“ম্যানগ্রোভ উদ্ভিত, ভয়ঙ্কর রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হাজার হাজার বন্য প্রানী ও পাখি; এমন শান্তিময় একটি পরিবেশ আর কোথাও না, শুধু মাত্র সুন্দরবনেই পাওয়া যাবে।”xa0
নোনা জলের ধার ঘেষে হাজার হাজার গাছ। আর সেই গাছের ডালে গান গেয়ে ঘুরে ফিরে দেশি-বিদেশি নাম না জানা হাজার রকমের পাখি! ঠিক এই খানেই আবার বানর, হরিণ এর বন্ধুত্বের সামনে হার মানে বাঘের চালাকি। বুঝতেই পারছেন, কথা বলছি সৌন্দর্য্যের স্বর্গরাজ্য সুন্দরবনকে নিয়ে।xa0
সুন্দরবন, ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে এই বন স্বীকৃতি লাভ করে। জীব ও বৈচিত্র্যপূর্ণ এই বনকে ‘উদ্ভিদ জাদুঘর’ বললেও কম হয়ে যায়। এখানে প্রতিনিয়ত চলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মায়া-খেলা। আর তা দেখার জন্যই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে অসংখ্য মানুষ।
সুন্দরী গাছের সৌন্দর্যকে কাটিয়ে উঠতে না পারায়, এ বনের নামকরন হয়েছে সুন্দরবন। তবে অনেকের মতে স্থানীয়রা ‘’চন্দ্র-বান্ধে’’ নামে ডাকতো এ বনকে। কালের বিবর্তনে এর নাম হয়েছে সুন্দরবন।xa0
রহস্যময় সুন্দরবন

সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি এই বনটি রহস্যময়ও বটে। এই বনকে ঘিরে লোকমুখে প্রচলিত আছে নানা প্রকারের মিথ। এর মধ্যে একটি হলো ‘বনবিবি’র গল্প। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য সুন্দরবনের আশেপাশে বসবাসকারী হিন্দু- মুসলিম বর্ণ শেষে সকলেই বিভিন্ন উপায়ে বনবিবির সন্তুষ্টি অর্জনে উৎসব পালন করে থাকে।xa0
বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবার সমগ্র সুন্দরবন অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই জঙ্গল এসে একত্রিত হন। আর তারপর সারাদিন ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই উৎসব পালন করে থাকেন।
হিন্দুরা মনে করেন মা-বনবিবি হলেন চন্ডীর এক রূপ, অপরদিকে মুসলমানেরা মনে করেন বনবিবি হলেন তাদের আল্লাহ প্রেরিত অসহায় জীবনের রক্ষক।xa0
সুন্দরবনের অবস্থানxa0xa0
এটি বাংলাদেশের ব-দ্বীপ অঞ্চল এবং ভারতে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বিস্তৃত। তবে, সৌভাগ্যবশত ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,৫১৭ বর্গ কিলোমিটার বা (৬৬% রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ ৩৪% ভারতের অংশে।
বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট ও বরগুনা জেলার অংশ জুড়ে সুন্দরবন অবস্থিত। এ বনের বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ মূলত একই নিরবচ্ছিন্ন অঞ্চল।xa0
সুন্দরবনে যাবার জন্য, প্রথমে যেতে হবে খুলনা বাগের হাটের মংলায় অথবা সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায়। হাতে সময় কম থাকলে একদিনেই মংলা থেকেই ঘুরে আস্তে পারেন করমজল ও হাড়বাড়িয়া।xa0xa0
ম্যাপ
পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের সৌন্দর্য
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনগুলির মধ্যে একটি হলো সুন্দর বন। ম্যানগ্রোভ হ’ল শক্ত গুল্ম এবং গাছ, যা নোনা পানিতে জন্মায়। এদের বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতা রয়েছে, যার সাহায্যে তারা সামুদ্রিক উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত পানিতে বেঁচে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় তারা লবণাক্ত পানির উপরে শ্বাসমূল তৈরি করে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে বেঁচে থাকে।
সুন্দরবনে একশোরও বেশি প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছ রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি ম্যানগ্রোভ গাছ হলো- সুন্দরী (Heritiera fomes), গরান, গেঁওয়া (Excoecaria agallocha), কেওড়া (Sonneratia apetala), গোলপাতা, ইত্যাদি। এই বনে সাধারণত এই গাছ গুলোই বেশি জন্মায়। সুন্দরবনে ভ্রমণে সময় প্রকৃতির এই অদ্ভুত রহস্যলীলা দেখার সুযোগ থাকবে।

সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারxa0xa0

এ বনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। জেনে অবাক হবে, এই হলুদের মধ্যে কালো রঙের ডোরা কাঁটাxa0 রয়েল বেঙ্গল শুধু মাত্র সুন্দর বনেই দেখতে পাওয়া যায়। যদিও বনের রাজা খ্যাত এই প্রাণীটি অধরা। তবে ভাগ্য প্রসন্ন হলে আপনার চোখেও পড়তে পারে প্রকৃতির এই অপরুপ নিদর্শন।xa0

অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে সুন্দরবনে রয়েছে কুমির, হরিণ, বন্য শুকর, ডলফিন এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এই সবপ্রাণীদের এই বনে প্রায় ঘন ঘন দেখা যায়।xa0

এই দৃশ্যগুলো দেখার জন্য আপনাদের অবশ্যই ভোরবেলা তৈরি থাকতে হবে। সুন্দরবনের শান্ত, কুয়াশা ঢাকা জলপথে একটি নির্মল পরিবেশে ঘুরতে ঘুরতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে এখানে। আর অবশ্যই নদীর তীরে নোনা জলে কুমিরের সূর্যস্নান বা ডলফিনের বিরল দৃশ্য দেখার জন্য আপনার ক্যামেরা প্রস্তুত রাখুন।

১৯৯৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ ও ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণীর বসবাস রয়েছে। ২০১৫ সালের বাঘ শুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি। আর ২০১৮ সালের শুমারিতে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪। আর ২০১৮ সালে বন বিভাগের জরিপ অনুযায়ী, ইরাবতি ডলফিন আছে ১১৩টি ও শুশুক ১১৮টি। সুন্দরবনকে পাখিদের অভয়ারণ্য বলা হয়। এই স্থানে ২৫০টিরও বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে।
সুন্দরবনের দর্শনীয় ভ্রমণ স্থানxa0

বিশাল একটি অঞ্চল জুড়ে সুন্দরবনের বিস্তার হলেও, বন বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটেই ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত সুন্দরবন ঘুরে দেখা যায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরগুনা দিয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি পর্যটক এর আনা গোনা রয়েছে খুলনা ও বাগেরহাটের মোংলা দিয়ে।xa0

খুলনা ও মোংলা থেকে ভ্রমণের জন্যে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে রয়েছে করমজল, হাড়বাড়িয়া, কছিখালি, কটকা, জামতলা, হিরন পয়েন্ট ও দুবলার চর।
করমজল
মোংলা হতে সবচেয়ে কাছে অবস্থিত করমজল। এটি মুলত বন বিভাগের হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র। সুন্দরবনের গহীনে যদি পশু–পাখি দেখার সুযোগ না হয়ে থাকে, তবে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটবে করমজলে।xa0
এখানে আছে বনের ভিতর দিয়ে যাওয়া কাঠের পুলের ট্রেইল ও ওয়াচ টাওয়ার, হরিণ, কুমির, বানরসহ নানা প্রজাতির গাছ গাছালি। এছাড়াও, জেলেদের মাছ ধরার বিশাল কর্মযজ্ঞ এই পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের অতিরিক্ত প্রাপ্তি হতে পারে।

হাড়বাড়িয়া
হাড়বাড়িয়া সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটন স্থান। যারা একদিনের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণে যেতে চান তাদের জন্য হাড়বাড়িয়া আদর্শ জায়গা।xa0
এখানে প্রায়ই লোনা পানির কুমির দেখা যায়। তবে, কুমির দেখার জন্য ভালো সময় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই সময়ে রোদ পোহাতে কুমিরগুলো খালের চরে শুয়ে থাকে।xa0

এছাড়াও হাড়বাড়িয়ায় সুন্দরনের মায়া হরিণেরও দেখা মেলে। পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় খুব কাছে থেকে এই স্থানে হরিণ দেখারxa0 সুযোগ মিলবে। এখানকার হরিণগুলো একেবারেই বন্য নয়। তারা অনবরত মানুষের সঙ্গ পায় বলে বনের ধারেই বিচরণ করে। এছাড়াও এখানে বিরল প্রজাতির চিত্রা হরিণও দেখা যেতে পারে। হাড়বাড়িয়ায় বাঘের দেখা না পেলেও এখানে বাঘের পায়ের ছাপের দেখা মিলবে।xa0
মোংলা থেকে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এখানের মূল আকর্ষণ বনের ভিতর দিয়ে যাওয়ার কাঠের ট্রেইল। পুরো ট্রেইলটা ঘুরে আসতে ৩০ মিনিটের মত সময় লাগে। এখানে একটি পদ্মপুকুর ও ওয়াচ টাওয়ার আছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে থেকে পুরো হাড়বাড়িয়া দেখা যায়। বনের ভিতরের কাঠেরপুল দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যে কারোরই অ্যাডভেঞ্চার ও শিহরণ জেগে উঠতে পারে।
কটকা
বঙ্গোবসাগরে কোল ঘেষে, মংলাবন্দর থেকে প্রায় ৯০কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য। এখানে বন বিভাগের একটি রেস্ট হাউস আছে। সামনেই দেখা যায় সাগরের অথৈ জল রাশির বিশাল বিশাল ঢেউ। এর আশপাশে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় খাল। এসব খালে নৌকা নিয়ে ভ্রমন খুবই মজাদার। প্রকৃতির রূপ ও বিচিত্র রহস্যময় অভিজ্ঞতা অর্জনের এক অপুর্ব সুযোগ।xa0
এই স্থানের সবচেয়ে চমৎকার বিষয়টি হলো, এখানে দেখা মিলবে বন্য হরিণ দলের সাথে। এছাড়া রয়েছে বানর, উদবিড়ালxa0 ও বন মোরগ। মাঝে মাঝে বাঘের গর্জনও শোনা যায়। অন্ধকার রাতেxa0 এই স্থানে লক্ষ কোটি জোনাকীর আলোর মেলা যে কাউকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে তুলবে।xa0
সব মিলিয়ে কটকা একটি অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করার স্থান। এখানেও আছে বনের ভিতর দিয়ে একটি কাঠের ট্রেইল। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে ট্রেইল ধরে মিনিট ১৫ হাটলেই দেখা যাবে হরিণের দল।xa0xa0
কটকা বিচ

বন আর সাগরের মিলন সন্ধি এই কটকা বিচ। কটকা পয়েন্ট এর ট্রেইল ধরে আরও কিছুদূর হাঁটলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে কটকা সমুদ্র সৈকতে। এইখানে আসলে বঙ্গোপসাগরের দেখা মিলবে। কটকা সি বিচ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর। এখানে বেলাভূমি জুড়ে ঘুরে বেড়ায় অসংখ্য লাল কাঁকড়া। প্রথম দর্শনে যেন মনে হয় কোন শিল্পীর আঁকা থাকে লাল কাঁকড়াxa0 শিল্পকর্ম।

জামতলা সৈকত
কটকার কাছেই জামতলা। এখানে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। সুন্দরবনের সৌন্দর্য্যের কিছুটা অংশে একসাথে চোখ বুলাতে চাইলে এই টাওয়ার হতে পারে আদর্শ স্থান।xa0 বাঘেরxa0 দেখা পেতে চান? ভাগ্য ভাল থাকলে এখানেই বাঘের দেখা পেয়ে যেতে পারেন। জামতলা ঘাট থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পায়ে হাঁটা পথে গেলে দেখা যাবে জামতলা সি বিচের।
মান্দারবাড়িয়া সৈকত
মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের কিছুটা অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত বলে মনে করা হয়। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। মান্দারবাড়ি যেতে হলে সাতক্ষীরা দিয়ে সুন্দরবন যেতে হবে।
হীরন পয়েন্ট

সুন্দর বনের এই স্থানেও মাঝে মাঝে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলতে পারে। এই স্থানটির আরেক নাম নীলকমল। হীরণ পয়েন্ট ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী একটি স্থান।xa0
এখানে দেখা পাওয়া যায় চিত্রা হরিণ, বন্য শুকর; পাখিদের মধ্যে আছে সাদা-বুক মাছরাঙা, হলুদ-বুক মাছরাঙা, কালো-মাথা মাছরাঙা, লার্জ এগ্রেট, কাঁদা খোঁচা, ধ্যানী বক প্রভৃতি। এছাড়া স্থানটিতে প্রচুর কাঁকড়ার বিচরণ রয়েছে। আরও আছে রঙ-বেরঙের প্রজাপতি। হীরণ পয়েন্ট থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে কেওড়াসুঠিতে রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার।
দুবলার চর

সুন্দরবন এলাকার মধ্যে ছোট্ট একটি চর হচ্ছে দুবলার চর। দুবলার চরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। এ নদীর নাম পশুর নদী যার অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি- এই পাঁচ মাস প্রায় ১০ হাজারের মত জেলে সাময়িক বসতি গড়ে সেখানে। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শুকানোর কাজ। দুবলার চর হরিণের জন্য সর্বাধিক সুপরিচিত।
মৎস্যজীবী জেলে পল্লী হিসেবে পরিচিত দুবলার চর। এছাড়াও প্রতি বছর কার্ত্তিক মাসে (নভেম্বর) দুবলার চরে তিন দিন ব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়। শত বছরের পুরনো এই রাসমেলা উপভোগ করবার জন্যে দূর-দূরান্ত থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা ছুটে আসেন।xa0
বিচ্ছিন্ন এই দুবলার চরের রাশমেলা দেখার ইচ্ছে থাকলে আগে থেকেই পরিকল্পণা করে রাখুন। এই অভিজ্ঞতা আজীবন মনে থাকবে আপনার।
সুন্দরবনে যাবার উপযুক্ত সময়
কথায় আছে,xa0 ‘মাঘের জারে, বাঘ কাঁদে’। এই প্রবাদের সত্যতা কতটুকুন তা হয়তো জানা নেই, তবে শীতকাল সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য আসলেই উপযোগী। আর তাই, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস সুন্দরবন ঘুরে দেখার জন্যে উপযুক্ত সময়। শীতকালে নদী ও সমুদ্র প্রায় শান্ত থাকে, আর তাই এসময় ঝামেলাহীন ভাবে সকল দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা সম্ভব হয়।xa0
তবে, খুলনা ও মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছে করমজল ও হারবাড়িয়া বছরের যে কোন সময় একদিনেই ঘুরে দেখা যায়। কিন্তু, মূল সুন্দরবনের স্বাদ পেতে হলে বনের গহীনের স্থান গুলোতেই যেতে হবে।
xa0সুন্দরবন ট্রাভেল প্যাকেজxa0

ভ্রমণ পিপাষু মানুষদের জন্য বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি গুলো সুন্দরবন নিয়ে নানা ধরনের প্যাকেজের ব্যাবস্থা করে থেকে। মূলত সুন্দরবন ভ্রমণ এর খরচ নির্ভর করে জাহাজ ও খাবারের মান, কি কি ঘুরে দেখাবেন ও কতদিনের ট্যুর তার উপর।xa0
মোটামুটি মানের শিপে ঘুরতে জন প্রতি খরচ হবেঃ ৬০০০-১৪০০০ টাকা।xa0আর বিলাসবহুল টুরিস্ট ভ্যাসেলে (AC Luxury Cruise Ship) ভ্রমণ করতে চাইলে খরচ হবেঃ জনপ্রতি ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা।xa0প্যাকেজ গুলো সাধারণত ২ রাত ৩ দিন অথবা ৩ রাত ৪ দিনের হয়ে থাকে।
আপনারা যদি একসাথে ৩০-৪০ জনের মত হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে নিজেরাই একটা লঞ্চ বা শিপ ভাড়া করতে পারেন। এক্ষেত্রে খরচ নির্ভর করবে কোন ধরনের সার্ভিস আপনি পেতে চান তার উপর।
সুন্দরবনে কোথায় থাকবেন ভাবছেনxa0
বর্তমানে মোংলায় সুন্দরবন থাকবার জন্য বেশ কিছুxa0 আধুনিক ইকো ফ্রেন্ডলি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। যে গুলোতে প্রায় সারাবছরই থাকা যায়। জনপ্রিয় এই রিসোর্ট গুলো আশেপাশে ঘুরে দেখার সুব্যবস্থা রেখেছে । আপনি যদি আরাম আয়েশ করে সুন্দরবনের প্রকৃতি উপভোগ করতে চান তাহলে চলে যেতে পারেন রিসোর্ট গুলোতে।

এছাড়াও আপনি চাইলে প্রকৃতির এই সবুজ মনোরম পরিবেশ উপভোগ করবার জন্য শিপে বা লঞ্চেই থেকে যেতে পারেন।xa0
মোংলায় থাকার জন্যে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল আছে। পশুর বন্দরে পর্যটকদের থাকার জন্য কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। তাছাড়াও খুলনা শহরটিতে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

সর্বপরি বলতে চাই ,সুন্দরবন একটি সূক্ষ্ম ইকোসিস্টেম। পরিবেশের বিভিন্ন প্রভাব কমানোর জন্য সর্বদা সকল নির্দেশিকা অনুসরণ করুন—আবর্জনা এড়িয়ে চলবেন, নির্ধারিত পথে এগিয়ে যেতে থাকুন এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও মানুষকে সম্মান করবেন।
সুন্দরবন ভ্রমণ টিপস
- xa0 সুন্দরবন লোকালয় থেকে দূরে হবার কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না। কিছু জায়গায় শুধুমাত্রxa0 টেলিটক নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।
- xa0 শিপে উঠার আগেই প্রয়োজনীয় সবকিছু সাথে নিয়ে উঠুন।
- xa0 নিরাপদ খাবার পানি সাথে রাখুন।
- xa0 প্রয়োজনীয় ঔষধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিসপত্র সাথে রাখুন।
- xa0 শিপ/প্যাকেজ বুকিং এর আগে সেই এজেন্সি সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন।
- xa0 কোন শীপে/লঞ্চে নিয়ে যাবে তা আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন।
- xa0 ভ্রমণ খরচ কমাতে চাইলে বিশেষ ছুটির দিন গুলো এড়িয়ে চলুন।
- xa0 সাথে করে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের কপি রাখুন।
- xa0 বাজেট নিয়ে সমস্যা না থাকলে লাক্সারী শিপে ভ্রমণ করতে পারেন।
- xa0 ট্যুর গাইডের কথা মেনে চলুন।
- xa0 বনে ঢুকার সময় একসাথে থাকুন।
- xa0 অভিজ্ঞ একজন ট্যুর অপারেটরের ব্যবস্থা করুন।
- xa0 সকল নির্দেশিকা মেনে চলুন

