ইউক্রেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গম উৎপাদনকারী দেশ। তাই, দেশটিকে বলা হয় ‘ইউরোপের রুটির ঝুড়ি’। রাশিয়ার পর ইউরোপের বৃহত্তম দেশ হচ্ছে ইউক্রেন।
ইউক্রেন, ইউরোপের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দেশ। একসময় এটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি অংশ, তবে বর্তমানে এটি একটি স্বাধীন ইউরোপীয় দেশ। দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একে ইউরোপের অন্যতম সুন্দর দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেছে। আমরা ইউক্রেনকে চিনি উর্বর ভূমি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে। আর তাই হয়তো ইউক্রেন বারবার বিভিন্ন দেশের আক্রমণের শিকার হয়েছে।xa0
| রাজধানী | কিয়েভxa0 |
| সরকারি ভাষা | ইউক্রেনীয় |
| জনসংখ্যা | ৪ কোটি ৩৬ লক্ষxa0 |
| মোট আয়তন | ৬ লক্ষ ০৩ হাজার ৬২৮ বর্গ কিলোমিটার |
| মুদ্রা | ইউক্রেনীয় রিভনিয়া |
| সময় অঞ্চল | UTC + 2 |
ইউক্রেনের নামকরণxa0
ইউক্রেন শব্দটির উৎপত্তি “ক্ল্যপ্ল্যাভিক ক্র্যাজ বা ক্রাজনা” ভাষা হতে। যার অর্থ ভূমি বা দেশ। অধিকাংশ গবেষক ও ইতিহাসবিদের ধারণা অনুযায়ী, আধুনিক ইউক্রেন নামটি ‘ইউক্র্যাইনা’ শব্দ থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যার অর্থ সীমান্ত বা সীমান্ত ভূমি।
রুশ ভাষায় ‘উকরাইনা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শহরতলী আর ‘ক্র্যাজ’ শব্দের অর্থ সীমান্ত জেলা। তাই অনেকের ধারণা, রাশিয়ান উকরাইনা শব্দ থেকেxa0 ইউক্রেন নামের উৎপত্তি হয়েছে।
ইউক্রেনের অবস্থান
রাশিয়ার সীমান্তে অবস্থিত ইউক্রেনের ভূপ্রকৃতি প্রধানত উর্বর সমভূমি এবং মালভূমি নিয়ে গঠিত। দক্ষিণের কালো সাগর ও আজভ সাগরে প্রবাহিত হাওয়া নদীগুলোর মধ্যে ডিনিপার, সেভারস্কি ডোনেটস, এবং ডিনিস্টার উল্লেখযোগ্য।
ইউক্রেনের ভূপ্রকৃতি উল্লেখযোগ্য কিছু উচ্চভূমি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এসব উচ্চভূমি অঞ্চল গুলোর মধ্যে রয়েছে কার্পাথিয়ান পর্বতমালা এবং ক্রিমীয় পর্বত। এছাড়া ভোলিন-পডিলিয়া এবং নিয়ার-ডিনিপ্রো এলাকা গুলোতে আরো অন্যান্য উচ্চভূমি দেখা যায়।xa0
ম্যাপ
আয়তন ও জনসংখ্যাxa0
আয়তনের দিক থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার পরে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। যার আয়তন ৬,০৩,৬২৮ বর্গকিলোমিটার (২৭,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ক্রিমিয়া অঞ্চলসহ)। দেশটিতে প্রায় ৪ কোটি ৩৬ লক্ষ অধিবাসীর বসবাস। ফলে এটি ইউরোপ মহাদেশের ৮ম সর্বোচ্চ জনবহুল দেশ।

ইউক্রেনের আবহাওয়া ও ভ্রমণের সেরা সময়xa0
দেশটিতে আদ্র মহাদেশীয় জলবায়ু বিদ্যমান। গড় বার্ষিক তাপমাত্রা উত্তরে পাঁচ থেকে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দক্ষিণে ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে থাকে। ইউক্রেনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণে ভিন্নতা রয়েছে; পশ্চিম ও উত্তরে বেশি, এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে কম।xa0
ইউক্রেন ভ্রমণের জন্য সেরা সময় মূলত নির্ভর করে অঞ্চল এবং ঋতুর উপর। কোন ভ্রমণপ্রেমী যদি আইস স্কেটিং কিংবা স্কিইং পছন্দ করে থাকেন তাহলে, তার জন্য ইউক্রেন ভ্রমণের সেরা সময় হতে পারে শীতকাল। শীতকালের তুষারাবৃত প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং কার্পাথিয়ান পর্বতমালার মন ভোলানো দৃশ্য পর্যটকদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করবে। এছাড়া গ্রীষ্মকালে ওডেসা ও ক্রিমিয়ার দক্ষিণ উপকূল পর্যটকদের জন্য আদর্শ বিনোদন স্থান হতে পারে। এ সময় সৈকত কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পগুলো বিকশিত হয়।
ইউক্রেনের ইতিহাস
উর্বর ভূমি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ইউক্রেন বারবার বিভিন্ন দেশের আক্রমণের শিকার হয়েছে। নবম শতকে দেশটি রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। পরবর্তীতে ১৩ শতকে দেশটি মঙ্গলরা দখল করে নেয়। এরপর পর্যায়ক্রমে পোলিশ, রুশ এবং জার্মানদের অধীনস্থ থাকার পর ইউক্রেন অবশেষে ১৯২২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হয়ে যায়। ১৯৯১ সালে ইউক্রেন পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তখন থেকেই ইউক্রেন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে।xa0
রাশিয়া ইউক্রেনের বৈরিতার ইতিহাস
প্রকৃতপক্ষে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ইতিহাস বহু শতাব্দী ধরেই একসাথে জড়িয়ে আছে এবং সেই ইতিহাস অত্যন্ত জটিল। রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশেরই প্রধান ধর্ম অর্থডক্স খ্রিস্টান। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্য একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ একটি প্রাচীন শহর এবং রুশ জনগোষ্ঠীর এক সময়ের রাজধানী। যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো রাশিয়ার বর্তমান রাজধানী মস্কোর কয়েক শতাব্দী আগে।
রুশ এবং ইউক্রেনীয় উভয় জনগোষ্ঠীই দাবি করে থাকে কিয়েভই হচ্ছে তাদের আধুনিক ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মুল কেন্দ্র। তবে এখন যে ইউক্রেন তার ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, গত একহাজার বছর ধরে তাদের সীমান্ত, ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর প্রকৃতি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।
কিয়েভের রুশ
ইউক্রেন ও রাশিয়ার অভিন্ন উৎসের সবচেয়ে পুরোনো খোঁজ পাওয়া যায়-xa0 ইউরোপের ঐ অঞ্চলে স্লাভ জনগোষ্ঠীর প্রথম রাষ্ট্রের ইতিহাসে। সেটা ছিলো মধ্যযুগের এক সাম্রাজ্য যার নাম ‘কিয়েভান রুশ’।আর এর প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো নবম শতাব্দীতে।
বর্তমান ইউক্রেন, বেলারুশ এবং রাশিয়ার অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিলো এই কিয়েভান রুশ। আজ পর্যন্ত এ তিন দেশই দাবি করে যে, কিয়েভান রুশই হচ্ছে তাদের সাংস্কৃতিক পূর্বপুরুষ।xa0
ইউক্রেনের জটিল উত্থান পতনের ইতিহাসxa0
কিয়েভ শহরটির অবস্থান এমন এক জায়গায় যেখান দিয়ে নবম দশম শতাব্দীতে অনেকগুলো প্রাচীন বানিজ্যিক পন্য চলাচলের পথ গড়ে উঠেছিলো। ইউক্রেনের ভূ প্রকৃতিরও আছে অনেক বৈচিত্র্য। এখানে আছে কৃষি জমি, বনভূমি আর কৃষ্ণসাগর হয়ে নৌ চলাচলের পথ। তাই বিভিন্ন সময়ে বহুযোদ্ধা জনগোষ্ঠীর দখলে ছিলো এই এলাকাটি।
এটাও ঠিক যে, আধুনিক ইউক্রেনের কিছু অংশ বহু শতাব্দী ধরে রুশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো। কিন্তু ইউক্রেনের অন্য কিছু অঞ্চল আবার বিভিন্ন সময় অস্ট্রো হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য, পোল্যান্ড বা লিথুয়ানিয়ারও অংশ ছিলো। ইউক্রেনের ভূখন্ড অটোম্যান টাটাদেরও দখলে ছিলো কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু এরমধ্যে আবার বিভিন্ন সময় এমন কিছু দৃষ্টান্তও আছে যখন সাময়িক ভাবে হলেও,xa0 ইউক্রেন রাষ্ট্রের একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব দেখা গিয়েছিলো। যেমন, সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউক্রেনীয়ো কসাকদের স্বায়িত্বশাসিত রাজ্য।xa0
ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদ
ইউক্রেনকে অনেক রুশই দেখে থাকেন তাদের জাতির ছোট ভাই হিসেবে এবং মনে করেন ইউক্রেনীয়দের আচরনও সেরকম হওয়া উচিত।কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবেরও বহু আগে দেশটিতে যখন কয়েক শতাব্দী ধরে জারের শাসন চলছিলে, তখন থেকেই ইউক্রেনীয়দের জাতীয়তাবাদ এবং স্বতন্ত্র পরিচয়ের রাজনীতি রাশিয়ায় নানা সমস্যার সৃষ্টি করছিলো।
স্বাধীন ইউক্রেন গঠনের চেষ্টা
সেন্ট পিটার্সবার্গে ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে যে বলশেভিক বিপ্লব হয় তারপর ক্রাইমিয়া সহ ইউক্রেনের এক বড় অংশ রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন ইউক্রেন প্রজাতন্ত্র গঠনের চেষ্টা করে।xa0
১৯১৭ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে এক যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ এবং চরম বিশৃঙ্খল সময়ে সেই স্বাধীন ইউক্রেন গঠনের চেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। ইউক্রেনের বেশিরভাগ ভূখন্ডই সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তxa0 হয়ে যায়। অন্যদিকে পশ্চিম ইউক্রেনের কিছু অংশ পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও রোমানিয়ার মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়।xa0
সোভিয়েত ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তি
সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসেবে ইউক্রেনের নাম হয় ইউক্রেনিয়ান সোভিয়েত সোশালিস্ট রিপাবলিক। বলা যায় আজকের ইউক্রেনের মানচিত্র তৈরি হয়েছে রুশ বিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই।কিন্তু ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদ এবং নিজস্ব রাষ্ট্র পাবার আকাঙ্খা বা প্রয়াস অনেক আগেই সৃষ্টি হয়েছিলো।xa0
ইউক্রেনের এ বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবনতার ব্যাপারে সব সময়ই রুশ শাসকেরা সচেতন ছিলো। একে ঠেকানোর চেষ্টায় জারদের শাসনের সময় ইউক্রেনের রুশিকরনের জন্য নানা রকম আইনও হয়েছিলো।
অবশেষে সাত দশকেরও বেশি সময় পর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালে জন্ম হয় স্বাধীন ইউক্রেন রাষ্ট্রের।
ইউক্রেনের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জxa0
সব সময় কৃষিজ পণ্যের জন্য সুখ্যাতিসম্পন্ন ইউক্রেনে রয়েছে প্রায় ৪ কোটি ২০ লক্ষ হেক্টর কৃষি জমি। যা পুরো ইউরোপের প্রায় ২২ শতাংশ। এই বিশাল উর্বর ভূমি ইউক্রেনের অর্থনৈতিক মূল চালিকাশক্তি। ইউক্রেন পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ। একসময় ইউক্রেন কে বলা হত রাশিয়ার রুটির ঝুড়ি। এর কারণ হচ্ছে ইউক্রেনের উর্বর ভূমিতে জন্মাতো প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য। ইউক্রেন দেশটি খনিজ সম্পদেও বেশ সমৃদ্ধ।xa0
এরপরেও ইউক্রেনের অর্থনীতি অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের অর্থনীতির মতো শক্তিশালী নয়। অথচ সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকাকালে ইউক্রেনের অর্থনীতি ছিল সোভিয়েত ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে দেশটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। দুর্বল সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনxa0 ব্যক্তির একটি বৃহৎ অংশকে দরিদ্র সীমার নিচে ঠেলে দেয়। ইউক্রেনের মাথাপিছু ইউরোপের অন্যান্য দেশে তুলনায় সব থেকে কম।এজন্য ইউক্রেনকেxa0 বলা হয় ইউরোপ মহাদেশের সবথেকে দরিদ্রতম দেশ। বর্তমানে দেশটি শিল্পক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে যাচ্ছে ।
ইউক্রেনের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাxa0
বর্তমানে ইউক্রেনের নেতৃত্বে আছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।তিনি ২০১৯ সালে ইউক্রেনের নেতৃত্বে আসেন এবং জনগণের কাছে রুশ দখলদারিত্ব থেকে পূর্ব ইউক্রেনকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেন।xa0
২০২৪ সালে এসে ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মুখোমুখি হয়েছে।ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি মনে করেন, এই বছর তাদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারক হতে পারে এ বছরে।xa0
মূলত ইউক্রেনের বিজয় নির্ভর করছে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে অব্যাহত অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তার ওপর।এদিকে মার্কিন সহায়তার বিলম্বে ইউরোপীয় মিত্ররা আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে। রাশিয়া প্রতিনিয়ত ইউক্রেনের মধ্যে বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ সমর্থনে ফাটল ধরানোর এ হাইব্রিড কৌশল ইউক্রেনের ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউক্রেনের মানুষের জীবনযাত্রাxa0
ইউক্রেন দেশটিতে সকল ধর্ম , জাতি সব মানুষ শান্তিপূর্নভাবে বসবাস করে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেন এমন একটি দেশ, যেখানে মুসলিমরা পুর্ন স্বাধীনতা ভোগ করে।রাশিয়ার তাতার মুসলিমদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলো ইউক্রেন ।
মাথাপিছু মোট জাতীয় উৎপাদনের হিসেবে ইউক্রেন ইউরোপের দরিদ্রতম রাষ্ট্র; এখানে দারিদ্র্যের হার ও দুর্নীতির পরিমাণ অনেক উচ্চ। দরিদ্র হলেও ইউক্রেনীয়রা মদ্যপান করতে বেশ পছন্দ করেন। এখানে মদের দামও সস্তা। মাত্র ৫৪ সেন্টে একটি বিয়ারের বোতল পাওয়া যায়, যা অন্যান্য দেশে দুই ইউএস ডলারের কাছাকাছি। মদ্যপান করতে করতে যে কাউকে বন্ধু বানিয়ে ফেলতে তাদের জুড়ি নেই। ইউক্রেনীয়রা অতিথিপরায়ণ ও বন্ধুবৎসল।

xa0তবে তাদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জনসমক্ষে তারা মুখ গম্ভীর করে রাখতে পছন্দ করেন। তারা ভ্রমণে যেতে বেশ উৎসাহী। এক জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ ইউক্রেনীয় কখনো বিদেশ ভ্রমণ করেনি।তারা বিদেশে না গিয়ে, বিদেশিদের তাদের দেশে আসার আমন্ত্রণ জানাতে পছন্দ করে।
ইউক্রেনের জনপ্রিয় উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
চেরভোনা রুটাxa0
চেরভোনা রুটা ইউক্রেনের দ্বি-বার্ষিক যুব সঙ্গীত উৎসব।১৯৮৯ সাল থেকে এ সংগীত উৎসবটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী এবং প্রথাগত লোকসংগীত ও আধুনিক সঙ্গীতের সমন্বয়ে সংগীতানুষ্ঠানটি পরিবেশিত হয়।
উৎসবটি ইউক্রেনীয় সুরকার এবং গীতিকার ভলোদিমির ইভাসিউককে উৎসর্গ করা হয়েছে, যিনি “Chervona Ruta” নামক একটি জনপ্রিয় ইউক্রেনীয় গানের রচয়িতা।

আলফা জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল
ইউক্রেনের লভিভ শহরে অনুষ্ঠিত একটি জনপ্রিয় জ্যাজ সঙ্গীত উৎসব হচ্ছে আলফা জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল। প্রতিবছরই জুন মাসে এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক জ্যাজ শিল্পীদের জন্য উৎসবটি একটি প্রধান মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। পর্যটক এবং সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এটি একটি বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান হয়ে ওঠে।

কিইভ প্রাইড
এটি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান।এলজিবিটি+ অধিকারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এ অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে থাকে।
প্রতিবছর গ্রীষ্মে কিয়েভে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজে সহনশীলতা এবং বৈচিত্র্যের প্রতি সচেতনতা তৈরি করা।

স্কিফxa0
পূর্ব ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত হাওয়া ‘স্কিফ’ মূলত রক সংগীতের উৎসব। ইউক্রেনীয় রক ব্যান্ডদের জন্য এটি একটি প্রধান মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।

ক্রাইমিয়া টাটার উৎসব
ইউক্রেনে বসবাসকারীxa0 টাটার জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে এই উৎসবটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।টাটার জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, এবং নাচ প্রদর্শন করা হয় এ উৎসবে। যেগুলো টাটার সংস্কৃতির অনন্য দিকগুলো তুলে ধরে।xa0

ইউক্রেনের খাবার ও রন্ধনশৈলীxa0
ইউরোপের রুটির ঝুড়ি নামে খ্যাত ইউক্রেনীয় রন্ধন প্রণালীতে গম এবং অন্যান্য শস্যের ব্যবহার সব থেকে বেশি পরিলক্ষিত হয়।xa0 এখানকার বেশিরভাগ খাবার এই প্রাচীন কৃষকদের রন্ধন শৈলী প্রতিফলিত হয়ে থাকে।
বোর্শটxa0
ইউক্রেনীয়রা যে তাদের রন্ধন প্রণালীতে নানা পদের উপাদান ব্যবহার করে, বোর্শট এর অন্যতম উদাহরণ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিটি ইউক্রেনীয় মেয়েকে বিয়ের আগে এই রান্নাটি শিখতে হয়।xa0বোর্শট রান্নায় প্রথমে গরুর মাংসকে ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে ঝোল তৈরির জন্য প্রস্তুত করে নেওয়া হয়। এরপর মাংসের সাথে পর্যায়ক্রমে নানা রকম উপাদান এবং মসলা যোগ করে একটি বন্ধ পাত্রে তা বেশ কিছুক্ষণ ধরে রান্না করা হয়।xa0

চিকেন কিয়েভ
ইউক্রেনের পর্যটকদের প্রথম পছন্দের খাবার হলো চিকেন কিয়েভ। ইউক্রেনীয় রন্ধনশৈলীতে তৈরি খাবারটি বর্তমানে এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে নিউ ইয়র্ক বা লন্ডনের ঝলমলে রেস্তোরাঁয় শোভা পাচ্ছে বিশেষ মর্যাদায়।
বিখ্যাত এ চিকেন কিয়েভxa0 রান্না করতে হলে রাঁধুনিকে যথেষ্ট পরিমাণে পেশাদার হতে হবে। তাজা মুরগির ফিলেটের সাথে মাখন মিশিয়ে রান্না করা হয় এ খাবারটি।গরম মুরগির সাথে এক টুকরো মাখনের অনবদ্য সংমিশ্রণ যেকোন খাদ্য রসিকের জিভে জল আনতে বাধ্য।

পটেটো প্যানকেক
স্থানীয়ভাবে পটেটো প্যানকেককে ড্রানিকি বলা হয়ে থাকে। এই ড্রানিকি বা পটেটো প্যানকেক সকাল বা বিকালের নাশতার জন্য একটি উৎকৃষ্ট খাবার। সুক্ষ্মভাবে কাটা ভাজা আলুর সাথে একে একে মাংশ, পেঁয়াজ, মাশরুম,এবং স্থানীয় বিশেষ মসলার সংমিশ্রণে তৈরি হয় এই মুখরোচক পটেটো প্যানকেক।xa0

সালোxa0
সালো খাবারটি ইউক্রেনীয়দের নিজস্ব পছন্দের খাবারের তালিকায় শীর্ষে।সাধারণত বিত্তশালীদের নিজস্ব প্রতীক হিসেবে এই খাবারের চল আছে। খাবারটির মূল উপাদান শূকরের মাংসের চর্বি । চর্বির সাথে নানা পদের মসলা মিশিয়ে খাবারটি তৈরি করা হয়। সবশেষে সবুজ শাক দিয়ে খাবারটি সুন্দরভাবে পরিবেশন করা হয়।

ভারেনিকিxa0
ভারেনিকি মূলত ময়দার তৈরি এক ধরনের ডাম্পলিং। ডাম্পলিংয়ের ভেতর বাঁধাকপি, মাশরুম, পনির, চেরি, মাংশ, আলু, ইত্যাদি উপকরণ স্টাফিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনীয়রা সাধারণত টক ক্রিমের সাহায্যে এই ডামপ্লিং খেতে বেশি পছন্দ করে।

স্টাফড ক্যাবেজ রোলসxa0
স্টাফড ক্যাবেজ রোলস যা স্থানীয় ভাষায় গোলুবটসি হিসেবে ইউক্রেনে তুমুল জনপ্রিয়। বাঁধাকপির পাতায় চাল এবং কিমা মুড়িয়ে রোলের মতোxa0 তৈরি করা হয়। খাবারটি তৈরি করা যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।xa0শেষে টক ক্রিম দ্বারা রোলগুলো পরিবেশিত হয়।

ওক্রোশকাxa0
ওক্রোশকা বিশেষ এক ধরনের সুপ, যেটা ইউক্রেনীয়রা গ্রীষ্মকালে খেয়ে থাকে। এর মূল উপাদান কেভাস, সাথে থাকে সসেজ, শশা, সবুজ শাক, গাজর এবং বিশেষভাবে বড় আকারের মুলা।

বানুশ
বানুশ ইউক্রেনের একটি কিংবদন্তী খাবার। কার্পাথিয়ান অঞ্চলের সেরা সব রেস্তোরাঁর অন্যতম খাবার হচ্ছে বানুশ। বানুশ ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী খাবার গুলোর মধ্যে একটি।ভাজা শুয়োরের মাংশ, কর্ন গ্রিট ও পনির দ্বারা তৈরি খাবারটি ইউক্রেনীয়দের বেশ পছন্দনীয়।

সিরনিকিxa0
সিরনিকি হচ্ছে এক ধরনের ডেজার্ট। এর মূল উপাদান পনির, ময়দা, চিনি ও ডিম। ময়দার সাথে চিনি, ডিম এবং পনির মিশিয়ে মিশ্রণটিকে প্যানে আলতো করে ভেজে নেওয়া হয়। ভাজার পর জ্যাম ও টক ক্রিম দিয়ে খাবারটি পরিবেশন করা হয়।সিরনিকি তৈরির ক্ষেত্রে উপাদান গুলোর নিখুঁত অনুপাত বজায় রেখে ব্যবহার করা খুব প্রয়োজনীয়। কিছুটা কেক মেকিং এর মত।xa0

নালিসনিকিxa0
নালিসনিকি তৈরির মূল মন্ত্র হলো, অল্প আঁচে ধীরে ধীরে এটিকে রান্না করা। খাবারটির মূল উপাদান পনির আর কিশমিশ। জ্যাম আর চিনি সহযোগে খাবারটি পরিবেশন করা হয়।স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে নালিসনিকির সুনাম রয়েছে ইউক্রেন জুড়ে।

ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহxa0
ইউক্রেনে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যা ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ।
কিয়েভ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। দেশটির উত্তর-মধ্য অঞ্চলে অবস্থিত এটি। আকর্ষণীয় সোভিয়েত স্থাপত্য, মঠ, সোনার গম্বুজযুক্ত গির্জা এবং সুদর্শন রাস্তায় বৈচিত্রের সম্ভারে ভরপুর রাজধানী। ৪৮২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গড়ে ওঠা কিয়েভে পূর্ব ইউরোপের প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। শহরটি বিভিন্ন সময় রাশিয়া এবং জার্মানি দখল করলেও তা এখন স্বতন্ত্রভাবে ইউক্রেনীয়।

xa0প্রাচীন পূর্ব স্লাভিক সভ্যতা এবং ইউক্রেনীয় জাতিসংত্তার বিকাশে কিয়েভের ভূমিকা ব্যাপক। অঞ্চলটির লোকস্থাপত্য এবং নৃতাত্ত্বিক জাদুঘরটি ইউরোপের বৃহত্তম ওপেন এয়ার জাদুঘরগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানে পেচেরস্ক লাভরা রয়েছে, যা ইউক্রেনের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধার্মিক এলাকাগুলোর মধ্যে একটি।
কিয়েভের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো আন্দ্রিয়িভস্কির উতরাই পথ। খাড়া পাথরযুক্ত পথের দু’ধারে আর্ট-নুভো শৈলীতে রয়েছে সারি সারি বাড়ি। আর তার সঙ্গে রয়েছে ছোট ছোট অসংখ্য মূর্তি।
লাভ টানেল
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,xa0 সবুজ গাছপালা দিয়ে সজ্জিত লাভ টানেল, বিভিন্ন ঋতুতে নানা রঙের ফুল ফোটার মাধ্যমে আরও রঙিন হয়ে ওঠে। এই টানেলের মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ রয়েছে। যখন গাছের ডাল থেকে নানা রঙের পাতা ঝরে রেললাইনটি ঢেকে যায়, তখন এটি এক অসাধারণ সুন্দর পথের সৃষ্টি করে, যা লাভ টানেলের ভেতরে প্রিয়জনের হাত ধরে হাঁটার স্বপ্ন পূরণ করে।xa0

বুকোভেল
বুকোভেল হচ্ছে ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী একটি শহর। যেখানে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় স্কি রিসোর্ট রয়েছে। শুধু তাই নয়, এ রিসোর্টটি পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্কি রিসোর্ট। বুকোভেল শহরে সব বয়সের মানুষ ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। মূলত স্কি খেলার জন্যই পর্যটকরা এখানে ভ্রমণ করেন।xa0

লভিভ
পঞ্চম শতাব্দীর প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনে পরিপূর্ণ শহরটিতে স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর এবং প্রাচীন ভবন রয়েছে। ইউক্রেনের সাংস্কৃতিক পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত এ শহরটিতে ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি, অপেরা এবং ব্যালে দেখার সুযোগ রয়েছে।

সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল
রাজধানী কিয়েভ এ অবস্থিত এই স্থাপনাটিকে ইউক্রেনের সপ্তম আশ্চর্যের একটি বলে গণ্য করা হয়। ক্যাথেড্রালটির মূল অংশ জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।ইউক্রেনের সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর অন্যতম হচ্ছে, সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল।xa0

পডোলস্কি ক্যাসেল
নানারকম প্রাচীন স্থাপত্য ইউক্রেনের অন্যতম আকর্ষণ।এরমধ্যে পডোলস্কি ক্যাসেল বা দুর্গ একটি অপূর্ব সুন্দর স্থাপত্য। ১৪০৭ সালে নির্মিত এই দুর্গটি যেন ডিজনি মুভি থেকে উঠে আসা কোনো প্রাসাদ। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য সবরকম সুবিধা রয়েছে।xa0
এখানকার শহরতলী দেখেও যে কারোর মনে হবে এখানে যেন সময় থমকে গেছে। বেলুনে চেপে গিরিখাত পরিবেষ্টিত শহরটি দেখার অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের কাছে ভাষায় প্রকাশ করা বেশ কঠিন ।xa0

ওডেসা অপেরা ও ব্যালে হাউস
ইউক্রেনের সমুদ্র তীরবর্তী ওডেসা শহরটিকে বলা হয় ‘পার্ল অব দ্য ব্ল্যাক সি’। ঐতিহাসিকভাবেxa0 গ্রিক, অটোম্যান, রুশ সহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওডেসা শহরটি লুক স্থাপত্যের অন্যতম পিঠস্থান। এখানে রয়েছে অসাধারণ সমুদ্র সৈকত। ওডেসার প্রধান আকর্ষণ হল কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্র যা কিনা শহরের তলায় থাকা আরও একটি শহর।
আরেকটি অসাধারণ স্থাপনা হলো ওডেসা অপেরা ও ব্যালে হাউস। ১৮১০ সালে নির্মিত এই স্থাপনাটি ওডেসা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। খুবই স্বল্প অর্থে এখানে বিভিন্ন অপেরা ও ব্যালে নৃত্যশিল্পের প্রদর্শনী দেখা যায়।

চেরনোবিলxa0 দুর্ঘটনা
ইউক্রেনের কথা বললেই সবার মনে চেরনোবিল দুর্ঘটনার কথা ভেসে ওঠে। এটি একসময় পৃথিবীর বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র ছিল ইউক্রেনের চেরনোবিল।

ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ থাকাকালীন, ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল ভোররাতে চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলে প্রচুর তেজস্ক্রিয় পদার্থ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় এটি বেলারুশ এবং রাশিয়াসহ পশ্চিম ইউরোপের একটি অংশে বিরাট প্রভাব ফেলে।xa0
উপসংহার
ইউক্রেন তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাস- ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ।পূর্ব ইউরোপেরxa0 দেশটি এর প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য ,অনবদ্য স্থাপত্যশৈলী, এবং মনমুগ্ধকর ঐতিহ্যবাহী উৎসব অনুষ্ঠানের জন্য বরাবরই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থেকেছে।প্রাচীন শহর গুলোর আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সংমিশ্রণ, ধর্মীয় স্থাপনা, চিত্রময় রন্ধন শৈলী সারাবিশ্বের ভ্রমণ পিয়াসীদের আকৃষ্ট করে যাচ্ছে ।তবে বর্তমান পরিস্থিতির কথা ভেবে অনেকেই পরামর্শ দেন যে,xa0 ইউক্রেনে গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ ছাড়া বিদেশি পর্যটকদের না যাওয়াই উত্তম।
যদিও রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাত দেশটির উপর সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে বিশাল প্রভাব ফেলেছে, তবুও ইউক্রেনিয়ানদের আছেxa0 তাদেরxa0 সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখারxa0 প্রবলxa0 ইচ্ছাশক্তি পরিলক্ষিত। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতি ইউক্রেনকে পিছিয়ে দিয়েছে, তবে দেশটির পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।xa0
ইউক্রেন সম্পর্কে আরো কিছু মজার তথ্য:
- দানব আকৃতির বিমান: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দানব আকৃতির বিমান ‘এন্টোনোম’ এর মালিকও ইউক্রেন।
- xa0সামরিক শক্তি: ফ্রান্সের পর সবচেয়ে বেশি সামরিক শক্তির অধিকারী হচ্ছে ইউক্রেন।
- সানফ্লাওয়ার ওয়েল :দেশটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সানফ্লাওয়ার ওয়েল উৎপাদনকারী দেশ।
- ইঞ্জিন প্রস্তুতকার দেশ: পৃথিবীর অন্যতম উন্নতমানের ফাইটার জেট কিংবা যাত্রীবাহী বিমানের ইঞ্জিন প্রস্তুতকারকের তালিকায়ও ইউক্রেনের নাম উপরের সারিতে।xa0
- সাতটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট : ইউরোপের বৃহত্তম এ দেশটিতে সাতটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট রয়েছে।
- গভীরতম মেট্রো স্টেশন: পৃথিবীর গভীরতম মেট্রো স্টেশন ইউক্রেনেই অবস্থিত।xa0
- সুন্দরী নারী: ইউক্রেনের মেয়েদের সৌন্দর্যের সুনাম পৃথিবীজুড়ে প্রচলিত।
- শিক্ষার হার: বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষের বাস, ইউক্রেন তাদের অন্যতম। প্রায় ১০০ শতাংশ মানুষই সাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন।
- ভুতুড়ে শহর: সর্বকালের সবচেয়ে মারাত্মক পারমাণবিক বিপর্যয় ‘চেরনোবিল’ বিপর্যয়, ইউক্রেনে ঘটেছিল। বেশ কিছু পরিত্যক্ত আবাসস্থল রয়েছে, বিশেষ করে প্রিপিয়াট।যেসব স্থান মানুষের মনে ভয়ের উদ্রেগ ঘটায়।
- বৈচিত্রময় সংস্কৃতি: এছাড়া খাদ্যাভাস থেকে পোশাক সবকিছুতেই বৈচিত্রে ভরা ইউক্রেন। মজার ব্যাপার হল, এখানকার পুরুষেরা বিয়ের সময়ে কনের বাঁ হাতের আঙুল নয়, বরং ডান হাতে আংটি পরান।
- লম্বা সঙ্গীত যন্ত্র: বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা সঙ্গীত যন্ত্রের ব্যবহার হয় ইউক্রেনে। এর নাম ট্রেমবিটা। মৃত্যু, বিবাহ থেকে সামাজিক উৎসব সবেতেই ট্রেমবিটা ব্যবহারের রেওয়াজ রয়েছে ইউরোপের এই দেশে।
- xa0কালো মাটি : বিশ্বের ৩৩ শতাংশ কালো মাটি (কর্নোজেম) রয়েছে ইউক্রেনে।
- ব্যালন ডি অর জয় : আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো একমাত্র ইউক্রেনের খেলোয়াড় যে ব্যালন ডি অর জয় করেন।

