Image default
ক্রীড়াবিদজীবনীফুটবল

মানিয়েস আকলিউশ: মিলিয়ন ডলার রেসের নতুন ঘোড়া

আকলিউশ ফুটবল খেলে বুড়ো বয়সের রাষ্ট্রীয় ‘নাইট’ উপাধি ২২ বছরেই পেয়ে গেছেন মাঠে এখন তাকে আটকাতে গেলে ডিফেন্ডারদের মনে হয় আগে ‘পারমিশন’ নেওয়া লাগবে! 

মানিয়েস আকলিউশ মোনাকো এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। মোনাকোর বিখ্যাত একাডেমি থেকে উঠে এসে তিনি বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘ওয়াইড প্লেমেকার’। ২০২৪ অলিম্পিকে ফ্রান্সের হয়ে রূপো জয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচজয়ী গোল করে তিনি রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের স্পটলাইটে চলে আসেন।

মানিয়েস আকলিউশ’র ব্যক্তিগত তথ্য:

নাম

মানিয়েস আকলিউশ

জন্ম

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০২ (বয়স ২৪)

জন্মস্থান

ত্রেম্বলে-অন-ফ্রান্স , ফ্রান্স

উচ্চতা

১.৮৩ মিটার (৬ ফুট ০ ইঞ্চি)

পজিশন

আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার / রাইট উইংগার

ক্লাব ক্যারিয়ার

মোনাকো বি এবং বর্তমানে মোনাকো ক্লাবের হয়ে খেলছেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

২০২৫– ফ্রান্স

মানিয়েস আকলিউশ – Image Source: seniornewsweekly.com

মানিয়েস আকলিউশ ২০০২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের ত্রেম্বলে-অন-ফ্রান্স নামক একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মসূত্রে তিনি ফরাসি হলেও তার পরিবার আলজেরীয় বংশোদ্ভূত। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার ছিল তীব্র ঝোঁক।

প্যারিসের আশেপাশের স্থানীয় ক্লাবগুলোতে খেলার মাধ্যমে আকলিউশের ফুটবল যাত্রা শুরু হয়। তার ভেতরের প্রতিভাকে প্রথম বড় পরিসরে আবিষ্কার করে ফরাসি ক্লাব এএস মোনাকো। ২০১৭ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি মোনাকোর বিখ্যাত যুব একাডেমিতে যোগ দেন। মোনাকোর একাডেমি বিশ্ব ফুটবলে কিলিয়ান এমবাপ্পে, থিয়েরি অঁরিদের মতো কিংবদন্তি উপহার দেওয়ার জন্য পরিচিত।

মোনাকোর অনূর্ধ্ব দলগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর খুব দ্রুতই ক্লাবের মূল দলে ডাক পান আকলিউশ। ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর অলিম্পিক লিওঁ-র বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মোনাকোর সিনিয়র দলের হয়ে তার অভিষেক হয়।

মানিয়েস আকলিউশের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে শক্তিশালী বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচ ছিল মোনাকোর। সেই ম্যাচে বার্সার ডিফেন্সকে স্তব্ধ করে দিয়ে একটি দুর্দান্ত গোল করেন আকলিউশ, যা মোনাকোকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। ওই ম্যাচের পর পুরো ইউরোপিয়ান মিডিয়া আকলিউশের নামের স্তুতি গাইতে শুরু করে।

মানিয়েস আকলিউশ এএস মোনাকো – Image Source: mabumbe.com

এএস মোনাকোর হয়ে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের পর, ২০২৬ সালের ট্রান্সফার মার্কেটের অন্যতম বড় ‘হট কেক’ এখন মানিয়েস আকলিউশ। এই ফরাসি মিডফিল্ড জাদুকরকে দলে ভেড়াতে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের তিন পরাশক্তি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল ও টটেনহ্যাম হটস্পার যেমন তার ওপর কড়া নজর রাখছে, তেমনি ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি-ও এই স্বদেশী তরুণ তুর্কিকে প্যারিসে ওড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। 

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে মানিয়েস আকলিউশের সামনে আলজেরিয়া জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল। তবে তিনি ফ্রান্সের হয়ে খেলাকেই বেছে নেন। ২০২৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত প্যারিস অলিম্পিকে ফ্রান্স অলিম্পিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন আকলিউশ। থিয়েরি অঁরির অধীনে সেই টুর্নামেন্টে ফ্রান্স রূপো জয় করে এবং আকলিউশের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। দেশের জন্য অবদান রাখায় তাকে ফ্রান্সের সম্মানসূচক ‘ন্যাশনাল অর্ডার অফ মেরিট’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

মানিয়েস আকলিউশ ফরাসি মিডফিল্ড জাদুকর – Image Source: madeinmonegasque.ouest-france.fr

অলিম্পিকের দুর্দান্ত ফর্মের পুরস্কার হিসেবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ফ্রান্সের জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পান আকলিউশ। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ইউক্রেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। একই বছরের ১৬ নভেম্বর আজারবাইজানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ফ্রান্সের সিনিয়র দলের হয়ে তিনি নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন।

মানিয়েস আকলিউশ মূলত একজন বাঁ-পায়ের খেলোয়াড়, তবে তিনি রাইট উইঙ্গার বা সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

মানিয়েস আকলিউশ ফ্রান্স জাতীয় দল– Image Source: ouest-france.fr

ফ্রান্স জাতীয় দলের হেড কোচ দিদিয়ের দেশম ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, তাতে জায়গা করে নিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী মানিয়েস আকলিউশ। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে আকলিউশ যদি কয়েকটি ম্যাচেও নিজের জাদু দেখাতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের পর তার বাজারমূল্য আকাশ ছুঁয়ে ফেলবে এবং তাকে দলে নেওয়ার জন্য ইউরোপের জায়ান্টদের মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ লেগে যাবে। 

Reference:

Related posts

জুল কুন্দে: ফরাসি ফুটবলের ফ্যাশন আইকন

ক্রিকেট পিচ থেকে ফুটবল মাঠ: ডিন হেন্ডারসনের গল্প

এডসন আলভারেজ: ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের বাঘ

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More