এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এক দশক বেঞ্চে ও লোনে কাটানোর পর শূন্য থেকে উঠে আসা বিশ্বজয়ের এক রূপকথা। আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে তিনি কেবল এক অপরাজেয় দেয়ালই নন, বরং প্রতিপক্ষের ত্রাস এবং কোটি ভক্তের প্রিয় ‘বাজপাখি’। নিজের চমৎকার রিফ্লেক্স, অদম্য জেদ আর আইকনিক ‘মাইন্ড গেম’ দিয়ে লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ করা এই গোলরক্ষক পেনাল্টির পুরো নিয়মটাই বদলে দিতে বাধ্য করেছেন।
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ- এর ব্যক্তিগত তথ্য:
| নাম | ড্যামিয়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ রোমেরো |
| জন্ম | ২ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ (বয়স ৩৩) |
| জন্মস্থান | মার দেল প্লাটা , আর্জেন্টিনা |
| উচ্চতা | ১.৯৫ মিটার (৬ ফুট ৫ ইঞ্চি) |
| পজিশন | গোলকিপার |
| ক্লাব ক্যারিয়ার | আর্সেনাল,অক্সফোর্ড ইউনাইটেড,শেফিল্ড ওয়েডনেসডে,রথারহ্যাম ইউনাইটেড,উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স,গেটাফে এবং বর্তমানে অ্যাস্টন ভিলা ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। |
| আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার | ২০২১– আর্জেন্টিনা |

১৯৯২ সালের ২ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার মার দেল প্লাতা শহরে দামিয়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জন্ম। তার শৈশবটা আর দশটা সাধারণ ফুটবলারের মতোই ছিল চরম দারিদ্র্যের। বাবা সুসানা মার্টিনেজ ছিলেন একজন বন্দর শ্রমিক, যিনি দিনরাত পরিশ্রম করেও পরিবারের মুখে ঠিকমতো অন্ন তুলে দিতে হিমশিম খেতেন। মাও মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন।
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এমন অনেক রাত গেছে যখন তার বাবা-মা রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছেন যাতে সন্তানরা অন্তত একবেলা খেতে পারে। এই চরম দারিদ্র্যই মার্টিনেজের মনে এক অদম্য জেদ তৈরি করে দিয়েছিল। তিনি ফুটবলকে বেছে নিয়েছিলেন তার পরিবারের ভাগ্য বদলের হাতিয়ার হিসেবে।
শৈশবে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ক্লাব ‘ইন্ডিপেন্দিয়েন্তে’র একাডেমিতে তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়। লাল রঙের কার্টুন চরিত্র ‘দিবু’র সাথে চেহারার মিল থাকায় ভাই ও বন্ধুরা তাকে ‘দিবু’ বলে ডাকতে শুরু করে, যা আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় ডাকনাম।

২০০৯ সালে দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের স্কাউটদের নজরে আসেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মাত্র ১৭ বছর বয়সে, ২০১০ সালে তিনি লন্ডনের ক্লাবটিতে যোগ দেন। কিন্তু একজন তরুণের জন্য অচেনা দেশ, অচেনা ভাষা আর পরিবারের থেকে দূরে থাকাটা ছিল ভীষণ কষ্টের।
আর্সেনালে মার্টিনেজকে এক দশকেরও বেশি সময় কাটাতে হয়েছে বেঞ্চে বসে অথবা লোনে অন্য ক্লাবে খেলে। এই সময় তিনি ৬টি ভিন্ন ক্লাবে লোনে ঘুরেছেন। অধিকাংশ খেলোয়াড় এই পরিস্থিতিতে হাল ছেড়ে দিতেন, কিন্তু মার্টিনেজ ধৈর্যের চরম পরীক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতেন এই আশায় যে, একদিন তার সময় আসবে।
২০২০ সালের জুন মাস। করোনা মহামারীর পর ফুটবল সবেমাত্র মাঠে ফিরেছে। আর্সেনালের তৎকালীন গোলরক্ষক বার্নড লেনো ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে মারাত্মকভাবে চোট পান। দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্সেনালের গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ানোর সুযোগ পান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

সুযোগ পেয়েই তিনি দেখিয়ে দিলেন তার আসল রূপ। প্রিমিয়ার লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে একের পর এক চোখধাঁধানো সেভ করে তিনি আর্সেনালকে এফএ কাপের ফাইনালে তোলেন। ফাইনালে চেলসিকে হারিয়ে আর্সেনাল যখন চ্যাম্পিয়ন হয়, তখন মাঠের এক কোণে বসে মার্টিনেজের কান্না বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়েছিল। তিনি ফোন করে তার বাবাকে বলছিলেন, “বাবা, আমরা পেরেছি।” এরপর তিনি আর্সেনালকে কমিউনিটি শিল্ডও জেতান।
কিন্তু নিয়মিত খেলার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ২০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে তিনি অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেন। আর এটাই ছিল তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে নিজের প্রথম মৌসুমেই প্রিমিয়ার লিগে ১৫টি ‘ক্লিন শিট’ রেখে ক্লাবের ইতিহাসের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি। সেই মৌসুমে তিনি ক্লাবের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। মাঠে তার নেতৃত্বগুণ এবং দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে তাকে দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়। অনেক ম্যাচে তিনি অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে দল পরিচালনা করেছেন।
এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অবিশ্বাস্য সব সেভ এবং অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে দীর্ঘ ৪১ বছর পর ২০২৪ সালে অ্যাস্টন ভিলা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে, যা ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য।
ভিলা পার্কের দর্শকদের কাছে মার্টিনেজ একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। ক্লাবের কঠিন সময়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করার কারণে ভিলা ভক্তরা তাকে ভালোবেসে আগলে রাখে। ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা থেকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ২০৩০ সাল পর্যন্ত অ্যাস্টন ভিলার সাথে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি সবসময়ই একজন আত্মবিশ্বাসী এবং নির্ভীক গোলরক্ষকের খোঁজে ছিলেন। ২০২১ সালের জুনে চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অভিষেক হয়। এরপরই শুরু হয় এক রূপকথার যাত্রা।
২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ছিল এমিলিয়ানো মার্টিনেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বড় টুর্নামেন্ট। পুরো টুর্নামেন্টেই তিনি দুর্দান্ত খেলেন, তবে সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাকে চিরদিনের জন্য ইতিহাসের পাতায় অমর করে দেয়।
নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মার্টিনেজ যা করলেন, তা ফুটবল বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। তিনি কেবল গোলপোস্টে দাঁড়াননি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সাথে শুরু করেন মনস্তাত্ত্বিক খেলা। কলম্বিয়ার ইয়েরি মিনা যখন শট নিতে আসছিলেন, মার্টিনেজ চিৎকার করে বলছিলেন, “আমি তোমাকে চিনি, তুমি নার্ভাস… দেখো, আমি তোমাকে রুখে দেব।”
মার্টিনেজ সেই টাইব্রেকারে ৩টি পেনাল্টি শট আটকে দেন। আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পর ফাইনালে ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে ১-০ গোলের জয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দীর্ঘ ২৮ বছরের ট্রফি খরা কাটায়। মার্টিনেজ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ জেতেন। এই টুর্নামেন্টের পরই বাংলাদেশের ভক্তরা ভালোবেসে তার নাম দেয় ‘বাজপাখি’।
কাতার বিশ্বকাপ ছিল এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। এই টুর্নামেন্টে তিনি যা করেছেন, তা ছাড়া আর্জেন্টিনার পক্ষে বিশ্বজয় করা হয়তো অসম্ভব ছিল। পুরো বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন স্কালোনি বাহিনীর শেষ প্রহরী।
কোয়ার্টার ফাইনালে ডাচদের বিপক্ষে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে রূপ নেয়। সেখানে মার্টিনেজ আবারও তার পেনাল্টি স্পেশালিস্ট রূপ দেখান। প্রথম দুটি শটই দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে আটকে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেন।

১৮ ডিসেম্বর, ২০২২। লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফাইনাল হিসেবে স্বীকৃত। ৩-৩ গোলে ড্র থাকা ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রান্সের রান্ডাল কোলো মুয়ানি আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ভেঙে একা পেয়ে যান মার্টিনেজকে। ফরাসি ফরোয়ার্ডের জোরালো শটটি মার্টিনেজ তার বাঁ পা প্রসারিত করে যেভাবে আটকে দেন, তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ ‘সেভ’ বলা হয়। ওই গোলটি হলে আর্জেন্টিনা ওখানেই হেরে যেত। এরপর টাইব্রেকারে কিংসলে কোমানের শট আটকে এবং অহেলিয়াঁ চুয়ামেনিকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপে ফেলে শট মিস করতে বাধ্য করেন। আর্জেন্টিনা ৩৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, আর মার্টিনেজ জিতে নেন বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভস’।
লিওনেল স্কালোনির ঘোষিত ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মূল স্কোয়াডে এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করেছেন ৩৩ বছর বয়সী এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভস জয়ী এই তারকা এবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেবেন।

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একটি চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা যদি এবারও ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন। তরুণ গোলরক্ষকদের জায়গা করে দিতেই তিনি এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মাঠের বাইরে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একজন পুরোদস্তুর পারিবারিক মানুষ। তিনি আমান্ডা ‘মান্দিনহা’ মার্টিনেজের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে সান্তিয়াগো এবং আভা। কাতার বিশ্বকাপের সময় তার কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছিল, কিন্তু দেশের টানে তিনি তখন দলের সাথে ছিলেন।
দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বড় হওয়ায় মার্টিনেজ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় কাজ করেন। তিনি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় তার বিশ্বকাপের গ্লাভস ও জার্সি নিলামে তুলে লাখ লাখ টাকা দান করেছেন শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য।
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ সম্পর্কে করা বিখ্যাত কিছু উক্তি-
১. কাতার বিশ্বকাপের সময় এবং কোপা আমেরিকার সাফল্যের পর মেসি মার্টিনেজকে দলের অন্যতম বড় স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি দেন: “আমাদের দলে ‘দিবু’ আছে, ও একটা ফেনোমেনন। পেনাল্টি শুটআউটের সময় আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকি, কারণ আমরা জানি ও অন্তত দু-একটা শট আটকে দেবেই। ও গোলপোস্টের নিচে থাকলে আমাদের আর কোনো ভয় থাকে না।”
২. মার্টিনেজের মানসিকতা এবং দলে তার প্রভাব নিয়ে কোচ স্কালোনি বলেছিলেন: “দিবু এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যে পুরো দলের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দেয়। ও শুধু একজন অসাধারণ গোলরক্ষকই নয়, ও মাঠের ভেতরের একজন সত্যিকারের নেতা। ওর মতো একজনকে দলে পাওয়া যেকোনো কোচের জন্যই সৌভাগ্যের।”
৩. আর্জেন্টাইন ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক উবালদো ফিলোল কাতার বিশ্বকাপের পর মার্টিনেজের প্রশংসা করে বলেন: “ফাইনালের ১২৩তম মিনিটে কোলো মুয়ানির শটটি দিবু যেভাবে বাঁচিয়েছে, সেটি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা সেভ। ওই একটা সেভই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছে। ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম সোনার অক্ষরে লিখে নিয়েছে।”
৪. মার্টিনেজের আইকনিক ‘মাইন্ড গেম’ এবং ক্লাবের প্রতি অবদান নিয়ে তার ক্লাব কোচ উনাই এমেরি মন্তব্য করেছিলেন: “মার্টিনেজ একজন জন্মগত বিজয়ী। ও সবসময় ম্যাচ জিততে চায় এবং তার জন্য নিজের শতভাগ উজাড় করে দেয়। হ্যাঁ, কখনো কখনো মাঠে ওর উদযাপন বা আচরণ নিয়ে বিতর্ক হয়, কিন্তু ওর আবেগ আর জয়ের ক্ষুধা অতুলনীয়। ও বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক।”
৫. ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ মুহূর্তে মার্টিনেজের সেই অবিশ্বাস্য সেভ নিয়ে ট্র্যাজিক হিরো কোলো মুয়ানি পরবর্তীতে আক্ষেপ করে বলেছিলেন: “আমি যতবার চোখ বন্ধ করি, ততবারই সেই মুহূর্তটি আমার মনে পড়ে। আমি শটটি নিয়েছিলাম, কিন্তু ও নিজের শরীরটাকে চমৎকারভাবে মেলে ধরে জায়গাটা ব্লক করে দিয়েছিল। ও একটা দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল আমার সামনে।”
Reference:

