লিয়নকে ১৯৩৫ সাল থেকেই ‘খাবারের রাজধানী’ ডাকা হয়। অবস্থা এমন যে, ওখানকার বাতাসে নাকি অক্সিজেনের চেয়ে সুস্বাদু রান্নার ঘ্রাণই বেশি পাওয়া যায়!
ফ্রান্স মানেই শুধু প্যারিস নয়! রোন ও সোন নদীর অপূর্ব মোহনায় গড়ে ওঠা ‘লিয়ন’ হলো ফরাসি আভিজাত্য, প্রাচীন ইতিহাস আর বিশ্বসেরা খাবারের এক জীবন্ত ক্যানভাস। দুই হাজার বছরের পুরনো রোমান স্থাপত্য, রেনেসাঁ যুগের রঙিন দালানকোঠা আর রহস্যময় গুপ্তপথ দিয়ে সাজানো এই শহরটি নিজেই একটি ‘ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’। তবে লিয়নের সবচেয়ে বড় জাদুকরী পরিচয় হলো এটি পুরো বিশ্বের ‘খাবারের রাজধানী’। প্রাচীন ঐতিহ্য, বর্ণিল আলোর উৎসব আর রন্ধনশিল্পের এমন নিখুঁত মেলবন্ধন ইউরোপের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া কঠিন!
ভৌগোলিক অবস্থান
লিয়ন শহরটি পূর্ব-মধ্য ফ্রান্সের ‘ওভারন-রোন-আল্পস’ অঞ্চলে অবস্থিত। শহরটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভেতর দিয়ে রোন এবং সোন নামের দুটি বড় নদী বয়ে গেছে। পাহাড়ি এবং সমতল ভূমির এক অপূর্ব মিশ্রণ এই শহরকে প্রাকৃতিকভাবেই দারুণ সুন্দর করে তুলেছে।
রোন এবং সোন নদীর মিলনের ফলে শহরের ঠিক মাঝখানে যে একটি উপদ্বীপ তৈরি হয়েছে, তাকে ফরাসি ভাষায় প্রেসকিল বলা হয়, যা লিয়নের মূল বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
আয়তন ও জনসংখ্যা
লিয়ন মূল শহরের আয়তন প্রায় ৪৭.৮৭ বর্গকিলোমিটার । আয়তনে খুব বেশি বড় না হলেও, লিয়নের বৃহত্তর শহুরে এলাকাটি জনসংখ্যার দিক থেকে ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম! লিয়ন মূল শহরে প্রায় ৫ লক্ষ ২২ হাজার মানুষের বসবাস। তবে আশেপাশের উপশহর এবং বৃহত্তর মেট্রোপলিটন এলাকা মিলিয়ে এখানে প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষের বাস।
লিয়ন ফ্রান্সের অন্যতম প্রধান একটি ‘স্টুডেন্ট সিটি’। সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এই শহরে বসবাস করে, যা শহরটিকে সবসময় প্রাণবন্ত রাখে।
ইতিহাস
লিয়নের ইতিহাস প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো। খ্রিস্টপূর্ব ৪৩ অব্দে রোমানরা ‘লুগদুনাম’ নামে এই শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এটি একসময় গল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। রেনেসাঁ যুগে এটি রেশম বা সিল্ক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লিয়ন ছিল ফরাসি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রধান ঘাঁটি।

লিয়নের পুরোনো ভবনগুলোর ভেতর দিয়ে যাওয়া গোপন সুড়ঙ্গ বা গুপ্তপথগুলোকে ‘ত্রাবুলস’ বলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের হাত থেকে বাঁচতে এবং গোপনে যোগাযোগ করতে ফরাসি যোদ্ধারা এই গুপ্তপথগুলো ব্যবহার করতেন।
অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড
অর্থনৈতিক দিক থেকে লিয়ন অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি ফ্রান্সের ব্যাংকিং, রাসায়নিক, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং বায়োটেক শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্র। বর্তমানে এটি সফটওয়্যার এবং ভিডিও গেম ইন্ডাস্ট্রির জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। ঐতিহাসিক রেশম শিল্পের কারণে লিয়নকে একসময় ‘সিল্ক ক্যাপিটাল অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ বলা হতো। আজও এখানে অত্যন্ত বিলাসবহুল সিল্কের কাপড় তৈরি হয়, যা বিশ্বের নামীদামী ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো ব্যবহার করে।
বিখ্যাত ব্যক্তি
লিয়নের মাটিতে এমন অনেক কিংবদন্তির জন্ম হয়েছে, যারা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন সিনেমা বা চলচ্চিত্রের আবিষ্কারক ‘লুমিয়ের ব্রাদার্স’, বিখ্যাত ফরাসি শেফ ‘পল বোকাস’এবং ‘দ্য লিটল প্রিন্স’ বইয়ের জনপ্রিয় লেখক ‘অ্যান্টোইন ডি সেন্ট-এক্সুপেরি’। বিদ্যুতের প্রবাহ মাপার একক “অ্যাম্পিয়ার” -এর নাম আমরা সবাই জানি। বিখ্যাত এই পদার্থবিজ্ঞানী ‘আন্দ্রে-মারি অ্যাম্পিয়ার’ লিয়ন শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন!

খাবার ও রেস্তোরাঁ
লিয়নকে বলা হয় “বিশ্বের গ্যাস্ট্রোনমিক রাজধানী” বা খাবারের রাজধানী। এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো মূলত স্থানীয় তাজা উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়। ‘বুশোঁ’ নামক ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁগুলোতে স্থানীয় ওয়াইনের সাথে ক্যুনেল বা সালাদ লিয়োনেজ-এর মতো বিখ্যাত খাবার পরিবেশন করা হয়।
লিয়নের কিংবদন্তি শেফ ‘পল বোকাস’-এর রেস্তোরাঁটি একটানা ৫৫ বছর ধরে বিখ্যাত ‘মিশেলিন ৩-স্টার’ খেতাব ধরে রেখেছিল, যা বিশ্ব রন্ধনশিল্পের ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড!

উৎসবের আমেজ
যেহেতু লিয়ন “খাবারের রাজধানী”, তাই শুধু রেস্তোরাঁয় আটকে না থেকে রাস্তায়ও খাবারের বিশাল উৎসব হয়। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে লিয়ন স্ট্রিট ফুড ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়। স্ট্রিট ফুড মানেই যে সাধারণ খাবার, তা কিন্তু নয়! বিশ্বের বড় বড় “মিশেলিন স্টার” পাওয়া শেফরা এখানে এসে নিজেদের হাতে স্ট্রিট ফুড রান্না করে দর্শকদের খাওয়ান। সাথে থাকে লাইভ কনসার্ট আর ডিজে পার্টি!
১৮৫২ সালে প্লেগ মহামারি থেকে বেঁচে যাওয়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ স্থানীয়রা ভার্জিন মেরির সম্মানে জানালার কার্নিশে মোমবাতি জ্বালিয়ে যে ঐতিহ্য শুরু করেছিলেন, আজ তা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর ডিসেম্বরের শুরুতে টানা ৪ দিন ফেত দে লুমিয়ের উৎসব চলে।
এই কয়েক দিনে লিয়নে প্রায় ৪০ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে! পুরো শহরের ঐতিহাসিক ভবনগুলোতে অত্যাধুনিক ‘থ্রিডি প্রজেকশন ম্যাপিং’ এবং লেজার শো করা হয়, মনে হয় যেন ভবনগুলো জীবন্ত হয়ে গল্প বলছে! কনকনে শীতের রাতে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে গরম ওয়াইন আর ক্রেপস খাওয়ার মজাই আলাদা।

প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে ফোরভিয়ার পাহাড়ের চূড়ায় থাকা দুই হাজার বছরের পুরোনো রোমান থিয়েটারে নুই দে ফোরভিয়ার উৎসবটি হয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরা এখানে সঙ্গীত, থিয়েটার, সার্কাস এবং নাচের পরিবেশনা করেন। খোলা আকাশের নিচে প্রাচীন পাথুরে গ্যালারিতে বসে শো দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ।
এই উৎসবের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং মজার ঐতিহ্যটি দেখা যায় শো-এর একদম শেষে। পারফরম্যান্স ভালো লাগলে দর্শকরা শিল্পীদের সম্মান জানাতে তাদের বসার সিটের কুশনগুলো সোজা স্টেজের দিকে ছুঁড়ে মারেন! হাজার হাজার কুশন যখন স্টেজে গিয়ে পড়ে, তখন এক দারুন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
দর্শনীয় স্থান
লিয়নের দর্শনীয় স্থানগুলো প্রাচীন ইতিহাস, রেনেসাঁ স্থাপত্য এবং অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। পাহাড়চূড়ার রাজকীয় ব্যাসিলিকা, ওল্ড লিয়নের রহস্যময় গুপ্তপথ ‘ত্রাবুলস’ থেকে শুরু করে দুই নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা আধুনিক জাদুঘর প্রতিটি স্থানই পর্যটকদের এক জাদুকরী অভিজ্ঞতায় মুগ্ধ করে।
ভিও লিয়ন বা ওল্ড লিয়ন
রেনেসাঁ যুগের এক জীবন্ত জাদুঘর হলো এই ‘ওল্ড লিয়ন’। রোন নদীর তীরে অবস্থিত এই এলাকাটি ইউরোপের সবচেয়ে সংরক্ষিত রেনেসাঁ পাড়াগুলোর একটি। এর আঁকাবাঁকা পাথুরে রাস্তা, রঙিন পুরোনো দালানকোঠা এবং ঐতিহ্যবাহী ক্যাফেগুলোতে হাঁটলে মনে হবে যেন আপনি কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে গেছেন।

সেন্ট-জিন ক্যাথিড্রাল
ওল্ড লিয়নের ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই বিশাল ক্যাথিড্রালটি গথিক ও রোমান স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ভেতরে থাকা ১৪ শতকের একটি জ্যোতির্বিদ্যা ঘড়ি , যা শুধু সময় নয়, চাঁদ ও নক্ষত্রের অবস্থানও নিখুঁতভাবে দেখিয়ে দেয়।
ত্রাবুলস
লিয়নের সবচেয়ে রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর স্থাপত্য হলো এই ‘ত্রাবুলস’। এগুলো মূলত দালানের ভেতর দিয়ে তৈরি করা গোপন রাস্তা বা সুড়ঙ্গপথ। শত শত বছর আগে রেশম বা সিল্ক শ্রমিকরা বৃষ্টি থেকে তাদের মূল্যবান কাপড় বাঁচাতে এবং এক রাস্তা থেকে অন্য রাস্তায় দ্রুত যাওয়ার জন্য এই গুপ্তপথগুলো ব্যবহার করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসি যোদ্ধারাও এই পথগুলো ব্যবহার করে শত্রুদের চোখে ধুলো দিয়েছিলেন।

ব্যাসিলিকা অফ নটর-ডেম ডি ফোরভিয়ার
ফোরভিয়ার পাহাড়ের চূড়ায় সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা এই ব্যাসিলিকাটি লিয়নের সবচেয়ে আইকনিক প্রতীক। ১৮৭২ সালে নির্মিত এই গির্জার বাইরের শ্বেতপাথরের রাজকীয় রূপ এবং ভেতরের চোখধাঁধানো মোজাইকের কাজ যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করে। পাহাড়ের ওপর থেকে পুরো লিয়ন শহরের এক জাদুকরী প্যানোরামিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

পন্ট বোনাপার্ট
সোন নদীর ওপর নির্মিত এই ঐতিহাসিক সেতুটি ওল্ড লিয়নকে শহরের মূল কেন্দ্রবিন্দুর সাথে যুক্ত করেছে। সূর্যাস্তের সময় এই সেতুর ওপর দাঁড়ালে একদিকে ফোরভিয়ার পাহাড়ের চূড়ায় ব্যাসিলিকা এবং অন্যদিকে নদীর শান্ত জলের যে অপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ে, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
প্লেস বেলেক্যুর
প্লেস বেলেক্যুর ইউরোপের সবচেয়ে বড় পথচারী চত্বরগুলোর মধ্যে একটি। লাল রঙের বিশাল এই চত্বরের ঠিক মাঝখানে ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুইয়ের একটি চমৎকার ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে। শহরের মূল কেনাকাটা, আড্ডা এবং হাঁটাচলার কেন্দ্রবিন্দু হলো এই জায়গাটি।
মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস
প্যারিসের বিখ্যাত ‘ল্যুভর’ মিউজিয়ামের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শিল্পকলা জাদুঘর বলা হয় মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস। ১৭ শতকের একটি পুরোনো মঠে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরে প্রাচীন মিশরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের বিখ্যাত সব চিত্রশিল্প ও ভাস্কর্যের এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।
পার্ক দে লা তেত দ’অর
কোলাহলপূর্ণ শহরের মাঝে এক টুকরো শান্তির স্বর্গ হলো পার্ক দে লা তেত দ’অর পার্ক। এটি ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ আরবান পার্ক বা শহুরে উদ্যান। এর ভেতরে একটি সুন্দর হ্রদ, বিশাল বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং একটি উন্মুক্ত চিড়িয়াখানাও রয়েছে। বিকালের শান্ত সময়ে হ্রদে নৌকা চালানো বা ঘাসে বসে সময় কাটানোর জন্য এটি স্থানীয়দের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।

মিউজিয়াম অফ কনফ্লুয়েন্সেস
ঐতিহ্যবাহী দালানকোঠার লিয়নে মিউজিয়াম অফ কনফ্লুয়েন্সেস একদম ভিন্নধর্মী এক আকর্ষণ। রোন এবং সোন এই দুই নদীর ঠিক মিলনস্থলে তৈরি করা হয়েছে বিজ্ঞান ও মানব সভ্যতার এই জাদুঘরটি। এর কাঁচ এবং স্টিল দিয়ে তৈরি চোখধাঁধানো ফিউচারিস্টিক বা ভবিষ্যৎমুখী ডিজাইন দেখলে মনে হবে যেন ভিনগ্রহের কোনো মহাকাশযান নদীর তীরে নেমে এসেছে!
লিয়ন শহরটি সম্পর্কে কিছু চমৎকার তথ্য
সিনেমার জন্মস্থান
১৮৯৫ সালে লিয়নেই ‘লুমিয়ের ব্রাদার্স’ প্রথম সিনেমাটোগ্রাফ বা চলচিত্রের ক্যামেরা আবিষ্কার করেছিলেন। তাদের হাত ধরেই লিয়নে প্রথম চলচিত্রের প্রদর্শনী হয়েছিল, তাই এই শহরকে আধুনিক সিনেমার আঁতুড়ঘর বলা হয়।
ইন্টারপোলের সদর দপ্তর
সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা বা ‘ইন্টারপোল’ -এর প্রধান কার্যালয় প্যারিসে নয়, বরং এই লিয়ন শহরেই অবস্থিত।
৪০০টিরও বেশি গোপন সুড়ঙ্গ
লিয়নে ‘ত্রাবুলস’ নামের প্রায় ৪০০টিরও বেশি লুকানো সুড়ঙ্গপথ রয়েছে। রেশম শ্রমিকরা কাপড় বহনের সুবিধার জন্য এগুলো তৈরি করলেও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের চোখ ফাঁকি দিতে ফরাসি প্রতিরোধ যোদ্ধারা এই গুপ্তপথগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করত।
‘দ্য লিটল প্রিন্স’-এর স্রষ্টার শহর
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বাধিক পঠিত বই ‘দ্য লিটল প্রিন্স’ -এর লেখক অ্যান্টোইন ডি সেন্ট-এক্সুপেরি লিয়নেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। লিয়নের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও তাঁর সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে।

ভোজনরসিকদের তীর্থস্থান
১৯৩৫ সাল থেকে লিয়নকে “বিশ্বের গ্যাস্ট্রোনমিক রাজধানী” বা খাবারের রাজধানী বলা হয়। চমকপ্রদ তথ্য হলো, ফ্রান্সের যেকোনো শহরের চেয়ে লিয়নে মাথাপিছু রেস্তোরাঁর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি!
দুই নদীর দুই রূপ
লিয়ন রোন এবং সোন নদীর মোহনায় অবস্থিত। মজার বিষয় হলো, রোন নদীর স্রোত খুব দ্রুত এবং জল কিছুটা ধূসর, অন্যদিকে সোন নদীর স্রোত শান্ত এবং জল সবুজাভ। নদীর মিলনস্থলে গেলে এই দুই রঙের পার্থক্য স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
রোমানদের প্রাচীন রাজধানী
বর্তমান ফরাসি শহর হওয়ার আগে, প্রাচীন যুগে লিয়ন ছিল রোমান সাম্রাজ্যের গল প্রদেশের রাজধানী। তখন এর নাম ছিল ‘লুগদুনাম’, যার প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে এখানকার পাহাড়ে আজও বিশাল দুটি রোমান থিয়েটারের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
Reference:

