Image default
যাপন

মাত্র ৫ মিনিটে স্ট্রেস কমাবেন কীভাবে? বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সহজ উপায়

বর্তমান যুগে র‍্যাট রেসের জীবনে স্ট্রেস যেন ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু ৫ মিনিটে কি এই স্ট্রেস নিয়ন্ত্রন সম্ভব?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে স্ট্রেস আমাদের জীবনের যাত্রায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সঙ্গী হয়ে ওঠে মাঝে মাঝে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পর্ক, ব্যক্তিগত ও পেশাগত দায়িত্বের চাপ আমাদেরকে সহজেই আবিষ্ট করতে পারে। কোন কারণগুলোর ফলে স্ট্রেস বেড়ে যেতে পারে সেগুলো চিহ্নিত করতে পারলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। 

আপনিও যদি এ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে থাকেন তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক, ৫ মিনিটে স্ট্রেস কমানোর উপায়-

স্ট্রেস কমানোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

বর্তমান যুগে র‍্যাট রেসের জীবনে স্ট্রেস যেন ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু ৫ মিনিটে কি এই স্ট্রেস নিয়ন্ত্রন সম্ভব?

দ্রুত স্ট্রেস মুক্তির উপায় হল- শক্তিশালী ইতিবাচক মানসিক চাপকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্য আর্জনের উদ্দেশ্যে নেতিবাচক চাপগুলোকে কমানো।

১। জোরে শ্বাস টানুন

ডিপ ব্রিদিং বা জোরে শ্বাস টানার ফলে আমাদের পেশিগুলো শিথিল হয়। এতে আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীর শান্ত হয়। কয়েকবার জোরে শ্বাস টানার পাশাপাশি কুসুম গরম পানিতে গোসল বা ঘাড় ম্যাসাজেও উপকার মেলে। শরীর ও মনের স্ট্রেস দূর হয়।

২। ডিজিটাল ডিটক্স

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমাদের জীবন যেমন সহজ করেছে তেমনি মোবাইল ল্যাপটপের মতো যন্ত্রগুলো মানসিক চাপের কারণ হয়েও দাঁড়ায়। ডিভাইস ব্যবহার কমিয়ে দিলে স্ট্রেসও কমে যায়। ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে আমাদের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে যা স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয়।

স্ট্রেস কমাতে সোশ্যাল মিডিয়া দূরে থাকা

তাই চেষ্টা করুন প্রযুক্তি নির্ভর পরিবেশ থেকে কিছুটা বিছিন্ন থাকতে , প্রয়োজন ছাড়া ডিভাইস ব্যবহার না করা।

৩। স্বাস্থ্যকর খাবার খান

খাবারের সাথে স্ট্রেসের কিন্তু খুব প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। খাদ্য তালিকায় যদি প্রসেসড ও অতিরিক্তি চিনিজাতীয় খাবার রাখেন, তবে আপনার স্ট্রেস বাড়বে। প্রোটিন ও আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীর ও মন ফুরফুরে থাকবে। সুস্থ থাকতে তাই বেশি করে সবুজ শাকসবজি, ফল, মাছ ও বাদাম খান। 

৪। ব্যায়ামের জন্য সময় রাখুন   

স্ট্রেস কমাতে কিছুক্ষণ ব্যায়াম করুন। খুব ভারি ব্যায়াম করতে হবে এমন নয়। জগিং, সাইক্লিং, সাঁতার বা পোষা প্রাণীকে নিয়ে পার্কে কিছুক্ষণ হাঁটা হতে পারে চমৎকার ব্যায়াম। এতে শরীর যেমন ভালো থাকবে, তেমনি মনও থাকবে ফুরফুরে।

৫। আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান

স্ট্রেস কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় এটি। কাজের চাপ ও ডিভাইস নির্ভরতার কারণে উচ্ছল আড্ডাটা আজকাল প্রায় হারিয়েই গেছে আমাদের জীবন থেকে। একটু সময় বের করে তাই আত্মীয়স্বজন ও প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন। সবাই মিলে ঘুরতে যান।

৬। পাওয়ার ন্যাপ

ভালোভাবে কাজ করা এবং উৎপাদনশীল হওয়ার জন্য বিশ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কখনও কখনও দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত ঘুম আপনাকে চাপ ঝেড়ে ফেলতে এবং শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে। তাই স্ট্রেস দূর করার জন্য ছোট্ট একটি পাওয়ার ন্যাপ নিতে পারেন

৭। প্রকৃতিতে সময় কাটান

আপনার আশেপাশের বাগান বা সবুজ মাঠে হাঁটাহাঁটি করে আসতে পারেন। এতে আপনার মনের ভেতরে চলতে থাকা অস্থিরতা দূর হবে অনেকটাই। বাসায় ফিরে দেখবেন, অনেকটাই সতেজ লাগছে। তাই স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে এই কাজ করতে পারেন।

প্রকৃতিতে সময় কাটানোর দৃশ্য

ঘরোয়াভাবে স্ট্রেস কমানোর কৌশল

  • প্রতিদিন বেশ কিছুক্ষণের জন্য মেডিটেশন বা ধ্যান অভ্যাস করা জরুরি। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেডিটেশন করতে পারলে সবচেয়ে ভাল। যাঁরা প্রথমবার ধ্যান শুরু করতে চলেছেন, তাঁরা ধীরে ধীরে সময়ের পরিমাণ বাড়ান। প্রথমে ৫ মিনিট দিয়ে মেডিটেশন শুরু করুন। তারপর সময় বাড়াতে হবে। যতক্ষণ বেশি সময় মেডিটেশন করতে পারবেন ততই লাভ হবে। ধীর, স্থির, শান্ত হবে আপনার মন। মেজাজ শান্ত থাকবে। স্ট্রেস সামাল দেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে। 
  • নিয়মিত যোগাসন অভ্যাস করলে স্ট্রেসের মাত্রা কমবে। শরীর, মন চাঙ্গা হবে। স্ট্রেস হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তাই প্রতিদিন সকালে অন্তত ৩০ মিনিট যোগাসন অভ্যাসের চেষ্টা করুন।
  • বাড়িতে পোষ্য বা ছোট শিশু থাকলে তাদের সঙ্গে যতটা বেশি সময় কাটানো যায়, কাটান। পোষ্য বা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটালে মন ভাল থাকে সবসময়। 
  • প্রাণোচ্ছল থাকতে পারেন এমন দীর্ঘমেয়াদি কাজ হাতে নিন। মেডিটেশন, লেখালেখি, ছবি আঁকা, গাছ লাগানো ইত্যাদি এসব কাজের তালিকায় আসতে পারে। এর মাধ্যমে স্ট্রেস থেকে দূরে থাকা যায়।
  • ইতিবাচক মানসিকতাকে কাজে পরিণত করার অভ্যাস স্ট্রেস দূর করবে। সুখী ও তৃপ্তিদায়ক কাজ করাতে উৎসাহী হয়ে উঠতে হবে। স্ট্রেসের সময় এগুলোর চর্চা ভালো ফল দেবে। কোন কাজগুলো জীবনের বিশেষ অংশের উন্নতিসাধন করে এবং যথেষ্ট ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে তা শনাক্ত করুন। এগুলোর  চর্চা অব্যাহত রাখুন।
  • স্ট্রেসের বড় একটি অংশ ফেলে দেওয়া যায় বিনোদনমূলক কাজের মাধ্যমে। এর জন্যে আগে থেকেই ব্যবস্থা রাখতে হবে আপনাকে। এমনকি অফিসের টেবিলেও এ ব্যবস্থা রাখতে পারেন। স্ট্রেসপূর্ণ কাজের পর গান শোনা বা মজার কোনো খাবার উপভোগ করার মধ্য দিয়ে স্ট্রেস সামলানো যায়।

তথ্যসূত্রঃ

Related posts

মাত্র ৭ দিনেই কালচে ভাব উধাও!! এই গরমেও ত্বক থাকবে ফ্রেশ আর উজ্জ্বল।

মিনিমাল লিভিং: কম জিনিসে কেমন করে বাড়ে সুখ?

যে বিষয়গুলো একজন পুরুষকে অনাকর্ষণীয় করে তোলে: আচরণ, অভ্যাস ও ডেটিং ভুল

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More