আমরা সকলেই প্রথম ছবিতে লেজে কালো ছোপ বর্ণের পিকাচু’কে জানি। কিন্তু, বাস্তবে পিকাচু’র লেজে এমন কোন ছোপ নাই। অর্থাৎ, কালো ছোপ বর্ণের পিকাচুর লেজটা বাস্তবিক নয়
ধরা যাক, একটি শ্রেণীকক্ষে দুই দলের মাঝে বিতর্ক হচ্ছে যে শেখ মুজিবর রহমান বঙ্গভঙ্গের পক্ষে না বিপক্ষে ছিলেন৷ অথচ, আমরা জানি শেখ মুজিবর রহমান এর জন্ম ১৯২০ সালে! আর বঙ্গভঙ্গ এবং বঙ্গভঙ্গ রদ হয়েছিলো ১৯০৫ এবং ১৯১১ তে। অর্থাৎ, বঙ্গভঙ্গের কোন বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর জড়িত থাকাটা অসম্ভব। কিন্তু, এরপরও অধিকাংশ মানুষের চিন্তায় এটার স্থান রয়েছে। তাহলে এই চিন্তাটা কেমন চিন্তা? আদৌ কি এর কোন ভিত্তি আছে?
মানুষ চিন্তাশীল প্রাণী। বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল বলেন, মানুষ হলো যৌক্তিক চিন্তাশীল প্রাণী। একটু সহজ করে বললে, প্রথমে মানুষ নিজের চিন্তা নিজই বুদ্ধি দ্বারা বিচার-বিবেচনা করে। এরপর তার যা সঠিক মনে হয় সেটাই সে গ্রহণ করে। এখন প্রশ্ন হলো, আসলেই কি মানুষ তার সব চিন্তা সঠিক ভাবে বিবেচনা করতে পারে? নাকি কিছু ভুলও হয়? অবশ্যই অনেক ভুল হয়। শুধু তাই নয়, নানা ধরনের ভুল হয়! এমন কিছু ‘ভুল’গুলোর মধ্যে একটি হলো ম্যান্ডেলা ইফেক্ট।xa0
ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কীxa0xa0
ম্যান্ডেলা শব্দটি প্রথম প্রকাশ ঘটে ২০০৯ সালে ফিয়োনা ব্রুমের হাত ধরে। তিনি দেখান যে, তিনি সহ আরও অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকা তথা পুরো বিশ্বব্যাপী অবিসংবাদিত নেতা, নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৮০ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ, তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২০১৩ সালে! এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই, তবুও কিছু সংখ্যক মানুষ কেন ভাবলেন যে তিনি ২০১৩ তে নয়, বরং, ১৯৮০ সালে মারা গিয়েছেন? এখন এটা যদি ভুলও হয় তবুও এর কিছু তো গুরুত্ব অবশ্যই আছে। এই ভ্রান্তির নামই হলো ম্যান্ডেলা ইফেক্ট।xa0
এখানে ম্যান্ডেলা শব্দটির নামকরণ করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকা তথা পুরো বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা’র নামানুসারেই। এখন বিষয় হলো, এটা কি শুধুই ভুল নাকি এর পেছনে রয়েছে কোন মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা? মনস্তত্ত্ববিদ্যা অনুসারে, এটি এমন একটি ধারণা, যেখানে, মানুষ মিথ্যা স্মৃতিকে সত্য স্মৃতি বলে মনে করে। এমন অনেক মিথ্যা বা ভুল স্মৃতি আমরা অনেক কারণেই ধারণ করি।
ম্যান্ডেলা ইফেক্টের মজার গল্পxa0
পিকাচুর লেজঃ হলুদ না কালো

উপরের ছবিতে বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র ‘পিকাচু’র ছবি দেয়া আছে। আমরা সকলেই প্রথম ছবিতে লেজে কালো ছোপ বর্ণের পিকাচু’কে জানি। কিন্তু, বাস্তবে পিকাচু’র লেজে এমন কোন ছোপ নাই। অর্থাৎ, কালো ছোপ বর্ণের পিকাচুর লেজটা বাস্তবিক নয়, বরং, কল্পনাপ্রসূত। যেটা নেই সেটা আছে বলে মনে করাই হলো ম্যান্ডেলা ইফেক্ট। এই ইফেক্ট আরও অনেক ভাবেও হতে পারে।
দুধ ও আনারস একসাথে খেলে মারা যাবে মানুষ

যেমন, বাঙালিদের মধ্যে একটা প্রচলিত ধারণা রu200dয়েছে যে, দুধ দিয়ে আনারস খেলে মানুষ মারা যায়। দুধ অতি পুষ্টিকর খাদ্য কেননা পুষ্টির সকল উপাদান এতে বিদ্যমান। অন্যদিকে, আনারস একটি ফাইবার সমৃদ্ধ, ভিটামিনযুক্ত ফল। এই দুই উপাদান একত্রে গ্রহণ করে মৃত্যু ঘটেছে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। অথচ, বাঙালি সমাজে বালক থেকে বৃদ্ধ সকলেই আজন্ম জেনে এসেছে যে, এই দুই উপাদান একত্রে গ্রহণে মানুষ মারা যায়। এখন, এই যে বদ্ধমূল ধারণা, এটি একটি ম্যান্ডেলা ইফেক্ট। আর এই ঘটনার ক্ষেত্রে ইফেক্টটি কাজ করছে মিথ্যা ফলাফল গ্রহণে। মানুষের মনেও এই মিথ্যা ফলাফলেরই একটি গ্রহণযগ্য চিত্র তৈরি হচ্ছে।
ভৌগোলিক ধারণায় ম্যান্ডেলা ইফেক্টxa0

উপরের ছবিতে নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া দেশ দু’টির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, দুটি দেশ মানচিত্রের দুই প্রান্তে অবস্থিত। কিন্তু একটা গোষ্ঠীর লোক মনে করে যে, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার ঠিক পাশেই অবস্থিত।
ম্যান্ডেলা ইফেক্টকে ভুল স্মৃতি বলা হলেও, এটা কাল্পনিক কিছু নয়। কেননা কাল্পনিক কোনকিছুর ভিত্তি সম্পূর্ণ কাল্পনিক হয়। এই যে, মনে করা যাক যে ‘হাতি আকাশে উড়ে’। এখন এটাকে বিভ্রান্তি বলা হবে নাকি কাল্পনিক বলা হবে? অবশ্যই এটি কাল্পনিক। কিন্তু, একদম পুরোপুরি কল্পনার ভিত্তিতে আমরা ম্যান্ডেলা ইফেক্টকে ধারণ করি না। ম্যান্ডেলা ইফেক্ট সুনির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্যকে অন্যভাবে ধারণ করাকে বোঝায়। আকাশকুসুম কল্পনার সাথে এর সম্পর্ক নেই।
ম্যান্ডেলা ইফেক্টের কবলে ‘মোনালিসা’
আরেকটি জনপ্রিয় ম্যান্ডেলা ইফেক্ট হলো লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি’র জগৎবিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’ কে নিয়ে। কতক ব্যক্তি মনে করেন যে, মোনালিসা’র ঠোঁটটা একটু ভাজ হয়ে আছে। যার কারণে মোনালিসা মুচকি হাসি দিচ্ছে এমন মনে হয়। কিন্তু কতক লোক মোনালিসা’র এই মুচকি হাসি দেয়াকে ভ্রান্ত স্মৃতি বলে মনে করেন।

ম্যান্ডেলা ইফেক্টের বৈশিষ্ট্যxa0
কোন স্মৃতিভ্রমটি ম্যান্ডেলা ইফেক্ট আর কোনটা ম্যান্ডেলা ইফেক্টট না, তা আমরা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবো। সেটা নির্ধারণ করার আগে আমাদের বুঝতে ম্যান্ডেলা ইফেক্টের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে হবে। ম্যান্ডেলা ইফেক্টের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. স্মৃতির ভ্রান্তি ঘটবে।
২. কোন ঘটনার সম্বন্ধে মিথ্যা ধারণা জন্মাবে।
৩. এখানে ভাষাগত দিকটাকে বাদ দেয়া হয় অথবা ভাষাগত দিকটাকে ভুলভাবে মনে রাখা হয়।
৪. উপস্থিত স্মৃতিগুলোর বিকৃতি ঘটবে।xa0
তবে, বেশিরভাগ সময়ই যেসব বস্তুর স্মৃতি ম্যান্ডেলা ইফেক্ট এর কারণে তৈরি হয়েছে তা অতটা বিভ্রান্তিমূলক হয় না। যেমন: মানব ইতিহাস। মানব ইতিহাসের মতো জটিল ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ম্যান্ডেলা ইফেক্টের কারণে রাতারাতি অন্যরকম হয়ে যায় না।
কেন আমাদের ম্যান্ডেলা ইফেক্ট হয়xa0
ম্যান্ডেলা ইফেক্টের বহুবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো, এটি স্মৃতির বিভ্রান্তি থেকে ঘটে। এখন সুনির্দিষ্টভাবে স্মৃতির বিভ্রান্তি বলি আমরা কোন ঘটনাকে? এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেয়া যাক; ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস।
কিন্তু অধিকাংশ জন ভাষা আন্দোলন বলতে শুধু ২১ এ ফেব্রুয়ারিকেই জানে। কিন্তু, বাস্তবে ভাষা আন্দোলন ১৯৪৮-১৯৫৬ সাল ব্যাপী চলেছে। এই যে পুরো ইতিহাসের মাঝে শুধুমাত্র একটা দিককেই পুরো ইতিহাস হিসাবে ধরে নেয়া, এটাও একটি বিভ্রান্তি। কিন্তু এই বিভ্রান্তি কেন মানুষ সত্য হিসাবে ধারণ করে? এর কারণ ব্যক্তি যা স্মৃতি হিসাবে ধারণ করে এর সবটাকেই সে সত্য হিসাবেই নেয়। এর মধ্যে দিয়ে কতক বিভ্রান্তিও সত্যের রূপ নেয়, আর, ব্যক্তি সেটাও সত্য মনে করে।
এই যে ব্যাক্তিগত বিভ্রান্তি বা কিছু লোকের বিভ্রান্তি, এটা কিন্তু কোন বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। আমরা সমাজে বসবাস করি। সমাজ থেকে অর্জিত বিশ্বাস, আচরণ, জ্ঞান, আইন, প্রথা ইত্যাদি নিয়েই আমাদের সংস্কৃতি। আর এ কারণেই একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিভ্রান্তি বা একটি দলের বিভ্রান্তি তখন বিশ্বাসে পরিণত হয়। কারণ, যখন অনেকজন ব্যক্তি কোনকিছুকে বিশ্বাস করে, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের প্রভাবিত করে এবং আস্তে আস্তে এই বিশ্বাস সংস্কৃতির সাথে মিশে যায়। এভাবে ম্যান্ডেলা ইফেক্ট সামগ্রিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
মস্তিষ্ক যেভাবে ম্যান্ডেলা ইফেক্ট তৈরি করেxa0
ম্যান্ডেলা ইফেক্ট আপনাআপনি তো আসেনা। অবশ্যই আমাদের মস্তিষ্ক তা ধারণ করে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কিভাবে আমাদের মস্তিষ্কে গৃহিত হয়?xa0
প্রথমত, জেনে নিই মস্তিষ্ক আসলে স্মৃতি ধারণ করে কিভাবে। যখন আমরা কোন কিছু দেখি তখন আমাদের মস্তিষ্কের অজস্র নিউরন একটার সঙ্গে আরেকটা মিলে স্মৃতি ধারণ করে। এজন্য মস্তিষ্ক অনেক স্মৃতি ধারণ করতে পারে। সংখ্যার হিসাবে তা ১০ লাখ গিগাবাইটের সমান। মস্তিষ্ক শুধু স্মৃতি ধারণই করে না, বরং, স্মৃতিগুলোর পুনর্বিন্যাসও ঘটায়। এই জন্য পরবর্তীতে স্মৃতিগুলো ধারাবাহিকভাবে স্মরণে আসে।xa0
এখন আমরা যাই মস্তিষ্কে গ্রহণ করি, তা কিন্তু হুবহু থাকে না, বরং, সময়ের সাথে কিছু স্মৃতি পরিবর্তিত হয়। এ কারণেই, যখন আমরা কোনকিছু মনে করার চেষ্টা করি, তার কিছু অংশ বিকৃত হয়ে যায়। এভাবে আমাদের মস্তিষ্ক, একটি স্মৃতির সঙ্গে অপরকে স্মৃতিকে অনায়াসে গ্রহণ করে। এভাবেই ম্যান্ডেলা ইফেক্ট আমাদের স্মৃতিতে ঢুকে পড়ে; আমরা তা বুঝতেই পারি না এবং এটাকে আমরা সত্য বলেই মেনে নিই।xa0

এছাড়াও কখনও এমন হয় যে আমরা একটা ঘটনার কিছু অংশ স্মরণ করতে পারছি, আর কিছু অংশ পারছিনা। বিস্মৃতির এই অংশে, আমাদের ব্রেইন ফাঁকা অংশ পূরণের জন্য স্মৃতিতে নতুন সামঞ্জস্যমূলক কিছুxa0 ঢুকিয়ে দেয়। এতে আমাদের স্মৃতি গঠনমূলক হয়ে যায়। এভাবেও ম্যান্ডেলা ইফেক্ট আমাদের স্মৃতিতে ঢুকে যায়।
এছাড়াও প্রতিনিয়ত আমাদের স্মৃতি অভিজ্ঞতা ভেদে পাল্টে যায়। আজ যে ঘটনাকে ঠিক বলে জানি, কাল অন্য নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের ধারণাকে বদলায়৷ এভাবে পূর্ব অভিজ্ঞতার বদলে যুক্ত হয় নতুন অভিজ্ঞতা। পুরাতনকে ডিলিট করে আমরা ক্রমশ নতুন কিছুকে স্মৃতি হিসাবে ঠাঁই দিচ্ছি।
ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কি ভয়াবহxa0xa0
মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ম্যান্ডেলা ইফেক্ট মিথ্যা বা ভুল হিসাবে সাব্যস্ত হলেও, এটা প্রতারণা বা এমন কিছুর শামিল নয়। ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কোন স্বার্থলাভের আশায় এই বিভ্রান্তিকে সত্য হিসাবে তুলে ধরে না। বরং এটি মানব মনের একটি সরল ধরণ। মানুষ স্বভাবগতভাবেই নিজের অজান্তেই এটা ধারণ করে। তবে হ্যা, ম্যান্ডেলা ইফেক্টের ফলে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীতে কোন ইস্যু তৈরি করতে পারে।xa0
যেমন: একটি রাজনৈতিক বিবাদ দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু বিচার সালিশ দরকার। এমতাবস্থায় কোন একজন ব্যক্তির স্বাক্ষ্যই প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপিত হবে এবং এটাই একমাত্র প্রমাণ। এমন যদি পরিস্থিতি দাঁড়ায় তাহলে ম্যান্ডেলা ইফেক্ট এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল কাজের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়াও, ব্যবসা বা জনশক্তির ক্ষেত্রে এটা প্রভাব বিস্তার করে। যদি এমন হয় যে ক্রেতা পণ্য বা সেবার গুণগত মান সম্বন্ধে কতক ভ্রান্ত অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তাহলে এটা বেশ নেতিবাচক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
প্যারালাল ইউনিভার্সের প্রমাণ ম্যান্ডেলা ইফেক্টxa0
প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল বিশ্ব নিয়ে বিজ্ঞানিদের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। প্যারালাল ইউনিভার্সের ধারণায় বিশ্বাস করা হয় যে, এই পৃথিবীর প্রতিরূপ আরেকটি গ্রহ আছে এবং সেখানে পৃথিবীর সকল জিনিসেরও প্রতিরূপ আছে। এমনকি যিনি এই লিখাটি পড়ছেন হুবহু তার প্রতিরূপের অস্তিত্ব আছে অন্য গ্রহে।xa0
এই প্যারালাল ইউনিভার্সের সাথে ম্যান্ডেলা ইফেক্টের একটি যোগসূত্র রয়েছে। কারণ, অনেকের মতে, যে বিভ্রান্তিকে আমরা গ্রহণ করছি, তা এই পৃথিবীতে সত্য না হলেও, অপর বিশ্বের সত্য হতে পারে। অর্থাৎ, আমাদের পৃথিবীতে নেলসন ম্যান্ডেলা হয়তো ১৯৮০ সালে মারা যাননি, কিন্তু, এমনটা হতে পারে যে, তিনি ১৯৮০ তেই মারা গিয়েছেন; কিন্তু সেটা অন্য বিশ্বে। এভাবে, প্যারালাল ইউনিভার্সে যারা বিশ্বাস করে তারা ম্যান্ডেলা ইফেক্টকেও একসাথে গ্রহণ করে।
কোয়ান্টাম ফিজিক্সে প্যারালাল ইউনিভার্স ও ম্যান্ডেলা ইফেক্ট
কোয়ান্টাম ফিজিক্স এর মতে, এই পৃথিবী ব্যতিত আরও অসংখ্য প্যারালাল ইউনিভার্স রয়েছে এবং সমস্ত মহাবিশ্বের প্রকৃতি হলো হলোগ্রাফিক। যদি এই ধারণা সত্য হয়, তবে, বিভিন্ন ইউনিভার্সের মানুষের একই রকম স্মৃতি থাকতে পারে। কেননা, এখানে টাইমলাইন পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও, কোয়ান্টাম ফিজিক্সের কাছে যেহেতু সকল ছোট-বড় বস্তু পরিচালনা করবার নীতি আছে, সেহেতু, ম্যান্ডেলা ইফেক্ট নিয়েও এটি কাজ করতে পারে। কোয়ান্টাম ফিজিক্সকে একটি গাছের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এখানে এই গাছের আছে অনেক শাখা-প্রশাখা এবং প্রতিটি শাখাই গাছের নিজস্ব। অর্থাৎ, প্রতিটি ইউনিভার্স এখানে একটার সাথে আরেকটি যুক্ত। এই মহাবিশ্বের অদলবদলের কারণে ম্যান্ডেলা ইফেক্ট হতে পারে। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, কোয়ান্টাম তত্ত্ব যে সত্যি এর প্রমাণই হলো ম্যান্ডেলা ইফেক্ট। বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়, আর ম্যান্ডেলা ইফেক্ট তার মাঝে জায়গা করে নেয়।
মনোবিজ্ঞানে ম্যান্ডেলা ইফেক্টxa0
মনোবিজ্ঞানের মতে, কখনও কখনও ম্যান্ডেলা ইফেক্টকে ‘Deja Vu’ এর সাথে তুলনা করা হয়। Deja Vu বলতে এক কথায় বোঝায় ‘পূর্বপরিচিত‘। ধরা যাক, আপনি একটি নতুন জায়গায় গেলেন। কিন্তু সেখানে যাবার পর আপনার অদ্ভুত অনুভূতি হতে লাগলো। আপনার মনে হওয়া শুরু করলো যেন এই জায়গা আপনার বহু বছরের চেনা। এর আগেও আপনি এখানে এসেছেন এবং একই কাজ করেছেন। এমন ঘটনাকে deja vu বলে।
এখানে, ম্যান্ডেলা ইফেক্ট ব্যক্তিদের এক স্মৃতিকে অন্যভাবে মস্তিষ্কে জমা রাখে। বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দুনিয়ার প্রায় ৬০%-৮০% মানুষ কম বেশি এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। Deja Vu এর ক্ষেত্রে বর্তমান বিষয়ের সাথে পুরানো স্মৃতিকে অযথা যুক্ত করে ফেলে মস্তিষ্ক। অন্যদিকে, ম্যান্ডেলা ইফেক্টও স্মৃতির সহিত বিভ্রান্তিকে যুক্ত করে। এভাবে দুটির মধ্যে সাদৃশ্যতা দেখা যায়।
উপসংহারxa0
অনেক গবেষক, তত্ত্ববিদ এবং সাধারণ চিন্তাশীল মানুষ কয়েক দশক যাবৎ যৌথ জ্ঞানীয় অসঙ্গতি এবং ম্যান্ডেলা ইফেক্ট নিয়ে সত্যানুসন্ধান করছেন। ম্যান্ডেলা ইফেক্টের একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়, যার নাম International Mandela Effect Conference বা (IMEC)। এখানে বিভিন্ন মানুষের উপর ম্যান্ডেলা ইফেক্টের কারণ এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হয়। আশা করা যায়, এই গবেষণার পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এবং ম্যান্ডেলা ইফেক্টের রহস্য সমূলে উদঘাটন হবে।
xa0রেফারেন্স লিংক:
1.https://www.verywellmind.com/what-is-the-mandela-effect-4589394
2.https://www.britannica.com/science/Mandela-effect
3.https://www.techtarget.com/whatis/definition/Mandela-effect

