আঙ্কারার উলুস এলাকায় বিখ্যাত হাজি বায়রাম মসজিদ অবস্থিত। এটি আঙ্কারার সবচেয়ে পুরোনো এবং গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে নামাজ পড়তে এবং এই চমৎকার জায়গাটি দেখতে আসেন। শহরের একদম পুরোনো অংশে এর অবস্থান। এর চারপাশের পরিবেশ খুব শান্ত এবং পবিত্র। আধুনিক আঙ্কারা শহরের কোলাহলের মাঝে এটি একটি চমৎকার ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থান।

এই মসজিদের ঠিক পাশেই ‘অগাস্টাসের মন্দির’ নামের একটি অত্যন্ত প্রাচীন রোমান মন্দির আছে। ইসলাম ধর্ম এবং প্রাচীন রোমান ধর্মের দুটি স্থাপনা শত শত বছর ধরে এভাবে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে, যা পৃথিবীতে সত্যিই খুব বিরল!

হাজি বায়রাম মসজিদটি ১৪২৭ থেকে ১৪২৮ সালের দিকে তৈরি করা হয়েছিল। বিখ্যাত সুফি সাধক, পণ্ডিত এবং কবি ‘হাজি বায়রাম ভেলি’-এর সম্মানে এটি বানানো হয়। তিনি তুরস্কে খুব সম্মানিত এবং পরিচিত একজন মানুষ ছিলেন। হাজি বায়রাম ভেলি শুধু একজন বড় সুফি সাধকই ছিলেন না, তিনি নিজে মাঠে কৃষিকাজ করতেন। তিনি মানুষকে নিজের হাতে ফসল ফলিয়ে খাওয়ার জন্য সবসময় উৎসাহ দিতেন। এরপর নানা সময়ে অনেক রাজা ও শাসক এই মসজিদের মেরামত করেছেন এবং একে নতুন করে সাজিয়েছেন।
তুরস্কের অন্যান্য অনেক বিখ্যাত মসজিদের মতো এর ওপরে বড় কোনো বিশাল পাথরের গম্বুজ নেই। এর গঠন একটু অন্যরকম। এটি মূলত ইট, কাঠ এবং সুন্দর টাইলস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের বাইরের দেয়ালগুলো লাল ইটের তৈরি এবং এর ছাদটি কাঠের তৈরি। ভেতরের নকশা দেখতে অনেক সুন্দর এবং চোখ ধাঁধানো। মসজিদের দেয়ালে বিখ্যাত ‘কুতাহিয়া’ টাইলস বসানো আছে। এছাড়া কাঠের ওপর খোদাই করা দারুণ সব কারুকাজ সবাইকে মুগ্ধ করে।

মসজিদের ভেতরের কাঠের কাজগুলো লোহা বা পেরেক ছাড়াই করা হয়েছে। প্রাচীন ‘কুন্দেকারি’ নামের এক বিশেষ পদ্ধতিতে কাঠের টুকরোর সাথে টুকরো জোড়া লাগিয়ে এই চমৎকার নকশাগুলো বানানো হয়।
মসজিদের দেয়াল ঘেঁষেই হাজি বায়রাম ভেলির সমাধি বা মাজার রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর ১৫ শতকেই এই সমাধিটি তৈরি করা হয়। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং জিয়ারত করতে এখানে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার এবং রমজান মাসে এখানে মানুষের অনেক ভিড় হয়। সমাধির চারপাশের পরিবেশ সবসময় খুব শান্ত থাকে। মানুষ এখানে এসে দোয়া করেন এবং মনের শান্তি খোঁজেন। এই সমাধিটি আঙ্কারার স্থানীয় মানুষদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগের একটি জায়গা।

হাজি বায়রাম ভেলির সমাধির ওপরের গম্বুজটি পুরোটা সিসা দিয়ে মোড়ানো। এবং সমাধির মূল দরজাটি মার্বেল পাথর দিয়ে খুব সুন্দর করে তৈরি করা।
মসজিদের চারপাশের এলাকাটি কিছুদিন আগে নতুন করে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। এখন মসজিদের সামনে বিশাল একটি খোলা চত্বর বা স্কয়ার রয়েছে। চারপাশের রাস্তাগুলো পাথর দিয়ে বাঁধানো। এই চত্বরের চারপাশে অনেক সুন্দর ক্যাফে, বইয়ের দোকান এবং ঐতিহ্যবাহী নানা জিনিসপত্রের দোকান আছে। মানুষ সেখানে বসে টার্কিশ চা খেতে খেতে সুন্দর সময় কাটান। রাতের বেলা যখন আলো জ্বালানো হয়, তখন মসজিদ এবং এর চারপাশের এলাকা দেখতে দারুণ মায়াবী লাগে।
মসজিদের চারপাশের চত্বরে সবসময় প্রচুর কবুতর উড়ে বেড়ায়। দর্শনার্থীরা খুব শখ করে এই কবুতরগুলোকে খাবার খাওয়ান, যা এখানকার প্রতিদিনের একটি অত্যন্ত সাধারণ ও সুন্দর দৃশ্য।
Reference:

