মাঠে গোল করার পর দুই হাত এমনভাবে ছড়িয়ে দাঁড়ান, মনে হয় টাইটানিকের জ্যাক-রোজের রোমান্স একাই করতে নেমেছেন! তিনি জ্যুড বেলিংহাম। ওনার এই আইকনিক সেলিব্রেশন দেখে ডিফেন্ডারদের যতটা না রাগ হয়, তার চেয়ে বেশি আফসোস হয় ওনার ব্যাংক ব্যালেন্স আর ট্যাক্স ব্র্যাকেট দেখে। ২৩ ছুঁইছুঁই এই ইংলিশ পোলা রিয়াল মাদ্রিদ আর ইংল্যান্ড দলকে যেভাবে নিজের আঙুলের ইশারায় নাচাচ্ছেন, তা দেখতে জাস্ট পপকর্ন নিয়ে বসা ছাড়া উপায় নেই!
জ্যুড বেলিংহাম- এর ব্যক্তিগত তথ্য:
| নাম |
জ্যুড ভিক্টর উইলিয়াম বেলিংহাম |
|
জন্ম |
২৯ জুন ২০০৩ (বয়স ২২) |
|
জন্মস্থান |
স্টোরব্রিজ , ইংল্যান্ড |
|
উচ্চতা |
৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৬ মিটার) |
|
পজিশন |
মিডফিল্ডার |
|
ক্লাব ক্যারিয়ার |
বার্মিংহাম সিটি, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের হয়ে খেলছেন। |
|
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার |
২০২০– ইংল্যান্ড |

২০০৩ সালের ২৯শে জুন ইংল্যান্ডের স্টোরব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন জ্যুড বেলিংহাম। তাঁর বাবা মার্ক বেলিংহাম ছিলেন একজন অপেশাদার ফুটবলার, যিনি স্থানীয় লিগগুলোতে গোলের বন্যা ভাসাতেন। বাবার অনুপ্রেরণাতেই মাত্র ৭ বছর বয়সে বার্মিংহাম সিটির অনূর্ধ্ব-৮ দলে যোগ দেন জ্যুড।
ছোটবেলা থেকেই বেলিংহামের পরিপক্বতা ছিল তাঁর বয়সের চেয়ে অনেক বেশি। ২০১৯ সালের আগস্টে, মাত্র ১৬ বছর ৩৮ দিন বয়সে বার্মিংহাম সিটির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর সিনিয়র দলে অভিষেক হয়। তাঁর প্রতিভা এতটাই চোখধাঁধানো ছিল যে মাত্র এক মৌসুম খেলার পরেই ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো তাঁকে দলে নেওয়ার জন্য লাইন ধরে। ২০২০ সালে যখন তিনি বার্মিংহাম ছাড়েন, তখন ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের ২২ নম্বর জার্সিটি চিরতরে অবসর ঘোষণা করে। মাত্র ১৬ বছরের এক কিশোরের জন্য কোনো ক্লাবের জার্সি রিটায়ার করার ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীন।

২০২০ সালের গ্রীষ্মে জার্মান জায়ান্ট বরুশিয়া ডর্টমুন্ড প্রায় ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বেলিংহামকে দলে ভেড়ায়, যা তাঁকে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ১৭ বছর বয়সী খেলোয়াড়ে পরিণত করে। জার্মানির বুন্দেসলিগা বরাবরই তরুণ প্রতিভাদের বিকাশের জন্য সেরা জায়গা, আর বেলিংহাম সেখানে নিজেকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
ডর্টমুন্ডের জার্সিতে জ্যুড বেলিংহাম একজন কমপ্লিট মিডফিল্ডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি কেবল বল কেড়ে নেওয়ার কাজই করতেন না, মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা এবং আক্রমণে উঠে গিয়ে গোল করার দায়িত্বও সফলভাবে পালন করতেন। ২০২২-২৩ মৌসুমে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি ডর্টমুন্ডের অধিনায়কত্ব পান এবং সেই মৌসুমে বুন্দেসলিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ডর্টমুন্ডের হয়ে ১৩২ ম্যাচে ২৪টি গোল এবং ২৫টি অ্যাসিস্ট করে তিনি প্রমাণ করেন যে বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।

২০২৩ সালের জুন মাসে ফুটবল ট্রান্সফার মার্কেটে ঘটে এক মহা বিস্ফোরণ। ১০৩ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে জ্যুড বেলিংহামকে দলে নেয় স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ। মাদ্রিদে এসে তিনি বেছে নেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের আইকনিক ‘নম্বর ৫’ জার্সি। কোটি কোটি ভক্তের প্রত্যাশার চাপ ঝেড়ে ফেলে বেলিংহাম তাঁর প্রথম মৌসুমেই লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সিতে যা করেছিলেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি বেলিংহামকে প্রথাগত মিডফিল্ড থেকে সরিয়ে ‘ফলস নাইন’ বা ‘অ্যাডভান্সড নাম্বার টেন’ পজিশনে খেলানো শুরু করেন। ফলাফল? প্রথম ১৫ ম্যাচেই তিনি রিয়ালের ইতিহাসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর করা গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের লা লিগা এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘ডাবল’ জয়ের পেছনে বেলিংহাম ছিলেন প্রধান কারিগর। তাঁর সেই দুই হাত প্রসারিত করে গোল উদযাপনের আইকনিক স্টাইল বিশ্বজুড়ে এক ট্রেন্ডে পরিণত হয়।
বর্তমান ২০২৫-২৬ মৌসুমটি জ্যুড বেলিংহামের জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বেশ কিছু পেশির ইনজুরি এবং হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁকে। ফলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করেন তিনি। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্ব এবং লা লিগার শেষভাগে ঠিকই নিজের চেনা ফর্মে ফিরে আসেন।
বার্সেলোনা বা বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ইনজুরি থেকে ফিরেই তিনি যেভাবে মাঝমাঠ আগলে রেখেছেন, তা তাঁর ইস্পাতকঠিন মানসিকতার পরিচয় দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিম এবং বেলিংহাম নিজে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাঁর ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন, যেন ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তিনি নিজের শতভাগ উজাড় করে দিতে পারেন।

জাতীয় দলের জার্সিতে জ্যুড বেলিংহামের পথচলা শুরু ২০২০ সালে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। তবে ২০২৪ ইউরোতে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের সেই অবিশ্বাস্য ওভারহেড বাইসাইকেল কিকের গোলটি তাঁকে ইংলিশ ফুটবল সমর্থকদের চোখে অমরত্ব এনে দেয়।
২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ইংল্যান্ড দলে এক নতুন রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ তৈরি হয়েছে। অ্যাস্টন ভিলার তরুণ তুর্কি মরগান রজার্স সদ্য সমাপ্ত ঘরোয়া মৌসুমে বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন। টুখেলের অধীনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ৮টি ম্যাচের প্রতিটিতেই রজার্স মূল একাদশে খেলেছেন, যেখানে বেলিংহাম ইনজুরির কারণে খেলেছেন মাত্র ৪টি ম্যাচ।
মাঠের ভেতর জ্যুড বেলিংহাম যেমন রিয়াল মাদ্রিদ আর ইংল্যান্ড দলের মধ্যমণি, মাঠের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফুটবল ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। বেলিংহামের আজকের এই মহাতারকা হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর সুশৃঙ্খল ও ভালোবাসায় ঘেরা পরিবারের অবদান অনেক বেশি। ফুটবল পাড়ায় তাঁদের পরিবারকে ‘টিম বেলিংহাম’ বলা হয়।

জ্যুড বেলিংহামের বাবা মার্ক বেলিংহাম ছিলেন একজন পুলিশ অফিসার। তবে তাঁর আরেকটি পরিচয় আছে তিনি ইংল্যান্ডের অপেশাদার লিগে ফুটবলের একজন কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ছিলেন, যিনি প্রায় ৭০০-র বেশি গোল করেছেন! জ্যুড ছোটবেলায় বাবার খেলা দেখেই ফুটবলের প্রেমে পড়েন।
জ্যুড বেলিংহামের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ তাঁর মা ডেনিস বেলিংহাম। বেলিংহাম যখন জার্মানি এবং পরে স্পেনে স্থানান্তরিত হন, তাঁর মা ডেনিস তাঁর সাথে চলে যান। জ্যুডের রান্নাবান্না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সামলানো থেকে শুরু করে বিছানা গুছিয়ে দেওয়া সবই তাঁর মা দেখভাল করেন। জ্যুড একবার বলেছিলেন, “আমার মা হলেন ব্যালন ডি’অর পাওয়ার যোগ্য।”
তার ছোট ভাই জোভ বেলিংহামও একজন দুর্দান্ত পেশাদার ফুটবলার। তিনি বর্তমানে ইংল্যান্ডের ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের হয়ে খেলছেন। জ্যুড এবং জোভের মধ্যকার ভাইয়ের বন্ডিং ফুটবল বিশ্বে বেশ প্রশংসিত।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে জ্যুড বেলিংহামের প্রেম নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে। ডাচ মডেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার লরা সেলিয়া ভাল্ক-এর সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। লরা জ্যুডের চেয়ে বয়সে ৫ বছরের বড়। লরা রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখতে প্রায়ই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারিতে আসেন এবং জ্যুডের মাদ্রিদের বাড়িতেও তাঁদের একসাথে সময় কাটাতে দেখা গেছে।

লরা সেলিয়া ভাল্কের আগে, ডর্টমুন্ডে খেলার সময় ব্রিটিশ মডেল আসান্তেওয়া চিটি-র সাথে বেলিংহামের প্রেমের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। তবে সেই সম্পর্কটি বেশিদিন টেকেনি।
লাখ লাখ টাকা আর বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও বেলিংহামের কোনো ‘ব্যাড বয়’ ইমেজ নেই। কোনো নাইট ক্লাব বিতর্ক বা পার্টি স্ক্যান্ডালে তাঁর নাম জড়ায় না। তিনি খেলা শেষে সোজা বাড়ি ফেরেন, মায়ের হাতের খাবার খান আর ভাইয়ের সাথে ভিডিও গেম খেলেন। মাঠের বাইরে তাঁর এই সাধারণ ইমেজটিই তাঁকে অন্য সব ফুটবলারদের চেয়ে আলাদা এবং আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
জ্যুড বেলিংহাম সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য
১৬ বছর বয়সেই জার্সি ‘রিটায়ার্ড’!
২০২০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বেলিংহাম যখন বার্মিংহাম সিটি ছেড়ে ডর্টমুন্ডে যোগ দেন, তখন ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের ২২ নম্বর জার্সিটি চিরতরে অবসর ঘোষণা করে। মাত্র এক মৌসুম ৪৪ ম্যাচ খেলা ১৬-১৭ বছরের এক কিশোরের জন্য কোনো ক্লাবের জার্সি চিরতরে তুলে রাখার ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে এক চরম অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন ঘটনা।
৭০০ গোলের ‘পুলিশ’ বাবা!
জ্যুডের বাবা মার্ক বেলিংহাম পেশায় একজন ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার হলেও মাঠের ভেতর তিনি ছিলেন এক বিধ্বংসী স্ট্রাইকার। তিনি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন সেমি-প্রফেশনাল ও অপেশাদার লিগে খেলে নিজের ক্যারিয়ারে ৭০০-র বেশি গোল করেছেন! জ্যুড ছোটবেলায় বাবার খেলা দেখেই মূলত গোল করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না, ড্রাইভার ছিলেন মা!
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে খেলার শুরুর দিনগুলোতে বেলিংহামের কোনো অফিশিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। কোটি টাকার সুপারস্টার হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ট্রেনিং গ্রাউন্ডে যাওয়ার জন্য তাঁকে মায়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাঁর মা ডেনিস প্রতিদিন সকালে তাঁকে গাড়িতে করে ডর্টমুন্ডের প্র্যাকটিস সেশনে নামিয়ে দিয়ে আসতেন!
আইডল জিনেদিন জিদান ও ৫ নম্বর জার্সি
রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর বেলিংহামকে যখন জার্সির নম্বর বেছে নিতে বলা হয়, তিনি নির্দ্বিধায় কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের আইকনিক ‘৫ নম্বর’ জার্সিটি চেয়ে নেন। বেলিংহামের ফ্রেঞ্চ মায়েস্ত্রো জিদানের প্রতি এতটাই ভক্তি যে, জিদান অভিনীত একটি বিখ্যাত জুতো প্রস্তুতকারক কোম্পানির বিজ্ঞাপনেও বেলিংহামকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড চূর্ণ!
রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পা রাখতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন বেলিংহাম। লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে নিজের প্রথম ১৫ ম্যাচে ১৪টি গোল করেছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি ক্লাব কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর করা প্রথম ১৫ ম্যাচের ডেবিউ গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন।
বিশ্ব কাঁপানো সেই ‘টাইটানিক’ সেলিব্রেশন
গোল করার পর গ্যালারির দিকে মুখ করে দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার বেলিংহামের আইকনিক সেলিব্রেশনটি এখন বিশ্বজুড়ে এক ক্রেজ। তবে এই সেলিব্রেশন কিন্তু তিনি রিয়াল মাদ্রিদে এসে শুরু করেননি। একদম ক্যারিয়ারের শুরুতে বার্মিংহাম সিটির হয়ে ২০১৯ সালে নিজের প্রথম গোলটি করার পরও তিনি ঠিক একইভাবে দুই হাত উঁচিয়ে উদযাপন করেছিলেন।
Reference:
- https://en.wikipedia.org/wiki/Jude_Bellingham
- https://www.skysports.com/football/news/12016/13551807/jude-bellingham-england-boss-thomas-tuchel-claims-real-madrid-star-has-a-fight-on-his-hands-to-earn-world-cup-starting-spot
- https://www.espn.co.uk/football/player/_/id/291281/jude-bellingham
- https://www.uefa.com/uefachampionsleague/clubs/players/250128377–jude-bellingham/

