নিকো ও’রিলি ম্যানচেস্টার সিটির ২১ বছর বয়সী এই লেফট-ব্যাক সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৫৩ ম্যাচে ৯ গোল ও ৬ অ্যাসিস্টের এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। পেপ গার্দিওলার ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এই অল-রাউন্ডার লিগের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন এবং আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ট্রাম্প কার্ড হয়ে উঠেছেন।
নিকো ও’রিলি-এর ব্যক্তিগত তথ্য:
|
নাম |
নিকো ও’রিলি |
|
জন্ম |
২১ মার্চ ২০০৫ (বয়স ২১) |
|
জন্মস্থান |
ম্যানচেস্টার , ইংল্যান্ড |
|
উচ্চতা |
৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার) |
|
পজিশন |
লেফট-ব্যাক / মিডফিল্ডার |
|
ক্লাব ক্যারিয়ার |
ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবের হয়ে খেলছেন। |
|
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার |
২০২৫– ইংল্যান্ড |

নিকো ও’রিলি ২০০৫ সালের ২১শে মার্চ ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে জন্মগ্রহণ করেন। ম্যানচেস্টারের স্থানীয় এক ফুটবলপ্রেমী পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই ক্লাব হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির প্রতি তার ছিল অন্যরকম আবেগ ও ভালোবাসা।
তার বল পায়ের জাদু দেখে মাত্র আট বছর বয়সেই সিটির বিখ্যাত যুব একাডেমি তাকে দলে ভেড়ায়। একাডেমির প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলেই ও’রিলি নিজের অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে ২০২২-২৩ মৌসুমে তার চমৎকার নেতৃত্বের গুণে সিটির অনূর্ধ্ব-১৮ দল প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয় করে। মিডফিল্ডে খেলা নিয়ন্ত্রণ এবং দূরপাল্লার শটে গোল করার সহজাত ক্ষমতা তাকে খুব দ্রুতই একাডেমির সেরা তারকাদের কাতারে নিয়ে আসে, যা পরবর্তীতে সিটির মূল দলের কোচ পেপ গার্দিওলার নজর কাড়তে সাহায্য করেছিল।

২০২৪ সালে সিটির প্রাক-মৌসুম সফরে প্রথমবারের মতো সিনিয়র দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান নিকো। তবে তার সত্যিকারের বিবর্তন ঘটে ২০২৫-২৬ মৌসুমে। ম্যানচেস্টার সিটির মাস্টারমাইন্ড পেপ গার্দিওলা নিকোর শারীরিক গঠন, স্ট্যামিনা এবং বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেখে তাকে লেফট-ব্যাক পজিশনে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনটি ছিল মাস্টারস্ট্রোক।
আধুনিক ফুটবলে ইনভার্টেড ফুলব্যাকদের যে বিশাল ভূমিকা রয়েছে, নিকো তাতে খুব দ্রুতই মানিয়ে নেন। শুধু লেফট-ব্যাক নয়, দলের প্রয়োজনে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার এবং লেফট উইঙ্গার হিসেবেও তিনি সমান দক্ষতায় খেলেছেন। গার্দিওলা স্বয়ং নিকো সম্পর্কে বলেছেন, “সে রক্ষণে এবং আক্রমণে অবিশ্বাস্য। সে বিভিন্ন পজিশনে খেলতে পারে। আমি জানি না সে মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় কিনা, তবে সেরা তরুণ খেলোয়াড়? নিঃসন্দেহে।”

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমটি নিকো ও’রিলির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোকিত অধ্যায়। এই এক মৌসুমে তিনি যা অর্জন করেছেন, তা অনেক ফুটবলারের কাছে সারা জীবনের স্বপ্ন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি সিটির হয়ে রেকর্ড ৫৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং মাঠে প্রায় ৪,০৪৩ মিনিট সময় কাটিয়েছেন।
একজন লেফট-ব্যাক বা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে তার পরিসংখ্যান যেকোনো বিশ্বমানের উইঙ্গারকেও হার মানাবে। পুরো মৌসুমে তিনি ৯টি গোল করেছেন এবং ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন। প্রিমিয়ার লিগেই ৩৪টি ম্যাচ খেলে ৫ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট তার নামের পাশে। দলের রক্ষণেও তার অবদান ছিল অসামান্য; তার খেলা ম্যাচগুলোতে সিটি ১৪টি ক্লিন শিট রাখতে সক্ষম হয়।

এই মৌসুমের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে আর্সেনালের বিপক্ষে ইএফএল কাপের ফাইনাল। সেই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে নিকো ও’রিলি পরপর দুটি গোল করে সিটিকে ২-০ গোলের জয় এনে দেন এবং শিরোপা নিশ্চিত করেন। এছাড়া এফএ কাপের ফাইনালেও জয়ে তিনি দারুণ ভূমিকা রাখেন।
ক্লাব ফুটবলের এই দুর্দান্ত ফর্ম খুব স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ড জাতীয় দলের দরজা খুলে দেয় নিকোর জন্য। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে তার অভিষেক হয়।

ইংল্যান্ডের বর্তমান কোচ থমাস টুখেল নিকোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি নিকোকে অত্যন্ত শান্ত, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এবং মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম একজন খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। টুখেল বলেছেন, “সে মাঠে খুবই ইন্টেলিজেন্ট এবং আমরা তার কাছে যে নতুন ট্যাকটিক্যাল ডিমান্ড করেছি, তার সাথে সে খুব সহজেই মানিয়ে নিয়েছে।”
এরই ফলশ্রুতিতে আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন নিকো ও’রিলি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার এক দারুণ সুযোগ এখন তার সামনে।
Reference:

