রোনালদোর প্রেমে মজে ব্রাজিলিয়ান হয়েও দিনরাত জিম আর ডায়েট করা মার্টিনেল্লিকে দেখে মাঝেমধ্যে সন্দেহ হয় তার শরীরে সাম্বার রক্ত বইছে নাকি পর্তুগিজ সিআরসেভেনেরxa0 ডিএনএ!xa0
সাও পাওলোর ছোট ফুটসাল কোর্ট থেকে শুরু করে এমিরেটসের রাজকীয় মঞ্চ গল্পটা আর কারও নয়, ফুটবলের স্পিডস্টার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির। শরীরে ব্রাজিলের সাম্বার রক্ত, আর মনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ইস্পাতকঠিন মেন্টালিটি; বারবার থমকে গিয়েও কীভাবে বিশ্বফুটবলের চূড়ায় পা রাখলেন এই গানার্স তারকা?xa0
গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি- এর ব্যক্তিগত তথ্য:
|
নামxa0 |
গ্যাব্রিয়েল তিওদোরো মার্টিনেল্লি সিলভা |
|
জন্ম xa0 |
১৮ জুন ২০০১ (বয়স ২৪) |
|
জন্মস্থানxa0 |
গুয়ারুলহোস , ব্রাজিল |
|
উচ্চতাxa0 |
১.৭৮ মিটার (৫ ফুট ১০ ইঞ্চি) |
|
পজিশনxa0 |
ফরোয়ার্ড* লেফট উইংগার |
|
ক্লাব ক্যারিয়ার |
ইতুয়ানো এবং বর্তমানে আর্সেনাল ক্লাবের হয়ে খেলছেন। |
|
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার |
২০২২– ব্রাজিল |

২০০১ সালের ১৮ জুন ব্রাজিলের সাও পাওলোর গুয়ারুলহোস নামক একটি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন গ্যাব্রিয়েল তিওদোরো মার্টিনেল্লি সিলভা। অনেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির মতো মার্টিনেল্লির ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল মাঠের ফুটবলে নয়, বরং ফুটসালে। ফুটসালের ছোট কোর্ট, কম জায়গা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাই মার্টিনেল্লির খেলার মধ্যে এমন এক ক্ষিপ্রতা তৈরি করে দিয়েছিল, যা আজ তাকে বড় মাঠে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে।

২০১০ সালে, মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব করিন্থিয়ান্স-এর ফুটসাল দলে যোগ দেন। সেখানে তার গোল করার সহজাত ক্ষমতা সবাইকে মুগ্ধ করে। কিন্তু ২০১৫ সালে, যখন তার বয়স মাত্র ১৪, তার পরিবার সাও পাওলো ছেড়ে একটু দূরে ইতু নামক একটি শহরে চলে যায়।xa0
নতুন শহরে এসে মার্টিনেল্লি যোগ দেন স্থানীয় ক্লাব ইতুয়ানোতে। ইতুয়ানোর যুব দলে তিনি এতটাই দুর্দান্ত খেলছিলেন যে, খুব দ্রুতই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের স্কাউটদের নজর কাড়েন।

মার্টিনেল্লির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় এবং শিক্ষণীয় অধ্যায় হলো তার ইউরোপীয় ট্রায়ালগুলো। তিনি চার চারবার ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এ ট্রায়াল দিতে যান। সেখানে তিনি পল পগবা, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচদের মতো তারকাদের সাথে অনুশীলনের সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ তাকে সাইন করায়নি। এরপর তিনি স্পেনের জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতেও ট্রায়াল দেন, কিন্তু সেখানেও তার ভাগ্য খোলেনি।
এই রিজেকশন তাকে মানসিকভাবে ইস্পাতকঠিন করে তোলে। ২০১৮ সালে মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস বয়সে ইতুয়ানোর সিনিয়র দলের হয়ে তার পেশাদার অভিষেক ঘটে, যা ছিল ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অভিষেকের রেকর্ড। ২০১৯ সালের সাও পাওলো রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ৬টি গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। আর এই পারফরম্যান্সই তার জন্য ইউরোপের দরজা খুলে দেয়।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে উনাই এমেরির অধীনে থাকা আর্সেনাল মাত্র ৬ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফি-তে মার্টিনেল্লিকে দলে ভেড়ায়। তৎকালীন সময়ে ফুটবল ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন একেবারেই এক অপরিচিত নাম। কিন্তু গানার্সদের জার্সিতে মানিয়ে নিতে মার্টিনেল্লি একদমই সময় নেননি।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচে আর্সেনালের হয়ে প্রথমবার শুরুর একাদশে মাঠে নেমেই জোড়া গোল করেন মার্টিনেল্লি। তবে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্তটি আসে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, চেলসির বিপক্ষে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে। নিজেদের ডিবক্সের সামনে থেকে বল পেয়ে মার্টিনেল্লি প্রায় ৬৭ গজ একক দৌড়ে চেলসির রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তেকে মাটিতে ছিটকে ফেলে যে গোলটি করেছিলেন, তা আর্সেনালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা একক গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।xa0

সবকিছু যখন স্বপ্নের মতো চলছিল, ঠিক তখনই ২০২০ সালের জুনে অনুশীলনের সময় হাঁটুতে গুরুতর চোট পান মার্টিনেল্লি। এই ইনজুরির কারণে তাকে প্রায় ৯ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়। অনেক তরুণ খেলোয়াড় এই ধরনের ইনজুরির পর আর আগের ফর্মে ফিরতে পারেন না, কিন্তু মার্টিনেল্লি আর্সেনালের নতুন কোচ মিকেল আর্তেতার অধীনে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার জন্য মরিয়া ছিলেন।

২০২১-২২ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে মার্টিনেল্লি আর্সেনালের লেফট-উইং পজিশনটি নিজের নামে লিখে নেন। এই মৌসুমটি ছিল মার্টিনেল্লির ক্যারিয়ারের ‘ব্রেকআউট মৌসুম’। বুকায়ো সাকা এবং মার্টিন ওডেগার্ডের সাথে মিলে তিনি আর্সেনালের আক্রমণভাগকে প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণে রূপ দেন। ওই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তিনি ১৫টি গোল করেন এবং ৫টি অ্যাসিস্ট করেন। আর্সেনালকে রানার্স-আপ করানো এবং দীর্ঘ সাত বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরিয়ে আনার পেছনে তার অবদান ছিল অপরিসীম।

বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে মার্টিনেল্লি একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাথে লেফট-উইং পজিশনে তার প্রতিযোগিতা যেমন রয়েছে, তেমনি ট্যাকটিকাল প্রয়োজনে তিনি সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড বা রাইট-উইং হিসেবেও সমান কার্যকরী। ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের মিশনে তিনি আনচেলত্তির অন্যতম বড় ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার।
Reference:

