এখানে শায়িত আছেন আহমদ শাহ দুররানি, যাকে আধুনিক আফগানিস্তানের “জাতির জনক” বলা হয়।
আহমদ শাহ দুররানির এই মায়াবী সমাধিতে যেন মিশে আছে আধুনিক আফগানিস্তানের স্বপ্ন। নিজের হাতে এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি গড়ে তোলা মহান রাজা আজ এখানেই পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন। শত বছর পরেও এই সুন্দর স্মৃতিস্তম্ভটি পুরো আফগান জাতির ভালোবাসা আর অহংকারের এক অনন্য প্রতীক।
গল্পটা ১৭৪৭ সালের, যখন কান্দাহারকে ঘিরে শুরু হলো আহমদ শাহ দুররানির সাম্রাজ্যের রূপকথা। তাঁর মায়াবী দূরদর্শিতার ছোঁয়ায়, যুগের পর যুগ ধরে ঝগড়া করা আফগান উপজাতিরা সব রাগ ভুলে প্রথমবারের মতো এক মিষ্টি সুতোয় বাঁধা পড়ল, এক পতাকার নিচে এক হয়ে হাসল।
আহমদ শাহ দুররানির জাদুকরী নেতৃত্বেই টুকরো টুকরো আফগান মনগুলো এক হয়ে গড়ে তুলেছিল এক শক্তিশালী স্বপ্নের দেশ! আর এই কারণেই, পুরো আফগানিস্তান আজ তাঁকে ভালোবেসে একদম নিজের মানুষের মতো ডাকে—‘আহমদ শাহ বাবা’!

১৭৭২ সালের এক জুনে এই মহান রাজা চিরতরে চোখ বুজলেন তাঁরই ভালোবাসার শহর কান্দাহারে। বাবার চলে যাওয়ার পর, তাঁর লক্ষ্মী ছেলে তিমুর শাহ দুররানি বাবার স্মৃতিতে কান্দাহারের ঠিক মাঝখানে তৈরি করলেন এক রূপকথার মতো সুন্দর মাজার। এই মাজারটি যেন এক ছেলের পক্ষ থেকে তাঁর বীর বাবাকে দেওয়া সবচেয়ে আদুরে উপহার!
মাজারটির রূপ একদম সাধারণ হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক রাজকীয় শান্ত মায়া! মাথার ওপর মিষ্টি গম্বুজ আর দেয়ালের নীল-সাদার কম্বিনেশনটা দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। বিশাল খোলা উঠোনে পা রাখলেই মনটা ফুরফুরে হয়ে ওঠে। কোনো জাঁকজমক না থাকলেও, ইতিহাসের এত এত স্মৃতি বুকে নিয়ে মাজারটি সবসময় এক মিষ্টি ও আদুরে শান্তিতে ডুবে থাকে!

আহমদ শাহ বাবার এই সমাধিটি আফগানদের কাছে শুধু মাজার নয়, যেন মনের খুব কাছের একটা ভালোবাসার ঘর! এখানে পা রাখলেই তারা খুঁজে পায় নিজের ইতিহাস আর পরিচয়। কোনো হইচই নেই, চারপাশটা সবসময় এক মিষ্টি শান্তিতে ডুবে থাকে। ইতিহাসের এত গল্প বুকে নিয়ে কান্দাহারের এই সুন্দর কোণটি পুরো আফগান জাতির অহংকার আর একতার একটা মিষ্টি স্মারক!
- https://en.wikipedia.org/wiki/Kandahar
- https://whitelevy.fas.harvard.edu/old-kandahar-archaeological-reappraisal
- https://koryogroup.com/travel-guide/kandahar-afghanistan-afghanistan-travel-guide
- https://www.nomadsland.travel/en/before-you-go/afghanistan/cities/kandahar-city
- https://www.ebsco.com/research-starters/military-history-and-science/battle-kandahar

