাকে, তিনি ছিলেন হজরত আলী (রা.)-এর উত্তরসূরি। এই বংশপরিচয় তাঁকে মুসলিম সমাজে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল, তবে তাঁর প্রকৃত মর্যাদা এসেছিল মানুষের সেবা আর আধ্যাত্মিক চর্চার মাধ্যমে। তবে, দুর্ভাগ্যবশত জন্মের কিছুদিন পরেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন।

এরপর তাঁর মা, বিবি জুলেখা, একা হাতেই তাঁকে বড় করে তোলেন। ছোটবেলা থেকেই দরিদ্রতার সাথে তার পরিচয়। অনেক সময় তিনবেলার খাবার জোগাড় করাও কষ্টকর হয়ে যেত। কিন্তু তাঁর মা ছিলেন একজন অত্যন্ত ধার্মিক ও দৃঢ়চেতা নারী। জীবনের কঠিন বাস্তবতা সত্ত্বেও তিনি ছেলেকে শিখিয়েছিলেন, মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস রাখাই জীবনের মূল ভিত্তি। এই শিক্ষাই পরবর্তীতে নিজামউদ্দিন আউলিয়ার আধ্যাত্মিক চিন্তা ও চরিত্রকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

ছোট্ট নিজামউদ্দিন মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি দিল্লি আসেন। সেই সময় দিল্লি ছিল জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র। এখানেই তিনি আলেমদের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ধীরে ধীরে সুফি তরিকার প্রতি আকৃষ্ট হন।

শৈশবকাল থেকেই নিজামউদ্দিন ছিলেন শান্ত স্বভাবের, চিন্তাশীল এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ে গভীরভাবে আগ্রহী। গ্রামের অন্য ছেলেদের মতো খেলাধুলার প্রতি তাঁর আকর্ষণ কম ছিল, বরং তিনি ধর্মীয় গ্রন্থ পড়া, নামাজ-কালাম চর্চা করা এবং আলেমদের সান্নিধ্যে সময় কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। 

জ্ঞানের পথে নিজামউদ্দিন

ধারণা করা হয়, ১৩ বছর বয়সেই তিনি গুরু ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশকার এর মুরিদ হন, যিনি কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকি এর শিষ্যত্বে আধ্যাত্মিক দীক্ষা লাভ করেছিলেন। কুতুবউদ্দিন আবার ছিলেন খাজা মঈনউদ্দিন চিশতির সঙ্গে সংযুক্ত, এবং এইভাবে এক ধারাবাহিক গুরু-শিষ্য সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে চিশতিয়া তরিকার মৌলিক আধ্যাত্মিক সিলসিলা। 

নিজামউদ্দিন এর বয়স যখন মাত্র ২০ বছর, তখন তিনি তাঁর গুরুর উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের পাকপাত্তান অঞ্চলে চলে যান এবং সুফি ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশকারের হাতে সরাসরি বাইয়াত গ্রহণ করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তিনবার রমজান মাসে তিনি বাবা ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশকারের দরবারে অবস্থান করেন। এখান থেকেই তিনি সুফিবাদের দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং চিশতিয়া তরিকার একজন সাধক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেন।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজামউদ্দিন হজরত ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশকারের প্রিয় শিষ্য হয়ে উঠেন । তাঁর অন্তর্দৃষ্টি, ধৈর্য এবং মানবিক প্রেমকে দেখে মুর্শিদ তাঁকে খলিফা হিসেবে মনোনীত করেন। এরপর থেকে নিজামউদ্দিন আউলিয়া চিশতিয়া তরিকার মশালকে সামনে নিয়ে এগিয়ে চলেন এবং মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার আলো ছড়িয়ে দেন।

ফরিদুদ্দিন ও নিজামউদ্দিন

পাক-ভারত উপমহাদেশে যেসব সাধক ও ওলি-আউলিয়ার মাধ্যমে ইসলাম প্রচারিত হয়েছে, তাদের মধ্যে নিজামউদ্দিন আউলিয়া অন্যতম। নিজামউদ্দিন আউলিয়া পূর্বসূরিদের মতোই প্রেম ও স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসার পথ অনুসারীদের বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলতেন, “আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ, তাই মানুষকে ভালোবাসলেই আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হন।”

চৌদ্দ শতকে জিয়াউদ্দিন বারানি নামের একজন ঐতিহাসিক দাবি করেন যে, দিল্লির মুসলমানদের ওপর নিজামউদ্দিনের প্রভাব এমন ছিল যে, দুনিয়াবি বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। তাঁর শিক্ষার ফলে, মানুষ আধ্যাত্মিক ইবাদতের প্রতি মনোযোগী এবং দুনিয়াবী চিন্তা থেকে পৃথক হয়ে পড়ে। 

নিজামউদ্দিন আউলিয়ার প্রায় ৬০০-এর বেশি শিষ্য ছিলেন। তবে সকলেই শিষ্য হতে পারেননি। একজন শিষ্যকে শিষ্য হতে হলে যোগ্য হতে হয়। তখন শিষ্যত্ব দেওয়া হতো বাইয়াত গ্রহণের মাধ্যমে, যা ছিল গুরুর হাতে অর্পিত আধ্যাত্মিক মশালকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্তি। নিজামউদ্দিন আউলিয়ার কয়েকজন বিখ্যাত শিষ্য ছিলেন নাসিরউদ্দিন চিরাগ দেহলভি, আমির খসরু, আঁখি সিরাজ আয়নায়ে হিন্দ, বোরহানউদ্দিন গরীব, জালালউদ্দিন ভান্ডারী, সৈয়দ মাহমুদ কাশকিনাকার এবং আজান ফকির প্রমুখ। 

আর এঁদের মধ্যে মধ্যে নিজামউদ্দিন এর সবচেয়ে প্রিয় শিষ্য ছিলেন আমির খসরু। তাঁর প্রতি নিজামউদ্দিনের এতটাই স্নেহ ছিল যে, একবার নিজামউদ্দিন আউলিয়া বললেন, “যদি শরিয়ত অনুমতি দিত, আমি খসরুকে আমার সঙ্গে একই কবরে সমাহিত করতে বলতাম।”

আমির খসরু ও নিজামউদ্দিন

সে সময় মধ্যযুগে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ ছিলেন আমির খসরু। তিনি কেবল গায়কই ছিলেন না, বরং একাধারে কবি, সুফি, দার্শনিক ও যোদ্ধা ছিলেন। প্রধানত ফার্সি ও হিন্দি ভাষায় তিনি গান ও কবিতা রচনা করতেন। তাঁর অসাধারণ শিল্পকর্মের কারণে ভক্তরা তাকে ‘তুত-ই-হিন্দ’ বা ‘ভারতের তোতা পাখি’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

নিজামউদ্দিন আউলিয়ার পরলোকগমনের কয়েক মাস পর আমির খসরুও পরলোকগমন করেন এবং তাকে তাঁর পীরের পায়ের কাছে সমাধিস্থ করা হয়। ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে, দিল্লিতে নিজামুদ্দিন আউলিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে সেই খানকাহের কাছেই দাফন করা হয়। ধীরে ধীরে তাঁর সমাধির চারপাশে গড়ে ওঠে একটি মাজার কমপ্লেক্স।

নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজার কমপ্লেক্স 

প্রথমে সমাধিটি ছিল খুব সাধারণ ধরনের। পরে দিল্লির বিভিন্ন সুলতান ও মুঘল সম্রাটেরা এটি সংস্কার করেন। আজকের যে চমৎকার মার্বেল নির্মিত গম্বুজওয়ালা মাজার আমরা দেখি, তা মূলত মুঘল যুগে পরিপূর্ণ রূপ পায়।

মাজারের ভেতরে ঢুকলে একধরনের ভিন্ন আবহ পাওয়া যায়। সাদা মার্বেলের ওপর খচিত নকশা আর খিলানগুলো আপনাকে মনে করিয়ে দেবে মোগল স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্য। জায়গাটা সবসময় মানুষের ভিড়ে জমজমাট হয়ে থাকে। কেউ ফুল হাতে, কেউ চাদর নিয়ে হাজির হয় এই মাজারে। ভক্তরা ভেতরে প্রবেশ করার আগে জুতা খুলে রাখে এবং মাথা ওড়না বা কাপড় দিয়ে ঢেকে নেয়।

মূল সমাধি কক্ষটি সাদা পাথরের তৈরি, তার ওপর চাদর ও তাজা ফুলে ঢাকা থাকে। সমাধির চারপাশে রেলিং দেওয়া আছে, যাতে ভক্তরা বাইরে দাঁড়িয়ে দরুদ, সূরা ফাতিহা বা দোয়া পড়তে পারে। ছাদের ভেতরকার অংশে সুন্দর ঝাড়বাতি ঝুলে থাকে, আর দেয়ালের চারপাশে ক্যালিগ্রাফিতে কোরআনের আয়াত লেখা রয়েছে। 

নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজার

নিজামউদ্দিন আওলিয়ার মৃত্যুর পর দিল্লির তৎকালীন শাসক ফিরোজ শাহ তুঘলক, দরবেশের স্মরণে একটি সমাধিসৌধ নির্মাণ করেছিলেন। যদিও সময়ের স্রোতে সেটি আর টেকেনি। পরবর্তীতে ১৫৬২-৬৩ খ্রিস্টাব্দে ফরিদ খান নামের এক ধনী ব্যক্তি, আবার নতুন একটি সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেটিই পরবর্তী কালে বর্তমান দরগাহ শরিফের রূপ নেয়।

এছাড়াও, মাজারের চারপাশে আছে অনেক ছোট ছোট কক্ষ, যেখানে দরবেশ আর খাদেমরা বসে থাকেন। তাঁরা ভক্তদের পথ দেখান, দোয়ার কাগজ লেখেন, কেউ কেউ আবার কোরআন তিলাওয়াত করেন। প্রাঙ্গণের ভেতরে সবসময় কাওয়ালি পরিবেশিত হয়। দিল্লির নিজামুদ্দিন দরগার কাওয়ালি বিশ্বজোড়া খ্যাত। সন্ধ্যার পর বিশেষভাবে এই পরিবেশ মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। 

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিজামউদ্দিনের দরগাহে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার মুসলিমসহ হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা পরিদর্শনে আসেন। প্রতি বছর আরবি ১৭ রবিউস সানি হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার ওফাতবার্ষিকী দিল্লিতে তার মাজার শরিফে পালিত হয়। 

আজও ভক্তদের মধ্যে প্রচলিত আছে, হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া আধ্যাত্মিক এলেমে এতই উঁচুস্তরের ছিলেন যে, যে কোনো সৎ নিয়তে তার দরবারে গেলে, এই ওলি-আউলিয়ার ওছিলায় মহান আল্লাহতা’লা তার মনোবাসনা পূর্ণ করে দেন। আবার, খাজা-ই-হিন্দ হজরত খাজা মঈনউদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পূর্বে দিল্লিতে হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজার শরিফ জিয়ারত করার একটা নিয়মও প্রচলিত আছে।

জালালি কবুতরের ইতিহাস

আরোও মজার বিষয় হলো, এই দিল্লির নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রহ.) আর সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর  মধ্যে রয়েছে এক ঐতিহাসিক যোগসূত্র। বাংলাদেশের সিলেটের দরগাহে গেলে যে দৃশ্যটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে তা হলো, শত শত জালালি কবুতরের উপস্থিতি। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই কবুতরগুলোর উৎপত্তি দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার (রহ.) দরবার থেকেই।

ঐতিহাসিকদের মতে, হজরত শাহজালাল (রহ.) যখন ভারতবর্ষ সফরে বের হন, তখন একসময় তিনি দিল্লিতে এসে পৌঁছান। ভ্রমণে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বহু শিষ্য ও অনুসারী। ঠিক সেই মুহুর্তেই দিল্লির আধ্যাত্মিক দরবারে খবর পৌঁছায়, দূর ইয়েমেন থেকে আগত এক মহান দরবেশ শহরে এসেছেন। খবর শুনে নিজামুদ্দিন আউলিয়া তাঁর এক শিষ্যকে পাঠালেন, শাহজালাল (রহ.)কে দরবারে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার

এরপরই ঘটে সেই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ। হজরত শাহজালাল (রহ.) যতদিন দিল্লিতে অবস্থান করেছিলেন, ততদিন তিনি তাঁর শিষ্যদের নিয়ে নিজামউদ্দিন আউলিয়ার দরবারেই থাকতেন। দুই আধ্যাত্মিক সাধকের মধ্যে তখন গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। পরে যখন শাহজালাল (রহ.) সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, বিদায়ের সময় নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রহ.) তাঁকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এক জোড়া কবুতর উপহার দেন। এই কবুতর যুগলকেই পরবর্তীতে “জালালি কবুতর” নামে ডাকা শুরু হয়। আজও সেই জালালি কবুতরের বংশধরদের দেখা যায় সিলেটের দরগাহ প্রাঙ্গণে। মনের আনন্দে উড়ে বেড়ানো এই কবুতরগুলোকে পুণ্যার্থীরা ভালোবেসে খাওয়ায়, যত্ন করে। সিলেটের মানুষের কাছে এগুলো শুধু পাখি নয়, বরং দুই মহান সূফির বন্ধনের প্রতীক।

নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.) ছিলেন প্রেম, শান্তি আর মানবতার প্রতীক। তাঁর মাজার আজও সেই শিক্ষা বহন করে চলেছে। দিল্লির ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে এমন এক জায়গা, যেখানে ঢুকলেই মনে হয় ,মানুষ আসলে ধর্ম দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়েই একে অপরের সাথে যুক্ত। এই মাজার কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়; এটি এক জীবন্ত ইতিহাস, যেখানে আধ্যাত্মিকতা আর সংস্কৃতি মিলেমিশে আছে।

রেফারেন্স:

Related posts

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট – প্যারালাল ইউনিভার্সের প্রমাণ নাকি মস্তিষ্কের ধোঁকা

ইসরাত জাহান ইরা

যেভাবে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লো পারমাণবিক অস্ত্র

পুরুষতন্ত্রের কবলে এলোকেশি: মামলার শুনানি দেখতে টিকিটের ব্যবস্থা

পুশরাম চন্দ্র

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More