Image default
ক্রীড়াবিদজীবনীফুটবল

সার্জিও আগুয়েরো: ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙা কিংবদন্তি স্ট্রাইকার

১৫ বছর বয়সেই ম্যারাডোনার রেকর্ড ভেঙে আগুয়েরো বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি শুধু ম্যারাডোনার জামাতা হতেই আসেননি, শ্বশুরমশাইয়ের রেকর্ড চুরমার করতেই ফুটবল মাঠে পা রেখেছেন!

দিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু, ম্যারাডোনার মেয়েকে বিয়ে করে জামাতা হওয়া, আর নিজের ছেলের গডফাদার বানানো স্বয়ং লিওনেল মেসিকে ফুটবল বিশ্বে এমন রাজকীয় ‘কানেকশন’ আর কার আছে বলুন? আমরা কথা বলছি ফুটবল মাঠের পকেট ডিনামাইট সার্জিও “কুন” আগুয়েরোকে নিয়ে। বক্সে চিতার মতো ক্ষিপ্র এই স্ট্রাইকার যেমন ডিফেন্ডারদের নাচাতেন, তেমনই অবসরের পর এখন স্ট্রিমিং দুনিয়াতেও রীতিমতো ঝড় তুলছেন।xa0

সার্জিও আগুয়েরো- এর ব্যক্তিগত তথ্য:

নাম

সার্জিও লিওনেল আগুয়েরো দেল কাস্টিলো

জন্ম

২ জুন ১৯৮৮ (বয়স ৩৭)

জন্মস্থান

বুয়েনস আইরেস , আর্জেন্টিনা

উচ্চতা

১.৭৩ মিটার (৫ ফুট ৮ ইঞ্চি)

পজিশন

স্ট্রাইকার

ক্লাব ক্যারিয়ার

ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে,অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ,ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

২০০৬–২০২১ আর্জেন্টিনা

১৯৮৮ সালের ২ জুন আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের এক অতি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সার্জিও লিওনেল আগুয়েরো। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার শৈশব কেটেছিল ‘গঞ্জালেস কাটান’ নামক এক বস্তি এলাকায়। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সেই সংসারে আগুয়েরোর আনন্দের একমাত্র উৎস ছিল ফুটবল।

সার্জিও আগুয়েরো
সার্জিও আগুয়েরোর শৈশবের ছবি – Image Source: goal.com

বাবার সাথে মাত্র চার বছর বয়স থেকে স্থানীয় মাটির মাঠে ফুটবল খেলা শুরু করেন তিনি। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি আর্জেন্টিনার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তে-র যুব দলে যোগ দেন।

সার্জিও আগুয়েরো-এর নামের সাথে ‘কুন’ শব্দটি আঠার মতো লেগে আছে। এই নামটির পেছনে রয়েছে একটি মজার গল্প। শৈশবে তিনি ‘কুম-কুম’ নামক একটি জাপানি অ্যানিমেটেড কার্টুনের প্রধান চরিত্রকে খুব পছন্দ করতেন এবং তার চুল ও অবয়বও কিছুটা সেই চরিত্রের মতো ছিল। তার দাদা-দাদি তাকে ভালোবেসে ‘কুন’ বলে ডাকতে শুরু করেন। পরবর্তীতে এই নামটাই তার অফিশিয়াল ফুটবল জার্সির নাম হয়ে দাঁড়ায় “Kun Agüero”।

সার্জিও আগুয়েরো
সার্জিও আগুয়েরো তার কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষিকা – Image Source: goal.com

ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের হয়ে মাত্র ১৫ বছর ৩৫ দিন বয়সে আর্জেন্টিনার প্রথম বিভাগে অভিষেক ঘটে আগুয়েরোর। আর এই অভিষেকের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দেন স্বয়ং ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ড, যিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে অভিষেকের রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছিলেন।

সার্জিও আগুয়েরো
ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে যুব দলে ১০ নম্বর জার্সিতে সার্জিও আগুয়েরো – Image Source: goal.com

২০০৫ সালের মধ্যে সার্জিও আগুয়েরো ক্লাবের মূল দলে নিজের জায়গা পাকা করেন এবং ২২ ম্যাচে ৯ গোল করে লাতিন আমেরিকার বড় বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়েন। ২০০৬ সালে ডার্বি ম্যাচে রেসিং ক্লাবের বিপক্ষে মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে করা তার একটি একক গোল আজও আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।

২০০৬ সালের মে মাসে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড ফির বিনিময়ে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদ-এ যোগ দেন আগুয়েরো। স্পেনে এসে শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও ফার্নান্দো তোরেস ক্লাব ছাড়ার পর আগুয়েরো হয়ে ওঠেন ক্লাবের মূল স্ট্রাইকার।

২০০৭-০৮ মৌসুমে উরুগুয়ের কিংবদন্তি দিয়েগো ফরলানের সাথে জুটি বেঁধে লা লিগায় গোলবন্যা বইয়ে দেন তিনি। সেই মৌসুমে ১৯ গোল করে আতলেতিকোকে দীর্ঘ এক দশক পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করান।

সার্জিও আগুয়েরো
আতলেতিকোর জার্সিতে আগুয়েরো- Image Source: atleticodemadrid.com

আতলেতিকোর হয়ে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০০৯-১০ মৌসুমে। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে আতলেতিকো মাদ্রিদ প্রথম উয়েফা ইউরোপা লিগ জয় করে, যার ফাইনালে ফুলহামের বিপক্ষে দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেছিলেন আগুয়েরো। এরপর ইন্টার মিলানকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপও জেতেন তিনি। আতলেতিকোর হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১০১টি গোল করে নিজেকে ইউরোপের অন্যতম সেরা তরুণ স্ট্রাইকার হিসেবে প্রমাণ করেন কুন।

২০১১ সালের জুলাই মাসে ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন সার্জিও আগুয়েরো। সিটির জার্সিতে সোয়ানসি সিটির বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ৩০ মিনিটে ২ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করে প্রিমিয়ার লিগে নিজের রাজকীয় আগমন বার্তা ঘোষণা করেন তিনি।

ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবল ইতিহাসে, এমনকি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসেও ২০১২ সালের ১৩ মে তারিখটি চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সিটির তখন লিগ জিততে হলে শেষ ম্যাচে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে জয় পেতেই হতো। অন্যথায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত।

খেলার ৯০ মিনিট পর্যন্ত সিটি ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। এরপর ৯১ মিনিটে এডিন জেকো গোল করে সমতা ফেরান (২-২)। কিন্তু ড্র করলেও লিগ হাতছাড়া হতো সিটির। ঠিক তখনই ঘটল সেই অলৌকিক ঘটনা। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৯৩ মিনিট ২০ সেকেন্ড মারিও বালোতেল্লির পাস থেকে বল পান আগুয়েরো, বক্সে এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের বুলেট গতির শটে বল জাল পাঠালেন তিনি! পুরো ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তখন পাগলাটে উন্মাদনা। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর ম্যানচেস্টার সিটি লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়।

সার্জিও আগুয়েরো
ম্যানচেস্টার সিটি লিগ চ্যাম্পিয়ন – Image Source: goal.com

ম্যানচেস্টার সিটিতে কাটানো ১০টি মৌসুমে আগুয়েরো নিজেকে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৭ সালে তিনি এরিক ব্রুক-এর রেকর্ড ভেঙে ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। সিটির হয়ে ৩৯০ ম্যাচে তিনি ২৬০টি গোল করেন।

প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২টি হ্যাটট্রিক এবং বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি গোল ১৮৪ গোল করার রেকর্ড তার।

পেপ গার্দিওলার অধীনেও তিনি দলের প্রধান গোলমেশিন ছিলেন এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে মোট ৫টি প্রিমিয়ার লিগ, ১টি এফএ কাপ এবং ৬টি লিগ কাপ জেতাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।

সার্জিও আগুয়েরো -এর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও ছিল দারুণ সফল। ২০০৫ এবং ২০০৭ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে পরপর দুটি ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেন তিনি। বিশেষ করে ২০০৭ সালের টুর্নামেন্টে তিনি একাই ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন বল দুটোই জিতেছিলেন। এরপর ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে লিওনেল মেসির সাথে জুটি বেঁধে আর্জেন্টিনার হয়ে স্বর্ণপদক জেতেন, যেখানে সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২টি গোল করেছিলেন তিনি।

ফুটবল বিশ্বে মেসি এবং আগুয়েরোর বন্ধুত্ব এক অনন্য উদাহরণ। অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে শুরু করে প্রায় ১৫ বছর ধরে তারা জাতীয় দলে একসাথে খেলছেন এবং প্রতিবারই তারা হোটেলের একই রুমে থাকতেন। আগুয়েরো একবার মজা করে বলেছিলেন, “আমরা বুড়ো স্বামী-স্ত্রীর মতো, মেসি সবসময় সময়মতো ঘুমানো আর নিয়ম মেনে চলা নিয়ে আমাকে বকাঝকা করে।”

জাতীয় দলের হয়ে সার্জিও আগুয়েরো ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেও রানার্স-আপ হয়ে তীব্র আক্ষেপের শিকার হন। তবে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মাটিতে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৮ বছরের ট্রফি খরা কাটায় আর্জেন্টিনা, যা ছিল আগুয়েরোর সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে প্রথম এবং শেষ বড় ট্রফি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১০১ ম্যাচে ৪১টি গোল করে তিনি দেশের ইতিহাসের ৩য় সর্বোচ্চ গোলদাতা।

সার্জিও আগুয়েরো
মেসির সাথে সার্জিও আগুয়েরোর বন্ধুত্ব- Image Source: i2-prod.mirror.co.uk

২০২১ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটির সাথে চুক্তি শেষ হলে আগুয়েরো তার প্রিয় বন্ধু লিওনেল মেসির সাথে ক্লাব ফুটবলে খেলার আশায় ফ্রি ট্রান্সফারে এফসি বার্সেলোনাতে যোগ দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আর্থিক সংকটের কারণে মেসিকে বার্সেলোনা ছাড়তে হয়।

বার্সেলোনার হয়ে সার্জিও আগুয়েরো মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন, যার মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ‘এল ক্লাসিকো’তে একটি দারুণ গোলও ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন আকস্মিকভাবে তার বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং তিনি মাঠেই বসে পড়েন।

হাসপাতালে পরীক্ষার পর ধরা পড়ে তিনি কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া বা হৃদস্পন্দনের জটিল সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উচ্চ মাত্রার পেশাদার ফুটবল খেলা চালিয়ে গেলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলস্বরূপ, ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ক্যাম্প ন্যু-তে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে চোখের জলে ফুটবল থেকে চিরতরে অবসরের ঘোষণা দেন এই মহানায়ক।

ফুটবল থেকে আকস্মিক বিদায় নিলেও আগুয়েরো কিন্তু জীবন থেকে হেরে যাননি। বর্তমানে তিনি একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং টুইচ স্ট্রিমার । এছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং নিজস্ব ই-স্পোর্টস টিম ‘KRÜ Esports’ পরিচালনা করছেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যখন চ্যাম্পিয়ন হয়, তখনো আগুয়েরো দলের সাথে মাঠে থেকে উদযাপন করেছেন, মেসি তাকে ট্রফি কাঁধে নিয়ে পুরো মাঠ ঘুরিয়েছেন।

সার্জিও আগুয়েরোকে নিয়ে বেশ কিছু মজাদার এবং আকর্ষণীয় তথ্য

ম্যারাডোনার ২৭ বছরের রেকর্ড ভাঙা

২০০৩ সালে মাত্র ১৫ বছর ৩৫ দিন বয়সে আর্জেন্টিনার প্রথম বিভাগে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের হয়ে অভিষেক হয় আগুয়েরোর। এই অভিষেকের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দেন স্বয়ং ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ড, যিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে অভিষেকের রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছিলেন।

কার্টুন থেকে আসা ডাকনাম

তার জার্সির পেছনে লেখা থাকত “Kun Agüero”। এই ‘কুন’ নামের পেছনে রয়েছে এক মজার গল্প। ছোটবেলায় জাপানি অ্যানিমেটেড কার্টুন ‘কুম-কুম’-এর প্রধান চরিত্রের সাথে তার চেহারার মিল ছিল এবং কার্টুনটি তার খুব পছন্দ ছিল। তাই তার দাদা-দাদি তাকে ভালোবেসে ‘কুন’ বলে ডাকতেন, যা পরে তার অফিশিয়াল ফুটবল নাম হয়ে যায়।

ম্যারাডোনার জামাতা এবং মেসির ছেলের গডফাদার

ফুটবলীয় সম্পর্কের দিক থেকে আগুয়েরো এক অনন্য বৃত্তে আবদ্ধ। তিনি ছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ানিন্না ম্যারাডোনার স্বামী (পরবর্তীতে তাদের ডিভোর্স হয়)। তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলে বেঞ্জামিনের গডফাদার হলেন স্বয়ং লিওনেল মেসি! অর্থাৎ বেঞ্জামিনের নানা ম্যারাডোনা, বাবা আগুয়েরো আর গডফাদার মেসি।

সার্জিও আগুয়েরো
দিয়েগো মারাদোনা সাথে আগুয়েরো – Image Source: e0.365dm.com

মেসির সাথে ১৫ বছরের “দাম্পত্য” জীবন!

লিওনেল মেসির সাথে আগুয়েরোর বন্ধুত্ব ফুটবল বিশ্বে এক রূপকথা। অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে শুরু করে প্রায় ১৫ বছর জাতীয় দলে তারা একই রুম শেয়ার করতেন!

হ্যাটট্রিক কিং

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারারকে টপকে সবচেয়ে বেশি ১২টি হ্যাটট্রিক করার অনন্য রেকর্ডটি আগুয়েরোর দখলে। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে যেকোনো বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি গোল (১৮৪ গোল) করার রেকর্ডও তার।

অবসরের পর সফল গেমার ও স্ট্রিমার

২০২১ সালে হার্টের সমস্যার কারণে হঠাৎ ফুটবল থেকে অবসর নিতে বাধ্য হলেও তিনি দমে যাননি। বর্তমানে তিনি একজন ফুল-টাইম সফল টুইচ স্ট্রিমার এবং গেমার। তার নিজস্ব একটি বড় ই-স্পোর্টস টিম আছে, যার নাম ‘KRÜ Esports’। মাঠের মতোই স্ট্রমিং দুনিয়াতেও তার ফ্যানবেস এখন বিশাল।

সার্জিও আগুয়েরো
মেসির সাথে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আগুয়েরো- Image Source: media.nbclosangeles.com

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ‘অফিশিয়াল’ স্কোয়াড মেম্বার!

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি ফুটবলার হিসেবে খেলেননি, কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে দলের সাথে কাতার নিয়ে যায়। ফাইনালে জেতার পর লিওনেল মেসির সাথে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন তিনি, এমনকি ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে ম্যান অফ দ্য ম্যাচের ট্রফিটাও আগুয়েরো নিজ হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

Reference:

Related posts

রবার্তো আবনদানজিয়েরি: আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত গোলরক্ষক

আশা রহমান

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে মন্ত্রিত্ব: কে এই আসিফ মাহমুদ?

গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি: রিজেকশন থেকে তারকা হওয়ার গল্প!

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More