Image default
ইউরোপজাদুঘরপর্যটন আকর্ষণফ্রান্স

মাতিস মিউজিয়াম: রঙের জাদুকরের মায়াবী দুনিয়ায় একদিন

ফরাসি রিভিয়েরার নীল জলরাশি আর উজ্জ্বল রোদেলা আকাশ অনেক শিল্পীকে মুগ্ধ করেছে, কিন্তু নিস শহরের প্রতি শিল্পী হেনরি মাতিসের ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়। তাঁর এই শৈল্পিক জীবনের বিশাল অংশ এবং তাঁর অমর সৃষ্টিগুলোকে সম্মান জানাতেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘মাতিস মিউজিয়াম’। নিসের সিমিয়েজ পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই মিউজিয়ামটি কেবল একটি গ্যালারি নয়, বরং রঙের জাদুকরের জীবনের এক খোলা বই।

মাতিস মিউজিয়াম Image Source: nice.love-spots.com

হেনরি মাতিস ১৯১৭ সালে প্রথম নিসে আসেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এখানেই কাটিয়েছেন। তিনি বলতেন, নিসের এই স্বচ্ছ আলোই তাঁর আঁকার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মিউজিয়ামটি মাতিসের ব্যক্তিগত সংগ্রহ এবং তাঁর পরিবারের দান করা অসংখ্য শিল্পকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে।

হেনরি মাতিস- Image Source: musee-matisse-nice.org

হেনরি মাতিস ১৯১৭ সালে প্রথম নিসে আসেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এখানেই কাটিয়েছেন। তিনি বলতেন, নিসের এই স্বচ্ছ আলোই তাঁর আঁকার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মিউজিয়ামটি মাতিসের ব্যক্তিগত সংগ্রহ এবং তাঁর পরিবারের দান করা অসংখ্য শিল্পকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে।

মিউজিয়ামটি ১৭শ শতাব্দীর একটি জেনোয়েজ ভিলায় অবস্থিত। ভবনটির গাঢ় লাল রঙ এবং চারপাশের জলপাই বাগান একে এক অসাধারণ আভিজাত্য দান করেছে। আধুনিক মিউজিয়ামের সুবিধা বজায় রেখেও এর প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। মিউজিয়ামের পাশেই রয়েছে প্রাচীন রোমান ধ্বংসাবশেষ, যা পুরো এলাকাকে এক ঐতিহাসিক গুরুত্ব দান করে।

মাতিস মিউজিয়ামের প্রধান বিশেষত্ব হলো এখানে শিল্পীর শুরুর দিন থেকে শেষ জীবন পর্যন্ত কাজের বিবর্তন দেখা যায়। এখানে শিল্পীর আঁকা অসংখ্য তৈলচিত্র রয়েছে, যেখানে তাঁর বিখ্যাত ‘ফভিসম’ বা বন্য রঙের ব্যবহার স্পষ্ট। মাতিস কেবল রঙ নয়, রেখার কাজেও ছিলেন ওস্তাদ। তাঁর সূক্ষ্ম স্কেচগুলো এখানে সযত্নে রাখা আছে।

অনেকেই জানেন না মাতিস একজন দক্ষ ভাস্করও ছিলেন। মিউজিয়ামে তাঁর তৈরি ব্রোঞ্জের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

রঙের জাদুকরের মায়াবী দুনিয়ায় একদিন- Image Source: static01.nyt.com

শেষ বয়সে অসুস্থতার কারণে যখন তিনি ব্রাশ ধরতে পারতেন না, তখন তিনি রঙিন কাগজ কেটে অসাধারণ সব শিল্প তৈরি করতেন। তাঁর বিখ্যাত ‘ব্লু নুড’ সিরিজের কাজগুলো এখানে দেখার সুযোগ মেলে।

এই মিউজিয়ামটি অন্যগুলোর থেকে আলাদা কারণ এখানে মাতিসের ব্যক্তিগত জীবনের ছোঁয়া পাওয়া যায়। তাঁর স্টুডিওর আসবাবপত্র, তাঁর ব্যবহৃত পিয়ানো, এমনকি তাঁর আঁকা ছবির মডেল হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন পাত্র বা কাপড়ও এখানে প্রদর্শিত হয়। এগুলো দেখে পাঠকরা অনুভব করতে পারেন মাতিস কীভাবে তাঁর চারপাশের সাধারণ জিনিসকে অসাধারণ শিল্পে রূপ দিতেন।

মাতিস মিউজিয়াম কেবল শিল্প প্রেমীদের জন্য নয়, বরং সৌন্দর্য পিপাসু যেকোনো মানুষের জন্যই এক তীর্থস্থান। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে জীবনের সীমাবদ্ধতাকে (অসুস্থতা বা বার্ধক্য) জয় করে শিল্পের মাধ্যমে অমর থাকা যায়। নিস ভ্রমণে গিয়ে মাতিসের রঙের দুনিয়ায় ডুব না দিলে আপনার ফরাসি রিভিয়েরা ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

মাতিস মিউজিয়াম সম্পর্কে কিছু মজাদার তথ্য

  • মিউজিয়ামের ঠিক পাশেই একটি প্রাচীন মঠে মাতিস এবং তাঁর স্ত্রীর সমাধি রয়েছে। মিউজিয়াম দেখার পর অনেক পর্যটক সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে যান।
  • মাতিস যখন হুইলচেয়ারে বন্দী ছিলেন, তখন তিনি বড় কাঁচি দিয়ে কাগজ কেটে যে শিল্প তৈরি করতেন, তাকে তিনি বলতেন “ড্রয়িং উইথ সিজারস”। এই মিউজিয়ামে সেই বিপ্লবের প্রমাণ ছড়িয়ে আছে।
  • এই ভবনের বিশেষ লাল রঙটি নিসের আকাশ আর চারপাশের সবুজের সাথে এক চমৎকার কন্ট্রাস্ট তৈরি করে, যা মাতিসের নিজের কালার প্যালেটের কথা মনে করিয়ে দেয়।
  • মিউজিয়ামের চারপাশের বাগানটি কয়েকশ বছরের পুরনো জলপাই গাছে ঘেরা। অনেকে এখানে কেবল মাতিসকে দেখতে নয়, বরং শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতেও আসেন।

Reference:

Related posts

নুডলস প্রেমীদের মক্কা-মদিনা: কাপ নুডলস মিউজিয়াম!

লাল ইটের ইতিকথা: ইয়োকোহামা রেড ব্রিক ওয়্যারহাউস

ব্লু মসজিদ: ইস্তাম্বুলের নীল সৌন্দর্যের প্রতীক

আশা রহমান

Leave a Comment

Table of Contents

    This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More