Image default
ক্রীড়াবিদজীবনীফুটবল

কিলিয়ান এমবাপ্পে: শূন্য থেকে বিশ্বজয়ী হওয়ার গল্প

মাঠে বল পেলে যার স্পিড অলিম্পিকের উসাইন বোল্টকেও টেনশনে ফেলে দেয়, সেই গতির দানব এমবাপ্পে নিজেই কিন্তু ঘরে আম্মিজানের কড়া শাসনে একেবারে সোজা! শতকোটি টাকার ট্রান্সফার ডিল এক তুড়িতে ফাইনাল করা মায়ের এনওসি ছাড়া তাঁর লাইফে কোনো মেয়ের এন্ট্রি নেওয়া একেবারে ইম্পসিবল!। 

কিলিয়ান এমবাপ্পে মানেই এমন এক ফুটবল ম্যাজিক, যেখানে মহাজাগতিক গতি, শৈল্পিক ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিং একসাথে এসে একবিন্দুতে মিলিত হয়। প্যারিসের শহরতলির ধুলোবালি থেকে উঠে এসে আজ যিনি আধুনিক ফুটবলের অবিসংবাদিত রাজপুত্র। মাত্র ১৯ বছর বয়সে পেলের পর দ্বিতীয় টিনেজার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করা থেকে শুরু করে পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সবখানেই তাঁর রাজকীয় ছোঁয়া। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আর দীর্ঘতম ট্রান্সফার নাটকের অবসান ঘটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ১০ নম্বর জার্সিতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু মাতানো এই ফরাসি তারকার ক্যারিয়ার তাই যেকোনো রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। 

কিলিয়ান এমবাপ্পে- এর ব্যক্তিগত তথ্য:

নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে লটিন
জন্ম ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৮ (বয়স ২৭)
জন্মস্থান প্যারিস , ফ্রান্স
উচ্চতা ১.৮০ মিটার (৫ ফুট ১১ ইঞ্চি)
পজিশন ফরোয়ার্ড
ক্লাব ক্যারিয়ার মোনাকো,পিএসজি এবং বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের হয়ে খেলছেন।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ২০১৭– ফ্রান্স
কিলিয়ান এমবাপ্পে- Image Source: planetsport.com

১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর, ফ্রান্সের প্যারিসের উত্তর-পূর্বের শহরতলি বন্ডিতে জন্ম নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে লটিন। তাঁর পরিবার ছিল ক্রীড়াপ্রেমী ও অভিবাসী সংস্কৃতির এক দারুণ মেলবন্ধন। বাবা উইলফ্রেড এমবাপ্পে ছিলেন ক্যামেরুনিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবল কোচ, আর মা ফায়জা লামারি আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত হ্যান্ডবল খেলোয়াড়। বন্ডির কঠিন এবং কিছুটা কুখ্যাত অপরাধপ্রবণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও এমবাপ্পের চোখ ছিল সবসময় ফুটবলের সবুজ ঘাসে। তাঁর ঘরের দেয়ালে শোভা পেত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শত শত পোস্টার।

মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবার অধীনে এএস বন্ডিতে ফুটবলের হাতেখড়ি হয় এমবাপ্পের। তাঁর অবিশ্বাস্য গতি এবং পরিণত খেলা দেখে ফ্রান্সের বিখ্যাত ক্ল্লেয়ারফন্টেন একাডেমি তাকে লুফে নেয়। চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদসহ ইউরোপের বাঘা বাঘা ক্লাবগুলো যখন এই কিশোরকে ট্রায়ালের জন্য ডাকছিল, তখন এমবাপ্পের পরিবার অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে তাকে ফ্রান্সের ক্লাব মোনাকোতে যোগ দেওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই সিদ্ধান্তই ফরাসি ফুটবলের ইতিহাস বদলে দেয়।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ১৬ বছর ৩৪৭ দিন বয়সে থিয়েরি অঁরির রেকর্ড ভেঙে মোনাকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এমবাপ্পের পেশাদার অভিষেক ঘটে। এর মাত্র কয়েক মাস পরেই অঁরির আরও একটি রেকর্ড ভেঙে ক্লাবের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার তালিকায় নাম লেখান তিনি।

১২ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপে তার নিজ শহরের ক্লাব বন্ডিতে অনুশীলন করছেন- Image Source: bbc.com

২০১৬-১৭ সিজনটি ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের বিশ্বমঞ্চে রাজকীয় আত্মপ্রকাশের বছর। রাদামেল ফ্যালকাও, বার্নার্ডো সিলভাদের সাথে জুটি বেঁধে মোনাকোর সেই তরুণ স্কোয়াড পুরো ইউরোপে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই সিজনে এমবাপ্পে সব প্রতিযোগিতায় ৪৪ ম্যাচে ২৬টি গোল করেন। পিএসজির একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে মোনাকোকে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন করা এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়ার মূল কাণ্ডারি ছিলেন এই ১৮ বছরের তরুণ। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটি এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিশ্বমানের ডিফেন্সকে তাঁর চিতা বাঘের মতো গতিতে চুরমার করার দৃশ্য দেখে ফুটবল বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল ফুটবলের ভবিষ্যৎ রাজা চলে এসেছেন।

২০১৭ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দলে ভেড়াতে ইউরোপের সব বড় ক্লাব হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তবে এমবাপ্পে বেছে নেন নিজের ঘরের শহর প্যারিসকে। নেইমার জুনিয়রের রেকর্ড ট্রান্সফারের পরপরই পিএসজি প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ইউরোর এক আকাশচুম্বী চুক্তিতে মোনাকো থেকে এমবাপ্পেকে প্যারিসে নিয়ে আসে। এটি ছিল ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং কোনো টিনেজারের জন্য সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি।

প্যারিস সাঁ-জাঁ-তে এমবাপ্পের সাতটি বছর ছিল কেবলই সাফল্যের সোনালী অক্ষরে লেখা। নেইমার এবং পরবর্তীতে লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেললেও পিএসজির আক্রমণের মূল নিউক্লিয়াস ছিলেন এমবাপ্পেই। মাত্র ২৪ বছর বয়সে এডিনসন কাভানির রেকর্ড ভেঙে পিএসজির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেন তিনি। ক্লাব ছাড়ার আগে ৩০৮ ম্যাচে ২৫৬টি গোল করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

পিএসজির জার্সিতে কিলিয়ান এমবাপ্পে- Image Source: dailysabah.com

পিএসজির হয়ে ৬টি লিগ ওয়ান ট্রফি জেতার পাশাপাশি টানা ৫ বার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পান তিনি। ২০২০ সালে পিএসজিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুললেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।

তবে পিএসজিতে কিলিয়ান এমবাপ্পের শেষ দুটি বছর ছিল মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের নাটকীয়তায় ভরা। প্রতি ট্রান্সফার উইন্ডোতেই রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার গুঞ্জন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হস্তক্ষেপে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং ক্লাবের সাথে অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ তাঁকে সারাক্ষণ সংবাদমাধ্যমের হেডলাইনে রাখত। অবশেষে ২০২৪ সালের মে মাসে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এমবাপ্পে ঘোষণা করেন তিনি প্যারিস ছাড়ছেন।

ক্লাব ফুটবলে এমবাপ্পে যদি হন রাজপুত্র, তবে ফ্রান্স জাতীয় দলের নীল জার্সিতে তিনি এক অপরাজিত সম্রাট। ২০১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে ফ্রান্সের প্রতিটি বড় সাফল্যে তাঁর নাম মিশে আছে।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঝমাঠ থেকে তাঁর সেই বিখ্যাত ৩৯.৬ কিমি/ঘণ্টা গতির স্প্রিন্ট এবং দুর্দান্ত জোড়া গোল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা একক পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য করা হয়।

২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে- Image Source: dailymail.co.uk

ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক মাটি কামড়ানো শটে গোল করে ফ্রান্সের ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে পেলের পর প্রথম কোনো টিনেজার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন এমবাপ্পে। ৪ গোল করে টুর্নামেন্টের ‘সেরা তরুণ খেলোয়াড়’-এর পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিজের ক্যাবিনেটে যোগ করেন স্বপ্নের সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফি।

কাতার বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে যা করেছিলেন, তা ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কেউ কখনো দেখেনি। টুর্নামেন্ট জুড়ে একাই ফ্রান্স দলকে টেনে নিয়ে যান ফাইনালে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে যখন ফ্রান্স ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে, তখন মাত্র ৯৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোল করে পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে আবারও গোল করে ১৯৬৬ সালের জিওফ হার্স্টের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন এমবাপ্পে।

টাইব্রেকারে ফ্রান্স হেরে গেলেও ৮ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ‘গোল্ডেন বুট’ জয় করেন তিনি। ফাইনালে হেরে মাঠেই তাঁর বিষণ্ণ বসে থাকার ছবি কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল, কিন্তু সেই রাতেই তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে বড় মঞ্চের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় তিনিই।

২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ী কিলিয়ান এমবাপ্পে- Image Source: aljazeera.com

২০২৪ সালের ৩ জুন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘতম ট্রান্সফার সাগার অবসান ঘটে। রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে কিলিয়ান এমবাপ্পে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যোগ দিচ্ছেন। শৈশবের নায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পথ অনুসরণ করে স্পেনের এই সফলতম ক্লাবে যোগ দেওয়া ছিল এমবাপ্পের জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন। বার্নাব্যুতে তাঁর জমকালো পরিচিতি অনুষ্ঠানে প্রায় ৮০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়ে এই নতুন ‘গ্যালাক্টিকো’কে বরণ করে নেয়।

রিয়াল মাদ্রিদে প্রথম সিজনেই আতালান্তার বিপক্ষে উয়েফা সুপার কাপের ম্যাচে গোল করে নিজের মাদ্রিদ ক্যারিয়ারের দারুণ সূচনা করেন তিনি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহাম এবং রদ্রিগোর মতো বিশ্বমানের তারকাদের সাথে লস ব্লাঙ্কোসদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

২০২৫-২৬ সিজনে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ঘরোয়া মৌসুম পার করেছেন। স্প্যানিশ লা লিগায় ৩১টি ম্যাচে মাঠে নেমে ২৫টি চোখ ধাঁধানো গোল এবং ৫টি অ্যাসিস্ট করে তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির পর তিনিই প্রথম খেলোয়াড় যিনি লা লিগায় টানা দুই সিজনে গোল্ডেন বুট জয়ের অনন্য ক্লাবে প্রবেশ করলেন। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই সিজনে ৪৪ ম্যাচে ৪২টি গোল করে রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান গোলমেশিন হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

উইং থেকে শুরু করে সেন্টার ফরোয়ার্ড আক্রমণভাগের যেকোনো পজিশনে এমবাপ্পে বিশ্বের যেকোনো রক্ষণভাগকে ভেঙে গুড়িয়ে দিতে পারেন। এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর অবিশ্বাস্য গতি। বল পায়ে তাঁর সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয়েছে প্রায় ৩৮ কিমি/ঘণ্টা, যা একজন অলিম্পিক স্প্রিন্টারের গতির কাছাকাছি। 

রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে কিলিয়ান এমবাপ্পে- Image Source: theglobeandmail.com

এমবাপ্পে শুধু দ্রুতগতির দৌড়বিদই নন, গোলপোস্টের সামনে তিনি বরফের মতো ঠান্ডা মাথার এক ফিনিশার। গোলরক্ষককে ওয়ান-অন-ওয়ানে একা পেলে তিনি দূরবর্তী পোস্টে নিখুঁত কার্ল শটে গোল করতে পছন্দ করেন। এছাড়া গতিশীল কাউন্টার অ্যাটাকে তাঁর কাউন্টার-প্রেসিং এবং ওয়ান-টাচ ফিনিশিং বর্তমান বিশ্বের সেরা।

মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এমবাপ্পে বিশ্বজুড়ে তরুণ সমাজের এক বিশাল আইকন। টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান পাওয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রীড়াবিদ হওয়া সত্ত্বেও তিনি মাটির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন।

২০২০ সালে তিনি তাঁর নিজস্ব চ্যারিটি ফাউন্ডেশন “Inspired by KM” চালু করেন, যার মূল লক্ষ্য প্যারিসের ৯৯ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে তাদের স্বপ্ন পূরণে শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া। এছাড়া ২০১৮ বিশ্বকাপের পুরো বোনাসের প্রায় ৫ লক্ষ ডলার তিনি একটি প্রতিবন্ধী শিশুদের চ্যারিটিতে দান করে দিয়েছিলেন। ফরাসি তরুণদের কাছে তিনি কেবল একজন ফুটবলার নন, একজন রোল মডেল।

পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এখন উত্তর আমেরিকার মাটিতে বসতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ-এর দিকে। কিলিয়ান এমবাপ্পের বয়স এখন ২৭ বছর একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ‘প্রাইম টাইম’ বা সেরা সময়।

ফ্রান্স জাতীয় দলের বর্তমান অধিনায়ক হিসেবে এমবাপ্পের কাঁধে এখন এক বিশাল দায়িত্ব। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই রানার্স-আপ ট্রফির আক্ষেপ ভুলে আমেরিকার মাটিতে ফ্রান্সের সেই বিখ্যাত তিন রঙের পতাকাকে আবারও বিশ্বজয়ের শীর্ষে ওড়াতে চান তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ঘরোয়া লিগে টানা গোল্ডেন বুট জেতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে এমবাপ্পে যখন এই বিশ্বকাপে নামবেন, তখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের রাতের ঘুম হারাম হতে বাধ্য। ২০২৬ সালের ফুটবল মহোৎসবে এই ফরাসি স্প্রিন্টারের পা থেকে আরও কত নতুন রেকর্ড আর রূপকথার জন্ম হয়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব।

Reference:

Related posts

নিকো ও’রিলি: বিশ্ব ফুটবলের নতুন ধ্রুবতারা

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে মন্ত্রিত্ব: কে এই আসিফ মাহমুদ?

আহমদ শাহ দুররানি: আফগান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা

আবু সালেহ পিয়ার

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More