Image default
ক্রীড়াবিদজীবনীফুটবল

মার্ক গুয়েহি: ফুটবলার পরে, আগে চার্চের কিউট ড্রামার!

গুয়েহির বাবা জন গুয়েহি লন্ডনের একটি স্থানীয় চার্চের মিনিস্টার বা যাজক। সেই সূত্রে কড়া ধর্মীয় অনুশাসনে বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় চার্চে নিয়মিত ড্রামস বাজাতেন গুয়েহি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার পরিবারে প্রথম গুরুত্ব ছিল ধর্মের, দ্বিতীয় শিক্ষা এবং ফুটবল ছিল তৃতীয় স্থানে! 

মার্ক গুয়েহি চেলসির বিশ্ববিখ্যাত একাডেমি ‘কোভহাম’ থেকে উঠে এসেও যখন মূল দলে জায়গা না পেয়ে অবহেলার শিকার হতে হয়েছিল, তখন অনেকেই হয়তো হারিয়ে যেতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন লড়াইয়ের কঠিন পথ। চেলসি ছেড়ে ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দেওয়ার সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ তাকে নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা এই ইংলিশ ডিফেন্ডারের কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং রাজকীয় আত্মপ্রকাশের গল্প জানতে পড়তে থাকুন। 

মার্ক গুয়েহি’র ব্যক্তিগত তথ্য:

নাম

অ্যাডজি কেনিনকিন মার্ক-ইসরায়েল গুয়েহি

জন্ম

১৩ জুলাই ২০০০ (বয়স ২৫)

জন্মস্থান

আবিজান , আইভরি কোস্ট

উচ্চতা

৬ ফুট ০ ইঞ্চি (১.৮৩ মিটার)

পজিশন

সেন্টার-ব্যাক

ক্লাব ক্যারিয়ার

চেলসি, সোয়ানসি সিটি, ক্রিস্টাল প্যালেস এবং বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবের হয়ে খেলছেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

২০২২– ইংল্যান্ড

মার্ক গুয়েহি – Image Source:onefootball.com

২০০০ সালের ১৩ জুলাই আইভরি কোস্টের আবিদজানে জন্মগ্রহণ করেন আদিসনমাইক মার্ক জেমেরি গুয়েহি। তবে তার বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন তার পরিবার উন্নত জীবনের আশায় লন্ডনে চলে আসে। লন্ডনের একটি ধার্মিক পরিবারে বড় হওয়া গুয়েহির ফুটবলের হাতেখড়ি হয় স্থানীয় ক্লাব ক্রে র্যান্ডালসে।

মাত্র বছর বয়সে তিনি চেলসির বিশ্ববিখ্যাত কোভহাম একাডেমিতে যোগ দেন। চেলসির অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে তিনি ২০১৭ সালে ঐতিহাসিক কোয়াড্রপল (চারটি ট্রফি) জিতেন। চেলসির মূল দলে বেশি সুযোগ না পেলেও সোয়ানসি সিটিতে ধারে দুই মৌসুম খেলে তিনি নিজেকে প্রাপ্তবয়স্ক ও পেশাদার ফুটবলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করেন।

মার্ক গুয়েহি চেলসির অনূর্ধ্ব-১৮ দল – Image Source:thesun.co.uk

২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দেন মার্ক গুয়েহি। চেলসি ছেড়ে আসার এই সিদ্ধান্তটিই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্যালেসে আসার পর থেকে তার পারফরম্যান্সের গ্রাফ কেবল উপরের দিকেই গেছে।

মাঠে তার শান্ত স্বভাব, পরিপক্কতা এবং অসাধারণ ম্যাচ রিডিং দেখে তৎকালীন কোচ প্যাট্রিক ভিয়েরা তাকে দলের সহ-অধিনায়ক বানিয়ে দেন। মাত্র ২২-২৩ বছর বয়সেই তিনি নিয়মিত ক্রিস্টাল প্যালেসকে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন এবং প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ও ধারাবাহিক সেন্টার-ব্যাক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

আন্তর্জাতিক স্তরে মার্ক গুয়েহি একজন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ফিল ফোডেন, জ্যাডন সানচোদের সাথে তিনি ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জয় করেছিলেন ।

মার্ক গুয়েহি অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জয় – Image Source:telegraph.co.uk

জাতীয় দলে তার আসল অগ্নিপরীক্ষা হয় জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০২৪-এ। পুরো টুর্নামেন্টে জন স্টোন্সের সাথে তার রক্ষণাত্মক জুটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। বিশেষ করে তার নিখুঁত ট্যাকলিং এবং আকাশপথে বল কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোর ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।

ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন উত্তর আমেরিকায়, আর এই মহামঞ্চে ইংল্যান্ড দলের বিশ্বজয়ের স্বপ্নে রক্ষণভাগের সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড হলেন মার্ক গুয়েহি। ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ হচ্ছে জন স্টোন্স এবং মার্ক গুয়েহি জুটি। 

Reference:

Related posts

অলিভার বাউম্যান: ৩৬ বছরের জার্মানি ডেব্যুট্যান্ট

ব্র্যাডলি বারকোলা: গতি, স্কিল আর ১২ সেকেন্ডের ম্যাজিক!

আলবার্তো আকোস্তা: আর্জেন্টিনার নীরব হিরোর গল্প

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More